চাঁপাইনবাবগঞ্জে আজহারীর তাফসিরের নামে জামায়াতের সভা হয়েছে: হারুনুর রশীদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর বিএনপির জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। বুধবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের নামোশংকরবাটীতে
ছবি: প্রথম আলো

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদ বলেছেন, ‘সংস্কারের বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু নির্বাচনের বিষয়ে আমরা গড়িমসি বরদাস্ত করব না। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন মানব না।’ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পৌর এলাকার নামোশংকরবাটী হেফজুল উলুম এফ কে কামিল মাদ্রাসা মাঠে আজ বুধবার বিকেলে এ জনসভা হয়। বক্তব্যে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে জানিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নানা উন্নতির প্রতিশ্রুতি দেন হারুনুর রশীদ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের নির্বাচনকেন্দ্রিক বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করেন হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মিজানুর রহমান আজহারীর তাফসিরের নামে জামায়াতের সভা হয়েছে। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুল। সভাপতি ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির আবুজার গিফারী।

বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীকে ধর্ম ব্যবসায়ী দল হিসেবে উল্লেখ করে হারুনুর রশীদ জানান, তাঁর বিরুদ্ধে জামায়াতের লোকজন নানা অপপ্রচার করছে। তিনি বলেন, ‘ধর্মকে ব্যবহার করে যারা দুনিয়াদি কার্যকলাপ করে তাঁরাই ধর্ম ব্যবসায়ী। যাঁরা মিথ্যা বলে তাঁরা মুনাফেক। ধর্ম ব্যবহার করে মানুষের কাছে ভোট চাইবেন না। রাজনীতি নিয়ে নাড়াঘাটা করেন। ব্যক্তিগতভাবে নাড়াঘাটা করিয়েন না।’

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে হারুনুর রশীদ বলেন, শেখ মুজিব আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করে গেছেন। স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট রচনা করে গেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নাই। কিন্তু স্বাধীনতার পরে তিনি ভারতের একটি তাঁবেদার রাষ্ট্র তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। রক্ষীবাহিনী তৈরি করে অত্যাচার নির্যাতন ও মানুষ খুন করেছেন। যখন তিনি নিহত হন, প্রশাসনসহ ক্ষমতার সর্বস্তরেই আওয়ামী লীগের লোকজন ছিল। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, নিহত হওয়ার পর কেউ দেখতে যায়নি। জানাজার ব্যবস্থা করেনি। শেখ হাসিনা বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে জনগণের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছেন। আওয়ামী লীগকে ডুবিয়ে দিয়ে পালিয়ে গেছেন। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের যাঁরা হত্যা-নির্যাতন-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কৃষক দলের নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা রহমত আলী, সাইদুর রহমান, আবদুল বারেক, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তাবিউল ইসলাম প্রমুখ।