তৈরি পোশাকের পর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় চামড়াজাত পণ্য। ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের রপ্তানিতে নতুন করে শুল্ক বাড়ানোর কারণে এ খাতের রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, এতে রপ্তানি কমে যাবে। কারণ দেশটির ক্রেতারা কম দামে পণ্য পেতে বিকল্প দেশ খুঁজবেন।

চামড়া ও চামড়াজাতীয় পণ্য রপ্তানি করে এমন কয়েকজন উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের বার্ষিক বাজার প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৮ থেকে ১০ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাতীয় পণ্য রপ্তানি হয়। তবে ইপিবির হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির এই অঙ্ক আরও বড়। এদিকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে, চামড়া ও চামড়াজাতীয় পণ্যের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম চামড়া ব্যবহার করে অন্যান্য পণ্য যেমন– স্যুটকেস, হ্যান্ডব্যাগ, অ্যাকসেসরিজ ইত্যাদি মিলিয়ে গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ২৭ কোটি ডলারের  পণ্য।

ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে নতুন করে ৩৭ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়েছে। আগের ১৫ শতাংশসহ এই শুল্কহার দাঁড়িয়েছে এখন ৫২ শতাংশের মতো। মার্কিন আমদানিকারকরা বাংলাদেশ থেকে ১০০ ডলারের একটি পণ্য নিলে নিজ দেশে শুল্ক দিতে হবে ৫২ ডলার। এ পরিস্থিতিতে সে দেশে পণ্যের বিক্রি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।
চামড়া খাতের স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা চীনের উদ্যোক্তারাও পড়বেন ক্ষতির মুখে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই চীনের রপ্তানিতে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে আসছিলেন। এতে চীনা ব্যবসায়ীরা নিজ দেশের বাইরে সুবিধাজনক দেশ খোঁজা শুরু করেন। বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে এমন কয়েকজন চীনা উদ্যোক্তা এদেশে কারখানা স্থাপন করেছেন। এখন শুল্ক বাড়ানোর কারণে তারাও ক্ষতির মুখে পড়বেন।

এ পরিস্থিতিতে এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সরকারের উচিত দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া। যেমন– যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিতে শুল্ক হ্রাস ও কূটনৈতিকভাবে যোগাযোগ বাড়াতে হবে, যাতে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র। শুল্ক কমানোর উদ্যোগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য ব্যবসার খরচ কমানোর পথ খুঁজতে হবে। পণ্য উৎপাদনে বিদ্যমান শুল্ক-কর যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।
লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সিনিয়র সহসভাপতি ও লেদারেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.

নাজমুল হোসেন সমকালকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ক্রয়াদেশ কমে যাবে। ফলে দেশের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 
বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল আউয়াল সমকালকে বলেন, তৈরি পোশাকের পর চামড়া খাতের রপ্তানি ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করা চীনের  প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ শুল্ক কম থাকায় অনেক চীনা ব্যবসায়ী বাংলাদেশে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করেছেন। চামড়া খাতের রপ্তানিতে পতন ঠেকাতে দুটি পরামর্শ দেন তিনি। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে যেসব পণ্য রপ্তানি করে, সেগুলোতে শুল্ক কমানো দরকার। দ্বিতীয়ত, কূটনৈতিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে জোরালোভাবে আলোচনা করা। এই দুই পদ্ধতিতে এগোলে বাংলাদেশ কিছু না কিছু ফল পেতে পারে। 

শাহজালাল লেদার কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজালাল মজুমদার বলেন, নতুন শুল্ক আরোপের ফলে অবশ্যই রপ্তানি কমবে। কারণ কেউ তো লোকসান দিয়ে পণ্য রপ্তানি করতে চাইবে না। শুল্ক কমাতে হলে এখনই সরকারিভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে হবে।
উদ্যোক্তাদের মতে, এমনিতেই ট্যানারির বর্জ্যে দূষণ এবং অন্যান্য পরিবেশগত সমস্যা আছে। চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপি কার্যকর না হওয়ায় সাভারে দূষণ কমানো সম্ভব হয়নি। এসব কারণে রপ্তানিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এলডব্লিউজি সনদ অর্জনেও বাধা রয়েছে। ফলে দেশের ব্যবসায়ীরা চামড়া ও চামড়াজাতীয় পণ্যের উপযুক্ত রপ্তানি মূল্য পাচ্ছেন না। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে। 

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: শ ল ক কম ব যবস

এছাড়াও পড়ুন:

জাতীয় স্টেডিয়ামেই হতে পারে হামজার অভিষেক

বাংলাদেশের জার্সিতে হামজা দেওয়ানে চৌধুরীর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে গত মাসেই, ভারতের মাটিতে। এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে শিলংয়ে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নেমে নজর কাড়েন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা এই মিডফিল্ডার। এবার ঘরের মাঠে অভিষেকের অপেক্ষায় হামজা। আগামী ১০ জুন এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। ম্যাচটি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, এখনো চূড়ান্ত হয়নি ভেন্যু।

জাতীয় স্টেডিয়াম এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের উপযোগী করে তুলতে শেষ ধাপে রয়েছে সংস্কার কাজ। রোববার (৬ এপ্রিল) জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বড় প্রতিবন্ধকতা দেখছেন না তিনি।

তিনি বলেন, 'মাঠের কাজ প্রায় শেষ। তাবিথ ভাইয়ের (বাফুফে সভাপতি) সঙ্গে কথা হয়েছে। বাফুফে ঘাসের কিছু কাজ করছে। আমাদের লাইটিং ও অন্যান্য কাজও প্রায় শেষ। আশা করছি এক মাসের মধ্যেই মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে। খেলায় কোনো সমস্যা দেখছি না।'

এদিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচের সময় মাঠ পরিদর্শনে আসেন বাফুফের সহ-সভাপতি ওয়াহিদউদ্দিন চৌধুরি হ্যাপি এবং সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার। তারা জানান, বাফুফে মাঠের কাজ দ্রুত শুরু করতে চায়। সোমবার থেকেই মাঠ প্রস্তুতের কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে এবং আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে মাঠ অন্য কাউকে বরাদ্দ না দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মাঠ সংস্কারের পাশাপাশি ম্যাচ আয়োজনের অন্যান্য দিকও বিবেচনায় রেখেছে ফেডারেশন। আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ম্যাচ কমিশনারের কক্ষ নেই জাতীয় স্টেডিয়ামে। এছাড়া ড্রেসিংরুমের আসন নিয়েও রয়েছে কিছু আপত্তি। এসব ফেডারেশন নিজ উদ্যোগেই সমাধানের চেষ্টা করছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ