অগ্রাধিকারভিত্তিতে ৩ কাজ করতে চান নতুন প্রশাসক
Published: 17th, February 2025 GMT
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নতুন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন, তিনটি কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে চান তিনি। সেগুলো হলো করপোরেশনের প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণের আগে জনমত যাচাই, পরিবেশ রক্ষা ও দূষণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আবাসনে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা।
সোমবার রাজধানীর গুলশানে নগর ভবন মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথাগুলো বলেন মোহাম্মদ এজাজ। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মানুষের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে যেকোনো উন্নয়নকাজ করতে চান বলেও জানান তিনি।
গত বুধবার মোহাম্মদ এজাজকে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগে তিনি রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) চেয়ারম্যান ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় উত্তর সিটির নতুন প্রশাসক বলেন, ‘রাজধানীর পরিবেশগত সমস্যাগুলোর অন্যতম জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বছর জলাবদ্ধতা সহনশীল ও ম্যানেজেবল পর্যায়ে থাকবে। তবে জলাবদ্ধতা যে হবে না, তা বলা যাবে না।’
তিনটি কাজ অগ্রাধিকারভিত্তিতে করতে চান জানিয়ে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে, প্রতিটি পদক্ষেপে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা। এ জন্য গণশুনানি ও পঞ্চায়েতব্যবস্থা সক্রিয় করার মাধ্যমে মানুষের কথা শুনে উন্নয়নকাজ করা হবে। দ্বিতীয়ত, পরিবেশ রক্ষা ও দূষণরোধ। আর তৃতীয় কাজটি হবে আবাসনে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা। রাজধানীর ৪০ শতাংশ মানুষ ন্যূনতম আবাসনসুবিধার বাইরে রয়েছেন বলেও এ সময় জানান তিনি।
রাজধানীর মাঠ ও পার্কগুলো বিভিন্ন ক্লাবের দখলে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে নতুন প্রশাসক বলেন, ঢাকা উত্তর সিটির আওতাধীন সব মাঠ ও পার্ক জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। খোলা জায়গা বাড়ানো হবে অন্যতম অগ্রাধিকার। এ ছাড়া বেদখলে থাকা জনপরিসর ও খোলা জায়গা উদ্ধার করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, মূল সড়ক থেকে অননুমোদিত ব্যানার-পোস্টার অপসারণ করা হবে। পিভিসি ব্যানার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। রাস্তার পাশে দেয়ালে আঁকা জুলাই গ্রাফিতিগুলো রক্ষা করা হবে। আর যাঁরা পোস্টার-ব্যানার লাগাবেন, তাঁদের দ্বারা পোস্টার শুধু অপসারণই নয়, জরিমানাও করা হবে।
উত্তর সিটির আওতাধীন রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান মোহাম্মদ এজাজ। মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, জন্মনিবন্ধনের ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় কম্পিউটার সরঞ্জাম সরবরাহ, দুর্নীতি বন্ধে নগরবাসীকে সচেতন করা ও সিটি করপোরেশনকে দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন নতুন প্রশাসক।
এর আগে লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য শহর করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিবেশ যেন ভালো থাকে, বাতাস বিশুদ্ধ হয়, নদী-খালগুলো বাঁচে, সবার জন্য উন্মুক্ত জায়গা যেন থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে। শিশুর খেলাধুলা, মানুষের হাঁটাচলা ও বসা, রাস্তা, পানি সরবরাহ এবং পয়োনিষ্কাষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে যাতে কাজ করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভা শেষে ঢাকা উত্তর সিটির বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় তিনটি অবৈতনিক উপদেষ্টা কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন নতুন প্রশাসক। তিন কমিটি হলো বায়োডাইভারসিটি (জীববৈচিত্র্য) কমিটি, ডায়াসপোরা (প্রবাসী) কমিটি ও সাধারণ উপদেষ্টা কমিটি।
সভায় ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু সাঈদ মো.
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ব যবস থ পদক ষ প পর ব শ ক জ কর করপ র
এছাড়াও পড়ুন:
ট্রাম্পের চিঠির জবাব দিয়েছে ইরান
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তির আহ্বান জানিয়ে ইরানকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠির জবাব দিয়েছে তেহরান। ওমানের মাধ্যমে এই জবাব দেওয়া হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ কথা জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ট্রাম্পের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের জবাব ‘ওমানের মাধ্যমে যথাযথভাবে পাঠানো হয়েছে’।
আরাগচি বলেন, ‘সর্বোচ্চ চাপ ও সামরিক হুমকির মধ্যে থাকা অবস্থায় সরাসরি আলোচনায় যুক্ত না হওয়ার আমাদের নীতি এখনো বহাল আছে। তবে অতীতের মতো পরোক্ষ আলোচনা চলতে পারে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জবাবের মধ্যে একটি চিঠি রয়েছে, যেখানে বর্তমান পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের চিঠির বিষয়ে আমাদের অভিমত বিস্তারিত তুলে ধরেছি।’
আরও পড়ুনইরানের নেতাকে ট্রাম্পের চিঠি০৭ মার্চ ২০২৫‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের’ নীতির অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালে তাঁর প্রথম মেয়াদে ইরানের সঙ্গে হওয়া পারমাণবিক চুক্তি থেকে একতরফা সরে আসেন এবং দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্তে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে ওই চুক্তি করেছিল ইরান।
৭ মার্চ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তিনি চিঠি লিখেছেন। তেহরান আলোচনায় বসতে রাজি না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে ওই চিঠি দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে আলোচনায় বসার জন্য ইরান দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।