২০২৩ সালে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানেন। অবসর নিলেও ভালোবাসার সাঁতারের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। বর্তমানে বেসরকারি একটি স্কুলে সুইমিং ইনস্ট্রাক্টর ও কোচ হিসেবে আছেন। পুলে একসময় ঝড় তোলা মাহফিজুর রহমান সাগর ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। সাঁতার নিয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন সমকালের কাছে।

সমকাল : সাঁতারু থেকে এখন ফেডারেশনের কমিটিতে.

..

সাগর : সত্যি কথা বলতে, আমি এখানে থাকার জন্য মরিয়া নই। যদি কাজ করতে পারি থাকব, না করতে পারলে থাকব না। এখন না, ভবিষ্যতে বা যে কোনো সময়। আমি পদ ধরে রাখতে বিশ্বাসী নই। আমি যদি এখানে কাজ না করতে পারি, তাহলে পদত্যাগ কিংবা অন্য যেটা প্রয়োজন সেটা করব। আমি তো দীর্ঘ সময় খেলোয়াড় হিসেবে সাঁতারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। এখানে দেখেছি অনেক সমস্যা। আমি চাই, ওই সমস্যাগুলো উতরে যদি ভালো কিছু করা যায় বা ভালো করার জন্য সবকিছু করার চেষ্টা করব। আমি যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়েছি, পরবর্তী প্রজন্ম যাতে সেগুলোর মুখোমুখি না হয়। মূল টার্গেট হচ্ছে সুইমিংয়ে কীভাবে উন্নতি করা যায়।

সমকাল: খেলোয়াড়ি জীবনে সমস্যায় পড়ার কথা বলেছেন। উল্লেখযোগ্য কী কী সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন?

সাগর : তালিকা করলে অনেক সমস্যা বের হয়ে আসবে। বললে শেষ হবে না। আমি আসলে কোনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পড়ি না। পড়ি না এই অর্থে, আমরা অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করতে পারিনি। অলিম্পিক তো অনেক দূরের কথা, এখন সাফ গেমসের কথা যদি বলতে হয়, সেখানে টার্গেট থাকে তো স্বর্ণ। এই পর্যায়ে আমার কাছে মনে হচ্ছে, সাফ গেমসে স্বর্ণ পাওয়াটা অনেক কঠিন। এ ছাড়া একটা খেলা পরিচালনার জন্য ন্যূনতম যে জিনিসগুলো দরকার, কোনো কিছুই নেই। মানটা একেবারে নিচে। যত নিচে আছে, ধরতে পারেন সাঁতারের অবস্থা সে রকম। অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে, যেগুলো এক দিনে দূর করা যাবে না। কিন্তু ধাপে ধাপে চেষ্টা করব। সদস্য হিসেবে আমার জায়গা থেকে যতটুকু করার করব।

সমকাল : সাঁতার ফেডারেশনে যারাই এসেছেন, তারা সব সময় নানা সমস্যার কথা বলেছেন। এগুলো কি কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নাকি কর্মকর্তাদের গাফিলতি ছিল বলে আপনি মনে করেন?

সাগর : এখন অনেকেই আছেন, যারা ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এখানে নাম আছে, ফেম আছে, জীবনের নিশ্চয়তা আছে; সবকিছুই কিন্তু ক্রিকেটে আছে। আমরা কোনো সাঁতারু, বর্তমান প্রজন্ম কিংবা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ওইভাবে দেখাইতে পারিনি যে, তোমরা সাঁতার করলে ভবিষ্যৎটা ভালো হবে। সুইমিং দিয়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে। সাঁতারু হলে জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তা আছে। এ রকম স্বপ্ন দেখাতে পারছি না আমরা। যদি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হয়, তাহলে আমার তো আর সাঁতার করার দরকার নেই– এমন ধারণাই সবার মধ্যে। আরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আছে। শুধু যে কর্মকর্তাদের সমস্যা তা নয়, এখানে সাঁতারুদেরও দুর্বলতা আছে। সাঁতারুদের কথা যদি বলি, তারা অল্পতে অনেক কিছু পেতে চায়। আমরা যাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি; যেমন– ভারত, শ্রীলঙ্কা; এরা অনেক মানসম্পন্ন। ওরা জানে কীভাবে নিউট্রিশন ব্যালান্স করা লাগে, কোন সময়ে কী করতে হবে। এটা তো ফিজিও, কোচের দায়িত্ব। তবে নিজেদেরও এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত, আমার শরীর আমাকে কী বলছে। আপনি দেখেন, বর্তমানে বাংলাদেশে সে রকম ভালো মানের কোচ নেই বললেই চলে। যে কোচ হাল ধরতে পারবেন যে, আমাকে দল দাও আমি প্রস্তুত করছি। এ রকম কিছুও নেই। আমাদের পরিস্থিতির বড় একটা পরিবর্তন না হলে সাঁতারে উন্নতি করা সম্ভব নয়। এটা যে খুব দ্রুতই সমাধান হবে, তা কিন্তু নয়। একটু সময় লাগবে।

সমকাল : সেই সুযোগগুলো তৈরি করার জন্য আপনি কী কী পরিকল্পনা তুলে ধরবেন?

সাগর : আমি সাঁতারু থাকা অবস্থায় যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়েছি, সেগুলো আমি কমিটির সামনে তুলে ধরব। যখন মিটিং হবে, তখন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানাব এগুলো করলে আমাদের ফেডারেশনের ভবিষ্যৎ ভালো হবে। পরিকল্পনার মধ্যে থাকতে পারে, কীভাবে প্রতিযোগিতা বাড়ানো যায় দেশে কিংবা বিদেশে। দীর্ঘমেয়াদি ট্রেনিং, ফিজিও, ইকুপমেন্ট দরকার; এগুলো তুলে ধরব। অনেক কিছু মিলিয়ে যদি পারি, তাহলে কমিটির সবাইকে বোঝাব। এখানে অর্থেরও বিষয় আছে। আর্থিকভাবে আমরা তো সেভাবে স্বাবলম্বী না। এর ভেতরে যতটুকু ম্যানেজ করা যায়।

সমকাল : ২০১৬ সাফ গেমসে স্বর্ণ ছিল। ২০১৯-এ নেপালে সাঁতারে গোল্ড আসেনি। সেভাবে বড় মাপের সাঁতারুও উঠে আসেনি।

সাগর : ২০১৬-এর পর ’১৭ ও ’১৮তে জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপ হয়নি। বাইরের দেশের সাঁতারুরা কিন্তু একটা নির্দিষ্ট জাতীয় প্রতিযোগিতার জন্য বসে থাকে না। ওরা ন্যাশনালের বাইরে আন্তর্জাতিক কিংবা স্কুল-ক্লাব প্রতিযোগিতায় খেলে। ওরা বছরে ট্রেনিং করে একটা ইভেন্টের জন্য। আর আমাদের তেমন কোনো টার্গেট নেই। শুধু ট্রেনিং করো, খেলা হলে খেলো, না হলে গতানুগতিক ট্রেনিংটা সেভাবে হয় না। ২০১৬ সালের পরের সময়টা এভাবে যাচ্ছে। ২০১৯ সালের সাফ গেমসে ব্যর্থ হয়েছে। যদি এখনও সাফ হয়, ১৯-এর পুনরাবৃত্তি হতে পারে। হয়তো বা আরও খারাপ হতে পারে। কিন্তু ভালোর জন্য চেষ্টা করতে হবে।

সমকাল : আপনার কি মনে হয়, সরাসরি অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করার মতো সাঁতারু বাংলাদেশে আছে?

সাগর : বাস্তব ক্ষেত্রে আমি যদি বলি, অলিম্পিকে সরাসরি কোয়ালিফাই করার জন্য যে টাইমিং প্রয়োজন, সেটা থেকে আমরা অনেক দূরে আছি। যদি প্রবাসী কোনো বাঙালি ওই লেভেলে থাকে, তাদের যদি খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলেই সম্ভব। এর বাইরে সরাসরি অলিম্পিকে খেলা অকল্পনীয় ও অবাস্তব। এখন যেটা করতে পারি, হয়তো এই অলিম্পিক নয়, পরের অলিম্পিককে টার্গেট করা।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: র জন য সমস য সমক ল

এছাড়াও পড়ুন:

২ দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি দিল ‘বিডিআর কল্যাণ পরিষদ’

দুই দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘বিডিআর কল্যাণ পরিষদ’। তারা আগামীকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। পাশাপাশি আলোচনা সভা করবে।

আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে পরিষদ। সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সভাপতি ফয়জুল আলমসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিষদ বলছে, তারা ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সাবেক বিডিআরের (বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ–বিজিবি) ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব করে। পরিষদের দুই দফা দাবি হলো চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের সব সুযোগ–সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহাল করা এবং জামিন পাওয়ার পরও মুক্তি না পাওয়া বিডিআর সদস্যদের মুক্তি দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সভাপতি ফয়জুল আলম বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ষড়যন্ত্রের শিকার চাকরিচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআর সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। তদন্ত কমিশনের প্রজ্ঞাপন থেকে উল্লিখিত ‘ব্যতীত’ শব্দ ও কার্যপরিধি–২–এর (ঙ) নম্বর ধারা প্রত্যাহার করতে হবে। স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কমিশনকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। মিথ্যা সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দণ্ডিত নিরপরাধ কারাবন্দী বিডিআর সদস্যদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

ফয়জুল আলম বলেন, চাকরিচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআর সদস্যরা গত বছরের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ একাধিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের একটি প্রতিনিধিদলকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁদের সব যুক্তিসম্মত সমস্যার সমাধান ১৫ মার্চের মধ্যে করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আশ্বাস প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে পূরণ করা হয়নি। তাঁরা নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তাঁরা মনে করেন, যৌক্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার ও দাবি আদায় করা সম্ভব হবে। এ জন্য তাঁরা ছয়টি নতুন কর্মসূচি দিয়েছেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ