পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে টানা ৮ দিন ছুটি শেষে বেনাপোল স্থলবন্দরে আজ থেকে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তা‌নি শুরু হয়েছে।

শনিবার বেলা পৌনে ১১টায় আমদানি-রপ্তা‌নি শুরু হয়। এদিন দুপুর ১২টার সময় ভারত থেকে ২৪ ট্রাক পণ্য আমদানি ও বাংলাদেশি ১৩ ট্রাকে পণ্য রপ্তা‌নি হয়েছে।

বাংলাদেশের সব স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তা‌নি আজ বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দরে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে অনেক বেশি ফল ও পচনশীল পণ্য আমদানি হবে বলে ধারণা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবর রহমান বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে টানা ৮ দিন আমদানি-রপ্তা‌নি বাণিজ্য বন্ধ থাকার পর আজ শনিবার সকাল থেকে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তা‌নি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। আজ ৫ এপ্রিল শনিবার সকাল থেকে বেনাপোল কাস্টমস কার্গো শাখায় কার্পাস ও মেনিফেস্ট ইস্যুর কাজ শুরু হয়েছে। কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা কর্মকারী এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফরা অফিসে যোগদান করেছেন।

ভারতের পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়াডিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে ছুটি থাকায় রপ্তা‌নির উদ্দেশ্যে আসা ৪৫০টি ট্রাক পেট্রাপোল বন্দরের সেন্ট্রাল পার্কিং এ দাঁড়িয়ে আছে। বনগাঁসহ আশপাশের বিভিন্ন পার্কিংয়ে ও অনেক ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। ট্রাক ড্যামারেজ না দেওয়ার শর্তে কিছু ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী বনগাঁ ও আশপাশের এলাকায় মাল গুদামে আনলোড করেছে, তারা এসব মাল লোড দেওয়া শুরু করেছে। আগামীকাল রোববার থেকে রপ্তা‌নির ব্যাপক চাপ থাকবে।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) রাশেদুল সজিব জানান, টানা ৮ দিন ঈদের ছুটি শেষে আজ শনিবার সকাল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তা‌নি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় বেনাপোল বন্দরে ৫০টি পণ্য বোঝাই বাংলাদেশি ট্রাক এবং বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় পেট্রাপোল বন্দরে ৪৫০টি পণ্যবোঝাই ভারতীয় ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। ঈদের ছুটির মধ্যে বেনাপোল বন্দরে আমদানি করা পণ্য সুরক্ষিত আছে।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: আমদ ন

এছাড়াও পড়ুন:

আনন্দের উৎসব কেন বেদনার উপলক্ষ?

প্রতি বৎসর ঈদের ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর যেই ‘রেকর্ড’ সৃষ্টি হয়, উহা উদ্বেগজনক। ঈদুল ফিতরের ছুটির কয়েক দিনে অন্তত অর্ধশত প্রাণহানির খবর সংবাদমাধ্যমে আসিয়াছে। সর্বাপেক্ষা ভয়ানক দুর্ঘটনা ঘটিয়াছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে; লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় পরপর তিন দিন দুর্ঘটনায় ১৫ প্রাণ ঝরিয়া গিয়াছে। স্থানটি ছয় কারণে মৃত্যুকূপ হইয়া উঠিয়াছে বলিয়া সমকালের প্রতিবেদনে উঠিয়া আসিয়াছে। আমরা বিস্মিত, উক্ত এলাকায় বারংবার দুর্ঘটনা ঘটার পরও সতর্কতা কিংবা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই! 

দেশে স্বাভাবিক সময়েই সড়কে অনেক প্রাণ ঝরিয়া থাকে। ঈদের সময় যাতায়াত বৃদ্ধির কারণে দুর্ঘটনাও সমগতিতে বৃদ্ধি পায়। তবে প্রতি বৎসর রাজধানী কিংবা অন্যান্য শহর হইতে ঈদযাত্রায় যেই ভোগান্তি আমরা দেখিয়া আসিয়াছি, সেইদিক হইতে এইবার ঈদযাত্রা ছিল বহুলাংশে স্বস্তিদায়ক। তজ্জন্য সড়ক দুর্ঘটনাও নিয়ন্ত্রণে আসিবে বলিয়া আমাদের প্রত্যাশা থাকিলেও পূর্বের ন্যায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ভয়ানক চিত্রই দেখা গিয়াছে। সড়ক দুর্ঘটনায় যেই হারে মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়াছে, তাহাতে ইহা জাতীয় দুর্যোগে রূপ পরিগ্রহ করিয়াছে।

বেসরকারি সংস্থা যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, ঈদের সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অধিক প্রাণহানি ঘটিয়া থাকে। যানবাহনের মাত্রাতিরিক্ত গতি, সড়কে অযান্ত্রিক যানের বেপরোয়া চলাচল, চালক-যাত্রীদের বেখেয়ালিপনার কারণেও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়া থাকে। অর্থাৎ ঘুরিয়া-ফিরিয়া স্বাভাবিক কারণগুলিই ঈদের সময় আরও অস্বাভাবিক ও বৃহদাকারে দৃষ্টিগোচর হয়। আমরা মনে করি, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ভুয়া সনদপ্রাপ্ত চালক ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধ করা জরুরি। কিন্তু এই সকল ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ অপর্যাপ্ত। অনেক সময় দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হয় না। আমরা জানি, সড়ক দুর্ঘটনায় মামলার সংখ্যা অত্যন্ত কম। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে যাহারা দুর্ঘটনার শিকার হন, তাহারা আদালতের দ্বারস্থ হন না। আবার আদালতের শরণাপন্ন হইলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সংখ্যা অপ্রতুল। আদালতের দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকেই এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট হইতে অনিচ্ছুক। 

স্মরণে রাখিতে হইবে, সড়ক দুর্ঘটনার রাশ টানিবার বিকল্প নাই। ভুয়া চালক সনদ বন্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন। এইখানে প্রশাসন যদ্রূপ তদারকির প্রশ্নে সচেষ্ট থাকিবে, তদ্রূপ চালক নিয়োগদানেও মালিকদের সতর্কতা প্রয়োজন। যাত্রীদের সচেতনতাও কম গুরুত্বপূর্ণ নহে। তবে সর্বাধিক দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখিবেন গাড়িচালক। শুধু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালকই যেন সনদ পান, উহা নিশ্চিতকরণে বিআরটিএর যথাযথ ভূমিকা জরুরি। 

একই সঙ্গে সড়কের প্রশস্ততাও কম গুরুত্বপূর্ণ নহে। এইবারের ঈদে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বারংবার যে দুর্ঘটনা ঘটিতেছে, তাহার অন্যতম কারণ  সড়কটি দুই লেনের। ঐ সড়কে দ্রুতগতির ট্যুরিস্ট বাস ও অন্যান্য প্রাইভেট পরিবহন যদ্রূপ চলাচল করে, তদ্রূপ ইজিবাইক, অটোরিকশা এবং লবণবাহী ট্রাকও রহিয়াছে। সড়কটিকে চার লেন করিবার দাবি দীর্ঘ কালের। সেইখানে দুর্ঘটনা রোধে বিষয়টি বিবেচনায় লওয়া জরুরি। উক্ত সড়কের সরু অংশসহ দুর্ঘটনাপ্রবণ অংশে চালকদের অতি সতর্কতা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে প্রশাসনেরও তৎপরতা ও নজরদারি বৃদ্ধি করা আবশ্যক। 
আমরা বিশ্বাস করি, প্রশাসনের তৎপরতার কারণেই ঈদের পূর্বে অপেক্ষাকৃত কম দুর্ঘটনা ঘটিয়াছে। ঈদের পূর্বে কর্তৃপক্ষ যতটা দায়িত্ব পালন করিয়া থাকে, পরে ততটা না থাকায় দুর্ঘটনাও বৃদ্ধি পাইয়াছে। একটি দুর্ঘটনা অনন্ত কান্নার কারণ হইতে পারে। ইহার প্রতিকারে সতর্কতাই ব্যক্তির সুরক্ষাকবচ। ঈদের ন্যায় আনন্দদায়ক উপলক্ষ যেন দায়িত্বহীন আচরণের কারণে বেদনায় রূপান্তরিত না হয়, এই ব্যাপারে সবাইকে সচেষ্ট হইতে হইবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ছুটি শেষে বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু
  • টানা ৯ দিনের ছুটি শেষে কাল খুলছে অফিস
  • আমরা সবাই খানিকটা লোভী: জয়া
  • ঈদ উপলক্ষে গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা
  • আনন্দের উৎসব কেন বেদনার উপলক্ষ?
  • ফ্যান্টাসি কিংডমে নতুন ৩ রাইড, বিনোদনে বাড়তি সংযোজন
  • ঈদে আমদানি বন্ধ থাকায় যশোরে ফলের দাম বেড়েছে
  • স্থলবন্দরের মাধ্যমে সুতা আমদানি বন্ধের সুপারিশ
  • সম্প্রীতির উৎসবে সংঘাত কেন?