2025-04-05@04:30:49 GMT
إجمالي نتائج البحث: 54

«গণত ন ত র ক ব যবস থ»:

    তাঁরা আলাদা দেশের নেতা ও সরকারপ্রধান; এমনকি মহাদেশও ভিন্ন। একজন উত্তর আমেরিকা, একজন মধ্যপ্রাচ্য, একজন এশিয়া এবং আরেকজন ইউরোপের। তাঁদের রাজনৈতিক ‘আদর্শ’ আলাদা, ধর্ম আলাদা, আলাদা তাঁদের অনুসারী গোষ্ঠীও। এত সব ভিন্নতার পরও তাঁদের কথা ও কাজে ‘বিস্ময়কর’ সব মিল পাওয়া যায়!সমকালীন বিশ্বরাজনীতিতে জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় পরিচয় এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্বের উত্থান বেশ লক্ষণীয়। এই ধারারই চারটি উল্লেখযোগ্য মুখ হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।নিজ নিজ দেশের পটভূমিতে তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের মিল যেখানে সেটা হলো গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং সমানাধিকারের প্রশ্নে তাঁদের অনেক পদক্ষেপ সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই নেতারা একদিকে বিশাল জনসমর্থন পেয়েছেন, অন্যদিকে হুমকি তৈরি করেছেন গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে।ডোনাল্ড ট্রাম্পট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থান...
    নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দেখতে চায় ভারত।   ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যাংকক সফর নিয়ে শুক্রবার এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি এ কথা বলেন।  বৈঠক সূত্র জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. ইউনূসকে যখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা জানান তখন তিনি প্র্যোজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানান।  এ বিষয়ে বৈঠক সূত্র আরও জানায়, যদি আরও কিছু সংস্কার প্রয়োজন পড়ে সে ক্ষেত্রে বাকি সংস্কার সম্পন্ন করে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা হয়, এ ক্ষেত্রে ভারতের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। তবে ভারত বিষয়টির নোট নিয়েছে।
    ‘হেলিকপ্টার’ শিরোনামে কবীর সুমনের একটা গান আছে; হেলিকপ্টারে চড়ে নেতার জনগণের কাছে যাওয়ার গল্প। বিদ্রূপাত্মক ভাষা ও গায়কিতে এই যাত্রার যাবতীয় জোগাড়যন্ত্রের বর্ণনায় গানটি হয়ে ওঠে রাজনীতিবিদদের নিয়ে একটা অসাধারণ স্যাটায়ার। সাম্প্রতিক সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে গানটির শেষ অংশটা আমার খুব মনে পড়ে।শেখ হাসিনার পতন ও পালিয়ে যাওয়ার আনন্দ–উচ্ছ্বাস এখনো শেষ হয়নি নিশ্চয়ই। কিন্তু প্রতিটি দিন যায় আর কমে আসে আনন্দ–উচ্ছ্বাসের তীব্রতা। মাথাচাড়া দেয় আমাদের মধ্যে থাকা দ্বন্দ্বগুলো; মাঝেমধ্যে দেখা দেয় সংঘাতের আলামত। দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক চর্চার বহু দূরে থেকে একটা স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীন বসবাস করে আমরা প্রায় ভুলেই গিয়েছি কীভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বগুলো কমিয়ে, নিদেনপক্ষে মেনে নিয়ে একটা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করা যায়। সংস্কার ও নির্বাচন প্রশ্ন আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব তো বটেই, সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে...
    আজ ২৬ মার্চ, স্বাধীনতার ৫৪তম বার্ষিকী। মনে পড়ছে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ভোরের দৃশ্য। আমাদের এলিফ্যান্ট রোডের বাড়ির বারান্দা থেকে দেখছি, এক গাড়ি পাকিস্তানি সৈনিক ঢাকা কলেজের সামনের একটি তেলের পাম্পের ওপর ওড়ানো বাংলাদেশের পতাকা এবং কালো পতাকা নামানোর জন্য একটি কিশোর ছেলের দিকে বন্দুক তাক করে ধমক দিচ্ছে। ভোর হওয়ার একটু আগেই আমরা মাইকে ঘোষণা শুনেছি, যেই বাড়ি পতাকা না নামাবে, সেই বাড়িই ধূলিসাৎ করে দেওয়া হবে।২৫ মার্চের মধ্যরাত থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর পিলখানা থেকে গোলাগুলির শব্দ আসছিল।বাবুপুরা বস্তি আর নিউমার্কেট এলাকায় আগুনের শিখা। মানুষের চিৎকার শুনছিলাম। শেষ রাতের দিকে আমাদের রাস্তা দিয়ে পাকিস্তানি সৈন্যদের ট্যাংক চলে গেল।নিজের চোখ আর কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মাত্র দুদিন আগে, ২৩ মার্চ বাড়ির ছাদে আমরা নিজ হাতে সেলাই করে বাংলাদেশের পতাকা...
    গণতন্ত্রবিনাশী শক্তির চক্রান্ত এখনও থেমে নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি শোষণ, বঞ্চনাহীন, মানবিক সাম্যের উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে দেশের মানুষ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু বারবার ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী ও অবৈধ শক্তি আমাদের সে লক্ষ্য পূরণ করতে দেয়নি। দেশি-বিদেশি চক্রান্তের ফলে আমাদের গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি হোঁচট খেয়েছে এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়েছে। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার এক বাণীতে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আমাদের জাতীয় জীবনে নবীন সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। হাজার বছরের সংগ্রামমুখর এ জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তারেক রহমান বলেন, জিয়াউর রহমানকে চক্রান্তমূলকভাবে হত্যার পর খালেদা জিয়ার সফল ও সার্থক নেতৃত্বে...
    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ সম্প্রতি (১২ মার্চ, ২০২৫) প্রথম আলোয় সংবিধান সংস্কার কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবের সমালোচনা করে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা কেবল স্বাভাবিকই নয়, কাম্যও বটে। তবে নিবন্ধে উল্লিখিত কোন কোন যুক্তি কমিশনের প্রস্তাবের ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে গঠিত, যা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়েছে, কমিশনের প্রস্তাবগুলো প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা দুর্বল করবে এবং রাষ্ট্রপতিকে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান করবে। বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতিকে যেসব ক্ষমতা প্রয়োগ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে (৩.৩) তা সংসদীয় ব্যবস্থায় অকল্পনীয়’ এবং ‘এর ফলে...সরকার সেমিপ্রেসিডেনশিয়াল সিস্টেমে রূপ নেবে...।’ তবে এই দাবি সঠিক নয়। সংস্কার প্রস্তাবের ৩.৩.১ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ করবেন।’ ৩.৩.২ ধারায় বলা হয়েছে, ‘সংসদ...
    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগকে যতটা সম্ভব অবমূল্যায়ন করা এবং ক্ষমতাহীন করাই উদ্দেশ্য, যার ফলশ্রুতিতে একটি দুর্বল ও প্রায় অকার্যকর সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। শনিবার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালায় সাংবিধানিক কমিশনসহ (এনসিসি) নতুন নতুন বিভিন্ন কমিশনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সমস্ত কমিশনের এখতিয়ার, কর্মকাণ্ডের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তাতে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগকে যতটা সম্ভব অবমূল্যায়ন করা এবং ক্ষমতাহীন করাই উদ্দেশ্য, যার ফলশ্রুতিতে একটি দুর্বল ও প্রায় অকার্যকর সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্র, জনগণের মালিকানার প্রতিফলন হয় নির্বাচিত সংসদ এবং জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল...
    অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, আরব দেশগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সহযোগিতা নিয়ে ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে ইসরায়েল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আজকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এক হাত যদি হয় ইসরায়েল, তাহলে তার আরেক হাত আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি সৌদি আরবকে।’ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন আনু মুহাম্মদ। ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলন বাংলাদেশের আয়োজনে সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের শুরু করা গণহত্যা বন্ধে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে ২৩ মার্চ রোববার সারা দেশে বাম গণতান্ত্রিক শক্তির উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়।অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, জাতিসংঘ একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এবং তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থা কর্তৃত্ব করছিল, যা এখনো করছে। এ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দেশে...
    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নির্মাণ জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। এটি কারও একক দাবি নয়। গণ–অভ্যুত্থানও কারও একার চেষ্টায় হয়নি। অভ্যুত্থান এ দেশের জনগণ করেছেন। ছাত্রদের কোটাবিরোধী আন্দোলনের ওপর অত্যাচার ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে পরিণত করেছে। সব রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটি, বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ ও ব্যক্তিবর্গ সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভ্যুত্থান করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের একটি হোটেলে ইফতার উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বাংলাদেশে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই গড়ে ওঠেনি। এটাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল। এমনকি স্পষ্ট ঘোষণাও ছিল যে এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, এতে তার নাগরিকদের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার থাকবে।’বক্তব্যের...
    বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দলের আবির্ভাব ঘটেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র ও তরুণ নেতাদের উদ্যোগে এ দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সমাবেশে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পাঠ করেন ঘোষণাপত্র। ঘোষণাপত্রে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাষ্ট্রকল্প ফুটে ওঠে। তবে সেকেন্ড রিপাবলিক ও গণপরিষদের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে।বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার জন্যই গণপরিষদের দাবি সামনে আনা হয়েছে। এর মধ্যে দলটির কোনো কোনো নেতা ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ খুঁজে পেতে চেয়েছেন।যেকোনো নতুন দলের নতুন দাবি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কিছু পাল্টাপাল্টি বাক্যবিনিময় হওয়া স্বাভাবিক। তবে যে ভাষায় বিএনপির অনেক নেতাকে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেল, তা দুঃখজনক।গণপরিষদের দাবির ব্যাপারে বিএনপির ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু গণপরিষদের দাবি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার দুরভিসন্ধি কীভাবে হয়, তা অস্পষ্ট। আসলে নতুন দলের...
    ধর্ষণ-নির্যাতন ও পরিকল্পিত মব সন্ত্রাস বন্ধ, জানমালের নিরাপত্তা, ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট চট্টগ্রাম জেলা শাখা। নেতারা বলেন, সরকারের একের পর এক ভুল ও প্রশ্নবিদ্ধ পদক্ষেপ জনগণকে হতাশ করছে। গতকাল বুধবার বিকেলে নগরের সিনেমা প্যালস চত্বরে এ সমাবেশ হয়।  বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সমন্বয়ক আল কাদেরী জয়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা শাখার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মসিউদ্দৌলা, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি আশোক সাহা এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সমন্বয়ক শফিউদ্দিন কবির আবিদ।  উপস্থিত ছিলেন সিপিবির চট্টগ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর, বাসদ নেতা হেলাল উদ্দিন কবিরসহ নেতারা। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সদস্য আকরাম হোসেন।  বক্তারা বলেন, অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার হাতবদল...
    ‘প্যাক্স আমেরিকানা’ নামে পরিচিত আমেরিকার নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থা এখন শেষের দিকে। অতীতে অনেক বামপন্থী ‘আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ’-এর বিরুদ্ধে লড়াই করে বিশ্বব্যবস্থাকে আজকের এই অবস্থানে আনার স্বপ্ন দেখতেন; কিন্তু বাস্তবে ডানপন্থী উগ্রবাদীরাই শেষ পর্যন্ত ‘প্যাক্স আমেরিকানা’র ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত হেনেছে। আসলে আমেরিকার কট্টর ডানপন্থীরা বরাবরই উদারপন্থী শাসকদের চেয়ে বেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী ছিল। এখন প্রশ্ন হলো, নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার যে প্রধান মিত্রদেশগুলো নির্ভরশীল ছিল, তারা এ অবস্থায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে?ইউরোপীয় নেতারা বেশ কয়েকটি জরুরি বৈঠক করেছেন। সেখানে তাঁরা অনেক সাহসী বক্তব্য দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিনিধি কায়া কালাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘মুক্ত বিশ্বের নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন’ এবং ‘এই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের, ইউরোপীয়দের’। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে ‘প্রত্যেক প্রজন্মে একবার আসা সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করে...
    ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম বলেছেন, গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পটপরিবর্তন বাংলাদেশের সামনে এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। ফলে বাংলাদেশের সামনে সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে আলোচনায় প্যানেল আলোচক হিসেবে উইলিয়াম বি মাইলাম এমন অভিমত দেন। ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) ‘ট্রাম্প যুগে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক’ শীর্ষক ওই আলোচনার আয়োজন করে।আইবিএফবির সভাপতি লুৎফুন্নেসা সউদিয়া খানের সভাপতিত্বে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) সহায়তা বন্ধের প্রভাব, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা—এসব প্রসঙ্গ উঠে আসে।উইলিয়াম বি মাইলাম বলেন, ‘নাটকীয় পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ এখন এক সন্ধিক্ষণে এসে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর আমি ভেবেছিলাম বাংলাদেশ একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে...
    ব্রিটেনের হাউস অব কমন্সে সংসদীয় বিতর্কের সময় তাত্ত্বিক এডমন্ড বার্ক ১৭৮৭ সালে প্রথমে ‘ফোর্থ এস্টেট’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। তখন ইউরোপীয় সমাজে তিনটি প্রধান স্তম্ভ ছিল; ফার্স্ট এস্টেট–অভিজাত শ্রেণি, সেকেন্ড এস্টেট– ধর্মযাজক শ্রেণি এবং থার্ড এস্টেট– সাধারণ মানুষ। ইতিহাসবিদ টমাস কার্লাইল তাঁর ‘বুক অব হিরোজ অ্যান্ড হিরো-ওরশিপ’ বইয়ে লিখেছেন, বার্ক সেদিন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘এই সংসদে আজ তিনটি স্তম্ভের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। কিন্তু ওই যে গ্যালারিতে বসে আছেন সাংবাদিকরা, তারা এই সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। তারা কিন্তু এদের সবার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ।’ সেই থেকে সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের ফোর্থ এস্টেট বলার প্রচলন শুরু। কথাটি আপেক্ষিক ও তাত্ত্বিক হলেও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নৈতিক ভিত্তি তৈরিতে শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছিল।   সংবাদমাধ্যম তার নৈতিক ও নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে বিশ্বের অনেক দেশেই জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। শাসকের চোখে চোখ রেখে কথা...
    ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করায় গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া অপুর সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব জাহিদ আহসান সমকালকে বলেছেন, প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোলাম কিবরিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের ছাত্র। শনিবার জাহিদ আহসান প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে সদস্যপদ স্থগিত এবং এক কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক আচরণবিধি ভঙ্গ ও নৈতিক স্খলনজনিত কারণে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া অপুর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ এর সদস্য পদ স্থগিত করা হলো এবং তাকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না এজন্য এক কার্যদিবসের মধ্যে আহ্বায়ক বরাবর সদুত্তর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।   জানতে চাইলে জাহিদ আহসান...
    নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহ্‌রীরের প্রকাশ্য কার্যক্রম ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ব্যর্থতার অভিযোগ এনে তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ–সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ। শুক্রবার সন্ধ্যায় টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা।এ সময় সমাবেশ থেকে ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দিব রক্ত’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘উগ্রবাদের ঠিকানা, এ বাংলায় হবে না’, ‘সন্ত্রাসবাদের ঠিকানা, এ বাংলায় হবে না’, ‘উগ্রবাদ নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’, ‘সন্ত্রাসবাদ নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তিপাক’, ‘গোলামী না আজাদী, আজাদী আজাদী’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।সমাবেশে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আবদুল কাদের বলেন, ‘হাসিনার ফ্যাসিবাদী আমলের পতনের পর থেকে হিজবুত তাহ্‌রীর মতো অনেকগুলো জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা বেড়ে গেছে। যারা আগের মতো হাসিনার সেই বাকশালি থিওরি বাস্তবায়ন করছে, যারা হাসিনার মতবাদকে লালন করবে, তাদের পরিণত হাসিনার মতোই হবে।’আবদুল কাদের...
    অন্তর্বর্তী সরকার গত অক্টোবর মাসে আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীকে প্রধান করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল। এই কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছিল, জনপ্রশাসনকে জনমুখী, জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও নিরপেক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে সুপারিশ পেশ করা। এ কমিশন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রতিবেদন সরকারের কাছে পেশ করে।এই প্রতিবেদনের পরিসর অনেক ব্যাপক। ১৪টি বিভিন্ন শিরোনামে প্রায় ২০০ সুপারিশ পেশ করেছে, যা মোট ১৭টি অধ্যায়ে বিস্তৃত। প্রতিবেদনটি সুলিখিত ও সুবিন্যস্ত। বাস্তবায়নের সুবিধার্থে সুপারিশগুলোকে প্রাধিকার ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে।জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের একটি অন্যতম সুপারিশ হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন; এককেন্দ্রিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা তথা প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা চালু করা। দেশের পুরোনো চারটি বিভাগ যথা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ নিয়ে চারটি প্রদেশ এবং রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্রশাসিত একটি...
    গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার শাসনের নাটকীয় পতন ছিল একটি বিস্ময়কর ঘটনা। তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী তরুণদের মধ্যে জেগেছে আশা। তাঁরা এখন রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি করছেন, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার বাংলাদেশ শাসন করতে না পারেন।গণ-অভ্যুত্থানের পর এসেছে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এ সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাবের জন্য বিভিন্ন কমিশন গঠন করেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে আলোচিত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বেশির ভাগই নতুন কাঠামো তৈরি এবং নতুন আইন ও বিধি প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করছে।তবে রাষ্ট্রকাঠামো ও আইনের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ বাস্তব রাজনৈতিক চর্চার গুরুত্বকে উপেক্ষা করে। শুধু কাঠামো ও আইন পরিবর্তন করলেই নতুন স্বৈরশাসকের প্রত্যাবর্তন রোধ করা সম্ভব নয়। আমি মনে করি, আইন ও বিধির অনুপস্থিতি নয়, বরং রাষ্ট্রের সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারা এবং লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহির...
    লেখক ও সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের কমিশন প্রধানের একান্ত সচিবআমাদের অন্যতম সাংবিধানিক অঙ্গীকার হলো প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে জনপ্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। একাত্তরে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরও আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাধীন বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচনের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়।  বাংলাদেশ ‘জেনুইন ইলেকশন’, অর্থাৎ সঠিক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে আন্তর্জাতিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। কারণ, রাষ্ট্র আকারে আমরা ‘সর্বজনীন মানবাধিকার সনদ’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস’-এ স্বাক্ষরদাতা। তাই আমরা যে নির্বাচনই আয়োজন করি না কেন সে নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক। বস্তুত গণতান্ত্রিক শাসনের প্রথম...
    সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের মর্ম ধারণ করতে ক্রমাগত ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য আনু মুহাম্মদের সই করা এক বিবৃতিতে রোববার এ কথা বলা হয়। সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড বেড়েছে। বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক তৎপরতা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, নারীর চলাফেরা, খেলা ইত্যাদির ওপর আক্রমণ হচ্ছে। অস্বীকারের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। কয়েকজন লেখক–শিক্ষককে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে তা প্রচার করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আবরার হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধীদের জেল থেকে পালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। কক্সবাজারের সমিতি পাড়ায় নিরস্ত্র জনগণের ওপর বিমানবাহিনীর গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এ সব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আনু মুহাম্মদ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতার প্রতিবাদ করায়...
    সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের মর্ম ধারণ করতে ক্রমাগত ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য আনু মুহাম্মদের সই করা এক বিবৃতিতে রোববার এ কথা বলা হয়। সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড বেড়েছে। বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক তৎপরতা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, নারীর চলাফেরা, খেলা ইত্যাদির ওপর আক্রমণ হচ্ছে। অস্বীকারের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। কয়েকজন লেখক–শিক্ষককে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে তা প্রচার করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আবরার হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধীদের জেল থেকে পালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। কক্সবাজারের সমিতি পাড়ায় নিরস্ত্র জনগণের ওপর বিমানবাহিনীর গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এ সব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আনু মুহাম্মদ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতার প্রতিবাদ...
    জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর যেখানে জনগণের রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক, নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হওয়ার কথা, সেখানে প্রতিনিয়ত জানমালের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে বলে উল্লেখ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সহিংসতা, বৈরী আচরণ, বিশ্বখ্যাত পণ্ডিতদের নাম পরিবর্তনের মতো ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এই কমিটি প্রশ্ন করেছে, সরকার কাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব দিয়েছে?আজ রোববার গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পক্ষে কমিটির সদস্য আনু মুহাম্মদের পাঠানো বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, সারা দেশে খুন, ধর্ষণ, মব সহিংসতা, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক তৎপরতা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, নারীর চলাফেরা, খেলা ইত্যাদির ওপর আক্রমণ হচ্ছে। এমনকি প্রকাশ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন লেখক–শিক্ষককে হত্যার হুমকি দিয়ে তা ব্যাপক প্রচার করার পরও হুমকিদাতার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আবরার হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধীদের জেল থেকে পালানোর খবর...
    দেশে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করা নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’। এজন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নকে অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তারা। তবে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ ধারণাটি আসলে কী? এ নিয়ে অনেকইটাই অস্পষ্ট রয়েছে।  ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ ধারণাটি মূূলত তৈরি হয়েছে ফরাসি বিপ্লব থেকে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, কোনো দেশে আগের শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে নতুন শাসনকাঠামো বা ব্যবস্থাপনা স্থাপন করা, পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থা বদলে নতুন রাজনৈতিক শাসনকাঠামো গ্রহণ করা। উদাহরণস্বরূপ ফ্রান্সের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। দেশটিতে দীর্ঘসময় রাজতন্ত্র ছিল। ১৭৮৯ থেকে ১৭৯৯ সাল পর্যন্ত ফরাসি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে রাজতন্ত্রের অবসান হলেও বিপ্লব চলার মধ্যেই ১৭৯২ সালে ফ্রান্সে প্রথম রিপাবলিক ঘোষণা করা হয়। ১৮০৪ সাল পর্যন্ত প্রথম রিপাবলিক বলবৎ থাকে। তারপর...
    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করা নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র লক্ষ্য দেশে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠা করা। এর জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নকে অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তারা। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয়। দলের আহ্বায়ক পদে আসা মো. নাহিদ ইসলাম একটি লিখিত বক্তব্যে নতুন এই দল গঠনের প্রেক্ষাপট, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো তুলে ধরেন।জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন স্বাধীনতা কেবল একটি সরকার পতন করে আরেকটি সরকার বসানোর জন্যই ঘটেনি। জনগণ বরং...
    রাষ্ট্র মেরামতের ন্যূনতম সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাবার জন্য সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে দলটির বর্ধিত সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।  দেশ আজ সংকটময় সময় অতিক্রম করছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আপনাদের এবং ছাত্রদের সমন্বিত আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট শাসক বিদায় নিয়েছে। একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে, তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা রাষ্ট্র মেরামতের ন্যূনতম সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাবার জন্য সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা। তিনি বলন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী বিরোধী সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, সম্প্রতি জুলাই আগস্টে ফ্যাসিবাদের ভয়াবহ দমন নীতির কারণে গণহত্যায় যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। যারা...
    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণতন্ত্রের সপক্ষের শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সবাইকে অব্যাহতভাবে চেষ্টা করতে হবে, যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র যাতে ফিরে আসে। যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার যাতে প্রতিষ্ঠিত হয়। আমরা যদি মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ যে সর্বনাশের খাদের কিনারে চলে গেছে, সেখান থেকে উঠিয়ে আনতে সক্ষম হব। খুলনা মহানগর বিএনপির সম্মেলনে আজ সোমবার দুপুরে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বেলা দেড়টায় তিনি বক্তব্য শুরু করেন। প্রায় ২৫ মিনিট তিনি বক্তব্য দেন।তারেক রহমান বলেন, ‘আজ আমরা দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা করছি। দলকে গণতান্ত্রিকভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। কিন্তু এই যে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, কথা বলার অধিকার,...
    আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি যে গণতান্ত্রিক হতে হবে, গণ-অভ্যূত্থানের পর এ নিয়ে এখন কারোরই কোনো দ্বিমত নেই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নানা ধরন আছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমাদের জন্য অধিকতর প্রযোজ্য হবে?মোটাদাগে, গণতান্ত্রিক সরকারপদ্ধতি দুই ধরনের। এক, সংসদীয় বা ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সরকারপদ্ধতি এবং দুই, রাষ্ট্রপ্রধান দ্বারা পরিচালিত সরকারপদ্ধতি।সংসদীয় সরকারব্যবস্থাওয়েস্টমিনস্টার নামটি এসেছে লন্ডনের প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন ওয়েস্টমিনস্টার প্রাসাদের নাম থেকে, যা ৫০০ বছর ধরে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সংসদীয় পদ্ধতির সূতিকাগার এবং বড় উদাহরণ হলো ইংল্যান্ডের সরকারব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় একজন আলঙ্কারিক রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন, যাঁর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা থাকে না, তিনি সাধারণত নির্বাচিত হন না, ক্ষেত্রবিশেষে বংশানুক্রমিকভাবে পদটিতে অধিষ্ঠিত হন। ক্ষমতা থাকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত আইনসভার হাতে।আইনসভার সাধারণত দুটি কক্ষ থাকে। একটি বা দুটি...
    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান হয়েছিল দেশের ক্ষমতার পালাবদলসহ বড় ধরনের আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশায়। যেখানে মৌলিক সংস্কার এবং নির্বাচন দুটো বিষয়ই ছিল। সবাই সারাক্ষণ অভ্যুত্থানের সাফল্যের পেছনে ছাত্র-জনতার কথা বললেও উপেক্ষিত থাকছে জনসাধারণ। সাধারণ মানুষই সংখ্যাগরিষ্ঠ, যাঁরা ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে পারেন। দেশের বিপুল এই জনগোষ্ঠীর মতকে বিবেচনায় না নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।গতকাল শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্মাণবিষয়ক এক আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা এমন মন্তব্য করেছেন। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) অষ্টম বার্ষিক সম্মেলনের ওই প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল এখনই নির্বাচন চায়, সংস্কার চায় না। অথচ গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা হলো সংস্কার এবং নির্বাচন উভয়ই হতে হবে। কাজেই ক্ষমতা পাকাপোক্ত করে রাখার ধারার অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হবে।সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান...
    চলতি বছরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন চায় বাম গণতান্ত্রিক জোট। আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়, তারা আগে জাতীয় নির্বাচন চায়। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বাম জোট। ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ইকবাল কবির জাহিদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। জোটভুক্ত দলগুলোর সাত শীর্ষস্থানীয় নেতা নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে জোটের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়।বৈঠক শেষে ইকবাল কবির সাংবাদিকদের বলেন, একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা উত্তরণসহ নানা ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ভেতর দিয়ে সরকারের পতন হয়েছে। এই পরিবর্তনের পর প্রথম কর্তব্য একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া। সে কারণে তাঁরা দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আগে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন না...
    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নতুন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন, তিনটি কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে চান তিনি। সেগুলো হলো করপোরেশনের প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণের আগে জনমত যাচাই, পরিবেশ রক্ষা ও দূষণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আবাসনে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা।সোমবার রাজধানীর গুলশানে নগর ভবন মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথাগুলো বলেন মোহাম্মদ এজাজ। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মানুষের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে যেকোনো উন্নয়নকাজ করতে চান বলেও জানান তিনি।গত বুধবার মোহাম্মদ এজাজকে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগে তিনি রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) চেয়ারম্যান ছিলেন।মতবিনিময় সভায় উত্তর সিটির নতুন প্রশাসক বলেন, ‘রাজধানীর পরিবেশগত সমস্যাগুলোর অন্যতম জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বছর জলাবদ্ধতা সহনশীল ও ম্যানেজেবল পর্যায়ে থাকবে। তবে জলাবদ্ধতা যে...
    বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে বরাদ্দকৃত ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের জন্য নির্ধারিত বড় ধরনের সহায়তা অর্থায়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কর্মসূচিও বাতিল ঘোষণা করা হয়। রোববার ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দপ্তর ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সি (ডিওজিই) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন এই দপ্তর বাজেট কমানোর অংশ হিসেবে অর্থায়ন বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসন আন্তর্জাতিক সহায়তা খাতে ব্যাপক কাটছাঁট করছে। তারই অংশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ তহবিল বাতিল করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার...
    বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে বরাদ্দকৃত ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের জন্য নির্ধারিত বড় ধরনের সহায়তা অর্থায়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কর্মসূচিও বাতিল ঘোষণা করা হয়। রোববার ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দপ্তর ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সি (ডিওজিই) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন এই দপ্তর বাজেট কমানোর অংশ হিসেবে অর্থায়ন বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসন আন্তর্জাতিক সহায়তা খাতে ব্যাপক কাটছাঁট করছে। তারই অংশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ তহবিল বাতিল করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার...
    বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে বরাদ্দকৃত ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের জন্য নির্ধারিত বড় ধরনের সহায়তা অর্থায়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কর্মসূচিও বাতিল ঘোষণা করা হয়। রবিবার ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দপ্তর ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডিওজিই) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন এই দপ্তর বাজেট কমানোর অংশ হিসেবে অর্থায়ন বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসন আন্তর্জাতিক সহায়তা খাতে ব্যাপক কাটছাঁট করছে। তারই অংশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ তহবিল বাতিল করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার...
    অবৈধ পন্থায় ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ক্ষমতা দখলকারী সামরিক স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে রাজপথে সর্বপ্রথম সক্রিয় হয় শিক্ষার্থী সমাজ; গণবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে। তবে আন্দোলনটি স্রেফ শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছিল না। ১৯৮২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ওই আন্দোলনের তিনটি দাবি ছিল– এক. মজিদ খানের গণবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিল; দুই. সব ছাত্র ও রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তিদান; তিন. সামরিক শাসন প্রত্যাহার করে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের ঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশ গুলি চালায়। এতে জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, আইয়ুব, কাঞ্চন, দিপালীসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহত হন। তখন থেকে দিনটি ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর দিবসটি পালনকালে কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় হওয়া দরকার স্বৈরাচার প্রতিরোধের স্থায়ী পথ ও পদ্ধতি।  মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্র গঠনের ‘আদিপাপ’ মীমাংসা না করেই আওয়ামী লীগের...
    অলিগার্কিক শাসনের পতন দেশের গভীর কাঠামোগত সংকটগুলো উন্মোচন করেছে। পতিত সরকার রেখে গেছে সর্বব্যাপী সংকট। জনগণের মধ্যে বাড়তে থাকা অসন্তোষ এখন বাস্তবতা। এ কারণেই দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অপসারিত অলিগার্কিক শাসনব্যবস্থা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ ছিল। ব্যয় নির্বাহের সংকট মূলত শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে চলছে। ব্যাংকিং খাত নগদ অর্থের সংকটে হিমশিম খাচ্ছে। নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে উৎপাদন ও সেবা খাত হচ্ছে সংকুচিত। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি নীতি স্থায়িত্বের অভাবে মূলধন বিনিয়োগ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে অর্থনীতি সংকুচিত হয়ে মন্দার দিকে ধাবিত। বিরাজমান এই সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি ভঙ্গুর এক রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রতিচ্ছবি। রেখে যাওয়া ক্ষমতাকাঠামো ব্যর্থ হয়েছে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়। গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিবর্তে ত্রুটিপূর্ণ রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তথা গোষ্ঠীস্বার্থকেই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে কায়েম করেছিল। অর্থনৈতিক নীতিকাঠামো...
    রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন কি উর্দুবিরোধী ছিল? হ্যাঁ, অবশ্যই। কিন্তু ছিল কি সে ইংরেজিবিরোধী? হ্যাঁ, সেটাও হওয়ার কথা ছিল বৈ কি। কেননা, আন্দোলন ছিল– বাঙালি নিজের পায়ে দাঁড়াবে; বাংলা ভাষার মধ্য দিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ, ইহজাগতিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে; যেখানে মানুষের পরিচয় ধর্ম, সম্প্রদায় কিংবা অর্থনৈতিক শ্রেণি দ্বারা চিহ্নিত হবে না। পরিচয় হবে ভাষার দ্বারা। কিন্তু রাষ্ট্র গণতন্ত্রের পথে যায়নি। বাংলাদেশে অন্তত একটি বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে, এই আশাটা ছিল। বৃষ্টিহীন দুপুরের রংধনুর মতোই সে আশা মিলিয়ে গেছে। আশার স্মৃতিটা এখন পীড়া দেয় তাদের, যাদের হৃদয় আছে। বাংলাদেশে সাবেক পাকিস্তানের মতোই একটি আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্র পুনঃস্থাপিত হয়েছে। গণতন্ত্রের মূল কথা যে অধিকার ও সুযোগের সাম্য; জনগণের ন্যূনতম নাগরিক অধিকারগুলোর কার্যকর স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্রের বিকেন্দ্রীকরণ ঘটিয়ে সর্বস্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠা,...
    বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত চলমান সংস্কার কর্মসূচির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে বিশ্বব্যাংক। তারা মনে করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, ভবিষ্যৎ সরকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য এই সংস্কারগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার আজ মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় মার্টিন রেইজার বাংলাদেশে চলমান সংস্কার কর্মসূচির প্রতি তাঁদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে উভয়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কর–ব্যবস্থাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ডিজিটাইজেশন পদ্ধতি চালু এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুশাসন ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয় আলোচনায় উঠে আসে।বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে সুশাসন ও জবাবদিহির উন্নয়নে জরুরি সংস্কারে সহায়তা করছে, যার মধ্যে কর নীতি ও প্রশাসন, সরকারি ক্রয় এবং পরিসংখ্যানসংক্রান্ত সংস্কার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’রেইজার বলেন, বাংলাদেশের...
    বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিটি সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করেছে, যেখানে সংবিধানের মৌলিক নীতিগুলোর মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে বহুত্ববাদকে প্রতিষ্ঠিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাব নীতিগতভাবে সমাজের বৈচিত্র্য ও বিভিন্ন মতামতকে প্রতিফলিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।তবে বহুত্ববাদ একটি বহুমাত্রিক ধারণা হলেও এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অনুপস্থিতির কারণে এর প্রয়োগ বেশ দুরূহ হয়ে উঠতে পারে।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সমাজে প্রকৃত অর্থে বহুত্ববাদী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রকে মৌলিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করতে হয়। কারণ, ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্রের সব নাগরিককে সমান দৃষ্টিতে দেখার নিশ্চয়তা দেয় এবং ধর্মীয় বিভাজন ও পক্ষপাত থেকে মুক্ত থেকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ভিত্তি রচনা করে।অন্যদিকে যদি ধর্মনিরপেক্ষতার স্থান বহুত্ববাদ গ্রহণ করে, তবে তার কার্যকারিতা নির্ভর করবে রাষ্ট্রের...
    গণসংহতি আন্দোলন বলেছে, ভাঙচুর–অগ্নিসংযোগ নয় বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের মোকাবিলা করতে হবে। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরসহ সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে যে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়।বিবৃতিতে গণসংহতির নেতারা বলেন, ‘জনগণের অভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যে জনগণের ভেতরে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার ফলে এসব ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ক্ষোভ প্রকাশের এই প্রক্রিয়া আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে সুগম না করে বরং জটিল করে তুলতে পারে।’গণসংহতির নেতারা জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা পালন করতে হবে।বিবৃতিতে...
    'আমরা কি তাহলে সুযোগ হাতছাড়া করা জাতি?' প্রশ্নটি এসেছে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কাছ থেকে। গত কিছুদিনের ঘটনাপ্রবাহ ও বিগত ৫০-৫৫ বছরের জাতীয় অভিজ্ঞতার আলোকেই হয়তো তাঁর এ হতাশা মেশানো জিজ্ঞাসা।এই লেখকের সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনায় সদ্য অবসরে যাওয়া দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার প্রশ্নবোধক পর্যবেক্ষণ: বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর ‘ষড়যন্ত্রমূলক প্রকল্পটি’ও কি চালু নেই?শহরে ছোট ছোট অসংখ্য প্রতিবাদ ও দাবিনামার সমাবেশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়, ‘আফসোস লীগের’ মাতম, কর্তৃপক্ষের প্রতি নানা হুমকি এবং জনজীবনে হতাশার ফিসফিস আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় বসবাস করে অনেক প্রশ্নই অসংখ্য মানুষের দৈনন্দিন কথাবার্তায় উঠে আসছে।এগুলোর সংক্ষিপ্ততম উত্তর হচ্ছে—ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করে না। আরও সাদামাটাভাবে বললে, আমাদের জাতীয় জীবনে আশা করি নতুন ঘটনাই ঘটবে।সে কারণে ২০২৪ সালের বিপ্লবী রাজনৈতিক পরিবর্তন-পরবর্তী রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাও নতুন নতুন ভাবনা,...
    জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জারি করেন সামরিক শাসন। আশির দশকজুড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন হয়। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে ১৯৯০ সালের ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বামপন্থী দলগুলোর নেতৃত্বাধীন ‘তিন জোটের রূপরেখা’ ঘোষণা করে ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক কাঠামো হাজির করে। ওই রূপরেখায় নির্বাচনে ভোট ডাকাতি, মিডিয়া ক্যু এবং ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করা হয়। ভবিষ্যতে কেউ যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারে, সে লক্ষ্যে ব্যক্ত করা হয় দৃঢ় সংকল্প।কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, নব্বই–পরবর্তী নির্বাচনী অভিযাত্রার প্রথম ধাপে তৎকালীন বিএনপি সরকার নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীনে নির্বাচনের অঙ্গীকার থেকে সরে আসে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দলীয় সরকারের অধীন একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসে। কিন্তু আন্দোলনের চাপে দেড় মাসের...
    জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পৃথক কমিশন গঠন করা উচিত। কারা প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত তাদের তালিকা তৈরি এবং বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) কার্যালয়ে ট্রানজিশনাল জাস্টিস বা ক্রান্তিকালীন ন্যায়বিচার বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা জানান। ক্রান্তিকালীন ন্যায়বিচারের জন্য ট্রুথ কমিশনের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তারা।  সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গবেষক ও রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের (রিব) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. শামসুল বারী। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একটা কমিশন হওয়া উচিত ছিল। সেটা হলে দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য তাদের রাস্তায় নামতে হতো না।  তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের জন্য একটা ফাউন্ডেশন হয়েছে। সেখানে ১০০ কোটি টাকা জমা হয়েছে। সেখান থেকে কারা সাহায্য পাচ্ছে, কারা পাচ্ছে না, কেন পাচ্ছে না। এগুলো সবার জানতে হবে।  ক্রান্তিকালীন ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনায়...
    অন্তর্বর্তী সরকার গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য তাদের স্বল্পমেয়াদি অবস্থানের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার বিষয়ে শুধু প্রস্তাবই পেশ করতে পারবে বলে মনে হচ্ছে। তারপরও জরুরি সমস্যাগুলো সমাধানে তাদের মনোনিবেশ করতে হবে। তাদের একটি প্রধান কাজ হবে আর্থসামাজিক পরিস্থিতির সূচক বা বেঞ্চমার্কগুলো সঠিকভাবে নির্ণয় করা। ঘাড়ের ওপর পড়ে যাওয়া জরুরি সমস্যাগুলোর সমাধান করে জনগণকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়াও এ সরকারের দায়িত্ব। সুতরাং আমার মতে, তাদের মূল দায়িত্ব হবে সঠিক ও স্বল্পসংখ্যক পদক্ষেপ গ্রহণ করা (ফিউয়ার অ্যান্ড বেটার)। প্রত্যাশিত এসব কাজ তারা কতদূর করতে পেরেছে তার একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা এখানে করব।  এ ছাড়া সরকারের টাস্কফোর্স ও কমিশনগুলো নানা রকম সৃজনশীল ও অপ্রচলিত (ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড ইনোভেটিভ) সংস্কার প্রস্তাব ইতোমধ্যে জমা দিয়েছে। কিছু সুপারিশ প্রণয়নের কাজ চলমান। অর্থনীতির হালহকিকতের ওপর যে শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছে, তার বিভিন্ন তথ্য...
    গতকাল শনিবার অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে– এমন বিষয়বস্তু ঠেকাতে’ পাণ্ডুলিপি আগেই বাংলা একাডেমি দ্বারা যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়েছেন।   গত বছর–আওয়ামী লীগের আমলে–একুশে বইমেলায় তিনটি বই বাংলা একাডেমি নিষিদ্ধ করে। মজার বিষয়, এসব বইয়ের কাটতি আরও বেড়ে গিয়েছিল। তিনটি বই বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকেও ছিল বেশ চমৎকার। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ‘অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নের অভাবনীয় কথামালা’, ফাহাম আব্দুস সালামের লেখা ‘মিডিয়োক্রিটির সন্ধানে’ ও জিয়া হাসানের ‘উন্নয়ন বিভ্রম’। বই তিনটি নিষিদ্ধ করার কারণ হলো, এগুলো আওয়ামী লীগের উন্নয়নের গাঁজাখুরি চিত্র উদোম করে দিয়েছিল।  বাংলাদেশে বইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনা নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময় শাসকমহল নিজেদের অপরাধ ও অস্বস্তি গালিচার নিচে লুকিয়ে রাখতে এ...
    গণতান্ত্রিক উত্তরণে উভয় সংকটে বাংলাদেশ। জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় যত এগোচ্ছে, প্রতিশ্রুত সংস্কার শেষ করতে তত চাপে পড়ছে অন্তর্বর্তী সরকার। রয়েছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক চাপও। সরকারের সংস্কার কর্মসূচিকে লাইনচ্যুত করতে বিরোধীদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আবার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার যে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিল, তাও ম্লান হতে শুরু করেছে বলে মনে করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)। গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ : গণতান্ত্রিক উত্তরণে উভয় সংকট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে ক্রাইসিস গ্রুপ প্রকাশিত ‘ওয়াচ লিস্ট-২০২৫’ এ উত্তরণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও এর সদস্য দেশগুলোর পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ রয়েছে। প্রতি বছর ক্রাইসিস গ্রুপ ইইউ ও এর সদস্য দেশগুলো কোথায় শান্তির সম্ভাবনা বাড়তে পারে, তা চিহ্নিত করে ‘ইইউ পর্যবেক্ষণ তালিকা’...
    বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) নজরুল ইসলাম আজাদ অন্তর্র্বতী সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, বর্তমান উপদেষ্টাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই তারেক রহমানের নেতৃত্বে যদি বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর গণতান্ত্রিক আন্দোলন না করতেন তাহলে আজকে আপনারা এ অবস্থানে বসতে পারতেন না।  আপনারা নিজেরা সে কৃতজ্ঞতাবোধটা ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। এদেশের জনগণ গণতান্ত্রিক নির্বাচন চায়। এ দেশের মুক্তিকামী জনগণ নির্বাচনের তারিখ জানতে চায়। তাই অচিরেই আপনারা নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করেন। আপনাদের সম্মান থাকতে থাকতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনা শিল্পনগরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সেলিম-সাঈদ স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। আজাদ বলেন, ১৭ বছর ধরে যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা পালিয়েছে। সে আন্দোলনের রূপকার ছিলেন তারেক রহমান।...
    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, “অচিরেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতসহ অন্য সংগঠনগুলো একটি পজেটিভ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবে। তবে, যারা আসবে এরা সবাই বাংলাদেশপন্থি। কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না।” শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নিজ জেলা লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে যাওয়ার পথে হাজিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে এসময় উপদেষ্টাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। মাহফুজ আলম বলেন, “শেখ মুজিব ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে গণতন্ত্র নস্যাৎ করার প্রচেষ্টা করেছিলেন। ওই সময়ে কয়েকটি বাদে সব পত্রিকাকে শেখ মুজিব বন্ধ করেছিলেন। তার সেই বাকশাল মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে লুণ্ঠিত করেছিল। বাকশাল প্রতিষ্ঠার পূর্ববর্তী সময়ে শেখ...
    বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তোরণ প্রক্রিয়ায় জার্মান সরকার সর্বাত্মক সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস । মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জার্মান চ্যান্সেলর এ কথা বলেন। বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচি সম্পর্কে জার্মান চ্যান্সেলরকে অবহিত করেন। এসময় ওলাফ শলৎস প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে বলেন, “আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন যে আমরা আপনাদের সমর্থন করব।” প্রধান উপদেষ্টা জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরিতে সহায়তার লক্ষ্যে তিনি একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করেছেন। ছয়টি প্রধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই কমিশন কাজ করছে। তিনি আরও জানান, ঐকমত্যে পৌঁছানোর পর, রাজনৈতিক দলগুলো ‘জুলাই সনদ’এ সই করবে, যা জুলাই-আগস্টের ছাত্র- গণঅভ্যুত্থানের গণতান্ত্রিক চেতনার ভিত্তিতে তৈরি...
    অন্তর্বর্তী সরকারের গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টার প্রতি জোর সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত ক‌রে‌ছে। রবিবার (১৯ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্র্যাসি এন জ্যাকবসন। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বার্থ ভাগাভাগি ও অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনার জন্য নতুন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন। ট্র্যাসি দুদেশের মধ্যে দৃঢ় অংশীদারত্ব এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক পথ নির্ধারণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থনে জোর দেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার স‌ঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের বৈঠক নি‌য়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মানবাধিকার, শ্রম সংস্কার এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের...
    সংবিধান সংস্কার কমিশনের রিপোর্টে এর মূলনীতি পরিবর্তনে যে সুপারিশ করা হয়েছে, তাতে গণতন্ত্র প্রত্যাশিতভাবেই অটুট। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অঙ্গীকারগুলো ফিরিয়ে আনার কথাও বলা হয়েছে। এর সঙ্গে রাখা হয়েছে বহুত্ববাদকে। ধর্মের পাশাপাশি জাতি, ভাষা ও লিঙ্গগত বৈষম্যবিরোধী অঙ্গীকার জোরদার করতেই এটি করা হয়েছে। অবশ্য গণতন্ত্র মানেই বহুত্ববাদ। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার ছাড়া গণতন্ত্র কোথাও সফল হয়নি; হবেও না। ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষাই আসলে প্রকাশ পেয়েছে উল্লিখিত সুপারিশে।  গণতন্ত্রই ছিল আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান অঙ্গীকার। সত্তরের নির্বাচনের রায় বাস্তবায়নে পাকিস্তানি শাসকচক্রের অনীহা এবং সেটি বানচাল করতে তাদের পরিচালিত গণহত্যাই আমাদের ঠেলে দেয় মুক্তিযুদ্ধে। এর পেছনে আবার ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামোয় এ অঞ্চলের মানুষকে বঞ্চিত করে রাখার ইতিহাস। তাদের ন্যায্য দাবিকে করা হচ্ছিল পদদলিত। সেখান থেকে বেরিয়ে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ...
    অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেই দুটি কথা বলেছিল– বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা অনুসারে বৈষম্য দূর করে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এবং অগণতান্ত্রিক যে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার যতদূর সম্ভব অবসান। এ লক্ষ্যে একাধিক সংস্কার কমিশন গঠিত হয় এবং তাদের ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমার কথা বলা হয়। বুধবার যে চারটি কমিশন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, এর অন্যতম সংবিধান সংস্কার কমিশন। তারা যেসব সুপারিশ করেছে, সেগুলো নিয়ে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। বিশেষত যেভাবে সংবিধানের মূলনীতিসহ মৌলিক পরিবর্তনের কথা বলেছে, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। সংবিধান সংস্কার কমিশন ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নাম পরিবর্তন করে ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ করার সুপারিশ করেছে, যা যুক্তিগ্রাহ্য হতে পারে না। কারণ ইংরেজি নামে পরিবর্তন না হলে বাংলা নামে পরিবর্তন হবে কীভাবে? ইংরেজি অক্ষুণ্ন থাকলে বাংলাও সেভাবে থাকবে। এটাও তাদের অপ্রয়োজনীয় জটিলতাবর্ধক পরিবর্তনের প্রস্তাব।...
    গণতন্ত্র অর্থবহ করতে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৩ বছর পরও স্থানীয় সরকার পর্যায়ে উপযুক্ত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। জনগণের প্রতি দায়-দরদহীন এমনকি গুরুতর ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত লোকও স্থানীয় সরকারের নেতৃত্বে চলে আসে। এ ক্ষেত্রে যারা ব্যতিক্রম তারাও সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে ভালো কাজ করতে পারেন না। ফলে জনগণের সঙ্গে শতাব্দীপ্রাচীন ব্যবস্থারই এক প্রকার বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়, যা তৃণমূলে গণতন্ত্রকে ব্যাহত করতে বাধ্য।  এ ভূখণ্ডে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা চালু হয় ব্রিটিশ শাসকদের হাতে ১৮৭০ সালে। তখন গ্রাম চৌকিদারি আইন পাস হয়, যার অধীনে প্রতিটি এলাকায় একটি ‘ইউনিয়ন’ ও ‘চৌকিদারি পঞ্চায়েত’ (সংগঠন) গঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, কর সংগ্রহ ও প্রশাসনকে সহায়তা ছিল প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের কাজে লাগানোর...
۱