রংপুরে বিএনপির দু’পক্ষে সংঘর্ষ: শোকজ ৩ নেতাকে
Published: 6th, April 2025 GMT
রংপুরের বদরগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে একজন নিহতসহ অন্তত ১০ আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে বদরগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে শনিবারই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করে আইনশৃখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগ এনে স্থানীয় তিন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপি। তারা হলেন, বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মানিক এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিক। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও সদস্যসচিব আনিছুর রহমান লাকু’র নিকট নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন একটি দোকানঘর নিয়ে ব্যবসায়ী জাহিদুল হক জোয়ারদার এবং দোকান মালিক ইশতিয়াক বাবুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। ইশতিয়াক বাবু দোকানঘর ছাড়ার জন্য চাপ দিলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ নেয় যখন জাহিদুল হক আশ্রয় নেন কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শহিদুল হক মানিকের কাছে এবং দোকান মালিক ইশতিয়াক বাবু আশ্রয় নেন সাবেক এমপি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকারের কাছে।
শনিবার দুপুরে দোকানঘর খুলে দেওয়ার দাবিতে শহীদ মিনার এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে বিএনপি নেতা শহিদুল হক মানিকের নেতৃত্বে জাহিদুল হকের অনুসারীরা। কিন্তু মোহাম্মদ আলী সরকারের সমর্থকরা তা পণ্ড করে দেন। ফলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়, শুরু হয় দুই পক্ষেরই নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্রসহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় পৌর শহরের বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে। একপর্যায়ে সৃষ্ট সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন দু’জন পথচারীসহ অন্তত ১০ জন। এর মধ্যে বিএনপিকর্মী লাভলু মিয়া (৫০), মোক্তারুল ইসলাম (৪৫), মুন্নাফ আলী (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও ময়নাল হোসেনকে (২৫) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাভলু মিয়া মারা যান। তারা সবাই উপজেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকারের কর্মী-সমর্থক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুর ২টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ শহরে টহল শুরু করে।
বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান একজন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দোষীদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাবসহ তাদের সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে। জবাব পেলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: বদরগঞ জ হ দ ল হক ব এনপ র ল ইসল ম সরক র
এছাড়াও পড়ুন:
রংপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ২০
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা শহরের শহীদ মিনারের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোনো মুহূর্তে আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ বাজারে দোকান ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টিনের ব্যবসা করছেন জাহিদুল ইসলাম। গত মাসে হঠাৎ জাহিদুল ইসলামকে দোকান ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন দোকান মালিক ইতিয়াক বাবু। ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ থাকলেও জাহিদুল ইসলাম দোকানের জামানত বাবদ দেওয়া ৩৫ লাখ টাকা ফেরতের শর্তে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু দোকান মালিক জামানতের ওই ৩৫ লাখ টাকা দিতে অসম্মতি এবং দোকান নিজে না ছেড়ে দিলে জোর করে ছাড়িয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এরই প্রেক্ষিতে দোকান মালিক ইতিয়াক বাবু দলবল নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় দোকানঘর ভাঙচুরসহ লুটপাট করেন।
এ সময় ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম প্রতিবাদ করলে তাকেও বেধড়ক মারপিট করে আহত করেন। বর্তমানে জাহিদুল ইসলাম বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামের পক্ষ নেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক। জামানতের টাকা না দিয়ে ভাড়াটিয়াকে মারধর এবং দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বদরগঞ্জ শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন আয়োজন করে বিএনপির শহিদুল হক মানিক গ্রুপ। মানববন্ধনের সময় অতর্কিত হামলা চালায় সাবেক এমপি রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার গ্রুপ। এর সঙ্গে যোগ দেন বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কোভিদ মানিক। হামলা চালিয়ে তারা মানববন্ধনের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং মাইক ভাঙচুর করেন।
এতে মানববন্ধনকারী মানিক গ্রুপের লোকজন লোকজন বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত হন। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শফিকুল ইসলাম, লাভলু হাজী, ময়নাল উদ্দিনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম আতিকুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।