প্রায় দেড় বছর পর দেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ও ১০৬ রানে হারিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করল টাইগাররা। ঘরের মাঠে ১৭ মাস ও টানা ছয়টি টেস্টে জয়বিহীন থাকার হতাশা ভুলিয়ে দিল এই দুর্দান্ত সাফল্য।

বাংলাদেশের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান মেহেদী হাসান মিরাজের। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে তুলে নেন সেঞ্চুরি, এরপর বল হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে শিকার করেন ৫ উইকেট। টেস্ট ক্রিকেটে এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। মিরাজ ছাড়াও ৯ উইকেট শিকার করে ম্যাচে বড় অবদান রাখেন তাইজুল ইসলাম, আর ওপেনার সাদমান ইসলামও তুলে নেন দারুণ এক সেঞ্চুরি।

প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ে করে ২২৭ রান। জবাবে টাইগাররা তোলে ৪৪৪ রান, পায় ২১৭ রানের লিড। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ফলে মাত্র তিন দিনেই টেস্ট জয়ের উৎসবে মাতে স্বাগতিকরা।

বল হাতে টাইগারদের শুরুটা এনে দেন তাইজুল ইসলাম। ইনিংসের সপ্তম ওভারে ব্রায়ান বেনেটকে ফেরান স্লিপে সাদমানের হাতে ক্যাচ করিয়ে। একই ওভারে এলবিডব্লিউ করেন নিক ওয়েলচকে, রিভিউ নিয়ে পান উইকেটটি। এরপর উইলিয়ামসকেও বিদায় করেন অফ স্পিনার নাঈম ইসলাম, দ্বিতীয় স্লিপে সাদমানের হাতেই ধরা পড়েন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।

চতুর্থ উইকেটে আরভিন-কারেন জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও, মিরাজ এসে ভেঙে দেন সেই জুটি। এক ওভারেই ফেরান আরভিন ও মাদেভারেকে। এরপর তাফাদওয়া সিগা, মাসাকাদজা ও কারেনকে ফিরিয়ে ইনিংসে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন মিরাজ। তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এক টেস্টে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি, সাকিব আল হাসান ও সোহাগ গাজীর পাশে নাম লেখান। 

শেষ দিকে আবার বল হাতে ফিরে রিচার্ড এনগারাভাকে ফেরান তাইজুল। এরপর রানআউটের মাধ্যমে শেষ হয় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। এই জয়ে শুধু সিরিজে সমতায়ই ফিরেনি বাংলাদেশ, বরং দেশের মাটিতে দীর্ঘ দিনের টেস্ট জয়ের অপেক্ষাও ঘুচিয়েছে।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ট স ট জয় উইক ট ইসল ম

এছাড়াও পড়ুন:

৫ ম্যাচ খেলতে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ, দেখে নিন সূচি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি আরও মজবুত করতে পাঁচ ম্যাচের একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মে মাসের শেষ দিকে শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজের সূচি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।  

সিরিজ শুরু হবে ২৫ মে। প্রথম দুই ম্যাচ বসবে ফয়সালাবাদের ঐতিহাসিক ইকবাল স্টেডিয়ামে—২৭ মে দ্বিতীয় ম্যাচ। এরপর সিরিজের বাকি তিন ম্যাচ আয়োজন করা হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে—৩০ মে, ১ জুন ও ৩ জুন। প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে স্থানীয় সময় রাত ৮টায়।

এই সিরিজ দিয়েই ১৭ বছর পর পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে ফিরছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। সবশেষ ২০০৮ সালে এখানে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বিরতি ভেঙে আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরছে ইকবাল স্টেডিয়াম, আর প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে বাংলাদেশ। 

২১ মে পাকিস্তানে পৌঁছাবে টাইগাররা। সিরিজ শুরুর আগে ২২ ও ২৪ মে দুই দিন অনুশীলন করবে ইকবাল স্টেডিয়ামে। এরপর ২৫ মে থেকে মাঠে গড়াবে দুই দেশের মধ্যে পাঁচ ম্যাচের লড়াই। এফটিপি অনুযায়ী, পাকিস্তান সফরে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ছিল। তবে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির গুরুত্ব বিবেচনায় দুই বোর্ড সম্মত হয়েছে কেবল টি-টোয়েন্টি খেলার বিষয়ে।

সিরিজ শেষে পাল্টা সফরে বাংলাদেশে আসবে পাকিস্তান। ঢাকায় তিন ম্যাচের আরেকটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার কথা রয়েছে দুই দলের। সেই সিরিজের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে—২০, ২২ ও ২৪ জুলাই। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই জুলাই মাসের সিরিজটি আইসিসির এফটিপি সূচিতে নেই। তবে সম্প্রতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি উপলক্ষে বিসিবি ও পিসিবির সভাপতি পর্যায়ের আলোচনায় সেটি আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • শ্রীলঙ্কার মাটিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ
  • মিরাজ বীরত্বে দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখলো বাংলাদেশ
  • সেঞ্চুরির পর ৫ উইকেট, মিরাজ ধন্যবাদ দিলেন ৬ জনকে
  • পেশায় বাসচালক, আড়ালে করেন ইয়াবার কারবার
  • ঢাকায় চালান পৌঁছে প্রতি মাসে পান ৬ লাখ টাকা
  • নদীতে মিলল স্কুলছাত্রের লাশ, চার সহপাঠী আটক
  • টাকার জন্য দেশে ছেড়েছি, এখন টাকা খরচের সময় নেই: পিয়া বিপাশা
  • মেয়েকে নিয়ে টিকে থাকতে না পেরে বিদেশ চলে যান পিয়া বিপাশা
  • ৫ ম্যাচ খেলতে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ, দেখে নিন সূচি