বিচারিক সংস্কার এখন ‘সংস্কার’ শব্দের প্রতীক : প্রধান বিচারপতি
Published: 5th, April 2025 GMT
বিচার বিভাগই রাষ্ট্রের একমাত্র অঙ্গ, যা বহু দশক ধরে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সংস্কারে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বলেছেন, প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
তিনি বলেন, “বিচারিক সংস্কার শুধু বিভিন্ন খাতভিত্তিক সংস্কারের স্থায়ীভিত্তিক মূল চাবিকাঠি নয়, বরং এটি এখন নিজেই সংস্কার শব্দের প্রতীক হয়ে উঠেছে।”
শনিবার (৫ এপ্রিল) সকালে রংপুর নগরীর গ্র্যান্ড প্যালেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত “জুডিসিয়াল ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যান্ড এফিশিয়েন্সি” শীর্ষক রিজিওনাল সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক ঐক্যমতের ভিত্তি গঠনের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে বিচার বিভাগ সংস্কার কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট কমিশনগুলোর কাজেও প্রতিফলিত হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “এছাড়াও ইউএনডিপির সহযোগিতায় বিচারিক সংস্কার রোডশোগুলো এখন শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। যার ফলে জেলা বিচার বিভাগ এবং ম্যাজিস্ট্রেসি নিজস্ব সংস্কার কার্যক্রমে দায়িত্ব নিতে সক্ষম হয়েছে।এখন শুধু আমাদের সংস্কার প্রচেষ্টাগুলো টেকসই করার উপায় খুঁজতে হবে।”
একই সাথে জেলা বিচার বিভাগ ও ম্যাজিস্ট্রেসি সংস্কার অগ্রদূত হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি।
উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, “গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজশাহী জেলা আদালতে নতুন হেল্প লাইন চালু করা হয়েছে। যা সুপ্রিম কোর্টের অনুপ্রেরণায় হয়েছে। রাজশাহীর এই উদ্যোগ বিচার প্রক্রিয়াকে আরও জনবল মুখি করতে আমার দেওয়া ১২ দফা নির্দেশনার আলোকে গড়ে উঠেছে।”
তাই রংপুরের আজকের এই সেমিনার সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরো এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে কাজ করবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এসময় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সারা কুক, ইউএনডিপি প্রতিনিধি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিসহ বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/আমিরুল/টিপু
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও বিচারসেবা প্রদানে দক্ষতা বৃদ্ধিতে করণীয় নিয়ে সেমিনার
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণসহ বিচারসেবা প্রদানে দক্ষতা বৃদ্ধিতে করণীয় সম্পর্কে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় রংপুরের গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেলের কনফারেন্স কক্ষে ‘জুডিশিয়াল ইনডিপেনডেন্স অ্যান্ড এফিসিয়েন্সি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই রিজিওনাল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জাফর আহমেদ।
সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
সেমিনারে রংপুর জেলার জেলা ও দায়রা জজ আদালত, মহানগর দায়রা জজ আদালত, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, শ্রম আদালতে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ রংপুরের বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সেমিনারে রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সরকারি কৌশুলি, পাবলিক প্রসিকিউটরসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বতন্ত্রীকরণে প্রধান বিচারপতির ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ- মর্মে মন্তব্য করেন এবং উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশের বিভাগের জন্য ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে বিচার বিভাগের আধুনিকায়নে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থাকার আশ্বাস পুনঃর্ব্যক্ত করেন।
প্রধান বিচারপতি মহোদয় তার ভাষণে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিতকরণে বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং তার ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিবরণ তুলে ধরেন।
বিশেষ করে তিনি বলেন যে, তার ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কার সংক্রান্ত রোডম্যাপ এর পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ জুলাই ২০২৪ উত্তর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে সংস্কার রোড শো তথা রিজিওনাল সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ডিস্ট্রিক্ট জুডিসিয়ারিসমূহ তাদের স্ব স্ব সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে, যা বিচার সেবার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি দেশের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদেরকে মাননীয় প্রধান বিচারপতি ঘোষিত সংস্কার রোডম্যাপ প্রচেষ্টাকে টেকসই করার উপায় উদ্ভাবনের আহ্বান জানান।
তিনি তার ভাষণে বলেন, ‘‘বিচারিক সংস্কার শুধু বিভিন্ন খাতভিত্তিক সংস্কারের স্থায়িত্বের মূল চাবিকাঠিই নয়, বরং এটি এখন নিজেই ‘সংস্কার’ শব্দের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিচার বিভাগ হলো রাষ্ট্রের একমাত্র অঙ্গ, যা বহু দশক ধরে নিজের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের জন্য সক্রিয়ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এই দাবির কেন্দ্রে রয়েছে নিজেদের সংস্কার কর্মসূচি নিজেরাই নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব। গত আট মাসে এই প্রচেষ্টা অভূতপূর্ব গতি অর্জন করেছে। এখন লক্ষ্য হলো সেই উদ্দেশ্য পূরণ করা এবং তা যেন ভবিষ্যতেও টিকে থাকে তা নিশ্চিত করা। একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে, আমরা কখনও ক্ষমতার পূর্ণ পৃথকীকরণের লক্ষ্যের এতটা কাছাকাছি আসিনি। যদি এই সুযোগ কোনভাবে নষ্ট হয়, তবে তা বিচার বিভাগের মর্যাদা, অখণ্ডতা এবং প্রাসঙ্গিকতার জন্য চরম ক্ষতিকর হবে।”
বিচার বিভাগ সংস্কারকে অর্থবহ ও ফলপ্রসু করার জন্য তিনি দেশের সকল পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাগণকে তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ‘দায়িত্ব গ্রহণের’ আহবান জানান।