খুঁটির সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, সেনা সদস্যের মৃত্যু
Published: 5th, April 2025 GMT
শরীয়তপুরে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে আল মামুন (৩০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার বালারবাজার সুবচনী সড়কের নয়ারাস্তা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
মারা যাওয়া আল মামুন শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার ধানকাটি ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকার মৃত মান্নান সরদারের ছেলে। তিনি দিঘীনালা সেনানিবাসে সৈনিক পদে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আল মামুন গত বুধবার ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যান। শনিবার দুপুরে তিনি মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। বালারবাজার সড়কের নয়ারাস্তায় পৌঁছালে তিনি মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারান। এসময় মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটিকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আল মামুন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
আরো পড়ুন:
লোহাগড়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের
মেহেরপুরে আলগামন উল্টে মৎস্যচাষি নিহত
প্রত্যক্ষদর্শী বাদল কোতোয়াল বলেন, “আমি বিকট শব্দ পেয়ে দ্রুত বাসা থেকে বের হয়ে আসি। পরে দেখি এক ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে আছেন। একটি অটোরিকশায় করে আমার বড় ছেলেকে দিয়ে তাকে হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন।”
পালং মডেল থানার ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় এক সেনা সদস্যের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা/সাইফুল/মাসুদ
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর সড়ক দ র ঘটন আল ম ম ন
এছাড়াও পড়ুন:
সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন তামিম
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লম্বা সময়ের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেছেন তামিম ইকবাল। উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামীকাল সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন তিনি।
সিঙ্গাপুরের ভিসা আগে থেকে ছিল তামিমের। কিন্তু হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিক সফরের অনুমতি ছিল না। উন্নত চিকিৎসার জন্য খোঁজ নিচ্ছিলেন থাইল্যান্ডেরও। ভিসা প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরকেই বেছে নিয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে এ খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তামিমের স্ত্রী আয়েশা ইকবাল, বড় ভাই নাফিস ইকবাল ও পারিবারের আরো দুয়েকজন সদস্য সিঙ্গাপুরে তার পাশে থাকবেন।
গত ২৪ মার্চ বিকেএসপিতে ঢাকা লিগের ম্যাচ খেলতে নামার আগে প্রথমে মাইনর ও পরে ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে’ অজ্ঞান হয়ে পড়েন তামিম। তাকে সাভারের কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা এতোটাই খারাপ হয়েছিল যে, ২২ মিনিট সময় ধরে সিপিআর ও তিনটি ডিসি শক দিতে হয়েছে। এরপর দ্রুত এনজিওগ্রাম করে শতভাগ ব্লক থাকা একটা আর্টারিতে রিং লাগিয়েছেন চিকিৎসকরা। অবিশ্বাস্য গতিতে হয়েছে সবকিছু। চিকিৎসকদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সময়মতো হওয়ায় তামিম পেয়েছেন নতুন এক জীবন।
পরদিন ২৫ মার্চ, রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে আনা হয় বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ককে। এরপর গত ২৮ মার্চ, হার্ট অ্যাটাকের চারদিন পর চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেয়ে বাসায় ফেরেন তামিম।
তাকে নিয়ে এভারকেয়ারের প্রফেসর শাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেছিলেন, ‘‘আমাদের যে নির্দেশনা, এমন হার্ট অ্যাটাকের পর এসব রোগীদের খুবই সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তাদের এটা হওয়ার প্রবণতা আবার থাকতে পারে। ব্লক না হলেও হতে পারে। তাই ওকে অ্যাসেস করতে হবে। নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হবে। লাইফ স্টাইল বদলাতে হবে, মোটিভেশন করতে হবে”
মৃতু্যর কোল থেকে ফিরে এসে আবেগপূর্ণ বার্তায় সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তামিম বলেছেন, ‘‘আপনাদের সবার দোয়ায় ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমতে এখন আমি বাসায়। উথালপাথাল এই চারটি দিনে নতুন জীবন যেমন পেয়েছি, তেমনি আমার চারপাশকে আবিষ্কার করেছি নতুন করে। সেই উপলব্ধির সবটুকুতে মিশে আছে কেবল ভালোলাগা ও কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সবার ভালোবাসার ছোঁয়া ক্যারিয়ারজুড়ে নানা সময়ই পেয়েছি। তবে এবার তা অনুভব করতে পেরেছি আরও তীব্রভাবে। আমি সত্যিই আপ্লুত।”
“পুরোপুরি সেরে ওঠার পথ এখনও দীর্ঘ। আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রার্থনায় রাখবেন। সবার জীবন সুন্দর ও শান্তিময় হোক। ভালোবাসা সবার জন্য।”
ঢাকা/ইয়াসিন