Samakal:
2025-04-06@11:26:30 GMT

বৃষ্টি নেই, আসছে না নতুন কুঁড়ি

Published: 5th, April 2025 GMT

বৃষ্টি নেই, আসছে না নতুন কুঁড়ি

কমলগঞ্জে অনাবৃষ্টির কারণে প্রখর রোদে পাতা পুড়ে চা বাগানের চা গাছ বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। নদনদী, ছড়া, জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় চাহিদামতো সেচও দেওয়া যাচ্ছে না। চা মৌসুমের শুরুতেই আবহাওয়ার এমন বিরূপ আচরণে বিপদে পড়েছেন চাষিরা। এতে উৎপাদনে প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।
চা চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টি না হওয়ায় নতুন কুঁড়ি আসছে না চা গাছে। ফলে চায়ের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার শঙ্কা আছে। তাপপ্রবাহের কারণে লাল মাকড়ের আক্রমণসহ নানা প্রকার পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। বেশির ভাগ চাষিই চা বাগান নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না।
চা বাগান ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ চা বাগানে আসছে না নতুন কুঁড়ি। কোনো কোনো চা বাগানের গাছ রোদে পুড়ে গেছে। অনেক গাছ শুকিয়ে গেছে। চাষিরা দিনরাত বাগানে পানি ছিটাচ্ছেন, তবুও কাজ হচ্ছে না। চাষিরা বলছেন, চা বাগানে প্রতিবছর দু’বার সার প্রয়োগ করতে হয়। এ ছাড়া খরার মৌসুমে ১৫ দিন পরপর পানিসেচ দিতে হয়। সেই সঙ্গে বছরে সর্বনিম্ন ছয়বার কীটনাশক ছিটাতে হয়। পোকামাকড়ের আক্রমণ অনুযায়ী এটি কমবেশি হতে পারে। টাকার অভাবে চা বাগানের পেছনে এই নিয়মিত বিনিয়োগ ও পরিচর্যা করতে না পারায় এবার চা গাছে লাল মাকড়ের আক্রমণসহ নানা প্রকার পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। এর সঙ্গে টানা তাপপ্রবাহ যোগ হয়ে সমতলের চা চাষিদের এখন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ অবস্থা।
চায়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে সেচের পাশাপাশি চারাগাছ ঘিরে মাটি গর্ত করে পচা গোবরের সঙ্গে কিছু টিএসপি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চা বিশেষজ্ঞরা।
জানা যায়, উপজেলায় ফাঁড়িসহ ২২টি চা বাগান রয়েছে। এর মধ্যে অনেক চায়ের টিলা শুকিয়ে গেছে। তাপদাহ-অনাবৃষ্টিতে আসছে না নতুন কুঁড়ি ও পাতা। খরায় ৪০ শতাংশ নতুন চারাগাছ ও ১০ শতাংশ পুরোনো গাছ পুড়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ কিছু কিছু টিলায় নিয়মিত সেচ দিয়ে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছে। তাতেও কাজ হচ্ছে না।
সরকারি মালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) মাধবপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক দীপন কুমার সিংহ বলেন, এখন চা পাতা তোলার মৌসুম। কিন্তু যে হারে পাতা চয়ন করার কথা, সেভাবে হচ্ছে না। প্রখর রোদের কারণে গাছগুলো মারা যাচ্ছে। যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে স্বাভাবিক হবে গাছগুলো।
বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বলেন, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এখন উৎপাদন নেই বললেই চলে। তবে দু-একটি বাগানে পাতা চয়ন শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূল নয়। বর্তমানে প্রতি কেজি চায়ের উৎপাদনে খরচ হয় ২২০ টাকা; কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। কেজিতে ৪০ টাকা ঘাটতি দিয়ে চা শিল্প কতদিন টিকে থাকবে, তা ভাবনার বিষয়।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) পাত্রখোলা চা বাগানের ব্যবস্থাপক আকতার হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টি ও সহনীয় তাপমাত্রা চা উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি। বৃষ্টি না হওয়ায় তারা কৃত্রিমভাবে পানির ব্যবস্থা করে চা গাছে ছিটাচ্ছেন। কিন্তু সব জায়গায় সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী জানান, চায়ের জন্য ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আদর্শ। তবে সর্বোচ্চ ২৯ ডিগ্রি পর্যন্ত চা গাছ সহ্য করতে পারে। এর ওপরে গেলেই খরায় পুড়ে যাবে। পানির সংকট দেখা দিতেই নতুন কুঁড়ি আসা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে বাগানে যথেষ্ট পরিমাণ ছায়া প্রদানকারী গাছ থাকলে ৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা সহনীয় থাকে। এখন তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি আবার কখনও তা বেড়ে ৩৬ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠানামা করছে। এ জন্য গাছ পুড়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এবার মৌসুমের শুরুর দিক থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে না। এই বৃষ্টি চা গাছের জন্য খুবই দরকারি। বৃষ্টি না হওয়ায় ছাঁটাই করা গাছগুলোতে নতুন পাতা আসছে না। বড় বাগানে সেচ, টিউবওয়েল আছে। কিন্তু ছোট বাগানে এই ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টি না এলে ক্ষতির শঙ্কা বেশি।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির পরিচালক ও শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের মালিক মহসিন মিয়া মধুর ভাষ্য, চায়ের উৎপাদন খরচ অব্যাহতভাবে বাড়ছে। বৃষ্টি যদি না হয়, তাহলে চা শিল্পের জন্য বিরাট ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ইনচার্জ আনিসুর রহমান বলেন, এই সময়ে চা অঞ্চলে ১৫ থেকে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। গত বছরের মার্চ মাসে ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। অথচ চলতি বছরের মার্চে এসে মাত্র ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। শুধু তাই নয়, গত পাঁচ মাসে এই অঞ্চলে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। মৌলভীবাজার জেলার সবক’টি চা বাগান খরার কবলে পড়েছে।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির ডিজিএম শফিকুর রহমান মুন্না বলেন, প্রায় সব বাগানেই চা পাতা পুড়ে লাল হয়ে গেছে। সেচ দেওয়া কিছু বাগানে চা গাছে কুঁড়ি দেখা গেলেও তা খুবই কম। বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় খরা মোকাবিলায় প্রাকৃতিক উৎস ছড়া ও লেকগুলো থেকে প্রয়োজনীয় পানিসেচ দেওয়া যাচ্ছে না। চলতি বছর ন্যাশনাল টি কোম্পানি ৭০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। কিন্তু বছরের শুরু থেকে চায়ের জন্য অনুকূল আবহাওয়া না থাকায় এবারও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
 

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ব যবস থ র জন য নত ন ক হওয় য়

এছাড়াও পড়ুন:

বরবাদ নিয়ে স্রেফ ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল: ডিওপি শৈলেশ

ঈদুল ফিতরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘বরবাদ’ সিনেমা। মুক্তির পর থেকেই আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে শাকিব খান অভিনীত এই সিনেমা। মুক্তির সপ্তম দিনে সিনেমাটির ভারতীয় ডিওপি শৈলেশ আওয়াস্থি তার ক্রেডিট না দেওয়ার অভিযোগ এনে পরিচালকের পোস্টে মন্তব্য করেন।

শৈলেশ আওয়াস্থির ভাষ্য ছিল, পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় ক্রেডিট লাইনে তার নাম রাখেননি! এরপর বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা শুরু হয়। তবে বিষয়টিকে এখন ‘স্রেফ ভুল বোঝাবুঝি’ বলে মন্তব্য করেছেন শৈলেশ।

এ নিয়ে শৈলেশ তার ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন শৈলেশ। পরিচালক ও প্রযোজকের সঙ্গে একাধিক ছবি দিয়ে তিনি লেখেন, “পরিচালক হৃদয় আমার ছোট ভাই। একটি ভুল যোগাযোগের কারণে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল, যা সম্পূর্ণরূপে সমাধান করা হয়েছে। আমরা পরিবারের মতো। তাই পরিবারের মধ্যে মত-বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু পরের মুহূর্তেই আমরা ভাইয়ের মতো বসে খাবার ভাগাভাগি করি। এটাই আমাদের বন্ধন।”

আরো পড়ুন:

‘বরবাদ’ সিনেমা নিয়ে ভারতীয় সিনেমাটোগ্রাফারের চাঞ্চল্যকর তথ্য

‘চাঁদ মামা’ গানে শেহতাজের নানির নাচ (ভিডিও)

অনুরোধ জানিয়ে শৈলেশ লেখেন, “দুর্ভাগ্যবশত কিছু ব্যক্তি তাদের নিজস্ব সুবিধার জন্য পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমি সকলকে অনুরোধ করছি, দয়া করে, বরবাদ চলচ্চিত্রটিকে ঘিরে অপ্রয়োজনীয় সমস্যা তৈরি করবেন না। আমি গর্বের সাথে বরবাদের সাথে ডিওপি হিসেবে যুক্ত থেকে সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে আমার কাজ করছি।”

“একজন ডিওপি-এর ভূমিকা স্বাভাবিকভাবেই সৃজনশীল ইনপুট দিয়ে থাকে যা কাজের অংশ। তাই আসুন যেটি ছড়িয়েছে সেটি গুজব পর্যন্ত রাখা হোক। পরিচালক হিসেবে হৃদয় একটি দুর্দান্ত কাজ করেছেন এবং আমি তার প্রচেষ্টাকে আন্তরিকভাবে সম্মান করি।” লেখেন শৈলেশ।

সবশেষে প্রযোজককে ধন্যবাদ দিয়ে শৈলেশ লেখেন, “আমাদের প্রযোজক শারমিন এবং আজিম ভাইকে বিশেষ ধন্যবাদ তারা পুরো চিত্রগ্রহণ প্রক্রিয়া জুড়ে মা এবং বাবার মতো আমাদের সমর্থন করেছেন। তাদের আস্থা এবং যত্ন আমাদের বড় স্বপ্ন দেখতে এবং জীবনের চেয়েও বড় একটি চলচ্চিত্র তৈরি করতে সাহায্য করেছে। অনলাইন মিডিয়ার কাছে আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, দয়া করে গুজব ছড়াবেন না বা সস্তা প্রচারের জন্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না। আসুন আমরা সবাই ঐক্য, সৃজনশীলতা এবং সিনেমার প্রতি ভালোবাসার চেতনায় একসাথে কাজ করি। বাংলা সিনেমা দীর্ঘজীবী হোক।”

এদিকে, মুক্তির পর থেকে সারাদেশে রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করছে ‘বরবাদ’। রাজধানীসহ দেশের সব সিনেপ্লেক্স ও মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তির সাত দিন পরও টিকিটের জন্য দর্শকদের চাপ দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা/রাহাত/শান্ত

সম্পর্কিত নিবন্ধ