আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের জাজিরায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

শনিবার সকালে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের কাজিয়ারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। শনিবার সকালে কাজিয়ারচর এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এসময় শতাধিক হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

এদিকে দু’পক্ষের সংঘর্ষ এবং হাতবোমা বিস্ফোরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা যায় একটি খোলা মাঠে উভয় পক্ষের লোক মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে অনেকের হাতে বালতি ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। বালতি থেকে হাতবোমা নিক্ষেপ করা হচ্ছে। পরে সেগুলো বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়ার সৃষ্টি করছে। 

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য কুদ্দুস বেপারী ও জলিল মাদবরের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে নাম্বার দুটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিয়ে জাজিরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল আখন্দ বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: স ঘর ষ ক ন দ র কর স ঘর ষ র

এছাড়াও পড়ুন:

বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের পর হেফাজতও দ্রুত নির্বাচন চায়

বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। হেফাজত নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপির মতো তারাও দ্রুত নির্বাচন চান। 

বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ছিলেন। হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান, নায়েবে আমির ড. আহমদ আবদুল কাদের, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

মহিউদ্দিন রব্বানী সমকালকে জানিয়েছেন, হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে ২০১৩ এবং ২০২১ সালে দায়ের মামলা, নির্বাচন, আওয়ামী লীগের বিচার এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে কথা হয়েছে বৈঠকে। হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহারের দাবি বিএনপিও তুলবে বলে আশ্বস্ত করেছে। 

২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হেফাজত অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোটের নেতারা হেফাজতেরও নেতৃত্বে রয়েছেন। খেলাফত, জমিয়ত, ইসলামী ঐক্যজোট এক সময়ে বিএনপির জোটে থাকলেও দলগুলোর নেতারা আওয়ামী লীগ আমলে হেফাজত সংশ্লিষ্ট মামলায় পড়ার পর বেরিয়ে যায়। 

আগামী নির্বাচনে ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে কাছে টানতে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী। এ সময়ে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মহিউদ্দিন রব্বানী সমকালকে বলেছেন, বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চায়, হেফাজতও তাই চায়। হেফাজতের ব্যানারে কেউ নির্বাচনে অংশ নেবে না। তবে সংগঠনের নেতারা নিজ নিজ দলের হয়ে নির্বাচন করবেন। একটি বৃহত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে হেফাজতও মনে করে, যত দ্রুত নির্বাচন হবে ততই ভালো। নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে সরকার একেক সময় একেক কথা বলায় অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। 

সংবিধান সংস্কার কমিশন সংবিধানের মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে বহুত্ববাদ যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে। বিএনপি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানে যুক্ত করা ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসকে’ ফের মূলনীতি হিসেবে চায়। মহিউদ্দিন রব্বানী বলেছেন, হেফাজতও বহুত্ববাদ ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসকে’ মূলনীতিতে চায়। 

জামায়াতের সমালোচক হেফাজত আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন করতে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এর জবাবে মহিউদ্দিন রব্বানী বলেছেন, যারা হেফাজতের ১৩ দফাকে সমর্থন করবে, তাদেরকেই হেফাজত সমর্থন করবে। 

সম্পর্কিত নিবন্ধ