গত ২৫ বছর জয় বাংলা বলিনি এখন থেকে বলব: কাদের সিদ্দিকী
Published: 5th, April 2025 GMT
গত ২৬ মার্চ জাতীয় স্মৃতিসৌধে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার কারণে কয়েক জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে জয় বাংলা স্লোগান কোনো দলের নয়, ব্যক্তির নয় গোষ্ঠীর নয়। এটা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান, স্বাধীনতার স্লোগান। আমি গত ২৫ বছর একবারের জন্য জয় বাংলা বলিনি। শপথ করে বলছি আমি এখন থেকে জয় বাংলা বলব।
গত শুক্রবার রাতে কালিহাতী উপজেলার আউলিয়াবাদ গ্রামে তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে আজকে এত দালান-কোঠা ঘরবাড়ি এর কিছুই হতো না। কিন্তু বড় দুর্ভাগ্যের বিষয় আজ অনেকে সেই স্বাধীনতাকে মনেই করতে চায় না। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। কেউ কেউ মনে করতে চায় এটা স্বাধীনতার পতন হয়েছে। না তা কোনো মতেই না।
তিনি বলেন, যে নেতারা বিপ্লব ঘটিয়েছে স্বাধীনতা না থাকলে আজকে এটা সম্ভব হতো না। বিপ্লবের জন্য আমি তাদের সাধুবাদ জানাই। তারা যদি ঠিকভাবে চলতে পারতো তাহলে তাদের মানুষ বহুবছর স্মরণ রাখতো। কিন্তু তারা স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা বঙ্গবন্ধুকে মানে না। জিয়াউর রহমানকে মানে না। তারা আমাদের কাউকেই মানে না। এটা ভালো কথা নয়।
এসময় তার সঙ্গে ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, বঙ্গবীরের স্ত্রী নাছরিন সিদ্দিকী, তাদের ভাই মুরাদ সিদ্দিকীর স্ত্রী নিহার সিদ্দিকী প্রমুখ।
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
বিতর্কিত বিষয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি নিরপেক্ষ
মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের কোম্পানি এক্স ভারতে সম্প্রতি তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট গ্রোক উদ্বোধন করে। এর পরই দেশটিতে শুরু হয় বিতর্কের সুনামি। গ্রোককে নানা বিতর্কিত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন ভারতীয়রা। দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনে হিন্দুত্ববাদী কট্টরপন্থি সংগঠন আরএসএসের ভূমিকা কী ছিল– এমন প্রশ্নে গ্রোক জানায়, তেমন কোনো ভূমিকাই তাদের ছিল না। সোনিয়া গান্ধী বার ডান্সার ছিলেন কিনা– প্রশ্নে গ্রোক জানায়, তিনি বার এটেন্ডেন্স হিসেবে কাজ করেছেন, ডান্সার ছিলেন না।
গ্রোকের এসব জবাবে অনেকেই বলছেন, এটি বেশ স্বচ্ছভাবে ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে তুলে ধরছে। গ্রোক যা বলছে, সেগুলো ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে অনেকে ক্ষেত্রে সত্য হলেও ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তাদের আশাপাশে থাকা কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট তো কংগ্রেস সমর্থক। এআই চ্যাটবট কি আসলেই নিরপেক্ষ মতামত দেয়? এর ওপর কি আস্থা রাখা যায়?
নতুন এক গবেষণা বলছে, সব সময় এআইর ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখা সম্ভব নয়। কারণ, এআইও অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে আমাদের মতো ভুলের ফাঁদে পড়ে। এটি ঝুঁকি এড়াতে পছন্দ করে। বিশেষ করে পুরোপুরি যৌক্তিক নয়, এমন বিষয়ে এটি দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়তে পারে।
বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী এ নিয়ে গবেষণা করেছেন। তারা ওপেন এআইর তৈরি চ্যাটজিপিটির মতো জনপ্রিয় চ্যাটবট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। প্রাপ্ত ফলে দেখা গেছে, গণিত ও যৌক্তির বিষয় যখন আসে, তখন এআই ভালো পারফর্ম করছে।
সাধারণত দ্রুত সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ভুল করে মানব মস্তিষ্ক। এ ছাড়া সবকিছু সাধারণ করে বিবেচনা করার বিষয় তো আছেই। ধরুন, কোনো কিছু থেকে আপনার মস্তিষ্ক একটা বাজে অভিজ্ঞতা পেয়েছে, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অন্য কিছুতেও আপনি ভয় পাবেন। মানে হলো, জঙ্গলে গিয়ে সাপের মুখে পড়লে, আরেকটি জঙ্গলে ঢুকে একই ভয়ই আপনি পাবেন। মানব মস্তিষ্ক এভাবে কাজ করে। আমাদের বিচার তৈরি হয় মূলত পরিবেশ, পরিবার, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। সময়ের বিবর্তনে আমরা ক্রমাগতই মানুষ, পরিস্থিতি ও তথ্য সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলাতে থাকি।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, চ্যাটজিপিটি মানুষের মতোই নানা বিষয়ে প্রায় অর্ধেক সংখ্যক পরীক্ষায় ভুল করছে। এটাও অতি আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছে। সেই সঙ্গে জটিলতা এড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণও দেখা গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গণিতভিত্তিক সমস্যার সমাধানে ভালো ফল করছে। তবে কোনো কিছু বিচার বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কখনও বিভ্রান্ত হচ্ছে।
কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ইয়াং চেন বলেন, যেহেতু এআই মানুষের সরবরাহ করা তথ্য থেকে শেখে, তাই এটা চিন্তাও করে মানুষের মতো। সেখানে পক্ষপাতিত্ব বা অন্যান্য বিষয় থাকে। সূত্র: আর্থ ডটকম।