যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পণ্য প্রবেশে বাড়তি শুল্কারোপের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করেছে চীন। নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন স্বার্থ নিরাপদ রাখতে নানা ধরনের শক্তিশালী পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিরুদ্ধে ঘোষিত সরকারের নীতির আলোকে আজ শনিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কথা জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় বুধবার (২ এপ্রিল) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। চীনের ওপর আরোপ করা হয় অতিরিক্ত ৩৪ শতাংশ শুল্ক, যা ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। ফলে এখন চীন থেকে কোনো পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে গুনতে হবে ৫৪ শতাংশ শুল্ক।

আরও পড়ুনযুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাব দিতে চীনের ৫ পদক্ষেপ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

ট্রাম্পের বাড়তি শুল্ক ঘোষণার পর গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত ৩৪ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করে চীন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্রতর হলো।

আজ সকালে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘[পুঁজিবাজার] কথা বলতে শুরু করেছে’। সঙ্গে তিনি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের দরপতনের একটি ছবি যুক্ত করেন।

আরও পড়ুনযুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে পাল্টা শুল্ক চীনের০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

আজ শনিবার এক বিবৃতিতে চীনের স্বাস্থ্যসেবা ও বস্ত্র থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিকস খাতের বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন এক বিবৃতিতে এক জোট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প বাজার খোঁজার ঘোষণা দিয়েছে। ট্রাম্পের নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতিকে আরও ভয়াবহ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

অটিস্টিক শিশুদের ভাষা সমস্যায় মা–বাবার করণীয়

অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার বা অটিজম হচ্ছে শিশুদের মস্তিষ্কের বর্ধনমূলক বা বিকাশমূলক বৈকল্যের একটি সমষ্টিগত অবস্থা, যা প্রধানত মাতৃগর্ভকালীন সৃষ্টি হয় ও জন্মের পর প্রাথমিক কিছু উপসর্গ দিয়ে এই রোগের লক্ষণের প্রকাশ ঘটে। লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘ভাষার সমস্যা’। ভাষা হচ্ছে যোগাযোগের অর্থাৎ মনের আবেগ ও চিন্তা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। ভাষার মাধ্যমে আমরা আমাদের মৌলিক আবেগ–আকাঙ্ক্ষা অর্থাৎ মনোগত অবস্থা, যেমন চিন্তা, অভিপ্রায়, কামনা, অভিলাষ, স্বপ্ন, কল্পনা ও ছলনা ইত্যাদি অন্যের কাছে প্রকাশ করি এবং অন্যের মনেও যে এগুলোর অস্তিত্ব আছে, তা বুঝতে পারি। যোগাযোগ ও সামাজিকতা তখনই একটি মানুষের স্বয়ংসম্পূর্ণ ও অর্থবোধক হয়, যখন ভাষার বাচনিকতার সঙ্গে অবাচনিকতার বিভিন্ন উপাদান যুক্ত হয়ে অন্যের কাছে অর্থবহ রূপে প্রতিবেশ ও পরিবেশ অনুযায়ী প্রকাশ হয়।

চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য অটিজমে আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসার মাধ্যমে ‘অর্থবহ জীবন’ প্রদান করা।

প্রকৃতির সহজাত নিয়মে যখন কোনো শিশু চিন্তা ও আবেগ অন্যের কাছে প্রকাশ করতে না পারবে, তখন তার আচরণগত সমস্যা তৈরি হবে। অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের ভাষা বিকাশ ও প্রকাশে লক্ষণীয় ত্রুটি দেখা যায়। ফলে এই শিশুদের মধ্যে কিছু অকার্যকর বা অনুপোযোগী আচরণ, যেমন বারবার পুনরাবৃত্তি, অন্তর্ঘাতমূলক, আগ্রাসনমূলক আচরণ পরিলক্ষিত হয়, যা তার দৈনন্দিন জীবনপ্রবাহে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।

এ ধরনের সমস্যা একটি শিশুর নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা থেকে শুরু করে তার সামাজিক দক্ষতা ও বুদ্ধিদীপ্ততার সার্বিক বিচ্যুতি বা বিকারের পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। আর এর মাত্রা হয়ে থাকে ভিন্ন ভিন্ন, যা নির্ভর করে একটি শিশুর ভাষা আয়ত্তকরণের উপায়গুলো অর্থাৎ ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও অর্থের ওপর।

মা–বাবার করণীয়

কোনো শিশুর মধ্যে ‘ভাষা সমস্যা’ পরিলক্ষিত হলে তার চিকিৎসা শুরুর আগে উচিত রোগ নির্ণয় করা। শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত কি না, নির্ণয় করতে হবে এবং স্পিচ ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি নেওয়ার উপযোগী কি না, সেটাও নির্ণয় করতে হবে। এটি নির্ণয় করবেন একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং প্রয়োজনে ওষুধও প্রদান করবেন অকার্যকর বা অনুপযোগী আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য।

একজন চিকিৎসা ভাষাবিদ একটি শিশুর মধ্যে ভাষার উপাত্তগুলোর কোনটি, কতটুকু আক্রান্ত হয়েছে, তা খুঁজে বের করেন এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসাব্যবস্থা ‘স্পিচ ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি’ দিয়ে থাকেন। যত তাড়াতাড়ি একটি শিশুর এ উপাত্তগুলো খুঁজে বের করে চিকিৎসার আওতায় আনা যাবে, তত তাড়াতাড়ি শিশুর আচরণগত অবস্থার উন্নতি হবে। কারণ, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে উপাত্তগুলোর কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য অটিজমে আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসার মাধ্যমে ‘অর্থবহ জীবন’ প্রদান করা, যাতে সে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য বোঝা না হয়ে যায়।

ডা. ফাহমিদা ফেরদৌস, চিকিৎসা ভাষাবিদ ও মানসিক রোগবিশেষজ্ঞ, সহযোগী অধ্যাপক (মানসিক রোগ বিভাগ), জেড এইচ সিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

সম্পর্কিত নিবন্ধ