‘নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা চায় না প্রধান দলগুলো’ শিরোনামে ২ এপ্রিল প্রথম আলোর অনলাইন ও ই–পেপারে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে এনসিপি। দলটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, প্রতিবেদনটির উপশিরোনামে ‘সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ সংস্কার কমিশনের। একমত নয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি’। ওই প্রতিবেদনে এনসিপির অবস্থান ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

এনসিপি বলেছে, প্রতিবেদনে উল্লেখিত ‘সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে’, এই দাবি সত্য নয়। কারণ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা নয়; বরং অর্থবিল ব্যতিরেকে বাকি সব বিষয়ে ভোট দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, এনসিপি তার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবে সংসদ সদস্যদের অর্থবিল এবং অনাস্থা ভোট ব্যতীত যেকোনো বিষয়ে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার অধিকার প্রদানের পক্ষে মত দিয়েছে। অর্থাৎ, এনসিপি সংস্কার কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে আংশিকভাবে একমত হয়েছে এবং অনাস্থা ভোটের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ব্যতিরেকে অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছে। এনসিপি মনে করে, এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব, যা একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা ও সরকারের স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবে।

প্রতিবেদকের বক্তব্য

প্রতিবেদনের শিরোনামের নিচে সারাংশে ‘অর্থবিল ছাড়া’ শব্দটি বাদ পড়েছে। তবে প্রতিবেদনের সূচনায় বলা আছে, ‘অর্থবিল ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে সংসদের নিম্নকক্ষের সদস্যদের নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে—সংবিধান সংস্কার কমিশনের এই সুপারিশের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। এ তিনটি দলই চায় অর্থবিলের মতো আস্থা ভোটের ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যরা (এমপি) স্বাধীন থাকবেন না।’

এ ছাড়া প্রতিবেদনের যে অংশে আলাদাভাবে এনসিপির অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারীদের দল এনসিপিও অর্থবিলের পাশাপাশি দলের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছে।’

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: প রস ত ব স ব ধ নত এনস প

এছাড়াও পড়ুন:

ক্ষমতায় বসার পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে কমে ৪৩ শতাংশে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৪৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় বসার পর তাঁর জনপ্রিয়তা কখনো এতটা কমেনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ইপসসের করা এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। এমন সময় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার এ চিত্র উঠে এল, যখন আমদানি শুল্ক নিয়ে তাঁর প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং ইয়েমেনে সামরিক হামলার তথ্য ফাঁস নিয়ে মার্কিনদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

রয়টার্স/ইপসসের এই জরিপটি তিন দিন ধরে চালানো হয়েছে। জরিপের কাজ শেষ হয় গত বুধবার। এর আগে গত ২১ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে আরেকটি জরিপ চালানো হয়। তখন ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ছিল ২ শতাংশ বেশি—৪৫ শতাংশ। আর ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার পরপরই করা একটি জরিপ অনুযায়ী, তখন ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ছিল ৪৭ শতাংশ।

আরও পড়ুনট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কি পিছিয়ে পড়বে৮ ঘণ্টা আগে

এর আগে ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন ট্রাম্প। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় বসার পরপরই তাঁর জনপ্রিয়তা সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ ছিল। প্রথম মেয়াদে তাঁর জনপ্রিয়তা সবচেয়ে তলানিতে পৌঁছায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে—৩৩ শতাংশ। সে হিসাবে প্রথম মেয়াদের বেশির ভাগ সময়ের তুলনায় বর্তমানে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেশি।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জো বাইডেন। তাঁর সবচেয়ে কম জনপ্রিয়তা ছিল ৩৫ শতাংশ। গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে করা এক জরিপে ওই চিত্র উঠে এসেছিল।

আরও পড়ুনযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা৫ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে এবারের জরিপে ট্রাম্পকে কম নম্বর দিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। এ ক্ষেত্রে তিনি ৩৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। আর যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি–সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে ট্রাম্প যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে ৩০ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন তিনি। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন বাইডেনও।

যাঁরা জরিপে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই (৫২ শতাংশ) এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত যে বুধবার ট্রাম্প যে নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করছেন, তার একটি অংশে যানবাহন ও যানবাহনের যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে তাঁদের কাছের মানুষেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর বাকিরা বলেছেন, শুল্ক বাড়ানোর ফলে ভালোর চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে।

তবে জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাঁদের বেশির ভাগই ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সমর্থক। ওই অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, শুল্ক আরোপের ফলে ক্ষতি হবে—এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন তাঁরা।

আরও পড়ুনবাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭% শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র২২ ঘণ্টা আগে

সিগন্যাল নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোপনীয়তা রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসনের ত্রুটি আছে বলে মনে করেন জরিপে অংশগ্রহণকারীরা। গত সপ্তাহে ইয়েমেনে হামলার একটি পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভুলে ফাঁস হয়ে যায়। মেসেজিং গ্রুপ সিগন্যালে তাঁদের এ–সংক্রান্ত বার্তা আদান–প্রদানের সময় ফাঁসের এ ঘটনা ঘটে। গ্রুপটিতে একজন সাংবাদিককে যুক্ত করা হয়েছিল।

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৪ শতাংশ ব্যক্তি মনে করেন, মেসেজিং অ্যাপে ইয়েমেনে হামলার পরিকল্পনা এভাবে আলোচনা করাটা দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড। এমন ধারণা জরিপে অংশ নেওয়া ৯১ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ও ৫৫ শতাংশ রিপাবলিকানেরও। অপর দিকে মাত্র ২২ শতাংশের মতে এটি কোনো ক্ষতিকর বিষয় নয়। আর ৭০ শতাংশ এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত যে ওই ঘটনার দায়ভার ট্রাম্পের নেওয়া উচিত।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • বিএনপির নেতাদের বক্তব্যে ‘মৌলবাদ’ শব্দ নিয়ে আপত্তি
  • ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে একমত হেফাজত
  • ক্ষমতায় বসার পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে কমে ৪৩ শতাংশে