বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের পদ এখনো ফাঁকা। লিটন দাস নেতৃত্ব পাচ্ছেন এমন ইংগিত খোদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফারুক আহমেদ দিয়েছেন। কিন্তু আলোচনায় আছেন পেসার তাসকিন আহমেদও। কেবল পেসার বলেই তাসকিনকে নিয়ে আছে অনেকের দ্বিমতও।

বিষয়টি ভালোভাবে নেননি ঢাকা লিগে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবে কোচিংয়ের দায়িত্বে থাকা খালেদ মাহমুদ সুজন। পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম-ইমরান খানদের উদাহরণ দিয়ে সুজনের ভাষ্য, তারা পারলে তাসকিন কেন পারবেন না?

শনিবার (৫ এপ্রিল) মিরপুরে সংবাদমাধ্যমে তাসকিনের অধিনায়কত্ব নিয়ে এক প্রশ্নে সুজন বলেন, “ওয়াসিম আকরাম পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইমরান খান দিয়েছেন, ইয়ান বোথাম দিয়েছেন। তারা অলরাউন্ডার ছিলেন যদিও এটা বলতেই পারেন। পেস বোলাররা অধিনায়কত্ব করতে পারবেন না এই কথাটা একদম ঠিক না।”

আরো পড়ুন:

পিএসএলে যাচ্ছেন লিটন-রিশাদ-নাহিদ

ফারুকের ইঙ্গিত 
লিটন পাচ্ছেন টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব!

বাংলাদেশের হয়ে ৭৩ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তাসকিন। উইকেট নিয়েছেন ৮২টি। নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যথেষ্ট গুণাবলী আছে এই পেসারের মধ্যে। বিপিএলেও তাকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। বিশেষ করে পেসাররা ইনজুরি প্রবণ হয় সেটা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

সেই ব্যাখাও দিয়েছেন সুজন, “যদি তাসকিনের ইনজুরি হয়, অধিনায়কত্ব করতে না পারে, তো দলে একজন ভাইস ক্যাপ্টেন থাকবেন সে চালিয়ে নিবে। এটা তো আসলে বোর্ডের ব্যাপার। পেসাররা অধিনায়কত্ব করতে পারবে না, এটা ভুল কথা। নলেজ থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ, তাসকিনের মধ্যে অধিনায়কত্ব ম্যাটেরিয়ালন্স আছে কিনা এটা গুরুত্বপূর্ণ।”

কেবল ওয়াসিম-ইমরান নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অধিনায়কও একজন পেসার। মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সাদা বলের ক্রিকেটে পেয়েছিল সর্বোচ্চ সাফল্য। অন্যদিকে সুজন কেবল তাসকিন নয়, লিটনের উপরও রাখছেন ভরসা।

“বোর্ডের সিদ্ধান্ত তাকে দলে নিবে কি নিবে না, আগে চিন্তা করতে হবে। যদি দলে না থাকে তাহলে অধিনায়কত্ব কিভাবে দেবেন। আগে সে দলে ফিরুক, আমি মনে করি লিটন এখনো বাংলাদেশের টপ ব্যাটারদের একজন। খারাপ সময় মানুষের থাকতেই পারে।”

ঢাকা/রিয়াদ/নাভিদ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ল টন দ স ইমর ন

এছাড়াও পড়ুন:

আট দশটা সাধারণ মানুষের মতো আমিও রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ: ফারিয়া

নুসরাত ফারিয়া। উপস্থাপিকা, মডেল ও চিত্রনায়িকা। দেশের পাশাপাশি কাজ করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও। এবার ঈদে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ভৌতিক ঘরানার সিনেমা ‘জ্বীন-৩’। যেখানে তার সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন অভিনেতা সজল। তাঁর অভিনীত নতুন সিনেমা ‘জ্বীন’সহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

প্রথমবারের মতো ভৌতিক গল্পের সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা?
ভৌতিক গল্পে কাজের অভিজ্ঞতা ভৌতিকই বলব। ‘জ্বীন’ সিনেমার আগের সিকুয়ালগুলোর গল্প ভিন্ন। এবার পুরোপুরি সুপারন্যাচারাল ব্যাপার নিয়ে সিনেমার গল্প। আমরা সবাই জানি পৃথিবীতে মানুষ এবং জ্বীন বসবাস করে। আমাদের আশপাশে অনেক সময়ই অলৌকিক নানা ধরনের ঘটনা ঘটে, যেগুলো আমরা চোখে দেখি, কিন্তু মন থেকে বিশ্বাস করতে পারি না। কিন্তু ঘটে। এ সিনেমার দৃশ্যধারণ করতে গিয়ে আমাদেরও নানা ধরনের ঘটনা ঘটেছে। শুটিং সেটে অনেক ধরনের ইনসিডেন্ট হয়েছে, আবার ঠিকও হয়েছে। 

শুটিংয়ের সময়কার ঘটনাগুলো?
আমাদের সিনেমার বেশির ভাগ দৃশ্য রাতে। যেহেতু ভৌতিক সিনেমা, তখন রাতের বেলা দেখা গেছে কেউ না কেউ অসুস্থ হচ্ছে। কেউ হুট করে পড়ে যাচ্ছে, মাথায় ব্যথা পাচ্ছে, ক্যামেরা রোল হচ্ছে না, লাইট কাজ করছে না, আবার একটু পর ঠিক হচ্ছে। রহস্য, ভয়ের আবহ আর অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতায় মোড়া এ সিনেমার শুটিং হয়েছে কয়েকটি গা ছমছমে লোকেশনে। যেসব জায়গায় অপমৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটেছে। যখন শুটিংয়ে যেতাম, তখন মনের ভেতরে একটা ভয় থাকে, যে কোনো কিছু হতে পারে। এ সিনেমার শেষ দৃশ্যের শুটিং যে স্থানে করছিলাম, সেটি ছিল একশ বছর পুরোনো বটগাছের নিচে। জায়গাটা এমনই যে, রাতের অন্ধকার নামলেই গা ছমছম করে। পাশে শ্মশান আছে। আমার টিমের বিশেষ করে, হেয়ার স্টাইলিস্ট, মেকআপম্যান তারা আমাকে নিয়ে খুব চিন্তিত ছিল। শুটিংয়ে যাওয়ার আগে তারা রীতিমতো দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে দিত। কামিজের ওড়নার নিচে একটা রসুন দিয়ে রাখতাম, বা কিছু একটা দিয়ে রাখত যেন কোনো ধরনের খারাপ কিছুর আছর না হয়। তারপরও পুরো টিম বেশ ইতিবাচকভাবে কাজ করেছেন। 

এ সিনেমায় আপনার অভিনীত চরিত্রে চ্যালেঞ্জ কেমন ছিল?
টাইমিং। যখন আমি এ সিনেমার জন্য তৈরি হচ্ছিলাম। তখন আমাকে প্রযোজক আবদুল আজিজ ভাই বলছিলনে, ফারিয়াকে সবাই গ্ল্যামারাস চরিত্রে বেশি দেখেছে। এ সিনেমায় তাঁকে আমরা দেখতে চাই মফস্বলের ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ে হিসেবে। যে একেবারে নাদুসনুদুস। ফলে এ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আমাকে কিছুটা ওজন বাড়াতে হয়েছে; যা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে সহশিল্পীদের কারণে আমি উতরে গেছি বলা যায়। সিনেমার কাজে যখন সহশিল্পীরা ভালো থাকেন, তখন কাজ করে আরাম হয়, ব্লকিংগুলো দারুণ হওয়ার কারণে দৃশ্যগুলোও খুব ভালোভাবে শেষ হয়ে যায়।

জ্বীন কেন দর্শকদের দেখা উচিত বলে মনে করেন
ভৌতিক গল্পের সিনেমা। এ ধরনের জনরায় আমাদের এখানে কাজ খুব বেশি হয় না। কারণ, একজন নির্মাতা বা প্রযোজকেরা সিনেমা নির্মাণের আগে শুরুতে থ্রিলার রোমান্টিক কিংবা অ্যাকশন গল্পের দিকে বেশি মনোযোগ দেন। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন, তারা হরর কমেডি, হরর থ্রিলারের কাজ বেশি করেন। এ ধরনের গল্পের দর্শকও অনেক বেশি। কিছু মানুষ সত্যিকার অর্থেই ভৌতিক গল্পের কাজ দেখতে পছন্দ করেন। সুতরাং আমরা কেন সে ধরনের ভয়ের গল্পগুলো দেখাব না, বা নির্মাণ করব না। এই ঈদে মুক্তি পাওয়া থ্রিলার, প্রেম ভালোবাসার গল্পের বাইরে সিনেমা দেখতে চান, তাদের জন্য এ সিনেমাটি ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।

আপনার চলচ্চিত্র যাত্রার এক দশক হলো…
আমার কাছে মনে হয়, আমি অনেক লাকি একজন মানুষ। আমি মাঝেমধ্যে ভাবি, একজন উপস্থাপিকা থেকে কীভাবে একজন অভিনেত্রী হয়ে গেলাম। এখনও ভাবি, একজন উপস্থাপিকা যে কিনা প্রতিদিন একটি ছোট্ট স্টুডিওর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান করত। সেই থেকে সিনেমায় দশ বছরের যাত্রা। এটি কম নয়। আমার চাহিদার চেয়ে আমি অনেক বেশি পেয়েছি।

নেতিবাচক সমালোচনা কী মন খারাপ করে দেয়?
অব্যশই। নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক কথা শুনলে মন খারাপ হয়। কারণ অন্য আট দশটা সাধারণ মানুষের মতো আমিও রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ। তবে কাজের সমালোচনা আমি খুব ভালোভাবেই নিই। কারণ, সেগুলো থেকে নিজের ভুলগুলো বুঝতে পারি।

পশ্চিম বাংলার সিনেমায় কাজের খবর আছে?
না, এ মুহূর্তে পশ্চিম বাংলায় কাজের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে এসভিএফ-এর সঙ্গে আমার বেশ কয়েকটা গান তৈরি হয়ে রয়েছে, সেগুলোর কাজ হতে পারে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • খ্রিষ্টানদের সঙ্গে মহানবীর (সা.) শান্তিচুক্তি
  • বাংলাদেশি লেনিন অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় নির্বাচনে লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী
  • দেড় মাস পর ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু
  • একজন মানুষ কখনো অবৈধ হতে পারে না
  • প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও ছাদে বিয়ের আয়োজন, নানা আলোচনা
  • কালশী ফ্লাইওভারে প্রাইভেটকার-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, ২ তরুণ নিহত
  • স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার হামলায় একজন নিহত
  • ইসলামের শত্রু আবু জাহেলের মা তিনি
  • আট দশটা সাধারণ মানুষের মতো আমিও রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ: ফারিয়া