২ / ৯কোদাল কাঁধে নিয়ে খেতে চলেছেন একজন কৃষক
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
ঘুম ভাঙলেই মা-বাবাকে খুঁজছে ছোট্ট আরাধ্য
চোখ খুলেই চারপাশে মা-বাবাকে খুঁজে ফিরছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বাস ও মাইক্রোবাসের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ছয় বছর বয়সী শিশু আরাধ্য বিশ্বাস। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতির দিকে। ঘুম ভাঙলেই চিকিৎসক থেকে শুরু করে আত্মীয়স্বজন সবার কাছেই জানতে চাইছে, মা-বাবা কোথায়। তবে কেউই অনাথ ছোট্ট এই শিশুটির কথার উত্তর দিতে পারছে না।
আরাধ্য এখন ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার তার পায়ের সার্জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গত শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকা আরাধ্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্কয়ার হাসপাতালে আরাধ্যর সঙ্গে থাকা আত্মীয় অসিত কুমার বাড়ৈ মোবাইল ফোনে সমকালকে বলেন, আগের চেয়ে তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার তার পায়ের সার্জারি করবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আপাতত তাকে মুখে খাবার দেওয়া যাচ্ছে না। বাইরের কারও সঙ্গে দেখাও করতে দেওয়া হচ্ছে না। তার এক মামাতো বোন তপতী বিশ্বাস আরাধ্যর দেখাশোনা করছে। ঘুম থেকে উঠলেই মা-বাবার ব্যাপারে জানতে চায় সে। তখন মামাতো বোনকে তার কাছে পাঠিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে এভাবে কতদিন পারব কে জানে!
তিনি বলেন, সবাই আরাধ্যর জন্য আশীর্বাদ করবেন। যাতে সে নতুন জীবন পায়। চিকিৎসকরা আমাদের জানিয়েছেন, আরাধ্যর সুস্থ হতে সময় লাগবে। ভালোভাবে হাঁটতে না পারা পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে থাকতে হবে।
গত বুধবারের দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আরাধ্যর বাবা দিলীপ বিশ্বাস ও মা সাধনা মণ্ডল। দুর্ঘটনায় প্রাণে বাঁচলেও আরাধ্যর দুই পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। আঘাত পেয়েছে মাথা, হাত, বুকসহ বিভিন্ন অংশে। রক্ত জমাটও বেঁধেছে নানা অংশে। ঘটনার পর প্রথমে তাকে চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ও পরে অর্থোপেডিক বিভাগে ভর্তি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার তাকে স্থানান্তর করা হয় আইসিইউতে। শুক্রবার দুপুরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকায়।
আরাধ্যর বাবা দিলীপ বিশ্বাস ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকার গাজীপুরের পোশাক কারখানার কর্মকর্তা ছিলেন। মা-বাবার মৃত্যুর কারণে এতিম হয়ে গেল আরাধ্য। এ পর্যন্ত এই সড়ক দুর্ঘটনায় আরাধ্যর মা-বাবাসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, মা-বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সনাতনী স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশন আরাধ্যর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। চট্টগ্রামে থাকা অবস্থায় চমেক হাসপাতালে এবং বর্তমানে স্কয়ার হাসপাতালে ফাউন্ডেশনের সদস্যরা দিন-রাত আরাধ্যর চিকিৎসা ও সেবাযত্নে পাশে রয়েছেন।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তাসলিম উদ্দীন জানান, একই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দুর্জয় কুমার মণ্ডল নামে একজন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সম্পর্কে শিশু আরাধ্যর মামা। দুর্ঘটনায় তিনি হাত-পায়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।