ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ: যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির চালান স্থগিত করবে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার
Published: 6th, April 2025 GMT
আমদানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাড়তি শুল্ক আরোপের পর দেশটিতে গাড়ির সব চালান ‘স্থগিত’ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এ সময় তারা ‘বাণিজ্যের নতুন শর্তাবলি মোকাবিলা’ নিয়ে কাজ করবে।
গত বুধবার ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পর বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধাক্কা লেগেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা গাড়ির ওপরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি। এতে সমস্যার মুখে পড়তে পারে যুক্তরাজ্যের গাড়ি উৎপাদনকারীরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পর যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি গাড়ি রপ্তানি করে দেশটি।
এক বিবৃতিতে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের মুখপাত্র বলেন, শুল্ক মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে তাঁদের প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির চালান স্থগিত করা। এ সময়ে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হবে।
যুক্তরাজ্য থেকে যেকোনো পণ্যের তুলনায় গাড়ি বেশি যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়। ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের শেষ পর্যন্ত আগের ১২ মাসে দেশটিতে ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের গাড়ি রপ্তানি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য বিভাগ।
গত বৃহস্পতিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি আমদানির ওপর নতুন শুল্ক আরোপ শুরু হয়েছে। গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর আমদানি শুল্ক আগামী মাস থেকে আরোপ করা হবে। এর বাইরে যুক্তরাজ্যের অন্যান্য পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির ক্ষেত্রে আলাদা ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পর যখন বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ারবাজারে সূচকের পতন হচ্ছে, তখন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে ধীরস্থিরভাবে পদক্ষেপ নেবে তাঁর সরকার। ‘বাণিজ্যযুদ্ধে’ জড়ানোর বিষয়টিও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: শ ল ক আর প আমদ ন
এছাড়াও পড়ুন:
বাধ্যতামূলক ছুটিতে ইসলামী ব্যাংকের এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলাকে অবশেষে তিন মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বহিঃনিরীক্ষকের অডিটে বিভিন্ন অনিয়ম–জালিয়াতিতে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রোববার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফজলে কবির ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলম গ্রুপ। বিভিন্ন উপায়ে শুধু এই ব্যাংক থেকে তারা ৯১ হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে ব্যাংকের নিরীক্ষায়। এস আলম ইসলামী ব্যাংক দখলে নেওয়ার পর ব্যাংকটিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেন মনিরুল মওলা। দ্রুততার সঙ্গে তাকে পদোন্নতি দিয়ে প্রথমে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ব্যাংকটির পর্ষদের বেশির ভাগ সদস্য ও অধিকাংশ ডিএমডি পলাতক অবস্থায় আত্মগোপনে চলে যান। অদৃশ্য কারণে মনিরুল মওলা বহাল তবিয়তে ছিলেন।
ইসলামী ব্যাংকের একজন পরিচালক সমকালকে জানান, নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মনিরুল মওলাকে অপসারণের দাবি ছিল। তবে আমরা বহিঃনিরীক্ষকের অডিট রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এখন প্রতিবেদন প্রায় শেষ পর্যায়ে। অডিট রিপোর্টে এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং নাবিল গ্রুপের ১৩ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকার জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অনিয়মে তার সম্পৃক্ত পাওয়া গেছে। যে কারণে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে চিঠি দিয়ে তাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইসলামী ব্যাংক এক সময় দেশের সেরা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছিল। এখন ‘দুর্বল’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পেছনে যাদের ভূমিকা রয়েছে তাদের অন্যতম এই মুনিরুল মওলা। তার বাড়ি চট্টগ্রামে হওয়ার সুবাদে ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেন। ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের দূরস্থার আসল চিত্র এতদিন আড়ালে ছিল। সরকার পতনের পর লুকিয়ে রাখা খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসছে। গত জুনের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ চারগুণের বেশি বেড়ে ৩২ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায় ঠেকেছে। এক লাখ ৫৫ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা ঋণের যা ২১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। গত জুন পর্যন্ত এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ছিল ৭ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। এস আলম, নাবিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেনামি ঋণ খেলাপি করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে দাঁড়াবে।