ঘুম ভাঙলেই মা-বাবাকে খুঁজছে ছোট্ট আরাধ্যা
Published: 5th, April 2025 GMT
চোখ খুলেই চারপাশে মা-বাবাকে খুঁজে ফিরছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বাস ও মাইক্রোবাসের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ছয় বছর বয়সী শিশু আরাধ্যা বিশ্বাস। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতির দিকে। ঘুম ভাঙলেই চিকিৎসক থেকে শুরু করে আত্মীয়স্বজন সবার কাছেই জানতে চাইছে, মা-বাবা কোথায়। তবে কেউই অনাথ ছোট্ট এই শিশুটির কথার উত্তর দিতে পারছে না।
আরাধ্যা এখন ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ রোববার তার পায়ের সার্জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গত শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকা আরাধ্যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্কয়ার হাসপাতালে আরাধ্যার সঙ্গে থাকা আত্মীয় অসিত কুমার বাড়ৈ মোবাইল ফোনে সমকালকে বলেন, আগের চেয়ে তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার তার পায়ের সার্জারি করবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আপাতত তাকে মুখে খাবার দেওয়া যাচ্ছে না। তার এক মামাতো বোন তপতী বিশ্বাস আরাধ্যার দেখাশোনা করছে। ঘুম থেকে উঠলেই মা-বাবার ব্যাপারে জানতে চায় সে। তখন মামাতো বোনকে তার কাছে পাঠিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে এভাবে কতদিন পারব কে জানে!
গত বুধবারের দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আরাধ্যার বাবা দিলীপ বিশ্বাস ও মা সাধনা মণ্ডল। দুর্ঘটনায় প্রাণে বাঁচলেও আরাধ্যার দুই পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। আঘাত পেয়েছে মাথা, হাত, বুকসহ বিভিন্ন অংশে। তার বাবা দিলীপ বিশ্বাস ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকার গাজীপুরের পোশাক কারখানার কর্মকর্তা ছিলেন।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: আর ধ য র
এছাড়াও পড়ুন:
মাথায় গুলি নিয়েই মারা গেলেন জুলাই আন্দোলনে আহত হৃদয়
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর ঢাকা যাত্রাবাড়ি এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত মো. আশিকুর রহমান হৃদয় (১৭) মারা গেছেন।
শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত হৃদয় উপজেলার পশ্চিম যৌতা গ্রামের রিকশাচালক আনসার হাওলাদারের ছেলে।
হৃদয়ের পরিবার জানায়, হৃদয় ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করতেন। জুলাই আন্দোলনে ঢাকায় আন্দোলনে অংশ নেণ তিনি। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ি এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। এ সময় তার মাথায় তিনটি গুলি লাগে। ওই সময় তিনি লুকিয়ে চিকিৎসা নেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসকরা তার মাথা থেকে ২টি গুলি বের করতে পারলেও আশঙ্কাজনক হওয়ায় একটি গুলি বের করতে পারেননি। এতে পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি হৃদয়।
তার পরিবার আরও জানায়, বিভিন্ন সময় অস্থির হয়ে পড়তেন তিনি। প্রচণ্ড জ্বর উঠত তার শরীরে। গত বুধবার হৃদয় অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বিকেল ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হৃদয়ের বাবা আনসার হাওলাদার বলেন, অর্থাভাবে ছেলের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। একমাত্র সম্বল রিকশা ও একটা গরু বিক্রির টাকা দিয়ে যতটুকু করার চেষ্টা করেছি। মাথার তিনটি গুলির দুটি বের করেছেন ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা। আরেকটি গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। বিদেশ চিকিৎসার করা হলে আমার ছেলেটা বেঁচে থাকতো। টাকা নেই তাই ছেলেটা মারা গেছে। আমার ছেলেটার জীবন গেছে। নতুন সরকার আসছে, কেউ তার খোঁজ নিল না বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিহত হৃদয়ের বড় ভাই মো. সোহাগ ইসলাম আনিস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটা গুলি নিয়ে অসুস্থ ছিল হৃদয়। এতে মাথায় প্রচুর ব্যথা করত। জ্বর উঠত। কেউ আমার ভাইয়ের খোঁজ নেয়নি। উন্নত চিকিৎসার অভাবেই আমার ভাই মারা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আ. রউফ বলেন, দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আশঙ্কাজনক হওয়ায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি। পরিবার যথাসময়ে বরিশাল নিয়ে যেতে পারেনি। এখানেই বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।