পাবনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত এসএসসি পরীক্ষার্থী দুই বন্ধু গতকাল শুক্রবার রাতে মারা গেছে। ঈদের দিন বিকেলে বেড়াতে বের হয়ে তারা আহত হয়েছিল।

নিহত ব্যক্তিরা হলো গাইবান্ধা জেলা সদরের কামাল হোসেনের ছেলে নয়ন হোসেন (১৭) এবং পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর পূর্বপাড়া গ্রামের হাদিস ব্যাপারীর ছেলে হৃদয় হোসেন (১৭)। নয়ন সুলতানপুর পূর্বপাড়া গ্রামে নানার বাড়িতে থাকত। তারা দাশুড়িয়া দরগা বাজার উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্র ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবার সূত্র জানায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন বিকেলে দুই বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়াতে বের হয়। জেলার আটঘরিয়া উপজেলার খিদিরপুর-দেবত্তর সড়কের বেরুয়ান এলাকায় তাদের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এ সময় দুজন গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে একজনকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ও অন্যজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে নয়ন এবং রাত ২টার দিকে হৃদয়ের মৃত্যু হয়।

দাশুড়িয়া দরগা বাজার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম নিহত দুজনের পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, দুই বন্ধুকে ঈশ্বরদীর খালিশপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে। তিনি জানান, নিহত দুজনের ১০ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: দ ই বন ধ

এছাড়াও পড়ুন:

এসএসসি পরীক্ষায় অনীহা আজিজুলের, অস্বস্তিতে বিসিবি 

আজিজুল হাকিম তামিম এসএসসি পরীক্ষা না দিয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে যাবেন এ মাসে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ক্রিকেটাঙ্গনে। মিডিয়া তাঁকে দেশের ত্যাগী ক্রিকেটার তকমা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিসিবি কর্মকর্তারা এতে রীতিমতো বিব্রত।

গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ম্যানেজার আবু ইমাম মো. কাউসার জানান, পরীক্ষার জন্য শ্রীলঙ্কা সফরের দলে না রাখার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তারা। জাতীয় দলের সিনিয়ার সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন রীতিমতো হতবাক অনূর্ধ্ব-১৯ অধিনায়কের কাণ্ড দেখে। 

সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলছেন, আজিজুলের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। আসলে আজিজুলের এই পরীক্ষা না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট বেশির ভাগ মানুষই ভালো চোখে দেখছেন না। টানা দুই বছর এসএসসি পরীক্ষা না দেওয়া ক্রিকেটারের শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে মনে করেন অনেকে।

খেলাধুলার সঙ্গে শিক্ষার একটা যোগসূত্র দেখেন কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তাই তো পরীক্ষা না দিয়ে শ্রীলঙ্কা সফর করার সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারছেন না তিনি। গতকাল সমকালকে এক প্রতিক্রিয়ায় সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের একটি ছেলে তামিমের এসএসসি পরীক্ষা না দিয়ে শ্রীলঙ্কায় খেলতে যাওয়াকে অনেকেই সমর্থন করছেন। কিন্তু বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা তো বিশ্বকাপ না যে এসএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বাদ দেবে। আমি মনে করি তার পরীক্ষা দেওয়া উচিত। একজন ক্রিকেটারের জন্য শিক্ষাটা খুবই প্রয়োজন। শিক্ষা না থাকলে সে কী শিখবে। যারা তাঁর পরীক্ষা না দেওয়াকে দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার হিসেবে দেখছেন, তারা ভুল করছেন। একেবারে অশিক্ষিত চিন্তাভাবনা।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘তাকে যারা গাইড করছে, তারা ঠিক করেনি। তাকে বলা উচিত ছিল পরীক্ষা দিতে। ছেলেটা পরীক্ষা দিচ্ছে না, আবার সেটা বুক ফুলিয়ে বলছে।’

আজিজুলের নেতৃত্বে গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ জিতেছে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় হিসেবে এনসিএল টি২০, বিপিএল টি২০ লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলছেন গুলশান ক্রিকেট ক্লাবে। কথা ছিল ঈদের পর পরীক্ষার পড়ায় ডুবে থাকবেন। কিন্তু নেতৃত্ব ছুটে যাওয়ার ভয় থেকে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন বলে সন্দেহ করছেন বিসিবি কর্মকর্তারা।

গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ম্যানেজার কাউসার বলেন, ‘পরীক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে বিসিবি থেকে অগ্রাধিকার দেওয়া আছে। কয়েক মাস আগে সে বলেছিল, এসএসসি পরীক্ষা দেবে। আমরা তাকে সাধুবাদ জানিয়েছিলাম। শ্রীলঙ্কা সফরের দলে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অথচ এখন সে বলছে পরীক্ষা দেবে না, শ্রীলঙ্কা খেলতে যাবে। বাবা-মাকে রাজি করিয়ে পরীক্ষা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কার সঙ্গে কী কথা বলে সে ক্যাম্পে যোগ দিচ্ছে জানি না। কারণ আমি তো বলেছিলাম স্কোয়াডে না রাখতে। শ্রীলঙ্কার পর আরও চারটি সিরিজ আছে। শ্রীলঙ্কা না গেলে কোনো সমস্যা হতো না। কে তাকে প্রভাবিত করেছে জানি না।’ 

এ ব্যাপারে আজিজুলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু ছন্দে আছি, তাই বিরতি দিতে চাইনি। আগামী বছর বিশ্বকাপ শেষে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাব। চেষ্টা করব তখন পরীক্ষা দেওয়ার।’ 

যুবা অধিনায়কের কথা শুনে বিস্মিত নান্নু, ‘খুবই দুঃখজনক খবর। ছেলেটির উচিত ছিল পরীক্ষা দেওয়া। একটি সিরিজ মিস করলে কিছু হতো না। ক্যারিয়ার গড়তে হলে লেখাপড়া প্রয়োজন। ক্রিকেট ক্যারিয়ার হতেও পারে না-ও পারে। পরীক্ষার জন্য ১৯৮৪ সালে জাতীয় দলে খেলতে যাইনি। সাকিব আল হাসান ২০০৮ সালে এশিয়া কাপ খেলেনি এইচএসসি পরীক্ষার জন্য। পড়াশোনাকে গুরুত্ব না দেওয়া পরিবারের উদাসীনতা।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ‘বুকে পাথর বাইন্ধা কবরের সামনে খাড়ইয়া থাহি’
  • আর এসএসসি পরীক্ষায় বসবে না হৃদয়-নয়ন
  • রংপুরে ফরম পূরণ করেও প্রবেশপত্র পায়নি ৭৩ এসএসসি পরীক্ষার্থী, মানববন্ধন
  • ৩০ বছর পর পদ্মাপাড়ে মিলনমেলায় হাজারো বন্ধু
  • ‘প্রস্তুতি নিয়ে আগামী বছর পরীক্ষা দেব’- বিসিবিকে তামিম 
  • এসএসসি পরীক্ষায় অনীহা আজিজুলের, অস্বস্তিতে বিসিবি 
  • মীরসরাইয়ে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল এসএসসি পরীক্ষার্থীর
  • এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর ‘সুযোগ নেই‘
  • পশ্চিমবঙ্গে ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করলেন সুপ্রিম কোর্ট