মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টে পাসওয়ার্ড ব্যবহারের দিন কী শেষ হচ্ছে
Published: 5th, April 2025 GMT
ব্যবহারকারীদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইন-ইন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে মাইক্রোসফট। নতুন এ উদ্যোগের আওতায় এ মাস থেকেই মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টে লগইনের জন্য পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে ব্যবহার করতে হবে পাসকি। এর ফলে নতুন অ্যাকাউন্ট খুললেও আর পাসওয়ার্ড ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। পাসওয়ার্ডবিহীন এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টে পাসওয়ার্ড ব্যবহারের দিন শেষ হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, পাসওয়ার্ড দুর্বল একটি নিরাপত্তাব্যবস্থা, যা সহজেই ফিশিং বা সাইবার আক্রমণের শিকার হতে পারে। আর তাই পাসওয়ার্ড এখন আর যথেষ্ট নিরাপদ নয়। বর্তমানে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ৭ হাজার পাসওয়ার্ড-সংক্রান্ত সাইবার হামলা প্রতিহত করছে মাইক্রোসফট, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থায় অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত থাকবে পাসকির মাধ্যমে। এটি নির্দিষ্ট যন্ত্রের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় ব্যবহারকারীদের আঙুলের ছাপ ও চেহারা শনাক্ত করে আনলক করতে হবে। পাসওয়ার্ডের মতো এটি অনুমান করা যায় না বা চুরি হওয়ার আশঙ্কাও নেই।
আরও পড়ুনউইন্ডোজ ১০–এর সহায়তা সমর্থন শেষ হচ্ছে, যা বলছে মাইক্রোসফট২৩ মার্চ ২০২৫মাইক্রোসফটের তথ্যমতে, পাসকি নিরাপদ এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহারের তুলনায় তিন গুণ দ্রুত কাজ করে। ফলে নতুন মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট খুলতে আর পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করতে হবে না। শুধু ই–মেইল ভেরিফিকেশন করলেই হবে, এরপর ব্যবহারকারীদের পাসকি সেট করতে হবে।
আরও পড়ুনমাইক্রোসফটের তৈরি প্রথম সফটওয়্যারের সোর্স কোড উন্মুক্ত করলেন বিল গেটস০৪ এপ্রিল ২০২৫শুধু পাসকি ব্যবহার করলেই হবে না, পুরোনো পাসওয়ার্ডও মুছে দিতে হবে। পুরোনো পাসওয়ার্ডের কারণে সাইবার হামলার ঝুঁকি থেকে যাবে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট। আর তাই অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পুরোপুরি মুছে ফেলে শুধু পাসকি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র: বিজিআর ডটকম
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: র ড ব যবহ র র র প সওয
এছাড়াও পড়ুন:
প্রত্যাবর্তনে আতঙ্কিত পাকিস্তানে আশ্রিত আফগানরা
বেনজির রৌফি তাঁর রেস্তোরাঁয় একা দাঁড়িয়ে আছেন। লাখ লাখ আফগানকে পাকিস্তান সরকার যে আবাসন অনুমতি দিয়েছিল, তা বাতিল ঘোষণার পর আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইছেন না।
গত মার্চের শুরুতে ইসলামাবাদ আট লাখ আফগান নাগরিকের কার্ড বা এসিসি বাতিল ঘোষণা করা হবে বলে জানায়। এটি একটি নির্বাসন কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ, যা ইতোমধ্যে আরও আট লাখ অননুমোদিত আফগানকে সীমান্ত পেরিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।
আফগান নারী রৌফি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ১৯৯০-এর দশকে আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসার সময় আমার বয়স ছিল ১৩। এখন যদি নির্বাসিত করা হয়, তাহলে এটি আমাকে ধ্বংস করে দেবে। হয় আমার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাবে, নয়তো আমি নিজের জীবন নিয়ে নেব। পাকিস্তান আমাদের হাসি দিয়েছে। এখন সেই হাসি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
আফগানদের ফেরত পাঠাতে এরই মধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির একটি রেস্তোরাঁয় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ আফগান নারীকে নিজ দেশে ফেরত যেতে বলে। তবে তারা আফগানিস্তানে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানান। তারা আফগানিস্তানে নারীদের পড়াশোনা, চাকরি ও জনসমক্ষে সীমাবদ্ধ করে রাখার সরকারি নীতির সমালোচনা করেন। রৌফি বলেন, ‘আমার কাছে ফিরে যাওয়ার মতো কেউ নেই। তালেবান আমাদের নেবে না।’
এসিসি হোল্ডারদের স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার জন্য সরকারের দেওয়া সময়সীমা এপ্রিলে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কর্মীদের মতে, কর্তৃপক্ষ কয়েক মাস ধরে হয়রানি করছে। যারা পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছেন, পাকিস্তানিদের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে অথবা কয়েক দশক ধরে দেশটিতে আছেন, তাদের সরকারি আবাসিক অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের বিরোধের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। ইসলামাবাদের দাবি, তালেবান সরকার তাদের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া জঙ্গিদের নির্মূলে ব্যর্থ। তবে তালেবান এ দাবি অস্বীকার করেছে।