ম্যাচের আগে শোনা গিয়েছিল, চেন্নাই সুপার কিংসের নিয়মিত অধিনায়ক ঋতুরাজ গাউকোয়াড় খেলতে না পারলে দলকে নেতৃত্ব দিবেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। তবে কনুইয়ের চোট সারিয়ে টস করতে আসেন ঋতুরাজ। আর তাতেই আবারও হতশ্রী হলুদ শিবির। ম্যাচটা আসহায় আত্মসমর্পণ করে চেন্নাই।
প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ১৮৩ রান তুলে দিল্লি ক্যাপিটালস। চেন্নাই থামে ৫ উইকেটে ১৫৮ রান করে। ২৫ রানের ম্যাচ জিতে দিল্লী, একই সাথে ১৫ বছর পরে চিদাম্বর স্টেডিয়ামে জয় পায় রাজধানীর ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
টস হেরে ব্যাট করতে নামে দিল্লি। এই ম্যাচে ফাফ ডু প্লেসির জায়গায় ওপেনে নেমে ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন লোকেশ রাহুল। তিনে নেমে ঝোড়ো ইনিংস খেলেন অভিষেক পোড়েল। ২০ বলে ৩৩ রান করেন তিনি। কাপ্তান অক্ষর প্যাটেলের সংগ্রহ ছিল ২১ রান। সমীর রিজভি আউট হন ২০ রানে। ত্রিস্তান স্টাবস অপরাজিত থাকেন ১২ বলে ২৪ করে। খলিল আহমেদ ২৫ রানে নেন ২ উইকেট।
আরো পড়ুন:
আইপিএলের জন্য ধোনির থাকা আবশ্যক: ক্রিস গেইল
প্রায় ১৮ বছর পর ঘরের মাঠে চেন্নাইয়ের ‘অন্যরকম’ হার
জবাব দিতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। রাচিন রবীন্দ্র (৩) এবং ডেভন কনওয়ের (১৩) ওপেনিং জুটি ভেঙেছে দলের ১৪ রানের মাথাতে। ঋতুরাজও (৫) বেশিক্ষণ টেকেননি। দলীয় ২০ রানের মাথায় বিদায় নেন চেন্নাই কাপ্তান। এরপর বিজয় শঙ্কর ও শিবাম দুবের ব্যাটে এগিয়েছে চেন্নাই। তবে দলের প্রত্যাশা মেটানোর মতো ব্যাটিংটা হচ্ছিল না। ১৫ বলে ১৮ রান করে দুবে থেমেছেন দলের ৬৫ রানের মাথাতে।
ধোনিকে সাথে নিয়ে শেষ পর্যন্ত খেলেছেন বিজয় । তবে দুজনই ম্যাচ শেষ হওয়ার বহু আগেই হাল ছেড়ে দেন। শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ৫৪ রান। ১৯তম ওভারে ১৩ রান নেয় চেন্নাই। শেষ ওভার থেকে রান আসে ১৫। ধোনি অপরাজিত ছিলেন ২৬ বলে ৩০ রান করে। অন্যদিকে বিজয় টিকে ছিলেন ৫৪ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলে। দিল্লীর হয়ে ২ উইকেট নেন বিপরাজ নিগাম।
এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৩ জয় নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠেছে দিল্লী। অন্যদিকে ৪ ম্যাচে মাত্র ১ জয় চেন্নাইয়ের। ধোনি-জাদেজেরা টানা হারের হ্যাট্ট্রিক করেছেন।
ঢাকা/নাভিদ
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর র ন কর উইক ট
এছাড়াও পড়ুন:
অটিস্টিক শিশুদের ভাষা সমস্যায় মা–বাবার করণীয়
অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার বা অটিজম হচ্ছে শিশুদের মস্তিষ্কের বর্ধনমূলক বা বিকাশমূলক বৈকল্যের একটি সমষ্টিগত অবস্থা, যা প্রধানত মাতৃগর্ভকালীন সৃষ্টি হয় ও জন্মের পর প্রাথমিক কিছু উপসর্গ দিয়ে এই রোগের লক্ষণের প্রকাশ ঘটে। লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘ভাষার সমস্যা’। ভাষা হচ্ছে যোগাযোগের অর্থাৎ মনের আবেগ ও চিন্তা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। ভাষার মাধ্যমে আমরা আমাদের মৌলিক আবেগ–আকাঙ্ক্ষা অর্থাৎ মনোগত অবস্থা, যেমন চিন্তা, অভিপ্রায়, কামনা, অভিলাষ, স্বপ্ন, কল্পনা ও ছলনা ইত্যাদি অন্যের কাছে প্রকাশ করি এবং অন্যের মনেও যে এগুলোর অস্তিত্ব আছে, তা বুঝতে পারি। যোগাযোগ ও সামাজিকতা তখনই একটি মানুষের স্বয়ংসম্পূর্ণ ও অর্থবোধক হয়, যখন ভাষার বাচনিকতার সঙ্গে অবাচনিকতার বিভিন্ন উপাদান যুক্ত হয়ে অন্যের কাছে অর্থবহ রূপে প্রতিবেশ ও পরিবেশ অনুযায়ী প্রকাশ হয়।
চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য অটিজমে আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসার মাধ্যমে ‘অর্থবহ জীবন’ প্রদান করা।প্রকৃতির সহজাত নিয়মে যখন কোনো শিশু চিন্তা ও আবেগ অন্যের কাছে প্রকাশ করতে না পারবে, তখন তার আচরণগত সমস্যা তৈরি হবে। অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের ভাষা বিকাশ ও প্রকাশে লক্ষণীয় ত্রুটি দেখা যায়। ফলে এই শিশুদের মধ্যে কিছু অকার্যকর বা অনুপোযোগী আচরণ, যেমন বারবার পুনরাবৃত্তি, অন্তর্ঘাতমূলক, আগ্রাসনমূলক আচরণ পরিলক্ষিত হয়, যা তার দৈনন্দিন জীবনপ্রবাহে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
এ ধরনের সমস্যা একটি শিশুর নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা থেকে শুরু করে তার সামাজিক দক্ষতা ও বুদ্ধিদীপ্ততার সার্বিক বিচ্যুতি বা বিকারের পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। আর এর মাত্রা হয়ে থাকে ভিন্ন ভিন্ন, যা নির্ভর করে একটি শিশুর ভাষা আয়ত্তকরণের উপায়গুলো অর্থাৎ ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও অর্থের ওপর।
মা–বাবার করণীয়
কোনো শিশুর মধ্যে ‘ভাষা সমস্যা’ পরিলক্ষিত হলে তার চিকিৎসা শুরুর আগে উচিত রোগ নির্ণয় করা। শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত কি না, নির্ণয় করতে হবে এবং স্পিচ ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি নেওয়ার উপযোগী কি না, সেটাও নির্ণয় করতে হবে। এটি নির্ণয় করবেন একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং প্রয়োজনে ওষুধও প্রদান করবেন অকার্যকর বা অনুপযোগী আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য।
একজন চিকিৎসা ভাষাবিদ একটি শিশুর মধ্যে ভাষার উপাত্তগুলোর কোনটি, কতটুকু আক্রান্ত হয়েছে, তা খুঁজে বের করেন এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসাব্যবস্থা ‘স্পিচ ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি’ দিয়ে থাকেন। যত তাড়াতাড়ি একটি শিশুর এ উপাত্তগুলো খুঁজে বের করে চিকিৎসার আওতায় আনা যাবে, তত তাড়াতাড়ি শিশুর আচরণগত অবস্থার উন্নতি হবে। কারণ, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে উপাত্তগুলোর কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য অটিজমে আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসার মাধ্যমে ‘অর্থবহ জীবন’ প্রদান করা, যাতে সে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য বোঝা না হয়ে যায়।
ডা. ফাহমিদা ফেরদৌস, চিকিৎসা ভাষাবিদ ও মানসিক রোগবিশেষজ্ঞ, সহযোগী অধ্যাপক (মানসিক রোগ বিভাগ), জেড এইচ সিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল