রাজধানীর বনানীতে ছুরিকাঘাতে নিহত হন প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ। তার মৃত্যুর খবরে গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সন্তানের শোকে পারভেজের বাবা-মা ও একমাত্র বোনের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। তুচ্ছ ঘটনায় এমন হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারছেন না তারা।
সোমবার (২১ এপ্রিল) ভালুকা উপজেলার কাইচান গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সন্তান হারানো শোকে অঝোরে কাঁদছেন আর বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন নিহত পারভেজের মা পারভীন আক্তার।
পারভীন আক্তার বলেন, “মৃত্যুর আগের রাতে শেষবারের মতো ভিডিও কলে দেখেছি ছেলের মুখ।” তিনি ছেলে হত্যায় জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেছেন।
আরো পড়ুন:
পারভেজ হত্যা: দোষীদের গ্রেপ্তার-বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
কবরের ওপর পড়ে ছিল গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা মরদেহ
ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে কুয়েত প্রবাসী বাবা জসিম উদ্দিন বাড়ি এসেছেন রবিবার (২০ এপ্রিল) ভোরে। একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
জসিম উদ্দিন বলেন, “আমি বিদেশে থাকি। নতুন একতলা বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করেছিল পারভেজ। এই বাড়িতে আর থাকা হলো না ওর।”
ছেলের শোকে স্তব্দ পারভেজের বাবা জসিম উদ্দিন
তিনি বলেন, “পারভেজের পড়ালেখার প্রতি অনেক আগ্রহ ছিল। নিজের সামর্থের সবটুকু দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছি ওকে। যারা আমার সন্তানকে হত্যা করল, তাদের সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
পারভেজের এমন মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না ভালুকার বিরুনীয়া ইউনিয়নের কাইচান গ্রামের মানুষ। এলাকার প্রিয়মুখ পারভেজের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে হতবাক তারাও।
এদিকে, পারভেজ হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের বিচার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ভালুকা ও ময়মনসিংহে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।
২৪ বছর বয়সী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বনানী থানার ওসি রাসেল সরোয়ার সোমবার জানান, গত শনিবার বিকেল ৪টার পর বনানীতে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এসময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ছুরিকাঘাতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী পারভেজ নিহত হন।
টেক্সটাইল বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগতদের নিয়ে এসে বুকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছে পারভেজকে।
পারভেজের ছুরিকাঘাত হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির টেক্সটাইল বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসের পাশে একটি দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে সিঙ্গারা খাচ্ছিলেন পারভেজ। তাদের পাশে সদ্য ভর্তি হওয়া ইংরেজি ও ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের বন্ধু ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের দুই ছাত্রী ছিলেন। এক পর্যায়ে দুই ছাত্রী অভিযোগ করেন পারভেজ তাদের উত্যক্ত করেছেন। তারা বিষয়টি প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটির প্রক্ট্ররকে জানান।
এরপর প্রক্টর পারভেজকে ডেকে নেন। প্রক্টর অফিসে পারভেজ দাবি করেন, তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নিজেদের আলাপের বিষয় নিয়ে হাসাহাসি করছিলেন, কাউকে উত্যক্ত করেননি। এক পর্যায়ে ওই দুই ছাত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হলে পারভেজ ক্ষমাও চান।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, সেখানেই ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পারভেজকে হুমকি দেন। প্রক্টরের অফিস থেকে বেরিয়ে আসার পর কিছু বহিরাগত এসে আক্রমণ করেন। একপর্যায়ে ধারালো কিছু দিয়ে পারভেজের বুকে আঘাত করে তারা পালিয়ে যান। পরে রক্তাক্ত পারভেজকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক জানান, সেখানে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, পারভেজ হত্যাকাণ্ডে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- মো.
এর আগে রবিবার নিহতের চাচাতো ভাই হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে বনানী থানায় আট জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়।
ঢাকা/মিলন/মাসুদ
উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
জবি শিক্ষার্থীদের কাঁথা-বালিশ কর্মসূচি ঘোষণা
দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তিন দফা দাবিতে কাঁথা-বালিশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি এবং ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন বৃত্তি বাজেটে অর্ন্তভূক্ত করা; পুরান ঢাকায় হাবিবুর রহমান হল ও বানী ভবনের নির্মান কাজ দৃশ্যত আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শুরু করা; দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও হল নির্মাণের কাজের অগ্রগতি প্রতি ১৫ দিন পর পর মুক্তমঞ্চে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রদান করতে হবে।
আরো পড়ুন:
নোয়াখালীতে দায়িত্বে অবহেলায় ১২ শিক্ষককে অব্যাহতি
পারভেজ হত্যা: দোষীদের গ্রেপ্তার-বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
এছাড়াও তারা আগামী সাতদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সেগুলো হলো- ২২ এপ্রিল কাঁথা বালিশ কর্মসূচি ও লিফলেট বিতরণ, ২৩ এপ্রিল উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, ২৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মুক্তমঞ্চে আলোচনা এবং ২৫ ও ২৬ এপ্রিল খোলাচিঠি ও অনলাইনে প্রচারণা। বাকি দুই দিনের কর্মসূচি ২৬ এপ্রিল জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) থেকে শিক্ষার্থীরা কাঁথা ও বালিশ নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করবেন। তারা সেখানে রাত্রিযাপন করবেন এবং তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা আমাদের মৌলিক অধিকারগুলোর জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করছি। কর্তৃপক্ষ আমাদের কথা শুনছেন না। তাই আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি। কাঁথা-বালিশ নিয়ে আসা মানে হলো, আমরা আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে সরব না।”
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ঢাকা/লিমন/মেহেদী