সাভারে চলন্ত বাসে ডাকাতি, যাত্রীদের মালামাল লুট
Published: 5th, April 2025 GMT
ঢাকার সাভারে প্রকাশ্য দিবালোকে যাত্রীবাহী চলন্ত বাসে ডাকাতি ও মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ব্যাংক টাউন ব্রিজ এলাকায় ‘ইতিহাস’ পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৬৮৭৩) এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
যাত্রীরা জানান, দুপুরের দিকে চন্দ্রা থেকে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসটি ছেড়ে আসে। বাস সাভারের ব্যাংক টাউন ব্রিজের কাছে এলে ৩ জন ব্যক্তি বাসে ওঠে। তারা ছুরি বের করে যাত্রীদের চুপ থাকতে বলে ধারালো ছুরির মুখে বাস যাত্রীদের জিম্মি করে যাত্রীদের কাছে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ফুলবাড়িয়া এলাকায় বাস থেকে নেমে যায়। ঘটনার পর স্থানীয়রা বাসটিকে আটক করে বাসের চালক ও হেলপারসহ সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
বাসটিতে থাকা রিপন সরকার নামে ভুক্তভোগী এক যাত্রী জানান, চন্দ্রা থেকে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে দুপুর দুইটার দিকে বাসটিতে ওঠেন তিনি। পথে ৩ জন ব্যক্তি বাসটিতে ওঠেন। পরে ওই ৩ জন ছুরি বের করে যাত্রীদের চুপ থাকতে বলে ধারালো ছুরির মুখে বাস যাত্রীদের জিম্মি করে। এ সময় যাত্রীদের নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ফুলবাড়িয়া এলাকায় বাস থেকে নেমে যায়।
তিনি বলেন, “ডাকাতরা ছুরি ধরে আমার পকেটে থাকা ৩৫ হাজার টাকাও নিয়ে গেছে। ডাকাতি শেষে বাসচালককে বাস থামাতে বলার পর চালক বাস থামালে তারা নেমে যায়।”
বাসে থাকা আরেকজন নারী যাত্রী বলেন, “বাস ব্যাংক টাউন ব্রিজের কাছে আসলে ৩ জন বাসে ওঠে। পরে দেখি তাদের হাতে ছুরি। পরে তারা ছুরি ধরে আমাকে বলে সবকিছু খুলে দিতে। আমি প্রথমে দিতে না চাইলে তারা ছুরিকাঘাতের হুমকি দেয়। পরে আমি নিজ থেকেই আমার কানের দুল খুলে দেই। এসময় তারা বাসের অন্যান্য যাত্রীদের কাছ থেকেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে যার সাথে যা ছিল, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল, ছিনিয়ে নিয়ে ফুলবাড়িয়া এলাকায় বাস থেকে নেমে যায়।”
এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.
‘ইতিহাস’ পরিবহনের পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, “ঘটনাটি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। যাত্রীরা জানিয়েছেন ৩ জন লোক অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকাসহ অন্যান্য মালামাল লুট করেছে। বাসে ৪০ জনের বেশি যাত্রী ছিল যদিও কেউ বাধা দেয়নি। এঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
সাভার মডেল থানার ডিউটি অফিসার এসআই নজরুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় টুনি নামে একজন ভুক্তভোগী বাসযাত্রী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। চালক ও হেলপার আমাদের হেফাজতে আছে, ওসি স্যার এসে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।”
এর আগে গত ২ মার্চ দুপুর ২টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের রেডিও কলোনী থেকে ব্যাংক টাউন এলাকায় ‘রাজধানী’ পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দলের ৬-৭ জন মিলে বাসে থাকা দেশীয় অস্ত্র বের করে বাসে থাকা ২০-২৫ জন যাত্রীকে জিম্মি করে যাত্রীদের নগদ টাকা, স্বর্ণালংঙ্কার ও মূলবান জিনিসপত্র লুট করে।
সাভারে চলন্ত বাসে ডাকাতি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংঙ্কার লুটতার আগে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পুলিশ টাউন এলাকায় ‘শুভযাত্রা’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী চলন্ত বাসে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সেসময় দুই ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে বাসের তিন যাত্রী আহত হন।
সাভারে দিনদুপুরে বাসে ছিনতাই, ছুরিকাঘাতে আহত ৩এরও আগে, গত ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিপিএটিসি’র সামনে ‘ওয়েলকাম’ পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি চলন্ত বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন।
চলন্ত বাসে যাত্রীদের জিম্মি করে লুট, ছুরিকাঘাতে আহত ১ঢাকা/সাব্বির/টিপু
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর চলন ত ব স পর বহন র স বর ণ ল নগদ ট ক এল ক য় র ঘটন
এছাড়াও পড়ুন:
শেরপুরে প্রশাসনের নজরদারি, তারপরও ১৫০ টাকার ভাড়া ৩০০ টাকা
প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযানের মধ্যেও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ঈদের পাঁচদিন পরও শেরপুর থেকে ময়মনসিংহের ভাড়া ১৫০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকা হয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা ভীষণ বেকায়দায় পড়েছেন। পাশাপাশি যাত্রীরা ভাড়া বেশি দিয়েও সেকথা বলতে পারছেন না ভয়ে। কারণ সংঘবদ্ধ একটি দালাল চক্র অটোরিকশা স্ট্যান্ডে অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে অপমান করছেন। ফলে কেউ মান -সম্মানের ভয়ে মুখ খুলতে চাচ্ছেন না।
এ চিত্র শুধু শহরের সদর থানার সামনে ময়মনসিংহগামী স্ট্যান্ডে নয়, শেরপুরের সকল সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডে একই চিত্র।
স্বজনদের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। শেরপুরের ওপর দিয়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী, রাজীবপুর, চিলমারী ও জামালপুরের বকশীগঞ্জ ও সানন্দাবাড়ির হাজারো মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন। ঈদের আগে এবং পরে প্রশাসন ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়। জরিমানাসহ শাস্তিও দেওয়া হয়। এতে ভাড়া কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু শুক্রবার থেকে কর্মস্থলমুখী যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সিন্ডিকেট ও চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু করে। খবর পেয়ে অভিযান চললেও এক স্ট্যান্ডের খবর অন্য স্ট্যান্ডে ফোনে জানিয়ে দেয় সিন্ডিকেট চক্র। ফলে যে স্ট্যান্ডে আধাঘণ্টা বা এক ঘণ্টার অভিযান চলে সেখানে ভাড়া সহনীয় হলেও অপরপ্রান্তে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় চলতে থাকে। আবার তদারকি দলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চলে আসার পর ফের শুরু হয়ে যায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। ফলে প্রশাসনের একার পক্ষে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, শেরপুর-ময়মনসিংহের দূরত্ব ৬৯ কিলোমিটার। এখানে ঈদের আগে ১৫০ টাকা ভাড়া ছিল। সেই ভাড়া বেড়ে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ৩০০ টাকা। স্ট্যান্ডগুলোতেও উপচে পড়া ভিড়ের সুযোগে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিন চাকার এ ভয়ঙ্কর যানে কর্মস্থলে ফিরছে যাত্রীরা।
শনিবার সকালে কথা হয়, গার্মেন্টস কর্মী মিনা বেগমের সঙ্গে। তিনি ও তাঁর আরও দুই সহকর্মী গাজীপুর যাবেন। রোববার সকালে তাঁকে কর্মস্থলে হাজির হতে হবে। ঈদে সিএনজি দিয়ে এসেছেন ময়মনসিংহ থেকে শেরপুরে। বাসের টিকিট না পেয়ে ঈদের পরেও ময়মনসিংহ যাচ্ছেন। সেখান থেকে বাস অথবা অন্য কোনো যানে যাবেন কর্মস্থলে। ওই নারী জানান, তাদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হবে। আসার সময় ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে এসেছেন। ঈদের পাঁচ দিন পরও ভাড়া দ্বিগুণ হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আরেক গার্মেন্টস কর্মী সুরাইয়া জাহান বলেন, তারা স্বল্প আয়ের কর্মী। কর্মস্থলে সঠিক সময়ে না গেলে বিপদে পড়বেন। কিন্তু যেভাবে ১৫০ টাকার ভাড়া ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে তাতে তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।
আকমল হোসেন চাকরি করেন একটি বেসরকারি ফার্মে। যাবেন ভালুকায়। তিনি বলেন, আসার সময় ময়মনসিংহ থেকে শেরপুর পর্যন্ত ভাড়া দিয়েছি ১৫০ টাকা। ফেরার সময় ৩০০ টাকা চাচ্ছে। কেন ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে এক চালক ও কিছু লোক অকথ্য ভাষায় কথা বলেছে এবং গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়েছে। লজ্জায় কাউকে বলতে পারছিন না।
এ ব্যাপারে অটোচালক আশরাফ আলীর ভাষ্য- গত কয়েকদিন যাবত লাইন দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে গ্যাস নিতে হচ্ছে। সেখানে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। আবার গ্যাসের থেকে হাওয়া বেশি দেয়। এছাড়া ময়মনসিংহ যাওয়ার পর ফেরার সময় যাত্রী পাওয়া যায় না। তাই ভাড়া বেশি না নিলে তাদের কিছুই থাকে না।
চালক হাবিবুর রহমান বলেন, সিএনজি স্টেশনে গিয়ে গ্যাস নিতে হলে জীবন যায়। মালিকরা দিনশেষে ভাড়া এক টাকাও কম নেন না। তাহলে আমরা চলব কিভাবে।
শহরের খোয়ারপাড় মোড়ে রৌমারী থেকে আসা যাত্রী আবুল হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আগে রৌমারী থেকে ২৫০ টাকায় শেরপুর আসতাম। আজ ৩০০ টাকা ভাড়া নিয়েছে। একই এলাকার শেরপুর শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়িগামী অটোচালকরা ১০-৩০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেশি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ যাত্রীদের। একই অবস্থা শহরের থানামোড়ে শেরপুর, জামালপুর ও নকলা, চন্দ্রকোনা স্ট্যান্ডে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, বাসস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ডে নজরদারি ও অভিযান চলছে। বাড়তি ভাড়া নেওয়ায় জরিমানা করা হচ্ছে। চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। এ অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।