ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডে শুয়ে আছে শিশু আবিদা সুলতানা। তার পেটে বুলেটের গভীর ক্ষত, শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট হচ্ছে। শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে নেওয়ার ৭২ ঘণ্টা পর চোখ খুলে শিশুটি। একবার শুধু বলেছে, ‘মা, আমি কিছু খাব।’

ছয় বছর বয়সী আবিদার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকার বশিকপুর গ্রামে। গত মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিবেশী অহিদ উদ্দিন গুলি চালায় আবিদাকে লক্ষ্য করে। গুলি তার পেটে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। অহিদের বাড়ির উঠানে তার মেয়ের সঙ্গেই খেলা করছিল আবিদা। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এলাকায় বিরোধের জেরে ঘটেছে নির্মম এ ঘটনা। 

শিশুটির বাবা ইব্রাহিম খলিল তখন বাড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে ছুটে আসেন। মেয়েকে কোলে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেতে কেবল বলছিলেন, ‘চোখ বন্ধ করিস না, তুই কিছু বল, বাবা।’ আবিদার মা আমেনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মেয়ে তো কারও ক্ষতি করেনি। সে তো খেলছিল জেরিনের (অহিদের মেয়ে) সঙ্গে। হঠাৎ অহিদ এসে গুলি করল। আমি জানালা দিয়ে ডাকছিলাম মেয়েকে–সে তো জানত না ওর জন্য মৃত্যু অপেক্ষা করছে।’ তিনি জানান, ঘটনার দিন বিকেলে কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে অহিদের বাড়িতে ঢোকে। কিছুক্ষণ পরে ভয়াবহ সেই মুহূর্ত। অহিদ ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে আমগাছের নিচে খেলা করতে থাকা আবিদাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে সে মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে চিকিৎসার জন্য দিতে চেয়েছিল। 

চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুটি শঙ্কামুক্ত নয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা.

ফকির আমিরুল ইসলাম সোহেল জানিয়েছেন, আবিদার ফুসফুস, কিডনি ও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তাকে বাঁচাতে চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অহিদ উদ্দিন এবং ইব্রাহিম খলিলের ভাই ছোট ইউসুফের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। একে কেন্দ্র করে গুলি চালানো হয়েছে। শিশুটি হাসপাতালে নেওয়ার সময় বলছিল– ‘আমাকে অহিদ গুলি করেছে।’ এক পর্যায়ে তার চোখ বন্ধ হয়ে আসে। মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় দেখা দেয় উত্তেজনা।

এ ঘটনায় চন্দ্রগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে অহিদ উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বেগম আঙ্কুরী ও ছেলে মো. ফাহিমকে। পুলিশ আঙ্কুরীকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য দু’জন পলাতক।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: লক ষ ম প র

এছাড়াও পড়ুন:

‘১৩০ কিলোমিটার এসেছেন ৫০০ টাকায়, ঢাকায় ৬ কিলোমিটার রাস্তার ভাড়াও চায় ৫০০’

ঈদের লম্বা ছুটি শেষে আজ রোববার থেকে খুলেছে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত অফিস। রাস্তায় যানজট তেমন না থাকলেও গণপরিবহন–সংকট ও বাড়তি ভাড়া গুনে কর্মস্থলে যেতে হয়েছে ঢাকাবাসীকে।

টেকনিক্যাল মোড়ে দাঁড়ানো ইমতিয়াজ আহমেদ নামের এক যাত্রী বলেন, তিনি ধানমন্ডি যাবেন। কিন্তু পরিবহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন এক ঘণ্টা ধরে। তিনি বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ থেকে বাসে ১৩০ কিলোমিটার পথ পার করে এসেছি ৫০০ টাকায়। অথচ এখান থেকে ধানমন্ডি ৬ কিলোমিটার রাস্তার ভাড়া চাচ্ছে ৫০০ টাকা। তাই দাঁড়িয়ে আছি।’

সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী, কল্যাণপুর, গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। একই রকম ভোগান্তিতে পড়েছেন টঙ্গী, আবদুল্লাহপুর, মহাখালী হয়ে রাজধানীতে প্রবেশ করা যাত্রীরাও।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লোকাল বাসচালক ও যাত্রীরা জানান, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে গণপরিবহন–সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার বিমানবন্দর এলাকায় যানজট থাকায় উত্তরের জেলাগুলো থেকে আসা যাত্রীরা ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

যাত্রীরা অভিযোগ করেন, পরিবহন–সংকটকে পুঁজি করে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলগুলো।

মিরাজ উদ্দিন নামের একজন যাত্রী বলেন, তিনি জয়পুরহাট থেকে এসেছেন। রাজধানীর রামপুরা যাবেন। গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন এক ঘণ্টা থেকে। হাতে ব্যাগ থাকায় লোকাল বাসে উঠতে পারছেন না বলে জানান মিরাজ। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলগুলোও অনেক বেশি ভাড়া দাবি করছে, বলেন তিনি। কেউ কোনো নিয়ম মানছে না বলে অভিযোগ করেন মিরাজ।

সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালক জানান, যাত্রীর অনেক চাপ। আবার রাস্তায় কোথাও কোথাও যানজট আছে। যানজটের কারণে গাড়ি আসছে না। তাই চালকেরা বেশি ভাড়া দাবি করছেন। তবে সব চালক বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন না।

কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গণপরিবহনের অপেক্ষায় যাত্রীরা। আজ সকাল ৯টার দিকে তোলা

সম্পর্কিত নিবন্ধ