হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লম্বা সময়ের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেছেন তামিম ইকবাল। উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামীকাল সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন তিনি।
সিঙ্গাপুরের ভিসা আগে থেকে ছিল তামিমের। কিন্তু হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিক সফরের অনুমতি ছিল না। উন্নত চিকিৎসার জন্য খোঁজ নিচ্ছিলেন থাইল্যান্ডেরও। ভিসা প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরকেই বেছে নিয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে এ খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তামিমের স্ত্রী আয়েশা ইকবাল, বড় ভাই নাফিস ইকবাল ও পারিবারের আরো দুয়েকজন সদস্য সিঙ্গাপুরে তার পাশে থাকবেন।
গত ২৪ মার্চ বিকেএসপিতে ঢাকা লিগের ম্যাচ খেলতে নামার আগে প্রথমে মাইনর ও পরে ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে’ অজ্ঞান হয়ে পড়েন তামিম। তাকে সাভারের কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা এতোটাই খারাপ হয়েছিল যে, ২২ মিনিট সময় ধরে সিপিআর ও তিনটি ডিসি শক দিতে হয়েছে। এরপর দ্রুত এনজিওগ্রাম করে শতভাগ ব্লক থাকা একটা আর্টারিতে রিং লাগিয়েছেন চিকিৎসকরা। অবিশ্বাস্য গতিতে হয়েছে সবকিছু। চিকিৎসকদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সময়মতো হওয়ায় তামিম পেয়েছেন নতুন এক জীবন।
পরদিন ২৫ মার্চ, রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে আনা হয় বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ককে। এরপর গত ২৮ মার্চ, হার্ট অ্যাটাকের চারদিন পর চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেয়ে বাসায় ফেরেন তামিম।
তাকে নিয়ে এভারকেয়ারের প্রফেসর শাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেছিলেন, ‘‘আমাদের যে নির্দেশনা, এমন হার্ট অ্যাটাকের পর এসব রোগীদের খুবই সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তাদের এটা হওয়ার প্রবণতা আবার থাকতে পারে। ব্লক না হলেও হতে পারে। তাই ওকে অ্যাসেস করতে হবে। নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হবে। লাইফ স্টাইল বদলাতে হবে, মোটিভেশন করতে হবে”
মৃতু্যর কোল থেকে ফিরে এসে আবেগপূর্ণ বার্তায় সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তামিম বলেছেন, ‘‘আপনাদের সবার দোয়ায় ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমতে এখন আমি বাসায়। উথালপাথাল এই চারটি দিনে নতুন জীবন যেমন পেয়েছি, তেমনি আমার চারপাশকে আবিষ্কার করেছি নতুন করে। সেই উপলব্ধির সবটুকুতে মিশে আছে কেবল ভালোলাগা ও কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সবার ভালোবাসার ছোঁয়া ক্যারিয়ারজুড়ে নানা সময়ই পেয়েছি। তবে এবার তা অনুভব করতে পেরেছি আরও তীব্রভাবে। আমি সত্যিই আপ্লুত।”
“পুরোপুরি সেরে ওঠার পথ এখনও দীর্ঘ। আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রার্থনায় রাখবেন। সবার জীবন সুন্দর ও শান্তিময় হোক। ভালোবাসা সবার জন্য।”
ঢাকা/ইয়াসিন
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
জয়পুরহাটে বাজারের ৭ নৈশপ্রহরীকে বেঁধে ‘ডাকাতি’, মাল নিয়ে ট্রাকে করে পলায়ন
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে একটি গ্রামীণ বাজারের অন্তত চারটি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মালিকদের দাবি, নৈশপ্রহরীদের বেঁধে ডাকাত দল ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে মিনি ট্রাকে নিয়ে পালিয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার মোহনপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
মোহনপুর বাজারের কয়েকজন দোকানি বলেন, গতকাল রাতে সাতজন নৈশপ্রহরী নিজেদের দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাত তিনটার দিকে রফিকুল ইসলাম নামের এক প্রহরী কালো মুখোশ পরা চার ব্যক্তিকে বাজারের সড়কে ঘোরাঘুরি করতে দেখে বাঁশি বাজান। ওই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তখন রফিকুলের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা ফেটে রক্ত ঝরছিল। এ অবস্থায় তাঁকে বেঁধে একটি দোকানের পাশে রাখা হয়।
এরপর ২০-২৫ জন মিলে বাজারের অন্য ছয় প্রহরীকে ধরে এনে মারধরের পর হাত-পা বেঁধে একই জায়গায় ফেলে রাখে। এ সময় ৪-৫ জন ডাকাত আহত নৈশপ্রহরীদের ঘিরে রাখে। আর অন্যরা বাজারের সড়কে একটি মিনি ট্রাক এনে রাখে। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা দুটি কীটনাশক, একটি মুদিখানা ও একটি ইলেকট্রনিক দোকানের তালা কেটে মালামাল লুট করে। পরে সেগুলো মিনি ট্রাকে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রহরী রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, হলুদ রঙের মিনি ট্রাকে পালিয়ে যাওয়ার আগে ডাকাতেরা তাঁর হাতের বাঁধন খুলে দেয়। এরপর তিনি অন্যদের মুক্ত করেন। তাঁরা আশপাশের লোকজনকে ঘটনাটি জানান।
স্বাদ ট্রেডার্স নামের কীটনাশকের দোকানের মালিক ছানাউল ইসলাম বলেন, ‘শুধু আমার দোকানের ৬-৭ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে। চারটি দোকান মিলিয়ে আনুমানিক ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে।’
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, মোহন বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী থানায় এসেছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। অভিযোগের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।