গত সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদের দিন মধ্যরাতে চল্লিশজন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয় একুশে পরিবহনের একটি বাস। পথে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট পার হলে প্রায় ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে একদল যুবক বাসটিকে অনুসরণ করতে শুরু করে। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার পথ ধাওয়া করেও বাসটিকে ধরতে না পেরে লোকালয়ে আসার আগেই ফিরে যায় যুবকেরা। তবে তার আগে তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে বাস চালকের চোয়াল ভেঙে যায়, মাথায় ও বুকে গুরুতর আঘাত পান বাস চালক মো.

সোহেল। 

বাসটিকে ধরতে না পেরে যুবকেরা প্রথমে বিপুলাসার বাজারে অবস্থান নেয়। বাসের সামনের কাচে বড় ইট ছুঁড়ে মারেন। এতে বাসের কাচ ভেঙে গেলেও চালক আঘাত থেকে বেঁচে যান। মোটরসাইকেল নিয়ে ওই যুবকেরা পুনরায় তাড়া করে নোয়াখালীর সীমানা সেনবাগের ছাতারপাইয়ায় এসে আবারও ইট নিক্ষেপ করে। এতে চালক সোহেলের চোয়াল ভেঙে যায় এবং মাথায় ও বুকে প্রচণ্ড আঘাত পান। 

তবে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ওই অবস্থায় দ্রুত গতিতে বাস চালিয়ে তিনি নোয়াখালী জেলা শহরে পৌঁছান এবং সুধারাম মডেল থানার সামনে বাস দাঁড় করান। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা। খবর পেয়ে বাসের মালিক দ্রুত চালককে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

চালক সোহেল বলেন, “তারা প্রথমে অনুসরণ শুরু করে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট পার হওয়ার পর। কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি। লালমাই আসার পর তারা যখন আমাকে থামার জন্য সিগন্যাল দিচ্ছিল, তখন যাত্রীরা দেখে মোটরসাইকেলগুলো নাম্বারবিহীন। এরপর গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিই। তারাও বাসের সাথে পাল্লা দিয়ে ওভারটেক করে সামনে আসার চেষ্টা করে। লাকসাম এসে আমাকে গাড়ি থামানোর জন্য আবারও সিগন্যাল দেয়। কিন্তু গাড়ি থামাইনি। কারণ, আমার গাড়ির ভিতরে চল্লিশজন যাত্রী। গাড়ি না থামানোর কারণে প্রথমে বিপুলাসার এসে তারা আমাকে সামনের গ্লাসে দিয়ে ইট মেরে আমাকে আঘাত করে। পুনরায় ছাতাপাইয়ায় আবারও ইট মারলে আমার চোয়াল ভেঙে যায়। তারপরও ঘাবড়ে না গিয়ে রক্তক্ষরণরত অবস্থায় আমি গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে চলে আসি।”

মো. হামিম নামে একজন যাত্রী বলেন, “যুবকদের প্রত্যেকের বয়স ২৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে। তারা খুব আক্রমণাত্মক ছিল। খুব সম্ভবত কোনো অপরাধ ঘটনোর জন্য তারা বাসটিকে আটকাতে চাচ্ছিল। চালক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে চল্লিশ জন যাত্রীকে নিরাপদে নিয়ে আসলেন। আমরা চালকের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

বাসের মালিক জহিরুল ইসলাম তারেক বলেন, “কয়েকটি মোটরসাইকেল গাড়ি থামানোর জন্য সিগন্যাল দিচ্ছিল। কিন্তু চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে নোয়াখালীর দিকে আসছিল। তারাও বাসের পিছু নিয়ে তাড়া করছিল। একট পর্যায়ে বিপুলাসার এসে প্রথমে চালককে লক্ষ্য করে আক্রমণ করে। এতে চালকের কিছু না হওয়ায় দ্বিতীয় বারের অঘাতে চালকের চোয়াল ভেঙে যায়। ঘটনা শোনার পর আমি বাসের সুপারভাইজারকে বলি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে আনার জন্য। কোথাও যেন না দাঁড়ায়। জেলা শহরে আসার পর যাত্রীরা থানার ভিতরে আশ্রয় নেন, আমি চালককে নিয়ে হাসপাতালে যাই। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করছি তার চিকিৎসার জন্য।”

বাসের মালিক আরো বলেন, “ঘটনার পর নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় যাই ডায়েরি করার জন্য। সেখান থেকে বলা হয় সোনাইমুড়ি থানায় যেতে। সোনাইমুড়ি থানায় গেলে বলা হয় লাকসাম থানায় যেতে।”

এদিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রাজিব আহমেদ চৌধুরী বলেন, “১ তারিখ রাত আড়াইটর দিকে চালক আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় তার মুখমণ্ডলে ফ্রাকচার হয়েছে। সে অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলছে। শনিবার (৫ এপ্রিল) বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এসেছেন এবং পরবর্তী নির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমানে রোগী মোটামুটি ভালো আছেন। তবে মুখমণ্ডলের আঘাত সারতে সময় লাগবে।”

নোয়াখালী পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, “গাড়ির মালিক আমার কাছে এসেছিলেন। এখনো এ বিষয়ে অভিযোগ দেননি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা/সুজন/এস

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ন র জন য জন য ত র প রথম

এছাড়াও পড়ুন:

বেড়েছে হামলা পাল্টা হামলা

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলতে থাকলেও শনিবার রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনার ওপর হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। ২৪ ঘণ্টায় তারা ১৪ বার হামলা চালিয়েছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ইউক্রেন ড্রোন ও আর্টিলারি শেল দিয়ে এসব হামলা চালায়। রয়টার্স জানায়, এসব হামলায় রাশিয়ার ব্রিনস্ক, বেলগোরদ, স্মলেনস্ক, লিপেটস্ক ও ভরোনেজ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পাল্টা হামলা চালিয়েছে রাশিয়াও। ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রিভি রিহের একটি আবাসিক এলাকায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৬ শিশুসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত এটিই রাশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এসব তথ্য জানান। 
শুক্রবার রাতে এ হামলা চালায় রাশিয়া। ক্রিভি রিহ শহর জেলেনস্কির জন্মস্থান। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগের মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটল। নিপ্রোপেত্রভক্সের গর্ভনর সেরহি লিসাক টেলিগ্রামে জানান, হামলায় সেখানকার আবাসিক এলাকার কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।

টেলিগ্রামে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাতে মৃতদেহ ও আহতদের দেহ পড়ে আছে। সেখানে একটি খেলার মাঠের ভিডিও রয়েছে। ভিডিওতে আকাশে ধূসর ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। তবে এসব ভিডিও যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিপ্রোপেত্রভক্সের গর্ভনর বলেন, জরুরি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ৩০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রুশ বাহিনী। এ ধরনের অস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় নেয়। অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া এগুলো ধ্বংস করা কঠিন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ