রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে লাভলু মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। 

মোহাম্মদ আলী সরকারের পক্ষের বিএনপি নেতা লাভলু মিয়া বদরগঞ্জের রাজরামপুর গ্রামের মৃত মহসিন আলীর ছেলে। পেশায় তিনি ইটভাটা ব্যবসায়ী ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শনিবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সর্দার রুমের ইনচার্জ সেলিম মিয়া।
 
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন একটি দোকানঘর নিয়ে ব্যবসায়ী জাহিদুল হক জোয়ারদার এবং দোকান মালিক ইশতিয়াক বাবুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। ইশতিয়াক বাবু দোকানঘর ছাড়ার জন্য চাপ দিলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ নেয় যখন জাহিদুল হক আশ্রয় নেন কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শহিদুল হক মানিকের কাছে এবং দোকান মালিক ইশতিয়াক বাবু আশ্রয় নেন সাবেক এমপি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকারের কাছে। 

শনিবার দুপুরে দোকান খুলে দেওয়ার দাবিতে শহীদ মিনার এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে বিএনপি নেতা শহিদুল হক মানিকের নেতৃত্বে জাহিদুল হকের অনুসারীরা। কিন্তু মোহাম্মদ আলী সরকারের সমর্থকরা তা পণ্ড করে দেন। যার ফলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়, শুরু হয় দুই পক্ষেরই নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্রসহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এসময় পৌরশহরের বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে। একপর্যায়ে সৃষ্ট সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন দু’জন পথচারীসহ অন্তত ১০ জন। এর মধ্যে বিএনপি কর্মী লাভলু মিয়া (৫০), মোক্তারুল ইসলাম (৪৫), মুন্নাফ আলী (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও ময়নাল হোসেনকে (২৫) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাভলু মিয়া মারা যান। তারা সবাই উপজেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকারের কর্মী-সমর্থক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুর দুইটার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ শহরে টহল শুরু করে। 

বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান জানান, লাভলু মিয়ার মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি, কিন্তু এখনও কাগজ হাতে পাইনি। এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দোষীদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: স ঘর ষ ন হত ব এনপ বদরগঞ জ হ দ ল হক সরক র র ব এনপ র স ঘর ষ

এছাড়াও পড়ুন:

বাংলাদেশি লেনিন অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় নির্বাচনে লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী

এবারের অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে জাকির আলম লেনিন নিউ সাউথ ওয়েলস এর ওয়াটসন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। বহু প্রতিভার অধিকারী লেলিন সততা, অভিজ্ঞতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই একটি উন্নত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে অবদান রাখতে বাংলাদেশি কমিউনিটি ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন।

জাকির আলম লেনিনের জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তার দাদা মাজহারুল আলম ভূঁইয়া ছিলেন জমিদার। পিতা মোতাহের আলম ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন।

জাকির আলম লেলিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকার ও রাজনীতি বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ১৯৯৬ সালের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে নেতৃত্ব প্রদান করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ। ফুটবল, ক্রিকেট ও লন টেনিসে তাঁর পারদর্শিতা তাঁকে জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে।
পেশাগত জীবনে তাঁর সূচনা ঘটে বাংলাদেশের বহুজাতিক চা কোম্পানি জেমস ফিনলে-তে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে। 

২০০৫ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন করেন এবং সেখানে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এ ডিপ্লোমা এবং অ্যাকাউন্টিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি রিয়েল এস্টেট এবং ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্যবসায় নিয়োজিত এবং এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় তিনি বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম সংগঠন জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়া-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় উল্লেখযোগ্য সামাজিক দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁর সংগঠন  Covid Hero Award অর্জন করে।

লিবারেল পার্টির একজন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সদস্য হিসেবে তাঁর মূল লক্ষ্য হচ্ছে বহুসাংস্কৃতিক সমাজের উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার প্রসার, এবং সমাজের প্রত্যেক শ্রেণির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ওয়াটসন আসনের জনগণের জন্য তিনি একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কণ্ঠস্বর হতে চান।

উল্লেখ্য, আগামী ৩ মে অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • রংপুরে বিএনপির দু’পক্ষে সংঘর্ষ: শোকজ ৩ নেতাকে
  • খ্রিষ্টানদের সঙ্গে মহানবীর (সা.) শান্তিচুক্তি
  • বাংলাদেশি লেনিন অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় নির্বাচনে লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী
  • বদরগঞ্জে সংঘর্ষে মৃত্যুর ঘটনায় ৩ নেতাকে কারণ দর্শাতে বলল বিএনপি
  • রংপুরে বিএনপির ২ পক্ষের সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির মৃত্যু
  • রংপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু
  • রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫
  • রংপুরে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৫ 
  • রংপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ২০