ছেলেটা হাত ধরায়, তার হাতের ছোঁয়া লাগায় আনিকার পুরো শরীর, মাথা থেকে পায়ের পাতা অবধি প্রথমে সজাগ হয়, তারপর গায়ের কাঁটাগুলো মাথা তুলে দাঁড়ায়। শেষে দেহ-মন, অন্তর-আত্মা যেনবা জোট বেঁধে নিয়ে একই স্বর ও সুরে গিয়ে কথা কয়—তোমাকে চাই, জান ও জীবনের পাশে, সাতজনমের তরে হাঁটাহাঁটিতে যেন তোমাকে পাই।
কিন্তু যার হাতের ছোঁয়ায় শরীরের এত আলোড়ন তোলা, রীতিমতো কথা বলে ওঠা, তাকে দেখার আশায় আনিকা চোখ তুলে তাকায়ে দেখে, কই সে তো নাই। কাজ শেষ করে, মানে সাঁকো পার করে দিয়েই সে হাত ছেড়ে দেয়। তার পরপরই তার এগিয়ে যাওয়া, সামনের ঝোপের ওপাশে হারিয়ে যাওয়া সারা। তবু আনিকা আশপাশে তাকায়। কিন্তু চোখের সীমানার মধ্যে কোথাও তাকে আর দেখতে পায় না।
ছোঁয়া দিয়েই ছেলেটার এভাবে ভোজভাজির মতো হাওয়া হওয়ায় আনিকা অবাক হয়—অ্যাঁ! একি আমার কোনো স্বপ্ন দেখা? ঘুমঘোরে চোখের সম্মুখ দিয়ে সাদা-কালো কোনো দৃশ্যের বয়ে যাওয়া?
কিন্তু না, তা তো নয়। এই তো চোখের সামনেই বাস্তবের সবুজে মোড়া মাঠ। চোখের সামনেই দাঁড়ানো ওই তো গাছপালা ও ঝোপঝাড়ের ছিমছাম বাহার।
তাহলে ছেলেটার এভাবে ছুঁয়ে দেওয়ায়, হাতে হাত ধরে স্পর্শ করে নেওয়ায় দেহ-মনের একলহমায় জেগে ওঠা, একেবারে তুমুল আলোড়ন তোলা ক্যান? সে ভাবনায় আনিকা থমকায়। একেবারে থির হয়ে দাঁড়ায়ে যায়।
তরুণী হয়ে ওঠার পর, কলেজ-ভার্সিটিতে পড়াশোনাকালে, এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরির সময় কত ছেলের সঙ্গেই তো গা–ঘেঁষাঘেঁষি হয়েছে। হাতে হাত ছোঁয়াছুঁয়ি পড়েছে। কই! তার কখনো তো এমন, শরীর–মনের আলোড়ন তোলা, তারপর আবার তাদের কথা বলে ওঠার মতো কোনো ঘটনা তো মনে পড়ে না।
তাহলে ছেলেটার হাত ধরাধরি ও ছোঁয়াছুঁয়ির ভেতর নিশ্চয়ই কোনো কারসাজি লুকায়ে আছে। আত্মগোপন করে রয়েছে কোনো ক্যারিশমা। তবে তা কী? তা বুঝে নিতে, পারলে হাতেনাতে আবার পরখ করে দেখতে আনিকা ছেলেটাকে খোঁজাখুঁজিতে যায়। সামনে পা বাড়ায়ে তার সন্ধান চালায়।
এটা ঢাকার বাঁ হাতায়, যারে বলে উত্তর পাশ ঘেঁষায় খাড়া হওয়া, বিপুল জায়গাজমি নিয়ে গ্রামের আদল-আকৃতিতে গড়ে তোলা একটা রিসোর্ট। মগবাজারের বাসা থেকে সকাল সকাল যাত্রা করে ঘণ্টাখানেকের ভেতরই আনিকারা এ রিসোর্টে হাজির হয়। এক দিনের প্যাকেজ—সকালে প্রবেশ, বিকেলে প্রস্থানের টিকিট কেটে ভেতরে পা দেয়।
কিন্তু দুপাশে নানা জাতের ফলগাছের কেয়ারি করা রাস্তা দিয়ে এগিয়ে এসে আনিকা দেখে—ওমা! এরই মধ্যে, মানে এত সাতসকালেই রিসোর্টে এত লোক! এদিক-ওদিকে বাচ্চাদের ছোটাছুটি, তাদের পাখির মতোই যেনবা কিচিরমিচির, কলকাকলি, বুড়োদের মন্থরগতিতে হাঁটাহাঁটি আর কিশোর-কিশোরীদের মাতামাতিতে পুরো রিসোর্টের একেবারে জমজমাট হয়ে ওঠা, গ্রামের মেলার স্বভাবচরিত্র নেওয়া সারা।
আনিকা আর তার মা ও ছোট ভাইবোনদের ছোটখাটো দলটা আরও এগোয়। প্রবেশপথের একেবারে শেষ মাথায় এসে দাঁড়ায়। দেখে সামনেই বিপুল উদারতায় যাওয়া, মন-প্রাণ খুলে দিয়ে বুক চিতিয়ে শোয়া এক বিশাল মাঠ। তার গা-গতরজুড়ে এ-মাথা থেকে ও-মাথা অবধি সবুজ ঘাসে ছাওয়া। নাকি তার বরণের গালিচা পাতা, তা পরখ করার আগেই আনিকার ছোট দুই ভাইবোন তাতে ছুটে যায়। মাঠজুড়ে চক্কর লাগায়।
আনিকার মা রাহেলা রহমান তাই মাঠের পাশেই কাঠের এক বেঞ্চে যেনবা স্টেশন নেয়। একেবারে গ্যাঁট হয়ে বসে যায়।
কিন্তু ওদিকে, পুবের পাশটাতে কী আছে? সবাই ওদিকে কেন যায়? তা আনিকা দেখতে চায়।
যেহেতু পুরো রিসোর্ট দেয়াল দিয়ে ঘেরা, তারপর আবার ভেতরে কড়া নিরাপত্তা বলবৎ করা, তাই আনিকা একা একাই ওদিক পানে পা বাড়ায়। মাঠের ওপাশে ঝোপঝাড়ের মতো খাড়া হওয়া, ছোটখাটো জঙ্গলের আকার নেওয়া দিকে আগায়। আস্তেধীরে কদম ফালায়।
তবে মাঠের কিনারায় গিয়ে দেখে, সামনেই লম্বায় আগানো, এঁকেবেঁকে অনেক দূর অবধি হারানো আর চওড়ায় হাত সাতেক গা-গতর বিছানো একটা নালা। তাতে জলের বেশ জমজমাট আসর পেতে বসা। তাহলে এখন তারে পাড়ি দিয়ে ওপারে ঝোপের মহলে, হয়তোবা রিসোর্টের সবচেয়ে লোভনীয় অংশে যাই কীভাবে? আনিকা এদিক-ওদিক তাকায়—ওই তো নালা পাড়ি দেওয়ার, তার বুকে ওপর দিয়ে ওপারে যাওয়ার পথ।
তবে সে পথে গিয়ে আনিকা একেবারে থ হয়ে যায়—অ্যাঁ! এ তো কোনো ব্রিজ বা পোল নয়। বরং পুরো রিসোর্টকে গ্রামের আদল-আকার দেওয়ার, তার স্বভাব-চরিত্রে নেওয়ার জন্যই হয়তোবা গোটা তিনেক বাঁশ আড়াআড়ি ফেলে দিয়ে বানানো সাঁকো। গ্রামের লোকজনের ভাষায় ‘চার’। তারপর তা আবার হাতলবিহীন। তার ডান বা বাঁ পাশে নাই কোনো ধরনি।
নালার ওপর পিঠ বাঁকা করে, যেনবা উপুড় হয়ে নিয়ে চার বা সাঁকো দাঁড়ায়ে থাকলেও তাদের কারও সঙ্গেই আনিকার বইপুস্তকের পাতায় ছবি দেখা, নাম জানা ছাড়া সরাসরি দেখা-সাক্ষাতের ঘটনা একেবারে বিরল। তারপর তাদের ঘাড়ে-গর্দানে পা দিয়ে এক পাড় থেকে আরেক পাড়ে পাড়ি দেওয়ার কাহিনি-কারবার তো একেবারেই শূন্যের কোঠায় দাঁড়ানো। যারে ‘নাই’ বললেই চলে।
তাই অনিকার একা একা আর আগানোর, সাঁকো পানে পা বাড়ানোর সাহসে কুলায় না। সে তাই তার দোড়গোড়ায় থমকে দাঁড়ায়ে থাকে।
কিন্তু একি! তার এপাশ ও ওপাশ দিয়ে অনেকেই আগায়ে গিয়ে তার সামনেই সে সাঁকো অনায়াসে পার হয়। তার পিঠের ওপর গোটা চারেক কদম ফেলে ওপারে গিয়ে ঝোপের ওদিকে হারায়।
ফলে আনিকার মনে সাহস আগায়। বুকের ভেতর তা গোছগাছ হয়ে বসে যায়। এবার তাহলে আর ভয় কী? চারটাই তো কদম। তা ঠিকমতো দিতে পারলেই বাজিমাত। মানে এপার থেকে ওপারে পার হওয়া সারা। আনিকা তাই আবার আগায়। সাঁকো পানে পা বাড়ায়।
তবে দুটো কদম ঠিকমতো দেয়, সাঁকোর মাঝবরাবর অবধিও যায়। কিন্তু তার পরের কদম দিতে গিয়েই যেনবা টালমাটাল অবস্থা হয়। পুরো শরীর দেলাদুলি শুরু করে দেয়। দুই হাত শূন্যে খাবি খায়। ‘চার’টাও যেনবা বিশ্বাসঘাতকতার পথ নেয়। তাই তা গা-গতর মোচড়ানোর, মানে নড়েচড়ে ওঠার পথে পা দেয়। ফলে তা থেকে আনিকার যেকোনো সময় নিচের জলে পড়ে যাওয়ার, তার কাদাপানিতে মাখামাখি হবার উপক্রম হয়।
এ থেকে এখন বাঁচার উপায় কী? ফিরে যাব? আনিকা তাই ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকায়। দেখে পেছনে সাঁকো যতটুকু, সামনেও ঠিক ততটুকু বাকি। তাই পুরো শরীর আবার ঘুরিয়ে নিয়ে ফিরে যাওয়া যতখানি কষ্টকর, তার চেয়ে সামনে কদম বাড়ায়ে নিয়ে ওপারে পা দেওয়া ততখানি হয়তো সহজতর।
আনিকা তাই যখন আবার কদম বাড়াতে যায়, সামনে এগোনোর উদ্যোগ নেয়, ঠিক তখন ওপার থেকে একটা হাত আগায়ে এসে আনিকার শূন্যে দোল খাওয়া একটা হাত পাকড়ায়। শক্ত করে আঁকড়ায়ে নেয়। তবে হাতটা অজানা অচেনা হলেও তাকে একঝটকায় ছাড়ায়ে দেওয়া, নিজের হাতকে গুটায়ে নেওয়া আনিকার পক্ষে সম্ভব হয় না। সে বরং ওই হাতের ওপর নিজেকে সমর্পণ করে দিয়ে, নিজের ভার তার ওপর ন্যস্ত করে নিয়ে কদম বাড়ায়। দুটো কদম ফেলে ওপারে মাটিতে পা দেয়।
ফলে আনিকার যেমন জলে পড়া, তাতে মাখামাখি হওয়া থেকে বাঁচা হয়, তেমনি অজানা-অচেনা এক হাতের সঙ্গে ছোঁয়াছুঁয়ি হয়ে যায়। তার পুরো দেহ কেঁপে ওঠার পথ নেয়। এমনকি আপনমনে কথা বলার পথেও আগায়।
কিন্তু এই ম্যাজিকি ছোঁয়া দিয়ে শরীরে আলোড়ন তোলা সে হাতের মালিক ছেলেটাকে এখন কোথায় পাই? তার খোঁজে আনিকা ঝোপের ওপাশে গিয়ে দেখে যেন চারদিক হাত-পা ছড়ানো জলের সুবিশাল আধার। রিসোর্টের নিজস্ব জলাশয়। তাতে ভাসা প্লাস্টিকে গড়া নৌকায় চড়া, ইচ্ছে হলে চালানোর নানা আয়োজন। তাই তার তীর ঘেঁষে লোকজনের বিপুল সমাগম।
তাদের মধ্যে আনিকা খোঁজাখুঁজি চালায়। প্রায় প্রত্যেকের চেহারায় চোখ বোলায়—কই! হাত ছুঁয়ে দেওয়ার সময় একঝলকের তরে দেখায় যৎসামান্য চিনে নেওয়া সুদর্শন ছেলেটা কোথায়? এতটুকু সময়ের মধ্যে তার তো বেশি দূর যাওয়ার কথা নয়। নিশ্চয়ই আশপাশে কোথাও তাকে পাওয়া যাবে। তখন ভালোমতো দেখে নেওয়া, প্রাথমিক আলাপটা জুড়ে দেওয়াও হয়তো সম্ভব হবে।
আনিকা তাই যখন আবার কদম বাড়াতে যায়, সামনে এগোনোর উদ্যোগ নেয়, ঠিক তখন ওপার থেকে একটা হাত আগায়ে এসে আনিকার শূন্যে দোল খাওয়া একটা হাত পাকড়ায়।সে আশায় ভর দিয়ে আনিকা জলাশয়ের পার ধরে আরও আগায়ে যায়। তার একেবারে ওপারে গিয়ে দাঁড়ায়—ওমা! এ দেখি ফুলের গাছের সাম্রাজ্য। তাদের মাথায় মাথায়, ডালের ডগায় ডগায় ফোটা হাজারো জাতের ফুলের বাহার। তাই তার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগে জড়ো হওয়া সবার মাঝখানে আনিকা তার কাঙ্ক্ষিত চেহারা, মাথায় একবোঝা চুলের তলায় ফরসা মুখাবয়বটা খুঁজে বেড়ায়।
কিন্তু তারে তো নয়ই এমনকি তার সদৃশ কোনো চেহারা খুঁজে না পেয়ে আরও পা বাড়ায় অনিকা। কদমের পর কদম চালিয়ে পশুপাখির আলয়, মানে রিসোর্টের মিনি চিড়িয়াখানায়ও ঢুঁ মেরে নেয়। তবে হায়! কোথাও তার মনের চাওয়া চেহারার দেখা-সাক্ষাৎ মেলে না।
স্কুলজীবনের কথা নাহয় শিকেয় তুলে রাখা, মানে বাদ দেওয়া, তবে কলেজ-ভার্সিটি জীবনে তো অনেকেই আনিকাকে চেয়েছে। উড়োচিঠি দিয়ে কাছে আসার বাসনার কথা জানিয়েছে ঠিকই, তবে সে নিজে কখনো কোনো ছেলেকে চেয়েছে কিংবা তার কাছ ঘেঁষার প্রয়াস নিয়েছে, এমন কোনো কাহিনি-কারবার আনিকার মনে পড়ে না।
তাই জীবনে এই একবার মাত্র যে ছেলেকে চাওয়া, তারে কাছে পাওয়ার বাসনায় পা দেওয়া তাকে খুঁজে না পেয়ে আনিকা আরও আগায়। সামনে পা বাড়ায়। শেষে পুরো রিসোর্টটাই যেনবা তার ঘুরেফিরে দেখা হয়ে যায়। তবে তারপরও ম্যাজিকি ছোঁয়া দেওয়া ছেলের দেখা মেলে না।
আনিকা তাই নালাখালের পথ বাদ দিয়ে তার ওপর পাতা চার বা সাঁকো আবার পার হওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে বরং ঘুরপথে মায়ের কাছে, তার নেওয়া স্টেশনস্থলে ফিরে যাওয়ার পথে পা দেয়।
কিন্তু একি! শরীরে কিসের টান? যেন চুম্বকের আকর্ষণ। মায়ের পানে পথ ধরার সঙ্গে সঙ্গে আনিকা লোহাকে চুম্বকের টেনে নেওয়ার মতো একটা টান বোধ করে। তাই সে আর কোনো দিকে নজর না দিয়ে, এতটুকু পা চালানোয় না গিয়ে সরাসরি মায়ের স্টেশনস্থল পানে আগায়।
আর যতই আগায়, টানটা যেনবা ততই জোরদার হয়। দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা দাঁড়ায়। আনিকা তাই জোর কদম চালায়, শেষে একেবারে ছুটে চলার মতো কদম।
তবে মায়ের কাছে গিয়ে, তার পাশে দাঁড়ায়ে আনিকা আরও দ্বিগুণ অবাক! নিজের চোখকে যেন নিজেরই বিশ্বাস হতে চায় না। কেননা সারা রিসোর্টে যে ছেলেকে আনিকার খোঁজাখুঁজিতে যাওয়া, যেন চষে ফেলা, সে ছেলে—দেখি একেবারে মায়ের কোল ঘেঁষে খাড়া হওয়া।
তার সঙ্গে তাহলে মায়ের এত ঘনিষ্ঠতায় যাওয়া কেন? তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্কটা তাহলে কী?
সে জিজ্ঞাসায় যাওয়ার আগেই আনিকার ছোট বোন পাশে এসে দাঁড়ায়, কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসানিতে যায়—এ তো তোমার বর হিসেবে মায়ের পছন্দ করা ছেলে। তার সঙ্গে তোমার দেখা-সাক্ষাতের জন্যই আজ আমাদের এই রিসোর্টে আসা।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: কদম ব ড় স মন ই এক ব র র এক ব ত রপর র ওপর র কদম
এছাড়াও পড়ুন:
ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের ১৫ কিলোমিটার তীব্র যানজট, ভোগান্তি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশের কাঁচপুর থেকে মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) সকালে মহাসড়কের ঢাকাগামী ও চট্টগ্রামগামী লেনের কাঁচপুর থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত এমন দৃশ্য দেখা যায়।
লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের যাত্রাকে ঘিরে লক্ষ লক্ষ মানুষের আগমনের কারণে এ যানজট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। এদিকে যানজটের ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মস্থলে যাওয়া যাত্রীরা।
জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর, জাঙ্গাল, লাঙ্গলবন্দসহ কয়েকটি পয়েন্টে পুণ্যার্থীরা যানবাহন থেকে নেমে রাস্তা পারাপারের কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পুণ্যার্থীদের আগমনের কারণে মহাসড়কে ভোর থেকেই যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, তীব্র যানজটের কারণে অধিকাংশ লোককেই পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে। অনেকেই আবার তীব্র যানজটের কারণে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন জরুরি কাজে বের হওয়া নারী ও বৃদ্ধরা। এদিকে বিভিন্ন যানবাহনে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
মনির হোসেন নামের এক চাকরিজীবী বলেন, মালিবাগ যাওয়ার জন্য ৩০ মিনিট আগে কাঁচপুর মোড় থেকে বাসে উঠেছি। কিন্তু রাস্তায় এত যানজট যে, বাস এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
শ্যামলী আক্তার নামের আরেক যাত্রী জানান, দীর্ঘক্ষণ বাসে বসে আছি। কতক্ষণ রাস্তার এই অবস্থা থাকবে জানি না।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি কাজী ওয়াহিদ মোর্শেদ জানান, ঈদের ছুটি থাকায় ঘরমুখো মানুষের চাপ রয়েছে এছাড়া লাঙ্গলবন্দের পুণ্যস্নানে প্রচুর পুণ্যার্থী আসায় গাড়ির চাপ বাড়ছে তাই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের একাধিক টিম মহাসড়কে কাজ করছে।