ঘাঘট নদে সেই অপরিকল্পিত প্রকল্প কেন বাতিল করা হবে না
Published: 5th, April 2025 GMT
২০২৩ সালের জুলাই মাসে গণমাধ্যম সূত্রে জানতে পারি, চারটি নদীর জন্য একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পের নাম ‘জিনাই, ঘাঘট, বংশী ও নাগদা নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধারের জন্য শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, নৌপথের উন্নয়ন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা নির্মাণ’। প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুলাই মাসে একনেকে উত্থাপন করার কথা ছিল। নতুন প্রকল্পে লাগাম টেনে ধরার জন্য সে বছর এই প্রকল্প একনেকে উত্থাপন করা হয়নি। এক বছর পর ২০২৩ সালে ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকায় এ প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার।
ঘাঘট নদ যেহেতু আমরা সব সময় দেখি, নদীটি নিয়ে কাজ করি, তাই প্রকল্প সম্পর্কে জানার আগ্রহ হয়। রংপুর জেলা নদী রক্ষা কমিটির সদস্য হিসেবে নদীবিষয়ক একটি সভায় আমি ডিসি তথা জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতির কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাই।
রংপুরের তৎকালীন ডিসি জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তার কাছে কোনো তথ্যই নেই। আমি যেহেতু রংপুর বিভাগীয় নদী রক্ষা কমিটিরও সদস্য, তাই বিভাগীয় নদী রক্ষা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করি। দেখলাম, বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। বিভাগীয় কমিশনারও জানেন না।
যে নদীগুলোতে নৌযান চলাচলের বিষয় নেই, এমন নদীগুলোতে পরিচর্যা কিংবা ভাঙন রোধের কাজ প্রধানত পাউবো (পানি উন্নয়ন বোর্ড) করে থাকে। পাউবো তিন-চার বছর আগে ঘাঘট নদের ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে কাজ করেছে। কেবল তা–ই নয়, যে অংশে খনন করা প্রয়োজন, এ রকম অনেক স্থানে খননও করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘাঘট নদের নতুন প্রকল্প সম্পর্কে জ্ঞাত আছে ধরে নিয়ে রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে জিজ্ঞেস করে দেখলাম, তাঁরাও জানেন না। কেউ জানেন না, এমন প্রকল্পের অনুমোদন কীভাবে হলো, এটি বোধগম্য নয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুসন্ধান করছিলাম, এ প্রকল্প কেন গ্রহণ করা হলো তা নিয়ে। শেষ পর্যন্ত এক কর্মকর্তা এ রকম ধারণাই দিয়েছিলেন, এ প্রকল্প মূলত কয়েকজন ব্যক্তির যোগসাজশের ফল। অর্থ তছরুফ যার প্রধান উদ্দেশ্য।
এককভাবে ঘাঘট নদের জন্য কত টাকা, তা একেক রকম শোনা যায়। কেউ দেড় হাজার কোটি টাকার কথা বলছেন, কেউ দুই হাজার কোটি টাকার কথা বলছেন। তবে প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বলে জানা গেছে। যেহেতু ২০২২ সালের বাজারমূল্য অনুযায়ী প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছিল, তাই এর ব্যয় ২০২৫ সালে এসে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অর্থের জোগানদাতা বাংলাদেশ সরকার। অনুমোদনের সময়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
নৌপরবিহন মন্ত্রণালয় সেই নদীগুলোতে কাজ করে, যেগুলোতে নৌযান চলাচল সম্ভব। ঘাঘট নদ নৌপরিবহন উপযোগী নয়। এ নদের ওপর অনেক সেতু করা হয়েছে। সেতুগুলো নিচু হওয়ায় ঘাঘটে নৌকা চলাচল করার মতো বাস্তবতা নেই। ফলে এ নদে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কাজ থাকার কোনো কারণ নেই।ঘাঘট নদে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করার আগে নিশ্চয়ই একটি সমীক্ষা হয়েছে। রংপুরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এমন কোনো দপ্তর নেই, যে দপ্তর রংপুরে সমীক্ষার কাজ করতে পারে। এ কাজ করতে হলে বিদ্যমান কাঠামোতে অবশ্যই ডিসি অফিসের অন্তত জানা থাকার কথা। আবার পানি উন্নয়ন বোর্ড যেহেতু ঘাঘট নদে কাজ করেছে, তাহলে তাদের সঙ্গেও সমন্বয় করে প্রকল্প গ্রহণ করার কথা। বাস্তবে সেসবের কিছুই হয়নি। কীভাবে সমীক্ষা হলো, কীভাবে প্রকল্প অনুমোদন পেল, সবটাই রহস্যপূর্ণ। নদীবিষয়ক কাজে যে সমন্বয়ের কত অভাব, সেটিও বোঝা যাচ্ছে।
ব্যক্তি-গোষ্ঠীস্বার্থের প্রকল্প সাধারণত ক্ষমতাবানদের মর্জির ওপর নির্ভর করে। ক্ষমতাধর ব্যক্তি চাইলে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য যতগুলো সভা হোক, সেগুলোতে প্রকল্পের প্রয়োজন আছে কি না তা না ভেবে পক্ষে মত দেওয়া হয়। বিগত সরকারের সময়ে এ রকম অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। কুড়িগ্রাম জেলার দুধকুমার নদীতে চার-পাঁচ বছর আগে খননের নামে কয়েক শ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সেই খননে বিন্দুমাত্র উপকার হয়নি নদীপারের মানুষের। এমনকি নদীর জন্যও কোনো কল্যাণ হয়নি। বরং অপরিকল্পত যে খনন হয়েছে, এতে নদীপারের ভাঙন তীব্র হয়েছে।
প্রকল্প যাচাই করে যদি দেখা যায়, এই প্রকল্প অপ্রয়োজনীয়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যতটুকু জানতে পেরেছি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন ব্যক্তিস্বার্থে কিংবা অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ রকম অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে যেগুলো শেষ হয়নি কিংবা শুরু হয়নি এবং বাতিল করার মতো, সেগুলো পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বাতিল করেছে। জনস্বার্থে নয়, উচ্চপর্যায়ের গুটিকতক ব্যক্তির স্বার্থে এবং ক্ষেত্রবিশেষে ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থ বিবেচনায় যে প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো অবশ্যই বাতিল করতে হবে। ঘাঘট নদ নিয়ে যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সেই প্রকল্পে আরও তিনটি নদীর কথা বলা হয়েছে। এ নদীতে নেওয়া প্রকল্পগুলোরও কার্যত কোনো প্রয়োজন আছে কি না, তা–ও ভেবে দেখতে হবে।
নৌপরবিহন মন্ত্রণালয় সেই নদীগুলোতে কাজ করে, যেগুলোতে নৌযান চলাচল সম্ভব। ঘাঘট নদ নৌপরিবহন উপযোগী নয়। এ নদের ওপর অনেক সেতু করা হয়েছে। সেতুগুলো নিচু হওয়ায় ঘাঘটে নৌকা চলাচল করার মতো বাস্তবতা নেই। ফলে এ নদে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কাজ থাকার কোনো কারণ নেই।
‘জিনাই, ঘাঘট, বংশী ও নাগদা নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধারের জন্য শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, নৌপথের উন্নয়নও বন্যা ব্যবস্থাপনা নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়ন করা হোক। যেটুকু কাজ এ নদীগুলোতে করা প্রয়োজন, কেবল সেটুকু করা হোক। অপ্রয়োজন মনে হলে বাতিল করা হোক। সারা দেশে এ মুহূর্তে তিস্তা কিংবা ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙন রোধে কাজ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেবল তিস্তা নদীতে ভাঙনে-বন্যায় প্রতিবছর যে ক্ষতি হয়, সেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। উল্লিখিত প্রকল্পের টাকায় তিস্তা নদীর সুরক্ষা হতে পারে।
ঘাঘটসহ চারটি নদীতে নেওয়া প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু হয়নি। অতীতে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের খবর সবার জানা। আমরা আশা করি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা বিষয়টি আমলে নেবেন এবং যাচাই না করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে না। নদী সুরক্ষা যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি রাষ্ট্রীয় পয়সার অপচয় বন্ধ করা।
তুহিন ওয়াদুদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং নদী রক্ষাবিষয়ক সংগঠন রিভারাইন পিপলের পরিচালক
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: প রকল প র ই প রকল প ব ত ল কর নদ গ ল ত সরক র র ক জ কর র জন য কম ট র এ রকম র সময়
এছাড়াও পড়ুন:
শর্ত পূরণ হলেই জুনে পাওয়া যাবে আইএমএফ ঋণের দুই কিস্তি
শর্ত পূরণ হলেই জুনে পাওয়া যাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর ঋণের দুই কিস্তির অর্থ। শর্ত পূরণে বাংলাদেশ কতটুকু অগ্রগতি করেছে তা খতিয়ে দেখতে আইএমএফ এর একটি প্রতিনিধিদল এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদনের উপরই নির্ভর করছে সংস্থাটির সঙ্গে চলমান ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তির চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি আগামী জুনে এক সঙ্গে ছাড় করবে কি না।
শনিবার (৫ এপ্রিল) আইএমএফ মিশনটি দুই সপ্তাহের সফরে ঢাকায় এসেছে। সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ (রবিবার) সকালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করবে প্রতিনিধিদলটি। এর আগে তারা অর্থ বিভাগের সচিবের সঙ্গে প্রারম্ভিক একটি সভায় মিলিত হবেন। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এ সফরে আইএমএফের দলটির সঙ্গে অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সঙ্গে সভা হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সভা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ড.আহসান এইচ মনসুর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের সঙ্গে।
২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি ঋণ কর্মসূচি চালু হওয়ার পর আইএমএফ থেকে তিন কিস্তিতে ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি আছে ঋণের ২৩৯ কোটি ডলার। বিপত্তি দেখা দেয় চতুর্থ কিস্তির অর্থছাড়ের আগে। যদিও সরকার আশা করছে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পাওয়া যাবে আগামী জুনে।
ঈদের ছুটির আগে অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইআরএফের সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থ উপদেষ্টা বলেছিলেন, বাজেট সহায়তার জন্যই আইএমএফের ঋণ লাগবে। এ কারণেই বাংলাদেশ সরকার ও আইএমএফ যৌথভাবে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত দুটি কিস্তি একসঙ্গে ছাড়ের বিষয়ে সম্মত হয়।
জানা গেছে, আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি থেকে দুই কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পেতে বাংলাদেশের সামনে তিনটি বাধা রয়েছে। এসব বাধা অতিক্রম করতে না পারলে আইএমএফের কিস্তি পাওয়া কঠিন হবে। শর্তগুলো হলো মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়তি রাজস্ব আদায় ও এনবিআরের রাজস্ব নীতি থেকে রাজস্ব প্রশাসনকে আলাদা করা।
তবে দাতা সংস্থাটির ঋণ কর্মসূচির কিছু শর্ত পরিপালন নিয়ে এরই মধ্যে সরকারের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির শর্তের মধ্যে রয়েছে ভর্তুকি কমিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো। এছাড়াও ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার শর্তও রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের শর্ত পরিপালন করা সরকারের জন্য খুবই কঠিন। এক্ষেত্রে সরকার আরো সময় নিতে চায়।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার পাশাপাশি ব্যাংক খাত সংস্কারে বেশকিছু শর্তও রয়েছে আইএমএফের পক্ষ থেকে। যদিও দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার না কমে উল্টো অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণের শর্ত পরিপালনে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। আর রাজস্ব আদায়ের শর্ত পূরণে এনবিআরের অবস্থান ভালো নয়। চলতি অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার কোটি টাকায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যদিও আইএমএফকে জানানো হয়েছে, এসব শর্ত বাস্তবায়ন করা হবে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব নীতি থেকে রাজস্ব প্রশাসনকে আলাদা করার পদক্ষেপ ছাড়া বাকি দুটির বিষয়ে তেমন অগ্রগতি নেই। শর্ত পূরণে বাংলাদেশ ও আইএমএফ যদি নিজ নিজ অবস্থানে অনমনীয় থাকে, তাহলে আর কোনো কিস্তি নাও মিলতে পারে। তখন বাংলাদেশের জন্য দেখা যাবে নতুন জটিলতা। এর ফলে অন্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোও তখন বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে রক্ষণশীল হয়ে যেতে পারে।
জানা গেছে, সফরের শেষ দিন ১৭ এপ্রিল অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের আরও একটি সভা হবে। সভা শেষে সেদিন সংবাদ সম্মেলন করবে সফররত আইএমএফের প্রতিনিধিদল। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আইএমএফের প্রতিনিধিদল সফর শেষ করবে। তাদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আগামী জুনে আইএমএফ’র বোর্ড সভায় ঋণের কিস্তি অনুমোদনের বিষয়টি উত্থাপিত হবে।
উল্লেখ্য, চতুর্থ কিস্তির জন্য দেওয়া শর্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতি দেখতে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর ঢাকা সফরে আসে আইএমএফের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদের সভায় এ প্রস্তাবগুলো উঠার কথা ছিল। পরে তারিখটি পিছিয়ে করা হয় ১২ মার্চ। ওই তারিখেও প্রস্তাবটি ওঠেনি। তা আবার পিছিয়ে আগামী জুন করা হয়েছে।
ঢাকা/হাসনাত/টিপু