Prothomalo:
2025-04-05@18:53:18 GMT

খেলার দুনিয়ায় যত বিলিয়নিয়ার

Published: 5th, April 2025 GMT

পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী বিলিয়নিয়ারদের বার্ষিক তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা–বাণিজ্যভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বস। মঙ্গলবার প্রকাশিত ২০২৫ সালের ধনীদের এই তালিকায় এখনো খেলছেন, এমন দুজন ক্রীড়াবিদ জায়গা করে নিয়েছেন—বাস্কেটবল কিংবদন্তি লেব্রন জেমস ও গলফ কিংবদন্তি টাইডার উডস। অবসর নেওয়া ক্রীড়াবিদদের মধ্যে আছেন বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডান ও সাবেক বডিবিল্ডার আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার।

আরও পড়ুনফেরারির দামে অটোরিকশার পারফরম্যান্স, ৫৭ লাখে ১ রান২ ঘণ্টা আগে

খেলোয়াড়দের বাইরে ক্রীড়াজগতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও জায়গা করে নিয়েছেন সবচেয়ে ধনীদের এ তালিকায়। এর মধ্যে রয়েছেন ফুটবল ক্লাব, বাস্কেটবল ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং আমেরিকান ফুটবল ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক। শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছেন দুজন ক্লাবের মালিক।

ক্যারিয়ার শেষের আগেই ইতিহাসের প্রথম দুই ক্রীড়াবিদ হিসেবে ফোর্বসের বিলিয়নিয়ার স্বীকৃতি পেলেন উডস ও জেমস। দুজনেই খেলাধুলা থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আয় করেন। খেলার বাইরেও তাঁরা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপের অংশ হিসেবে লেব্রন জেমসের একটি কনটেন্ট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আছে। এমএলবিতে বোস্টন রেড সক্স ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের অন্যতম মালিক বহুমুখী এই প্রতিষ্ঠান।

২০০৩ সালে অবসর নেওয়া জর্ডান অ্যাথলেটদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী। আর্থিক মূল্যে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৫০ কোটি ডলার (প্রায় ৪২ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা)। খেলার ভুবন থেকে এই আয়ের পাশাপাশি এনবিএর দল শার্লট হর্নেটসের মালিকানা থেকে বেশির ভাগ অংশ ২০২৩ সালে বেচেও দেন জর্ডান। শার্লট হর্নেটসের আনুমানিক মূল্য ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

আরও পড়ুনরোনালদোর এবার জোড়া গোল, এক হাজারে পৌঁছাতে কত দিন লাগবে, জবাব দিল এআই৪ ঘণ্টা আগে

হলিউড অভিনেতা ও সর্বকালের অন্যতম সেরা বডিবিল্ডার শোয়ার্জনেগারের মোট সম্পদের আর্থিক মূল্য ১১০ কোটি ডলার। রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ ও সিনেমা থেকে বেশির ভাগ অর্থ আয় করেন শোয়ার্জনেগার।

খেলার মাঠ থেকে এবার খেলাধুলার চেয়ার–টেবিলে চোখ ফেরানো যাক। সেখানে ফ্রান্সের দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগের দল প্যারিস এফসির নতুন মালিক ও ফ্যাশন হাউস লুই ভুতনের চেয়ারম্যান বের্নাদ আরনাউল্ত বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্লাব মালিক। ১৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সম্পদ নিয়ে ফোর্বসের তালিকায় পাঁচে এই ফরাসি ধনকুবের। গত বছর আগাশে স্পোর্টসের মাধ্যমে প্যারিস এফসির সিংহভাগ মালিকানা বুঝে নেন আরনাউল্ত।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনীর এই তালিকায় দশম ব্যক্তিটিও একটি খেলাধুলার ক্লাবের মালিক। তিনি বাস্কেটবল দল লস অ্যাঞ্জেলেস ক্লিপার্সের মালিক স্টিভ বলমের। তাঁর মোট সম্পদ আর্থিক মূল্যে ১১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহীর পদ ছেড়ে ২০১৪ সালে বাস্কেটবল দলটি ২০০ কোটি ডলারে কেনেন বলমের। ফোর্বসের হিসাবে, বর্তমান দলটির দাম ৪৬৫ কোটি ডলার।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ব স ক টবল সবচ য়

এছাড়াও পড়ুন:

ওয়ার্কচার্জের ২৪ কর্মীর চাকরি স্থায়ী হয়নি ২৭ বছরেও

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সালের বিভিন্ন সময়ে ওয়ার্কচার্জ কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে ৩৯৬ জনকে নিয়োগ দিয়েছিল। তাদের নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল ১০ বছর চাকরি করার পর পর্যায়ক্রমে তাদের স্থায়ী করা হবে। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ জনবল স্থায়ী হবে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে আর ওয়ার্কচার্জ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্য থেকে স্থায়ী হবেন ২৫ শতাংশ। এরপর নানা সময় ওয়ার্কচার্জ কর্মীদের মধ্যে ৩৭২ জনের চাকরি স্থায়ী হলেও বঞ্চিত রয়ে গেছেন ২৪ জন। তাদের মধ্যে তিনজন করোনা মহামারি সময়ে মারা গেছেন। বাকি ২১ জনের হয়েছে অবসরে যাওয়ার সময়।

ওয়ার্কচার্জ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূলত তাদের কাজ অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে বেতন-ভাতা পান। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো অন্যান্য সুবিধা পান না। জানা গেছে, ইতোমধ্যে ওয়ার্কচার্জের ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারী রাজউক চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সদস্যের (প্রশাসন) সঙ্গে দেখা করে চাকরি স্থায়ীকরণের আবেদন জানিয়েছেন। তবু তাদের স্থায়ী করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অথচ তাদের স্থায়ী করার জন্য বিপরীতে প্রায় অর্ধশত পদ শূন্য রয়েছে। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী না করে বরং বিভিন্ন প্রকল্প থেকে কর্মীদের চাকরি স্থায়ী করার অভিযোগ উঠেছে।

রাজউক সূত্র জানায়, নিয়োগ পাওয়া ৩৯৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জাতীয় বেতন স্কেল-১৯৯৬ অনুসারে ২০০১ সালে রাজস্ব খাতভুক্ত ওয়ার্কচার্জ করা হয়। তাদের মধ্যে আব্দুল লতিফ হেলালী রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী হয়ে অবসরে গেছেন। উজ্জ্বল মল্লিকও প্রধান প্রকৌশলীর পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর সম্প্রতি তাঁকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আবু হাসান মোর্তজা ও মো. হাফিজ নগর পরিকল্পনাবিদ হয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অবসরে গেছেন। ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া মোজাফ্ফর উদ্দিন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বর্তমানে কর্মরত। আরও কয়েকজন আছেন নির্বাহী প্রকৌশলী পদে। এ ছাড়া আরও অনেকে নিয়মিত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেকে কর্মকর্তা হয়ে অবসরে গেছেন। তিনজন নিম্নমান সহকারীর চাকরি স্থায়ী হওয়ার আগেই মৃত্যু হয়েছে। বাকি যারা পড়ে আছেন, তারা ছোট পদে কর্মরত। এ জন্যই তাদের দিকে রাজউকের নজর কম বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীরা জানান, নিয়োগ ও পদোন্নতি কোটার ৪৫টি পদ এখনও শূন্য। কিন্তু রাজউক পরিচালনা পর্ষদ কোনো নিয়ম অনুসরণ না করে একেক সময় একেকজনের চাকরি নিয়মিত করেছে। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাজী অমিত ও নুরুল আলমকে নিয়মিত করা হয়েছে। এ দু’জনই ছিলেন প্রকল্পের কর্মচারী। ওয়ার্কচার্জভুক্ত যে ২১ জনের চাকরি নিয়মিত হয়নি, তাদের প্রত্যেকের চেয়ে এ দু’জন অনেক কনিষ্ঠ।

ভুক্তভোগী এক কর্মকর্তা বলেন, তাঁর দেড় বছর চাকরি আছে। এখনও বলতে পারেন না চাকরিটি স্থায়ী হয়েছে। এ জন্য পরিবারের কাছেও লজ্জা পেতে হয়। আরেকজন বলেন, চাকরি নিয়মিত হলে অবসরে গেলে কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু এ অবস্থায় অবসরে গেলে একদম নিঃস্ব হাতে বিদায় নিতে হবে।

আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, গত বছর তাদের চাকরি স্থায়ী করার উদ্যোগ নিয়েছিল রাজউক বোর্ড। তখন তথাকথিত রাজউক শ্রমিক লীগের কয়েকজন নেতা এতে বাধা দেন। ওই নেতারা আমাদের কাছে কিছু আর্থিক সুবিধা দাবি করেছিলেন। কিন্তু আমরা তাতে রাজি হইনি। তখন শ্রমিক লীগের নেতারা আমাদের ২১ জনকে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করে বোর্ডকে প্রভাবিত করেন। ফলে আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণের উদ্যোগ থমকে যায়।

এসব প্রসঙ্গে রাজউক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ২১ ওয়ার্কচার্জ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিষয়টি মানবিকভাবে আমরা দেখার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে বোর্ডে দু-তিনবার তুলেছি। কিন্তু বিভিন্ন সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এমন কিছু নিয়ম করেছে যে, তাদের নতুন করে সব সনদ জমা দিতে হবে। তারা সেটা পারে না। এ কারণে রাজউকেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তবে এটা বুঝতে পারছি মানবিক কারণে হলেও তাদের চাকরিটা স্থায়ী করা দরকার।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ওয়ার্কচার্জের ২৪ কর্মীর চাকরি স্থায়ী হয়নি ২৭ বছরেও
  • প্রধান প্রকৌশলী ছাড়াই চলছে বেবিচক