হৃদয় প্রামাণিক ও মেহজাবিন মৌয়ের বিয়ে হয়েছিল তিন মাস আগে। আনন্দ-উল্লাসে, ঘোরাঘুরি করে সুখেই দিন কাটছিল মেধাবী এ দম্পতির। কিন্তু ছোট একটি দমকা হাওয়া থামিয়ে দিয়েছে তাদের। নৌকাডুবিতে নিভে গেছে জীবনপ্রদীপ। তাদের বাড়িতে এখন শুধুই শোকের মাতম। মাত্র তিন মাসেই দুই পরিবারের আনন্দ পরিণত হয়েছে বিষাদে।

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর কোলচোরি গ্রামের দুলাল প্রামাণিকের ছেলে হৃদয় প্রামাণিক (২২)। তাঁর স্ত্রী আতাইকুলা থানার বনগ্রামের মনিরুজ্জামান মানিকের মেয়ে মাসুদা মেহজাবিন মৌ (১৯)। তিনি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্রী।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ঈদের ছুটিতে গত শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণে যান এ দম্পতি। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চন পার্ক এলাকায় হঠাৎ দমকা হাওয়ায় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এতে অন্যরা সাঁতরে তীরে উঠলেও সাঁতার না জানা হৃদয় ও মৌ নিখোঁজ হন।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের চেষ্টায় ১৬ ঘণ্টা পর গত শনিবার সাতবাড়িয়ায় পদ্মা নদীর চর থেকে দু’জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, হৃদয় খান এবং মেহজাবিন মৌ দু’জনই অত্যন্ত মেধাবী। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের পর পরিবারের সম্মতিতে তিন মাস আগে বিয়ে হয়েছে।

হৃদয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। মৌ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। স্থানীয় স্কয়ার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ খতিব শাহনাজ সুলতানা নাজলী ফেসবুকে লিখেছেন, কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মৌ এবং তাঁর স্বামীর ইন্তেকালে তারা মর্মাহত। তাদের পরিবারকে এ শোক সইবার ধৈর্য দিন।

পাবনার নাজিরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জয়ন্ত চন্দ্র দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের মাধ্যমে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: প বন ন হত দ ই

এছাড়াও পড়ুন:

থানায় ঢুকে গালিগালাজ, ২ যুবদল নেতা বহিষ্কার

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে থানায় মদ্যপ অবস্থায় প্রবেশ করে পুলিশ সদস্যদের গালিগালাজ করা এবং গ্রেপ্তার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা যুবদলের দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

রবিবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

আরো পড়ুন: মদ্যপ অবস্থায় থানায় ঢুকে গালিগালাজ, যুবদলের ২ নেতা গ্রেপ্তার

আরো পড়ুন:

নজরুল ইসলাম খান
টাকার লো‌ভে আ.লীগকে ফিরিয়ে আনতে চাইছে কিছু রাজনৈতিক দল 

ভারতে মুসলিম ওয়াকফ বিল ২০২৫ পুনঃবিবেচনার দাবি বিএনপির

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিঙ্গাইর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম ওরফে জীবন (৪৫) এবং পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য শফিকুল ইসলামকে (২৬) প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি, দলীয় সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার (৫ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে বহিষ্কৃত দুই যুবদল নেতা মদ্যপ অবস্থায় সিঙ্গাইর থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এ সময় তারা গ্রেপ্তার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ওই দুই নেতাকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর আজ রবিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়। 

সিঙ্গাইর থানার ওসি জে ও এম তৌফিক আজম বলেন, “মদ্যপ অবস্থায় দুই ব্যক্তি থানায় আসেন। এরপর তারা এজাহারভুক্ত গ্রেপ্তার এক আসামিকে ছাড়তে বলেন। পুলিশ সদস্যদের গালিগালাজ করেন তারা। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার রাতেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। রবিবার দুপুরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়।”

ঢাকা/চন্দন/মাসুদ

সম্পর্কিত নিবন্ধ