বাংলাদেশের মতো এত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অন্য কোথাও নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘এখানে সব ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে সবার ধর্ম পালন করছে। কোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার পরিবেশ নেই।’

শনিবার নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দসংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাষ্টমী স্নানোৎসব পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন উপদেষ্টা।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘অনেকে আছে, যারা ভাবে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করলে লোকজনে বেশি দেখবে, তারা পয়সাটা বেশি পাবে। এ জন্যও অনেকে কাজ করে। বিদেশি মিডিয়া অনেক সময় মিথ্যা সংবাদ দেয়। আপনারা সত্যি সংবাদ দিয়ে এটার কাউন্টার করবেন। তাদের মুখে চুনকালি পড়বে। আমাদের কোনো ভুল থাকলে আপনারা দেন, আমাদের কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু কোনো মিথ্যা সংবাদ দেবেন না।’

লাঙ্গলবন্দের তীর্থস্থানকে পর্যটন কেন্দ্র করা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এই স্থানকে কীভাবে পর্যটন কেন্দ্র করা যায়, সে বিষয়ে আমরা দেখব। কিন্তু পর্যটন কেন্দ্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এটি একটি পুণ্যভূমি। এটি ধর্মীয় বিষয়। পর্যটক এখানে এলে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

শনিবার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে মহাষ্টমী স্নানোৎসবে দেশ-বিদেশ থেকে আসা কয়েক লাখ পুণ্যার্থী অংশ নেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা থেকেও পুণ্যার্থী আসেন বলে জানিয়েছেন স্নান উদযাপন কমিটির সভাপতি সরোজ কুমার সাহা।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ন র য়ণগঞ জ উপদ ষ ট

এছাড়াও পড়ুন:

মহা অষ্টমীর স্নানে লাখো পুণ্যার্থীতে মুখর লাঙ্গলবন্দ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন হিন্দুধর্মাবলম্বীদের মহা অষ্টমী পুণ্যস্নানে লাখো পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে। দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ পুণ্যার্থীর পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো লাঙ্গলবন্দ এলাকা।

আদি ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে স্নানোৎসব শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টা ১১ মিনিট থেকে শুরু হয়েছে যা শনিবার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টায় শেষ হবে। 

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল ও ভুটানসহ দেশ ও  বিদেশ থেকে ব্যাপক পুণ্যার্থীরা এ স্নানোৎসবে অংশ নিয়েছেন। এদিকে লাঙ্গলবন্দে স্নানোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পাদন করতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ।

এদিকে লাঙ্গলবন্দের স্নানে পুণ্যার্থীদের আসার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সকাল থেকে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মহা অষ্টমী স্নানোৎসবে অংশ নিতে লাঙ্গলবন্দের তিন কিলোমিটার এলাকায় ঘাটগুলোতে পুণ্যার্থীরা ভিড় করেন। নারী-পুরুষ পুণ্যার্থীরা সড়ক পথ ও নৌপথে স্নানে অংশ নিতে আসেন। পুণ্যার্থীরা ললিত সাধুর ঘাট, অন্নপূর্ণা মন্দিরঘাট, নাসিম ওসমানঘাট, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দির রাজঘাট, কালীগঞ্জ ঘাট, মাকরী সাধুর শান্তি আশ্রমঘাট, মহাত্মা গান্ধীর শশ্মানঘাট, ভদ্রেশ্বরী কালীমন্দির ঘাট, জয়কালী মন্দিরঘাট, রক্ষাকালী মন্দিরঘাট, পাষাণকালী মন্দিরঘাট, স্বামী দ্বিগিজয় ব্রহ্মচারীর আশ্রম, চর শ্রীরামপুর ব্রহ্মাঘাট, দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি ঘাট, মীরকুণ্ডি পরেশ সাধুঘাট, সাবদী রক্ষাকালী ঘাট, তাজপুর-জহরপুর মুনি ঋষিপাড়া ঘাট ও লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমঘাটে স্নানে আসেন। ঘাটগুলোতে পুরোহিতের কাছে মন্ত্রপাঠ করে স্নানে নেমে পড়েন তাঁরা। 

লাঙ্গলবন্দের মন্দিরগুলোতে চলছে পূজা-অর্চনা ও ভক্তিমূলক গান। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো থেকে পুণ্যার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে খিচুড়ি, দুধ, পানিসহ বিভিন্ন খাবার। অষ্টমীর স্নান উপলক্ষে লাঙ্গলবন্দ এলাকাজুড়ে চলছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

কুমিল্লা থেকে এসেছেন অর্পিতা আচার্য্য। তিনি বলেন, ছেলে ও ছেলের বউকে নিয়ে স্নান করতে এসেছি। পাপমোচনে ও আমরা সবাই যাতে ভালো থাকতে পারি, ব্রহ্মার কাছে সেই প্রার্থনা করেছি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্লান উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবার এক হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি সদস্যরাও নিয়োজিত থাকবে। বসানো হয়েছে সাতটি ওয়াচ টাওয়ার ও ৭০টির অধিক সিসি টিভি ক্যামেরা। উৎসবে সাতটি মেডিকেল ক্যাম্প ও ১০টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য।

এছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ সব জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান স্লান উৎসব চলাকালীন সময় প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী কর্মীও রয়েছেন। ২০টি ঘাটে পূণ্যার্থীরা স্লান করবেন।

এবার পর্যাপ্ত পরিমানে স্নান ঘাট পুণ্যার্থীদের জন্য সংস্কার, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের জন্য নলকূপ স্থাপন, বিপুলসংখ্যক কাপড় পরিবর্তন কক্ষ ও বিপুল পরিমানে অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া ব্রহ্মপূত্র নদের কচুরিপানা পরিস্কার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, নিরাপত্তায় এবার আমাদের সঙ্গে সেনাবাহিনী রয়েছে। পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ম্যাপ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করি এবার স্নানোৎসব আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারবে।
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • স্নানোৎসব থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ১০
  • মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরীতে অষ্টমী স্নানোৎসব 
  • ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের ১৫ কিলোমিটার তীব্র যানজট, ভোগান্তি 
  • লাঙ্গলবন্দকে ধর্মীয় পর্যটন নগরী গড়তে শিগগিরই কাজ শুরু : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
  • পাপমোচনের বাসনায় বিভিন্ন স্থানে ব্রহ্মপুত্র নদে লাখো পুণ্যার্থীর ঢল
  • বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অন্য কোথাও নেই
  • মহা অষ্টমীর স্নানে লাখো পুণ্যার্থীতে মুখর লাঙ্গলবন্দ
  • লাঙ্গলবন্দে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্লানোৎসব শুরু 
  • শুক্রবার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্রে নদে মহা অষ্টমীর স্নানোৎসব শুরু