দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন কাস্টমার রিলেশন ম্যানেজমেন্ট (সিআরএম) এক্সিকিউটিভদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু করেছে।

ওয়ালটন ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের আয়োজনে গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হেডকোয়ার্টারে ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ কর্মশালা দুই দিনব্যাপী চলবে। এতে সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ২০০ সিআরএম এক্সিকিউটিভ পর্যায়ক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

কর্মশালায় কাস্টমার সার্ভিস দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধান, পণ্য ও সেবার জ্ঞান, গ্রাহকসন্তুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং বিক্রয় ও রিটেনশন কৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

ওয়ালটনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, গ্রাহকদের উন্নত ও দ্রুত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।

ওয়ালটনের চিফ সার্ভিস অফিসার নিয়ামুল হক বলেছেন, ‍‍“গ্রাহক সন্তুষ্টিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। দ্রুততম সময়ে মানসম্মত সার্ভিস নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন বলেছেন, “ওয়ালটন শুধু পণ্য বিক্রিই করে না, বরং গ্রাহকদের উন্নত বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে সিআরএম এক্সিকিউটিভদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। এর মাধ্যমে আমাদের সার্ভিস টিম আরো দক্ষ হয়ে আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে পারবে।”

ওয়ালটনের কাস্টমার রিলেশন ম্যানেজমেন্ট সেকশনের প্রধান মো.

আলিমুল আল রাজী বলেছেন, “আন্তরিক সেবাদানের মাধ্যমে গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিক্রয়োত্তর সেবার প্রতি আস্থা তৈরির মাধ্যমে ওয়ালটনের ব্র্যান্ড ভ্যালু আরো বাড়বে।”

ওয়ালটনের ট্রেইনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের রওশন আলী বুলবুল বলেছেন, “সারা দেশে উন্নত গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রশিক্ষিত এক্সিকিউটিভরা আরো দক্ষ হয়ে গ্রাহকদের উন্নত সেবা দিতে পারবেন, যা ওয়ালটনের সার্ভিস নেটওয়ার্ককে আরো শক্তিশালী করবে।”

ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এক্সিকিউটিভদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যা গ্রাহকসেবার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ঢাকা/রফিক

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর গ র হকদ র বল ছ ন আম দ র

এছাড়াও পড়ুন:

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে পণ্য রপ্তানিতে বড় ধাক্কার শঙ্কা

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নতুন করে ৩৭ শতাংশ রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এত দিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। নতুন শুল্কের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বড় বাজারটিতে পণ্য রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকেরা। বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানির ১৮ শতাংশের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক বসিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনায় দুনিয়াজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সূচকের পতন ঘটেছে বিশ্বের প্রায় সব শেয়ারবাজারে। সোনার দামেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। মোদ্দাকথা, ট্রাম্পের এই পাল্টা শুল্ক বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যের গতি–প্রকৃতি অনেকটাই বদলে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা নিয়ে বিবিসি, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমসসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশ্বনেতাদের ক্রিয়া–প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা। অস্ট্রেলিয়া বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বন্ধুসুলভ নয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, নিঃসন্দেহে এই ঘটনার অর্থনৈতিক প্রভাব অনুভূত হবে। চীন বলেছে, তারা এই ঘটনার প্রতিশোধ নেবে। অর্থাৎ ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের জবাবে তারাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করে দিলেন।

অবশ্য দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই এমন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের গোলাপবাগানে বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত দুইটা) নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরে অন্যান্য দেশ আমাদের দুর্বল নিয়মকানুনের সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে লুট করে চলেছে; কিন্তু আর নয়। আমরা এখন সেই দেশগুলোর ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করব।’ ট্রাম্প বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমাদের চাকরিবাকরি বাড়বে; শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা পুনরুজ্জীবিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে আবার ধনী বানানোই আমাদের লক্ষ্য।’

বাণিজ্য–ঘাটতি বেশি, তাহলে শুল্কও বেশি

যে দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য–ঘাটতির আনুপাতিক হার বেশি, সে দেশের ওপর বেশি হারে পাল্টা শুল্ক বসিয়েছেন ট্রাম্প। তাতে এশিয়ার দেশগুলোর ওপর বড় অঙ্কের শুল্ক আরোপ হয়েছে। তবে বিশ্বের সব দেশের পণ্যে গড়ে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাল্টা শুল্ক নির্ধারণে মার্কিন প্রশাসন একটি সূত্র প্রয়োগ করেছে। সেটি হচ্ছে নির্দিষ্ট দেশের বাণিজ্য–ঘাটতিকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির পরিমাণ দিয়ে ভাগ করে যা পাওয়া যায়, তার শতাংশ ধরে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তার অর্ধেক পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে ৮৩৬ কোটি ডলারের পণ্য। বিপরীতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করেছে ২২১ কোটি ডলারের পণ্য। এই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য–ঘাটতি ৬১৫ কোটি ডলার। ওপরের সূত্র অনুযায়ী বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার দাঁড়ায় ৭৪ শতাংশ। ট্রাম্প প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, তার অর্ধেক বা ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে বাংলাদেশের পণ্যে।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য–ঘাটতি চীনের সঙ্গে। ঘাটতির পরিমাণ ২৯২ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ১৩ শতাংশ চীন থেকে আসে। চীনের পণ্যে নতুন করে ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য–ঘাটতি ২৪১ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির সাড়ে ১৮ শতাংশ আসে। ইইউর ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছেন। এ ছাড়া ভিয়েতনামের পণ্যে ৪৬ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২, পাকিস্তানের পণ্যে ২৯, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ করে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই হিসাবে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশ ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের ওপর শুল্ক আরোপ হয়েছে কম।

বদলে যাবে বিশ্ব বাণিজ্য

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পাল্টা শুল্ক আরোপের মূল নীতি হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য–ঘাটতি কমিয়ে আনা। ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বাস করে, আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করা হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার ফুলে–ফেঁপে উঠবে। শুল্কের কারণে কোম্পানিগুলো সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করবে। অনেক কোম্পানি তাদের উৎপাদনকেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রে বা অন্য কোনো শুল্কমুক্ত অঞ্চলে স্থানান্তর করবে।

বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, এই শুল্ক ভবিষ্যতের বাণিজ্য আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এই শুল্কারোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ৭০০ বিলিয়ন বা ৭০ হাজার কোটি ডলার বাড়তি শুল্ক পাবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির এ পরিমাণ শুল্ক-বৃদ্ধির নজির নেই। যদিও সবকিছু শেষমেশ মার্কিন ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কেমন থাকে, তার ওপর নির্ভর করবে। অবশ্য ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের নীতি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মকানুনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে ডব্লিউটিওর কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশের রপ্তানিতে প্রভাব

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক। সেই পোশাক রপ্তানির একক বড় বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া তৈরি পোশাকের ১৮ শতাংশের গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক সব দেশের ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাল্টা শুল্ক বসিয়েছেন। শুধু মেক্সিকোর ওপর নতুন করে শুল্ক না বসলেও গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসায় মার্কিন প্রশাসন।

দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা বলছেন, সব দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ হওয়ায় তৈরি পোশাকের দাম বাড়বে। তাতে পোশাকের চাহিদা কমে যেতে পারে। তা ছাড়া শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কমাতে উৎপাদকদের চাপে রাখবে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বিপদে পড়বেন।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হচ্ছে চীন, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, মেক্সিকো, হন্ডুরাস, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে কম পাল্টা শুল্ক আরোপ হয়েছে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, হন্ডুরাস, মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৃতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক। গত বছর (২০২৪ সাল) বাংলাদেশ ৭৩৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। এই রপ্তানি এর আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। গত বছর বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া প্রতি বর্গমিটার পোশাকের দাম ছিল ৩ দশমিক ১০ ডলার।

জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাল্টা শুল্কের কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কমাতে বাংলাদেশের উচিত হবে সরকারি পর্যায়ে দ্রুত আলোচনা শুরু করা। যুক্তরাষ্ট্রের তুলা আমদানি করে পোশাক তৈরি করছি আমরা। সেই পোশাকের বড় অংশ আবার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য তাদের দেশে রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ে পদক্ষেপ নিতে পারে সরকার।’

শুধু তৈরি পোশাক নয়, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের কারণে চামড়াপণ্য, হোমটেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি, পাটপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানিতেও ধাক্কা আসার শঙ্কা রয়েছে। গত অর্থবছর চামড়াপণ্য রপ্তানি করে ২১ কোটি, হোমটেক্সটাইলে প্রায় ৫ কোটি ডলার, হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি রপ্তানি করে ১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার দেশে আসে।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক বলবৎ থাকলে তৈরি পোশাকের কিছু ক্রয়াদেশ ভারত ও পাকিস্তানে চলে যাবে। শুল্ক কম থাকায় এই দেশগুলোতে হেভি জার্সি, ডেনিম প্যান্ট, হোমটেক্সটাইলের মতো ক্রয়াদেশ চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জরুরি বৈঠকে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের বিষয়টি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জরুরি বৈঠক করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বাণিজ্য উপদেষ্টা এই বৈঠকের বিষয়টি জানিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘পাল্টা শুল্ক আরোপের বিষয়ে এখনো অনেক কিছু আমাদের কাছে অস্পষ্ট। তাই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে; যাতে আমাদের রপ্তানি খাত কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

এদিকে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে আগামী রোববার অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। কোন দেশ কী ধরনের কৌশল নিয়েছে, সেটি দেখতে হবে। হুটহাট কোনো চুক্তি বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া যাবে না। কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার মধ্য দিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ