প্রত্যাবর্তনে আতঙ্কিত পাকিস্তানে আশ্রিত আফগানরা
Published: 6th, April 2025 GMT
বেনজির রৌফি তাঁর রেস্তোরাঁয় একা দাঁড়িয়ে আছেন। লাখ লাখ আফগানকে পাকিস্তান সরকার যে আবাসন অনুমতি দিয়েছিল, তা বাতিল ঘোষণার পর আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইছেন না।
গত মার্চের শুরুতে ইসলামাবাদ আট লাখ আফগান নাগরিকের কার্ড বা এসিসি বাতিল ঘোষণা করা হবে বলে জানায়। এটি একটি নির্বাসন কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ, যা ইতোমধ্যে আরও আট লাখ অননুমোদিত আফগানকে সীমান্ত পেরিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।
আফগান নারী রৌফি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ১৯৯০-এর দশকে আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসার সময় আমার বয়স ছিল ১৩। এখন যদি নির্বাসিত করা হয়, তাহলে এটি আমাকে ধ্বংস করে দেবে। হয় আমার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাবে, নয়তো আমি নিজের জীবন নিয়ে নেব। পাকিস্তান আমাদের হাসি দিয়েছে। এখন সেই হাসি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
আফগানদের ফেরত পাঠাতে এরই মধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির একটি রেস্তোরাঁয় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ আফগান নারীকে নিজ দেশে ফেরত যেতে বলে। তবে তারা আফগানিস্তানে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানান। তারা আফগানিস্তানে নারীদের পড়াশোনা, চাকরি ও জনসমক্ষে সীমাবদ্ধ করে রাখার সরকারি নীতির সমালোচনা করেন। রৌফি বলেন, ‘আমার কাছে ফিরে যাওয়ার মতো কেউ নেই। তালেবান আমাদের নেবে না।’
এসিসি হোল্ডারদের স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার জন্য সরকারের দেওয়া সময়সীমা এপ্রিলে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কর্মীদের মতে, কর্তৃপক্ষ কয়েক মাস ধরে হয়রানি করছে। যারা পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছেন, পাকিস্তানিদের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে অথবা কয়েক দশক ধরে দেশটিতে আছেন, তাদের সরকারি আবাসিক অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের বিরোধের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। ইসলামাবাদের দাবি, তালেবান সরকার তাদের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া জঙ্গিদের নির্মূলে ব্যর্থ। তবে তালেবান এ দাবি অস্বীকার করেছে।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: আফগ ন স ত ন আফগ ন স ত ন সরক র
এছাড়াও পড়ুন:
ইসরায়েলের কারাগারে ‘অপুষ্টিতে’ ফিলিস্তিনি কিশোরের মৃত্যু
১৭ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর ইসরায়েলের কারাগারে ‘অপুষ্টিতে’ মারা গেছে। ওই কিশোরের নাম ওয়ালিদ খালিদ আহমেদ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
প্যালেস্টাইন প্রিজনারস সোসাইটির (পিপিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস–ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলের কারাগারে এই প্রথম কোনো কিশোরের মৃত্যু হলো।
ওয়ালিদের পরিবার ও পিপিএস জানিয়েছে, গত ২২ মার্চ ইসরায়েলের মেগিদো কারাগারে সে মারা যায়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রামাল্লা শহরের নিজ বাড়ি থেকে ইসরায়েলের সেনারা তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। পাথর নিক্ষেপ ও ককটেল ছোড়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে ওই কিশোরের পরিবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পিপিএস জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। আদালতে তাঁর মামলার শুনানিও ইচ্ছাকৃতভাবে পেছানো হয়েছে।
মারা যাওয়ার পাঁচ দিন পর তেল আবিবের আবু কবির ফরেনসিক ইনস্টটিটিউটে ওয়ালিদের ময়নাতদন্ত হয়। ওই প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি তাঁর পরিবারের কাছে আছে, যা তাঁরা সিএনএনকে সরবরাহ করেছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিভাগ ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে তারা কোনো সাড়া দেয়নি। পরে দেশটির আইন মন্ত্রণালয় কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেয়।
ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই কিশোরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে একটি চিকিৎসক দলকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানো হয়। তারা যথাযথ পদক্ষেপও নেয়। কারাগারে মারা যাওয়া অন্য বন্দিদের মতো ওই কিশোরের মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেটি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।