Samakal:
2025-04-06@11:24:01 GMT

বাড়তি সুদের চাপে কৃষিঋণে পতন

Published: 5th, April 2025 GMT

বাড়তি সুদের চাপে কৃষিঋণে পতন

দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে অনেক আগে থেকেই কৃষি এবং রপ্তানির জন্য ঋণের সুদহার কম ছিল। কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংক সুদহার বেঁধে দিত। তবে গত বছরের মে মাস থেকে সব ধরনের সুদহার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে কৃষিঋণের সুদ অনেক বেড়েছে। বাড়তি সুদের চাপে কৃষিঋণ বিতরণে পতন হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে কৃষিতে ব্যাংকগুলোর ২২ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ১ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ কম। কৃষিঋণে এখন সুদহার ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ। 
গত মে মাসের আগ পর্যন্ত সব সময়ই কৃষিঋণের সুদহার কম ছিল। এমনকি ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা ৯ শতাংশ আরোপের সময়ও কৃষিতে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদহার ছিল। এখন পুরোপুরি বাজারভিত্তিক হয়েছে। 

সাধারণভাবে ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি কম হলেও আগের চেয়ে কমতে দেখা যায় না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, বড় শিল্পসহ সব খাতে সামান্য হলেও ঋণ বেড়েছে। তবে দেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার অন্যতম উপাদান কৃষিতে ঋণ বিতরণ কমে গেছে। অবশ্য তারল্য সংকটের কারণে বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি কম। গত জানুয়ারি পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৭ দশমিক ১৫ শতাংশে নেমেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে যা সর্বনিম্ন। কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। কৃষিঋণ বিতরণে এগিয়ে থাকা সরকারি ব্যাংকগুলো নিয়ে ঈদের আগে বৈঠক হয়েছে। শিগগিরই বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, কৃষিঋণ বিতরণ কমার কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। এর অন্যতম হলো– বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের ঋণের বড় একটি অংশ ক্ষুদ্র ঋণদান প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। তবে গত মে মাসের সব ঋণের সুদহার নির্ধারণের ক্ষমতা ব্যাংকের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে করে তাদের মার্জিন কমায় আগ্রহ কমেছে। তিনি বলেন, অবশ্য চলতি অর্থবছর প্রতিটি ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার অন্তত অর্ধেক নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিতরণ করতে বলা হয়েছে। বাকি অর্ধেক এনজিও লিংকেজে বিতরণ করতে পারবে। বাস্তবতা হলো অনেক বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ঋণ বিতরণের কোনো সুযোগই নেই। আবার এনজিওগুলোও আগের মতো আগ্রহ না থাকায় কমে থাকতে পারে। এ ছাড়া আগের মতো যেনতেন কৃষিঋণ বিতরণের সুযোগ বন্ধ হয়েছে। আবার বেশির ভাগ ব্যাংকে তারল্য সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ঋণ বিতরণ কমে থাকতে পারে। এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চলতি অর্থবছর কৃষি খাতে ৩৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বছর শেষে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। গত অর্থবছর ৩৫ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৭ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা বিতরণ হয়। কোনো ব্যাংক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে অনর্জিত অংশ এক বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট কমন ফান্ডে (বিবিএডিসিএফ) জমা রাখতে হয়। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো মাত্র ২ শতাংশ সুদ পায়। মূলত শাস্তি হিসেবেই ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের অনেক কম সুদে এ অর্থ রাখা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিতে ঋণ বিতরণ কমলেও চলতি অর্থবছর আদায় বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে মোট ২৪ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আদায় বেড়েছে ১ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা বা ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সব মিলিয়ে গত ফেব্রুয়ারি শেষে কৃষিঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই মাস শেষে যা ছিল ৫৫ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা।

আইএমএফের পরামর্শে ১৯৮৯ সালে সুদহার নির্ধারণের ক্ষমতা প্রথম ব্যাংকগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে খাত ধরে ধরে সুদহার ঠিক করা হতো। বৈশ্বিক মন্দা পরবর্তী ২০০৯ সালে সুদহারের সীমা আরোপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মন্দা-পরবর্তী ২০১১ সালের মার্চে তিনটি খাত ছাড়া সব ক্ষেত্রে সুদহারের ঊর্ধ্বসীমা তুলে নেওয়া হয়। এরপর সুদহার বাড়তে বাড়তে ১৬ থেকে ১৮ শতাংশে উঠেছিল। ওই সময়ও প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণে সর্বোচ্চ সুদহারের সীমা ছিল ৭ শতাংশ। কৃষি ও মেয়াদি শিল্পঋণে ১৩ শতাংশ এবং চাল, গম, ভোজ্যতেল, ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ, খেজুর ও চিনি আমদানি অর্থায়নে সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১২ শতাংশ।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ঋণ ক ষ ঋণ ব তরণ ঋণ ব তরণ র ঋণ র স দ ব সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

হাহাকার ভুলে হাসছে হাওর

একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত আর দুষ্টচক্রের ফসলি জমির মাটি খুবলে নেওয়ায় কঠিন সংকটের বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে প্রায় সর্বহারার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন হাওর অঞ্চলের কৃষকরা। এর মাঝেও লড়াই চালিয়ে গেছেন তারা। বোরো আর আমন উৎপাদনের লাগাতার সাফল্যে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে সুনামগঞ্জের কৃষি।

বোরো ও আমন ধানের অন্যতম উৎপাদন স্থল হিসেবে পরিচিত জেলার ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার হাওরবেষ্টিত অংশে বসবাসকারী কৃষকরা ২০১৭ এবং ২০২২ সালের ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলা করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের অবস্থার উন্নয়নে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে এ অঞ্চলের কৃষি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এরইমধ্যে অনেকাংশে বদলে গেছে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড এবং জীবন ও জীবিকার ব্যবস্থাপনা। ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যার পর দেশের অন্যতম এ শস্য উৎপাদন ক্ষেত্র নিষ্প্রাণ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা ছিল। ওই বন্যায় শতভাগ ফসলাহানির ঘটনা ঘটে এখানে; যা হাওর অঞ্চলে সংঘটিত ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত। ফসলহানির ঘটনায় বহু কৃষক নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন। মহাসংকটের মুখে পড়েছিল কৃষি ব্যবস্থাপনা।

পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের বন্যায় আগের বারের মতো এত বড় মাপের দুর্বিপাকে না পড়লেও বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয় কৃষিতে। শুধু ধর্মপাশার ডুবাইল হাওরের বাঁধ ভেঙে এক হাজার ৬৫ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়। এতে স্থানীয় পর্যায়সহ জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তায় বিরূপ প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি স্থলজ ও জলজ প্রাণির পুরো খাদ্যচক্র ব্যাহত হয়। হাওরের পানিতে অ্যামোনিয়া গ্যাসের প্রভাব অতিমাত্রায় হওয়ায় পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হয়। এতে ধ্বংস হতে শুরু করে বিপুল মৎস্য সম্পদ এবং মাছের অভয়ারণ্য।

একদিকে ফসলহানি, অন্যদিকে ঋণের চাপে স্থানীয় অনেক কৃষক কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকতে শুরু করেন। অনেকে শহরমুখীও হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আগের সব উদ্বেগ, আশঙ্কা ঝেরে ফেলে কৃষকেরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন হাওর অঞ্চলসহ দেশের খাদ্য নিরাপত্তায়।

কয়েক বছর হাওরবেষ্টিত ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। দিন দিন বাড়ছে আমনের চাষ। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই দুই উপজেলায় ২০২৩ থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬৩ টন বোরো ও আমন ধান উৎপাদিত হয়েছে। যার বাজার মূল্য এক হাজার ৩২২ কোটি ৩৩ লাখ ৬ হাজার টাকা। অনুকূল আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকরা দুই উপজেলা মিলিয়ে ৫৭৪ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার ধান উত্তোলনে সক্ষম হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুধু ধান চাষই নয়, শুষ্ক মৌসুমে হাওরপারের কৃষকদের ভুট্টা ও সরিষা আবাদেও আগ্রহ বাড়ছে। গত তিন বছরে দুই উপজেলায় ৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার ভুট্টা ও ১৯ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকার সরিষা উৎপাদন হয়েছে। শাকসবজি উৎপাদনেও পিছিয়ে এখানকার কৃষকেরা। ২০২৩ সালে ১৪ হাজার ৫৪০ টন, ২০২৪ সালে ১৯ হাজার ৬৭৭ টন এবং চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৩৪৬ টন শাকসবজি উৎপাদন হয়েছে এ অঞ্চলে। সংশ্লিষ্ট কৃষি দপ্তরের সূত্রে পাওয়া তথ্যেও এমনটা জানা গেছে। 

স্থানীয় কৃষক এবং কৃষি দপ্তরের সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর বোরো চাষাবাদের পরিমাণ বাড়ছে এখানে। ২০২২ থেকে ২০২৩ অর্থবছরে ৩১ হাজার ৮৫২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়; যা থেকে এক লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৮ টন ধান পাওয়া যায়। পরের অর্থবছরে ৩১ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমিতে এক লাখ ৯১ হাজার ৫৯৫ টন ধান উৎপাদিত হয়। চলতি অর্থবছরে ৩১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ হয়েছে; যা থেকে এক লাখ ৯১ হাজার ৬১৫  টন ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এছাড়াও ২০২২-২৩ অর্থবছরে দুই উপজেলায় আমন চাষাবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে। পরের অর্থবছরে ৪৩৫ হেক্টর ও চলতি অর্থবছরে ৫০০ হেক্টরের বেশি জমিতে আমনের চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা ২০১৭ সালের কথা মনে হলে এখনও বাকরুদ্ধ হয়ে যান। সেখান থেকে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছেন– এটি বড় ব্যাপার। টানা কয়েক বছর ধরে আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। কৃষকদের মরিয়া চেষ্টা ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। সেই সঙ্গে কৃষি বিভাগ স্থানীয় কৃষক ও কৃষি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে যেভাবে সহায়তা দিয়েছে তার সামষ্টিক সাফল্য দৃশ্যমান। এই মৌসুমেও কৃষকরা কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই বোরো ফসল ঘরে তুলছেন। এতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় খাদ্যভান্ডারে ভূমিকা রাখছেন ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের কৃষকরা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বোরো আবাদে কৃষকের সাফল্যের প্রভাব দৃশ্যমান ছিল হাওরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ধানের বাজার মধ্যনগরে। এখানকার অর্ধশতাধিক ধানের আড়তে মৌসুমজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। কৃষকের পাশাপাশি স্থানীয় ধান ব্যবসায়ীরাও লাভবান হয়েছেন। আড়তগুলোতে বইয়াখাউরী, টেপী, গচি, রাতা, বাঁশমতি, কালিজিরা, লাল ধান, ছুরাইক্কা, বোরোসহ দেশীয় জাতের ধান সংগ্রহ করে মজুত করেন ব্যবসায়ীরা। সোমেশ্বরী নদীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধান সংগ্রহ করতে আসা বড় বড় নৌকার সারি দেখলে বোঝা গেছে বোরো উৎপাদন ও ধান সংগ্রহ ছিল পর্যাপ্ত পরিমাণে। অথচ ২০১৭ সালে ফসলডুবির ঘটনার পর এসব আড়তে তালা ঝুলেছিল; যা স্থানীয় অর্থনীতিকে ভেঙে দিয়েছিল অনেকাংশেই।

চলতি মৌসুমে বোরো ফসলকে সামনে রেখে ধান কেনার জন্য এরইমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আড়তের লোকজন। এমনটাই জানা গেছে মধ্যনগর বাজার ঘুরে। মধ্যনগর আড়তদার কল্যাণ সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরুণ সরকার বলেন, ফসলহানির লোকসান কয়েক বছর টানতে হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ধানের ভালো ফলন পাওয়ায় পরিস্থিতি বদলেছে। কৃষক ও ধান ব্যবসায়ী উভয় পক্ষ লাভের মুখ দেখছে। প্রতি বছর ধানের মৌসুমে মধ্যনগরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ধান কেনাবেচা হয়।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, এখানকার মানুষ আর কোনোদিনও ২০১৭-এর পুনরাবৃত্তি চান না। সেজন্য হাওর অঞ্চলের প্রকৃতি ও পরিবেশের সেভাবে যত্ন করতে হবে। প্রাকৃতিকভাবে বিশেষায়িত এসব অঞ্চল রক্ষা করা না গেলে সামগ্রিকভাবে দেশের ভূপ্রকৃতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়বে। ঋতু আর মৌসুমের সঙ্গের খুব কঠিন হিসেবে মিলিয়ে চলতে হয় এখানকার কৃষকদের। এ অঞ্চলের বোরো আর আমনের দিক নজর রেখে বাঁধের কাজে ন্যূনতম অবহেলার সুযোগ নেই। এখন বোরো ফসল তোলার সময় চলছে। এ সময় আবহাওয়া বৈরী হলে বিপদ। তাই গবেষণা করে স্বল্পমেয়াদি ধান জাতের উদ্ভাবন করা সময়ের দাবি।

মধ্যনগর উপজেলার দায়িত্বে থাকা সুনামগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী নূর আলম ও ধর্মপাশা উপজেলার দায়িত্বে থাকা সুনামগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এরইমধ্যে এখানকার সব বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে। এখন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। ফসল উত্তোলনের আগ পর্যন্ত নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (মধ্যনগরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার বলেন, খাদ্য নিরাপত্তায় দুই উপজেলার প্রায় ৫৫ হাজার কৃষক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হচ্ছে। ওই কর্মকর্তারা বলেন, হাওর অঞ্চলের কৃষকের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় ফসল পরিবহন ও বাজারজাতকরণে। হাওরের সঙ্গে উপজেলা সদরসহ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • অ্যারামিট সিমেন্টের অর্ধবার্ষিকে লোকসান কমেছে
  • বিএসইসি লাভে ফিরলেও ভোগাচ্ছে বিপণন দুর্বলতা
  • হাহাকার ভুলে হাসছে হাওর
  • যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কে ভারতের লাভ-ক্ষতি কেমন হবে
  • সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চাল ডালের আমদানি
  • ঋণের দায় ও ঝুঁকি কমানোর কৌশল খুঁজছে সরকার
  • ছয় মাসে বাজেট বাস্তবায়নের হার বেড়েছে ২.৩৩%