দিরাই-শাল্লায় এগারো বিলে ১০ কোটি টাকার মাছ লুট
Published: 6th, March 2025 GMT
বিএনপি নেতাদের অংশীদার করেও জলমহাল রক্ষা করতে পারছেন না দিরাই-শাল্লার আওয়ামী লীগ ঘরানার ইজারাদাররা। গত ছয় দিনে সুনামগঞ্জের এই দুই উপজেলার ১১ বিলে লুটপাট হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকালেও হালুয়া খাটুয়া ও দিরাই চাতল বিল লুট করেছে কয়েক হাজার মানুষ। এসব বিল থেকে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার মাছ লুট হয়েছে বলে দাবি জলমহাল ইজারাদারের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিরাইয়ের কামান বিলে মাছ লুটপাটের মধ্য দিয়ে জলমহাল লুটের উৎসব শুরু হয় দিরাই-শাল্লা উপজেলায়। কাগজপত্রে এই বিলের ইজারাদার চরনারচর বিএম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতির নামে ইজারা থাকলেও এই জলমহালের মালিক হিসেবে পরিচিত দিরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ মিয়া ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জয় কুমার বৈষ্ণব।
সম্প্রতি কামান বিলের জলমহালের মাছ আহরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল ইজারাদার পক্ষ। এর মধ্যেই শুক্রবার ভোরে পাশের নোয়াগাঁও, কার্তিকপুর, মাইতি, হাসনাবাদ, শ্যামারচর, আটগাঁও, মির্জাপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে জলমহালে মাছ ধরা শুরু করে।
এভাবে গেল ছয় দিনে একে একে উদীর হাওর (মুরগা নদী), সউত্বা, জয়পুর-আতনি, বেতইর নদী, লামা বেতইর, হালুয়া-ঘাটুয়া, দিরাই-চাতল, কলকলিয়া, বড়গাঁও-ইয়ারাবাদ গ্রুপ ও জোয়ারিয়া বিলে লুটতরাজ চালায় তারা।
চরনারচর বিএম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সুধীর বিশ্বাস জানান, বছরে এ জলমহালে বার্ষিক ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব জমা দেন তারা। এবার নিয়ে ছয় বছর হয় বিলের ইজারায় রয়েছে তাদের সমিতি। ইজারা নিতে অনেক টাকার প্রয়োজন, এজন্য ‘বছর-বছর চুক্তিতে’ আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ মিয়া ও জয় কুমার বৈষ্ণবকে শরিক রেখেছেন তারা। শুক্রবারের ঘটনায় বিল থেকে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার মাছ লুট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
উদীর হাওরের ইজারাদার সুধীর রঞ্জন দাস বলেন, ১৮ বছর হয় বিলের ইজারাদার তাদের সমিতি। এ বছর ৯০ লাখ টাকা ইজারামূল্য ছিল। ইতোমধ্যে এক কোটি টাকার মাছ তারা আহরণ করেছেন। লুট হয়েছে কমপক্ষে তিন কোটি টাকার মাছ। এই লুটপাটে কমপক্ষে ২০ গ্রামের মানুষ ছিল। এমনকি আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থককেও জলমহাল লুটপাটে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের জলমহালে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়ের পুঁজি রয়েছে।
জয়পুর-আতনি জলমহালের ইজারাদার জয়পুর আতনি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। চলতি বছর ভ্যাটসহ ৮৬ লাখ টাকায় জলমহাল ইজারা নেয় এই সমবায় সমিতি। গত কয়েক দিনে এখান থেকে ৫ কোটি টাকার মাছ লুট হয়েছে বলে দাবি করেন ইজারা সমিতির সভাপতি বিকাশ রঞ্জন দাস। জানা গেছে, এই বিলে পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়।
শাল্লার আটগাঁওয়ের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রাহুল দাস জানালেন, তাদের এলাকার লুট হওয়া বিলের ইজারাদার সমিতির সঙ্গে অংশীদার ছিলেন দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুর মিয়া চৌধুরী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাজাহান কাজী।
বিভিন্ন জলমহাল লুটের ধরনের ঘটনাকে বিগত সময়ে সরকারদলীয়দের অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দিরাই-শাল্লার সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ছোট ভাই মইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, গেল ১৫ বছর যারা অত্যাচার-নির্যাতন, শাসন-শোষণ করে মানুষকে অতিষ্ঠ করেছিল, তাদের প্রতি মানুষ ক্ষুব্ধ। আওয়ামী লীগ নেতাদের জলমহাল লুটে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে সবাই।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা, বর্তমানে দিরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলের ভাষ্য, জলমহাল লুট শুরু করেছে অন্য উপজেলার লোকজন। পরে দিরাইয়ের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ উৎসবের মতো পলো বাওয়া শুরু করে। এমনও হয়েছে, ৫০০ টাকার মাছ ধরতে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করেছেন উৎসাহীরা।
লুটপাটে বিএনপির কেউ জড়িত নয় দাবি করে তাহির রায়হান চৌধুরী বলেন, জলমহাল লুটের ঘটনায় দিরাই-শাল্লার মানুষের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। জলমহালের ইজারায় শরিক বিএনপির কেউ কেউ থাকতেই পারেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, টাকা থাকলে ব্যবসায় বিনিয়োগ করা অপরাধের কিছু দেখছি না।
জেলা প্রশাসক ড.
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: ল টপ ট ল র ইজ র দ র দ র ই উপজ ল জলমহ ল ল ট ব ল র ইজ র জলমহ ল র ল ট হয় ছ ব এনপ র র ঘটন য় কর ছ ন আওয় ম
এছাড়াও পড়ুন:
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক নেবে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি ও প্রবেশনারি অফিসার, আবেদন শেষ কাল
বেসরকারি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে জনবল নিয়োগের আবেদন শেষ হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। এই ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার (এমটিও) ও প্রবেশনারি অফিসার (পিও) পদে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
১. পদের নাম: ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার (এমটিও)
পদসংখ্যা: অনির্ধারিত
যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ-৪.০০-এর মধ্যে কমপক্ষে সিজিপিএ-৩.২৫ এবং সিজিপিএ-৫.০০-এর মধ্যে কমপক্ষে সিজিপিএ-৪.০০ বা প্রথম শ্রেণি থাকতে হবে। এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫.০০-এর মধ্যে ৪.৭৫ অথবা ও লেভেলে ৪টি ‘এ’ ও ১টি ‘বি’ এবং এ লেভেলে একটি ‘এ’ ও একটি ‘বি’ থাকতে হবে। এমএস অফিস অ্যাপ্লিকেশনের কাজ জানতে হবে।
বয়স: ১৬ মার্চ ২০২৫ সর্বোচ্চ ৩২ বছর।
বেতন-ভাতা: এক বছর প্রবেশনকালে মাসিক বেতন ৪৯,৫০০ টাকা (আলোচনা সাপেক্ষে)। প্রবেশনকাল শেষে ফার্স্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে চাকরি স্থায়ী হলে মাসিক বেতন হবে ৭১,৫০০ টাকা।
২. পদের নাম: প্রবেশনারি অফিসার (পিও)
পদসংখ্যা: অনির্ধারিত
যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ-৪.০০-এর মধ্যে কমপক্ষে সিজিপিএ-৩.০০ এবং সিজিপিএ-৫.০০-এর মধ্যে কমপক্ষে সিজিপিএ-৪.০০ বা প্রথম শ্রেণি থাকতে হবে। এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫.০০-এর মধ্যে ৪.৫০ অথবা ও লেভেলে ৩টি ‘এ’ ও ২টি ‘বি’ এবং এ লেভেলে ২টি ‘বি’ থাকতে হবে। এমএস অফিস অ্যাপ্লিকেশনের কাজ জানতে হবে।
বয়স: ১৬ মার্চ ২০২৫ সর্বোচ্চ ৩২ বছর।
বেতন-ভাতা: এক বছর প্রবেশনকালে মাসিক বেতন ৩৮,৫০০ টাকা (আলোচনা সাপেক্ষে)। প্রবেশনকাল শেষে অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে চাকরি স্থায়ী হলে মাসিক বেতন হবে ৫২,৯৫৫ টাকা।
শর্ত: নিয়োগের পর থেকে অন্তত পাঁচ বছর এই ব্যাংকে চাকরি করবেন মর্মে বন্ডে সই করতে হবে।
যেভাবে আবেদন
আগ্রহী প্রার্থীদের এই লিংক নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জেনে Apply Now বাটনে ক্লিক করে আবেদন করতে হবে।
আবেদনের শেষ সময়: ৭ এপ্রিল ২০২৫।
আরও পড়ুনএক্সিম ব্যাংক নেবে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি, লাগবে না অভিজ্ঞতা, বেতন ৫২ হাজার১৪ মার্চ ২০২৫