ট্রাম্প, নেতানিয়াহু, মোদি ও এরদোয়ানের মধ্যে কেন এত মিল
Published: 4th, April 2025 GMT
তাঁরা আলাদা দেশের নেতা ও সরকারপ্রধান; এমনকি মহাদেশও ভিন্ন। একজন উত্তর আমেরিকা, একজন মধ্যপ্রাচ্য, একজন এশিয়া এবং আরেকজন ইউরোপের। তাঁদের রাজনৈতিক ‘আদর্শ’ আলাদা, ধর্ম আলাদা, আলাদা তাঁদের অনুসারী গোষ্ঠীও। এত সব ভিন্নতার পরও তাঁদের কথা ও কাজে ‘বিস্ময়কর’ সব মিল পাওয়া যায়!
সমকালীন বিশ্বরাজনীতিতে জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় পরিচয় এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্বের উত্থান বেশ লক্ষণীয়। এই ধারারই চারটি উল্লেখযোগ্য মুখ হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
নিজ নিজ দেশের পটভূমিতে তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের মিল যেখানে সেটা হলো গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং সমানাধিকারের প্রশ্নে তাঁদের অনেক পদক্ষেপ সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই নেতারা একদিকে বিশাল জনসমর্থন পেয়েছেন, অন্যদিকে হুমকি তৈরি করেছেন গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য এক মৌলিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। একজন সফল ব্যবসায়ী এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া ট্রাম্প রাজনীতিকে এক নতুন ধাঁচে চালনা করেন—যার ফলে তাঁকে অনেক সময় গণতান্ত্রিক রীতিনীতির জন্য হুমকি বলেই বিবেচনা করা হয়। ট্রাম্প রাজনীতির মূলধারার বাইরে থেকে এসে জনরোষ ও অসন্তোষকে পুঁজি করে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছেন।
ট্রাম্প আমেরিকার সমাজকে আগের চেয়ে আরও মেরুকৃত করেছেন—বর্ণ, অভিবাসন, লিঙ্গ ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে। তাঁর কথাবার্তা অনেক সময় বিভাজনকে উসকে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রায়ই ডেমোক্র্যাটদের ‘দুশমন’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত ভাষা অনেক সময় তাঁর সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা ও ঘৃণা উসকে দিয়েছে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুইসরায়েলের দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর শাসনব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক মানদণ্ড, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ফিলিস্তিনি প্রশ্ন এবং ঘরোয়া রাজনীতিতে মেরুকরণ ইত্যাদি বিষয়ে গভীর বিতর্ক রয়েছে। নেতানিয়াহুর সরকারের সবচেয়ে বড় সমালোচনা আসে তাঁর সাম্প্রতিক বিচার বিভাগের সংস্কার পরিকল্পনা থেকে, যেটিকে অনেকেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এবং গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ, প্রতারণা ও আস্থাভঙ্গের অভিযোগে মামলা চলছে; যদিও তিনি নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার বলেই দাবি করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে চলমান এই মামলা ইসরায়েলের রাজনৈতিক শুদ্ধাচারের প্রশ্নে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনিদের প্রতি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। বসতি স্থাপন, গাজায় সামরিক হামলা এবং ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’-এর প্রতি অনীহা তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিসরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। তাঁর নেতৃত্বে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বহুবার আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে। তিনি ধর্মীয় দল ও উগ্র ডানপন্থী অংশীদারদের সঙ্গে জোট গঠন করে ইসরায়েলি সমাজে ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মীয় অংশের মধ্যে তীব্র বিভাজন সৃষ্টি করেছেন। আরব-ইসরায়েলিদের অধিকারের প্রশ্নেও তাঁর অবস্থানকে বিভাজনমূলক হিসেবে দেখা হয়।
নরেন্দ্র মোদিমোদি ২০১৪ সাল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর আগে তিনি গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন দীর্ঘকাল। মোদির নেতৃত্বে ভারত একদিকে যেমন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ডিজিটাল উন্নয়ন ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে একটি দৃঢ় অবস্থান লাভ করেছে, অন্যদিকে তাঁর শাসনব্যবস্থাকে ঘিরে উগ্র জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় বিভাজন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের হ্রাসের অভিযোগও প্রবলভাবে উঠেছে।
মোদি সরকারের সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো, ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের আদর্শ থেকে সরে এসে একটি হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রে রূপান্তরের চেষ্টা। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ), জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি), বাবরি মসজিদের রায় ও হিজাব ইস্যুতে সরকারের ভূমিকা সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। মোদি সরকার সমালোচনাকারী সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিরোধী কণ্ঠ রোধ করার ক্ষেত্রে মোদি সরকারের ভূমিকা গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের পরিপন্থী।
রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান২০০৩ সাল থেকে তুরস্ক শাসন করছেন এরদোয়ান; প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং ২০১৪ সাল থেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে। তিনি একজন ক্যারিশম্যাটিক, একই সঙ্গে বিতর্কিত নেতা। এরদোয়ান একজন ইসলামপন্থী রাজনীতিক হলেও প্রথম দিকে তিনি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে একটি ‘মডারেট’ (মধ্যপন্থী) ইসলামি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
এরদোয়ান শাসনামলে তুরস্ক অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিকভাবে কিছু নতুন কূটনৈতিক স্থান অর্জন করলেও গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে বলে সমালোচনা রয়েছে। তিনি রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করেছেন, বিচার বিভাগকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে এনেছেন এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাহী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছেন।
২০১৭ সালের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এরদোয়ান কার্যত একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু করেন। তুরস্ক বর্তমানে সাংবাদিকদের কারাবন্দীর সংখ্যায় শীর্ষে থাকা দেশগুলোর একটি। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে মামলা, গ্রেপ্তার এবং চাকরি হারানোর ভয় রয়েছে। গণমাধ্যমকে সরকারপন্থী করে তোলা হয়েছে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিসর সংকুচিত হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নরেন্দ্র মোদি এবং রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের মধ্যে কিছু অমিল থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু দিক থেকে একে অপরের সঙ্গে মিলে যায়।
রাজনৈতিক দর্শনএই চার নেতারই রাজনৈতিক দর্শনে জাতীয়তাবাদ একটি কেন্দ্রীয় জায়গা দখল করে আছে। হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট (শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী) ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগানের মাধ্যমে ‘বিশ্বায়নবিরোধী’ অবস্থান দিয়েছেন। নেতানিয়াহু মূলত ইসরায়েলের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে ইহুদি জাতীয়তাবাদকে সামনে রেখেছেন। মোদি হিন্দু পরিচয় ও সংস্কৃতি পুনর্জাগরণকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছেন, যেখানে হিন্দুত্ববাদ একটি নিয়ন্ত্রক শক্তি। অন্যদিকে এরদোয়ান ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্ককে ইসলামপন্থী জাতীয়তাবাদের দিকে ঠেলে দিয়েছেন, যেখানে ইসলাম ও তুর্কি পরিচয়ের সম্মিলন ঘটেছে।
নেতৃত্বের ধরন ও শাসনপ্রক্রিয়াএই চারজন নেতার শাসনের ধরন অনেকাংশেই কেন্দ্রীয়করণ ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক। ট্রাম্প মার্কিন রাজনীতির প্রচলিত রীতিনীতি ভেঙে দিয়ে প্রায়ই বিতর্কিত নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। নেতানিয়াহু অনেক বেশি কৌশলী ও বাস্তববাদী; তিনি দীর্ঘদিন ইসরায়েলি রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে পারদর্শী হয়েছেন। মোদি একটি শক্তিশালী ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রশাসন তৈরি করেছেন, যেখানে সরকারি উদ্যোগগুলো প্রায় সবই ‘মোদি ব্র্যান্ড’ হয়ে উঠেছে। এরদোয়ান প্রথমে একজন ‘সংস্কারপন্থী’ নেতা হিসেবে উঠে এলেও পরে তার নেতৃত্ব অধিক কর্তৃত্ববাদী রূপ নেয়।
বৈদেশিক নীতিচার নেতার বৈদেশিক নীতিও তাঁদের আদর্শের প্রতিফলন। ট্রাম্প ছিলেন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও জোটের বিরুদ্ধে; তিনি জলবায়ু চুক্তি ও ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসেন। নেতানিয়াহু ইরানবিরোধী অবস্থান এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আগ্রহী ছিলেন। মোদি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে একাধারে প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতা বজায় রেখেছেন, পাশাপাশি পশ্চিমা দেশের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন। এরদোয়ান চেয়েছেন স্বাধীন কূটনীতি গড়ে তুলতে; তিনি সিরিয়া, লিবিয়া ও আজারবাইজানের সংঘাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন এবং ন্যাটোর সঙ্গেও একধরনের টানাপোড়েন বজায় রেখেছেন।
অভ্যন্তরীণ নীতিচারজন নেতারই শাসনামলে অভ্যন্তরীণ নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনা, অভিবাসন আইন এবং ক্যাপিটল হিলে সহিংসতার জন্য তীব্রভাবে সমালোচিত হন। নেতানিয়াহু দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হন এবং বিচারব্যবস্থা সংস্কারের নামে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব করার, বিশেষত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে। এরদোয়ান দেশজুড়ে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, বিচারব্যবস্থায় প্রভাব এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সমালোচিত হয়েছেন।
সমর্থক গোষ্ঠীচার নেতারই রয়েছে নির্দিষ্ট সমর্থক গোষ্ঠী। ট্রাম্প আমেরিকার গ্রামীণ, সাদা ও ধর্মীয় রক্ষণশীল ভোটারদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। নেতানিয়াহুর সমর্থক এবং জায়নবাদীরা তাঁকে ইসরায়েলের ‘নিরাপত্তার রক্ষাকর্তা’ হিসেবে দেখে। মোদি ভারতের বৃহৎ হিন্দু মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও উগ্র জাতীয়তাবাদী তরুণদের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। এরদোয়ান তুরস্কের গ্রামীণ ও ধর্মভিত্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এখনো শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন, যদিও নগরভিত্তিক জনগোষ্ঠীতে তাঁর জনপ্রিয়তা কমেছে।
শেষ কথাট্রাম্প, নেতানিয়াহু, মোদি ও এরদোয়ানের নীতি-আদর্শ-রাজনৈতিক দর্শনে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলেও তাঁরা প্রত্যেকে ডানপন্থী এবং জনতুষ্টিবাদী (পপুলিস্ট)। নিজ নিজ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মাবলম্বী মানুষদের সন্তুষ্টি ও সমর্থন অর্জন করাই তাঁদের অন্যতম রাজনৈতিক কৌশল; অন্যদিক সংখ্যালঘু, উদারপন্থী এবং বামপন্থীরা হলেন তাঁদের ‘সাধারণ শত্রু’।
এই চার নেতার রাজনৈতিক উত্থান একটি বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি—যেখানে জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় পরিচয় এবং ব্যক্তিনির্ভর নেতৃত্ব রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে; যদিও তাঁদের প্রত্যেকে নিজ নিজ দেশের পটভূমিতে ভিন্ন ভূমিকা পালন করেছেন, তবু গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং সমানাধিকারের প্রশ্নে তাঁদের অনেক পদক্ষেপ সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই নেতারা একদিকে বিশাল জনসমর্থন পেয়েছেন, অন্যদিকে সমানতালে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছেন রাজনৈতিক বৈচিত্র্য ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
স্টিভেন লেভিটস্কি এবং ডেনিয়েল জিবলাট তাঁদের আলোচিত গ্রন্থ হাউ ডেমোক্রেসিস ডাই বইয়ে আধুনিককালে গণতন্ত্র ধ্বংসের চারটি স্পষ্ট লক্ষণ বা নির্দেশক চিহ্নিত করেছেন। এই নির্দেশকগুলো হলো:
১.
২. রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বৈধতা অস্বীকার;
৩. সহিংসতাকে উৎসাহ দেওয়া বা সহ্য করা;
৪. বিরোধী মত, গণমাধ্যমের ও নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করা
এই নির্দেশকগুলো অনুসারে ট্রাম্প, নেতানিয়াহু, মোদি ও এরদোয়ান—তাঁরা প্রত্যেকেই গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।
সূত্র:
১. ক্লউস ল্যারেস (সম্পা.), ডিক্টেটরস অ্যান্ড অটোক্র্যাটস: সিকিউরিং পাওয়ার অ্যাক্রোস গ্লোবাল পলিটিকস, রাউটলেজ
২. স্টিভেন লেভিটস্কি এবং ডেনিয়েল জিবলাট, হাউ ডেমোক্রেসিস ডাই, পেঙ্গুইন বুকস
মনজুরুল ইসলাম প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: গণত ন ত র ক গণতন ত র র র জন ত ক দ র র জন ত ক ইসর য় ল র ত কর ছ ন র জন ত ত স ব ধ নত এরদ য় ন ব যবস থ অবস থ ন পদক ষ প সরক র র আম র ক র জন য ত হয় ছ ত রস ক ব ভ জন ক টন ত দ র অন ইসল ম প রথম আদর শ
এছাড়াও পড়ুন:
আট দশটা সাধারণ মানুষের মতো আমিও রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ: ফারিয়া
নুসরাত ফারিয়া। উপস্থাপিকা, মডেল ও চিত্রনায়িকা। দেশের পাশাপাশি কাজ করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও। এবার ঈদে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ভৌতিক ঘরানার সিনেমা ‘জ্বীন-৩’। যেখানে তার সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন অভিনেতা সজল। তাঁর অভিনীত নতুন সিনেমা ‘জ্বীন’সহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
প্রথমবারের মতো ভৌতিক গল্পের সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা?
ভৌতিক গল্পে কাজের অভিজ্ঞতা ভৌতিকই বলব। ‘জ্বীন’ সিনেমার আগের সিকুয়ালগুলোর গল্প ভিন্ন। এবার পুরোপুরি সুপারন্যাচারাল ব্যাপার নিয়ে সিনেমার গল্প। আমরা সবাই জানি পৃথিবীতে মানুষ এবং জ্বীন বসবাস করে। আমাদের আশপাশে অনেক সময়ই অলৌকিক নানা ধরনের ঘটনা ঘটে, যেগুলো আমরা চোখে দেখি, কিন্তু মন থেকে বিশ্বাস করতে পারি না। কিন্তু ঘটে। এ সিনেমার দৃশ্যধারণ করতে গিয়ে আমাদেরও নানা ধরনের ঘটনা ঘটেছে। শুটিং সেটে অনেক ধরনের ইনসিডেন্ট হয়েছে, আবার ঠিকও হয়েছে।
শুটিংয়ের সময়কার ঘটনাগুলো?
আমাদের সিনেমার বেশির ভাগ দৃশ্য রাতে। যেহেতু ভৌতিক সিনেমা, তখন রাতের বেলা দেখা গেছে কেউ না কেউ অসুস্থ হচ্ছে। কেউ হুট করে পড়ে যাচ্ছে, মাথায় ব্যথা পাচ্ছে, ক্যামেরা রোল হচ্ছে না, লাইট কাজ করছে না, আবার একটু পর ঠিক হচ্ছে। রহস্য, ভয়ের আবহ আর অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতায় মোড়া এ সিনেমার শুটিং হয়েছে কয়েকটি গা ছমছমে লোকেশনে। যেসব জায়গায় অপমৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটেছে। যখন শুটিংয়ে যেতাম, তখন মনের ভেতরে একটা ভয় থাকে, যে কোনো কিছু হতে পারে। এ সিনেমার শেষ দৃশ্যের শুটিং যে স্থানে করছিলাম, সেটি ছিল একশ বছর পুরোনো বটগাছের নিচে। জায়গাটা এমনই যে, রাতের অন্ধকার নামলেই গা ছমছম করে। পাশে শ্মশান আছে। আমার টিমের বিশেষ করে, হেয়ার স্টাইলিস্ট, মেকআপম্যান তারা আমাকে নিয়ে খুব চিন্তিত ছিল। শুটিংয়ে যাওয়ার আগে তারা রীতিমতো দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে দিত। কামিজের ওড়নার নিচে একটা রসুন দিয়ে রাখতাম, বা কিছু একটা দিয়ে রাখত যেন কোনো ধরনের খারাপ কিছুর আছর না হয়। তারপরও পুরো টিম বেশ ইতিবাচকভাবে কাজ করেছেন।
এ সিনেমায় আপনার অভিনীত চরিত্রে চ্যালেঞ্জ কেমন ছিল?
টাইমিং। যখন আমি এ সিনেমার জন্য তৈরি হচ্ছিলাম। তখন আমাকে প্রযোজক আবদুল আজিজ ভাই বলছিলনে, ফারিয়াকে সবাই গ্ল্যামারাস চরিত্রে বেশি দেখেছে। এ সিনেমায় তাঁকে আমরা দেখতে চাই মফস্বলের ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ে হিসেবে। যে একেবারে নাদুসনুদুস। ফলে এ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আমাকে কিছুটা ওজন বাড়াতে হয়েছে; যা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে সহশিল্পীদের কারণে আমি উতরে গেছি বলা যায়। সিনেমার কাজে যখন সহশিল্পীরা ভালো থাকেন, তখন কাজ করে আরাম হয়, ব্লকিংগুলো দারুণ হওয়ার কারণে দৃশ্যগুলোও খুব ভালোভাবে শেষ হয়ে যায়।
জ্বীন কেন দর্শকদের দেখা উচিত বলে মনে করেন
ভৌতিক গল্পের সিনেমা। এ ধরনের জনরায় আমাদের এখানে কাজ খুব বেশি হয় না। কারণ, একজন নির্মাতা বা প্রযোজকেরা সিনেমা নির্মাণের আগে শুরুতে থ্রিলার রোমান্টিক কিংবা অ্যাকশন গল্পের দিকে বেশি মনোযোগ দেন। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন, তারা হরর কমেডি, হরর থ্রিলারের কাজ বেশি করেন। এ ধরনের গল্পের দর্শকও অনেক বেশি। কিছু মানুষ সত্যিকার অর্থেই ভৌতিক গল্পের কাজ দেখতে পছন্দ করেন। সুতরাং আমরা কেন সে ধরনের ভয়ের গল্পগুলো দেখাব না, বা নির্মাণ করব না। এই ঈদে মুক্তি পাওয়া থ্রিলার, প্রেম ভালোবাসার গল্পের বাইরে সিনেমা দেখতে চান, তাদের জন্য এ সিনেমাটি ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।
আপনার চলচ্চিত্র যাত্রার এক দশক হলো…
আমার কাছে মনে হয়, আমি অনেক লাকি একজন মানুষ। আমি মাঝেমধ্যে ভাবি, একজন উপস্থাপিকা থেকে কীভাবে একজন অভিনেত্রী হয়ে গেলাম। এখনও ভাবি, একজন উপস্থাপিকা যে কিনা প্রতিদিন একটি ছোট্ট স্টুডিওর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান করত। সেই থেকে সিনেমায় দশ বছরের যাত্রা। এটি কম নয়। আমার চাহিদার চেয়ে আমি অনেক বেশি পেয়েছি।
নেতিবাচক সমালোচনা কী মন খারাপ করে দেয়?
অব্যশই। নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক কথা শুনলে মন খারাপ হয়। কারণ অন্য আট দশটা সাধারণ মানুষের মতো আমিও রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ। তবে কাজের সমালোচনা আমি খুব ভালোভাবেই নিই। কারণ, সেগুলো থেকে নিজের ভুলগুলো বুঝতে পারি।
পশ্চিম বাংলার সিনেমায় কাজের খবর আছে?
না, এ মুহূর্তে পশ্চিম বাংলায় কাজের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে এসভিএফ-এর সঙ্গে আমার বেশ কয়েকটা গান তৈরি হয়ে রয়েছে, সেগুলোর কাজ হতে পারে।