ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসানে ‘উচ্চ-স্তরের দল’ গঠনের সিদ্ধান্ত
Published: 18th, February 2025 GMT
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ও রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে টানা চার ঘণ্টা বৈঠক করেছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। বৈঠকে দুই দেশ সম্মত হয়েছে তারা ‘উচ্চ-স্তরের দল’ গঠন করবে, যা ইউক্রেন-রাশিয়া চলমান যুদ্ধের অবসানে কাজ শুরু করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস এক বিবৃতিতে বলেন, “একটি ফোনকল এবং একটি বৈঠক শান্তির স্থায়ী প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়। আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আজ আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সামনে এগিয়ে নিয়েছি।” খবর বিবিসির।
তিনি আরো জানান, দুই দেশ তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে বিদ্যমান ‘অসন্তোষ’ বা ‘ইরিট্যান্টস’ বিষয়গুলোও মোকাবেলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে।
আরো পড়ুন:
প্রয়োজন হলে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন পুতিন: ক্রেমলিন
ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া
বৈঠকে ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউকে যুক্ত করা হয়নি। রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার এই বৈঠক ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।
বৈঠকে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার ব্যাপারে আপত্তি তুলেছে রাশিয়া।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাশিয়ার কাছ থেকে ইউক্রেনের নিরাপত্তার একমাত্র উপায় ন্যাটোর সদস্যপদ।
ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় নেতারা উদ্বিগ্ন যে, তাদের সুরক্ষার স্বার্থকে উপেক্ষা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাড়াহুড়ো করে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত সপ্তাহে বলেছিলেন, “ইউক্রেনকে ছাড়া ইউক্রেন সম্পর্কে কোনো আলোচনা বা চুক্তিকে দেশটি স্বীকৃতি দেবে না।”
মঙ্গলবার রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠকের পর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে চান; যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চায় এবং দেশগুলোকে একত্রিত করার জন্য বিশ্বে তার শক্তি ব্যবহার করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি ইউক্রেন এবং রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে সম্মত করাতে পারেন।”
ঢাকা/ফিরোজ
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ইউক র ন ইউক র ন র
এছাড়াও পড়ুন:
বিবিসির সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের পর ফেরত পাঠাল তুরস্ক
যুক্তরাজ্যের সরকারি সংবাদমাধ্যম ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (বিবিসি) সাংবাদিক মার্ক লোয়েনকে গ্রেপ্তারের পর ফেরত পাঠিয়েছে তুরস্ক। তিনি দেশটিতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করছিলেন। লোয়েনকে ফেরত পাঠানোর ঘটনাকে বিবিসি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে।
বিবিসি বলেছে, লোয়েনকে বুধবার ইস্তাম্বুলে গ্রেপ্তার করা হয়। চলমান বিক্ষোভের খবর সংগ্রহে কয়েক দিন তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে গ্রেপ্তারের পর এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এক বিবৃতিতে বিবিসি বলেছে, ‘আজ (বুধবার) সকালে বিবিসি নিউজের প্রতিবেদক মার্ক লোয়েনকে ইস্তাম্বুল থেকে ফেরত পাঠিয়েছে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। যে হোটেলে তিনি অবস্থান করছিলেন, সেখান থেকে আগের দিন তুলে এনে তাঁকে ১৭ ঘণ্টা আটক রাখা হয়। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের খবর সংগ্রহে মার্ক লোয়েন তুরস্কে অবস্থান করছিলেন। আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হওয়ায় তাঁকে তুরস্ক ছাড়তে বলা হয়।’
দেশজুড়ে চলা সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ১ হাজার ৮৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তুরস্কের ১১ জন সাংবাদিকও রয়েছেন।
আরও পড়ুনতুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রতিদ্বন্দ্বী কে এই একরেম ইমামোগলু২৬ মার্চ ২০২৫রোববার রাতে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ব্যাপকতা বাড়ে। এ সময় কিছু বিক্ষোভকারীকে লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। এর আগে ২০ মার্চ বিক্ষোভ দমনে পিপার স্প্রে ও জলকামান ব্যবহার করা হয়।
ইমামোগলুকে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হয়। তাঁকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর ইমামোগলুকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)।