রোনালদোর এবার জোড়া গোল, এক হাজারে পৌঁছাতে কত দিন লাগবে, জবাব দিল এআই
Published: 5th, April 2025 GMT
২০২১ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে আল হিলালের বিপক্ষে জয়বঞ্চিত ছিল আল নাসর। লিগে ৭ ম্যাচ এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েও জিততে পারেনি আল নাসর। গতকাল রাতে কিংডম অ্যারেনায় এই জয়খরা কাটাতে পেরেছে স্তেফানো পিওলির দল। সৌদি প্রো লিগের ম্যাচে আল হিলালকে হারিয়েছে ৩-১ গোলে, যা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যোগ দেওয়ার পর ‘ক্যাপিটাল ডার্বি’তে আল নাসরের প্রথম জয়। বিরতির পর দুটি গোল করে রোনালদো নিজে সে জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
৪৭ মিনিটে সাদিও মানের পাস থেকে প্রথম গোলটি করার পর ৮৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয় গোল করেন রোনালদো। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ১২৭২ ম্যাচে রোনালদোর গোলসংখ্যা এখন ৯৩১। অর্থাৎ ১০০০ গোলের মাইলফলকের দেখা পেতে পর্তুগিজ কিংবদন্তির চাই আর ৬৯ গোল। ৪০ বছর বয়সী এ ফুটবলারের হাজার গোলে পৌঁছাতে ঠিক কত দিন লাগতে পারে?
প্রশ্নটি এখন বেশির ভাগ ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর ক্লাবটির হয়ে এ পর্যন্ত ১০৪ ম্যাচে ৯৪ গোল রোনালদোর। ম্যাচপ্রতি ০.
অর্থাৎ, আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর গোলের মধ্যেই আছেন রোনালদো। যে কারণে তাঁর হাজার গোল নিয়ে জল্পনা-কল্পনাও বেড়েছে। তবে রোনালদোর পরিপুষ্ট পরিসংখ্যানে পেনাল্টি গোলের অবদান কম নয়। ১৭২টি গোল করেছেন পেনাল্টি থেকে, যা তাঁর ক্যারিয়ারের মোট গোলের ১৮ শতাংশ।
আরও পড়ুন‘ম্যারাডোনা ব্র্যান্ড’ নিয়ে ফুফুদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন তাঁর মেয়েরা১৩ ঘণ্টা আগেপ্রশ্ন হলো, হাজার গোলের দেখা পেতে রোনালদোর কত দিন লাগতে পারে। একেবারে সুনির্দিষ্টভাবে উত্তর দেওয়া অসম্ভব। তবে গণিত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় আন্দাজ তো করাই যায়। যেমন ধরুন, সৌদির ক্লাবটির হয়ে ম্যাচপ্রতি তাঁর ০.৯০ গোল গড়ের আলোকে বলা যায়, হাজার গোলের দেখা পেতে রোনালদোকে আরও ৭৯ ম্যাচ খেলতে হবে। চলতি মাস থেকে হিসাব করলে আরও প্রায় দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার হিসাবে, কোনো চোটে না পড়লে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ কিংবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে মাইলফলকটির দেখা পেতে পারেন রোনালদো।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী বলে
মেটা এআইকে একই প্রশ্ন করা হয়েছিল। কৃত্রিম এই বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিও মনে করে, ২০২৭ সালের শুরুর দিকে হাজারতম গোলের দেখা পাবেন রোনালদো। গ্রোকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি অবশ্য সময়টা একটু পিছিয়ে দেখাচ্ছে। ২০২৭ সালের মে থেকে আগস্টের মধ্যে রোনালদো মাইলফলকটির দেখা পেতে পারেন বলে মনে করছে তারা। গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি জেমিনি তিনটি সম্ভাব্য সময় দেখিয়েছে। আশার জায়গা থেকে বলা হয়েছে ২০২৬ সালের শেষ কিংবা ২০২৭ সালের শুরুতে হাজারতম গোলের দেখা পাবেন রোনালদো। বাস্তবতার জায়গা থেকে সময়টি ২০২৮ অথবা ২০২৯ হতে পারে। আর হতাশাবাদীর জায়গা থেকে বলা হয়েছে রোনালদো কখনোই হাজারতম গোলের দেখা পাবেন না। পর্তুগিজ তারকাকে চেনা থাকলে শেষ সম্ভাব্য পথটি হয়তো আন্দাজ করত না গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি।
আরও পড়ুনপৃথিবীতে খারাপ মানুষ আছে—এটা বুঝতে পেরে অকালে ঝরেছে যে আর্জেন্টাইন প্রতিভা১৪ ঘণ্টা আগেচলতি মৌসুম শেষে আল নাসরের সঙ্গে রোনালদোর চুক্তির মেয়াদ ফুরোবে। পর্তুগিজ কিংবদন্তি সৌদি ক্লাবটিতে থাকবেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। যদিও আলোচনা আছে, শিগগিরই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে। তবে রোনালদোর শেষবারের মতো ইউরোপে ফেরার সম্ভাবনাও আছে। যে ক্লাবের হয়ে ক্যারিয়ারের শুরু করেছিলেন, ফিরতে পারেন সেই স্পোর্টিং লিসবনে। এ প্রসঙ্গটি উঠছে হাজার গোলের বিষয়টি মাথায় রেখেই।
পর্তুগালের চেয়ে সৌদি ফুটবলে হাজারতম গোলের মাইলফলকের দেখা পাওয়া রোনালদোর জন্য তুলনামূলক সহজ। তবে ঘরে ফিরে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেওয়া এবং সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর তাৎপর্য অন্যরকম। রোনালদোর হাজারতম গোলের স্বপ্নপূরণ তাই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্তের ওপরও নির্ভর করছে।
আরও পড়ুনমৌসুম শেষেই সিটি ছাড়বেন ডি ব্রুইনা১৬ ঘণ্টা আগেউৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ক ত র ম ব দ ধ মত ত হ জ রতম গ ল র ২০২৭ স ল র পর ত গ জ গ ল কর আরও প
এছাড়াও পড়ুন:
রাজনীতি ছাড়ছেন না লো পেন, আইনি লড়াই করবেন
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ফ্রান্সের ডানপন্থী নেতা মারিন লো পেন রাজনীতি ছাড়ছেন না। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম টিএফওয়ানকে মারিন লো পেন বলেন, ‘আমাকে সরিয়ে দেওয়া হলো ঠিকই; কিন্তু একই সঙ্গে অসংখ্য ফরাসি নাগরিকের কণ্ঠরোধ করা হলো।’ তিনি জানান ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগের কোনো আইনি আবেদনের ওপর তাঁর ভরসা নেই।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সম্প্রতি লো পেনের সরকারি কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। আদালত জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর দল ন্যাশানাল র্যালি পার্টি (আরএন) তহবিলের প্রায় ৩০ লাখ ইউরো আত্মসাৎ করেছেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই তহবিল একমাত্র পার্লামেন্টের কাজেই ব্যবহার করার জন্য বরাদ্দ থাকে।
আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ছিলেন লো পেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন রাজনীতি ছাড়ছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমি আইনি পথ ছাড়ব না, আবেদন করব। আইনের যেটুকু রাস্তা খোলা আছে, তা সে যতই ছোট হোক, আমি সেই পথ ছাড়ব না।’
আদালতের রায়কে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন লো পেন। তিনি বলেন, ‘এই রায় গণতন্ত্রের পক্ষে ভয়ংকর। আমার ব্যক্তিগত কোনো লাভ হয়নি। তাই দুর্নীতির প্রশ্নই আসে না।’
লো পেন সাংসদ থাকতে পারবেন; কিন্তু তিনি পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে লড়তে পারবেন না।
লো পেনের বিকল্প কে?লো পেনের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ পাঁচ বছর। এর মধ্যে চার বছর তাঁকে বন্দি অবস্থায় থাকতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার রায় ঘোষণার আগেই শুনানি চলাকালে উত্তেজিত লো পেনকে আদালতকক্ষ থেকে চলে যেতে দেখা যায়। এই রায়ের পর আগামী নির্বাচনে তাঁর লড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
লো পেনের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর তাঁর দলের প্রেসিডেন্ট ২৯ বছর বয়সী জর্ডন বারদেলাকে ২০২৭ সালের নির্বাচনে প্রার্থী করা হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। জনপ্রিয়তার নিরিখে লো পেনের থেকে বেশ কিছুটা পিছিয়ে থাকবেন তিনি।
আদালত লো পেনের সঙ্গে তাঁর দলের আরও আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। একই সঙ্গে ১২ জন পার্লামেন্টারি অ্যাসিস্ট্যান্টকেও দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত।
রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়াএই রায়ের পর ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রুসহ একাধিক রাজনীতিবিদ আদালতের ভোটে লড়তে দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই রায়কে ‘খুব বড় বিষয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন ‘লো পেনের ওপর পাঁচ বছর ভোটে লড়ার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আমাদের দেশেও এ রকম হয়েছে।’
রাশিয়া এ ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে এই রায় ইউরোপের গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর।
আরও পড়ুনদোষী সাব্যস্ত লো পেন, সরকারি দায়িত্ব পালনে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা৩১ মার্চ ২০২৫