ইউরোপের শহরগুলোতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
Published: 5th, April 2025 GMT
ইউরোপীয় শহরগুলোতে শত শত মানুষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টা এলন মাস্কের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। ট্রাম্পের ব্যাপক বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণার পর শনিবার এ বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
জার্মান শহর ফ্রাঙ্কফুর্টে, মার্কিন ডেমোক্রেটিক পার্টির শাখা ডেমোক্রেটস অ্যাব্রোড আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচির নাম ছিল ‘হ্যান্ডস অফ!’
ফ্রাঙ্কফুর্টের ওপারনপ্লাজে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করেন। তাদের হাতে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করুন’, ‘আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য হস্তান্তর করুন’ এবং ‘তোমার বাজে কথায় বিশ্ব ক্লান্ত ডোনাল্ড, চলে যাও!’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল।
বার্লিনে মাস্ককে লক্ষ্য লেখা প্ল্যাকার্ডগুলোতে ছিল- ‘চুপ করো এলন, কেউ তোমাকে ভোট দেয়নি’।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে প্রায় ২০০ জন মানুষ জড়ো হয়েছিল, যাদের বেশিরভাগই আমেরিকান। বিক্ষোভকারীরা ‘অত্যাচারীকে প্রতিরোধ করুন’, ‘আইনের শাসন’, ‘ফ্যাসিবাদ নয় স্বাধীনতার জন্য নারীবাদ’ এবং ‘গণতন্ত্র বাঁচান’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেছিলেন।
লন্ডন এবং লিসবনসহ ইউরোপের অন্যান্য শহরেও ট্রাম্প ও মাস্কের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকা/শাহেদ
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
রাজনীতি ছাড়ছেন না লো পেন, আইনি লড়াই করবেন
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ফ্রান্সের ডানপন্থী নেতা মারিন লো পেন রাজনীতি ছাড়ছেন না। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম টিএফওয়ানকে মারিন লো পেন বলেন, ‘আমাকে সরিয়ে দেওয়া হলো ঠিকই; কিন্তু একই সঙ্গে অসংখ্য ফরাসি নাগরিকের কণ্ঠরোধ করা হলো।’ তিনি জানান ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগের কোনো আইনি আবেদনের ওপর তাঁর ভরসা নেই।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সম্প্রতি লো পেনের সরকারি কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। আদালত জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর দল ন্যাশানাল র্যালি পার্টি (আরএন) তহবিলের প্রায় ৩০ লাখ ইউরো আত্মসাৎ করেছেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই তহবিল একমাত্র পার্লামেন্টের কাজেই ব্যবহার করার জন্য বরাদ্দ থাকে।
আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ছিলেন লো পেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন রাজনীতি ছাড়ছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমি আইনি পথ ছাড়ব না, আবেদন করব। আইনের যেটুকু রাস্তা খোলা আছে, তা সে যতই ছোট হোক, আমি সেই পথ ছাড়ব না।’
আদালতের রায়কে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন লো পেন। তিনি বলেন, ‘এই রায় গণতন্ত্রের পক্ষে ভয়ংকর। আমার ব্যক্তিগত কোনো লাভ হয়নি। তাই দুর্নীতির প্রশ্নই আসে না।’
লো পেন সাংসদ থাকতে পারবেন; কিন্তু তিনি পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে লড়তে পারবেন না।
লো পেনের বিকল্প কে?লো পেনের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ পাঁচ বছর। এর মধ্যে চার বছর তাঁকে বন্দি অবস্থায় থাকতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার রায় ঘোষণার আগেই শুনানি চলাকালে উত্তেজিত লো পেনকে আদালতকক্ষ থেকে চলে যেতে দেখা যায়। এই রায়ের পর আগামী নির্বাচনে তাঁর লড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
লো পেনের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর তাঁর দলের প্রেসিডেন্ট ২৯ বছর বয়সী জর্ডন বারদেলাকে ২০২৭ সালের নির্বাচনে প্রার্থী করা হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। জনপ্রিয়তার নিরিখে লো পেনের থেকে বেশ কিছুটা পিছিয়ে থাকবেন তিনি।
আদালত লো পেনের সঙ্গে তাঁর দলের আরও আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। একই সঙ্গে ১২ জন পার্লামেন্টারি অ্যাসিস্ট্যান্টকেও দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত।
রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়াএই রায়ের পর ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রুসহ একাধিক রাজনীতিবিদ আদালতের ভোটে লড়তে দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই রায়কে ‘খুব বড় বিষয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন ‘লো পেনের ওপর পাঁচ বছর ভোটে লড়ার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আমাদের দেশেও এ রকম হয়েছে।’
রাশিয়া এ ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে এই রায় ইউরোপের গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর।
আরও পড়ুনদোষী সাব্যস্ত লো পেন, সরকারি দায়িত্ব পালনে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা৩১ মার্চ ২০২৫