ইতালির পাদোয়া বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দুই বছর মেয়াদি স্নাতক এবং তিন বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে স্কলারশিপ দিচ্ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্য দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ নিতে পারবেন। ১২২২ সালে প্রতিষ্ঠিত পাদোয়া বিশ্ববিদ্যালয়, যা ইতালির দ্বিতীয় পুরোনো এবং বিশ্বের পঞ্চম প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি সেরা বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১১৫তম অবস্থানে রয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দ।

সুযোগ-সুবিধা—

প্রতি শিক্ষাবর্ষে টিউশন ফি মওকুফসহ মোট ৮ হাজার ইউরো

আরও পড়ুনইতালিতে উচ্চশিক্ষা: স্কলারশিপ, খণ্ডকালীন চাকরিসহ আছে ‘১৫০ ওরে’র সুযোগ০৫ অক্টোবর ২০২৪আবেদনের যোগ্যতা—

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হতে হবে

ইতালির নাগরিক নন, এমন প্রার্থী হতে হবে

ইতালিতে বাস করেন না এমন প্রার্থী

একাডেমিক ফলাফল ভালো হতে হবে

ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে

প্রথম আলো ফাইল ছবি.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

মন্দার পূর্বাভাস দিয়ে ফেলল জেপি মর্গ্যানসহ বিভিন্ন সংস্থা

দুর্যোগের মেঘ দেখে ফেলেছে বিশ্বখ্যাত মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মর্গ্যান। ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে মন্দার পূর্বাভাস দিল তারা। পূর্বাভাস দিতে যেমন বেশি সময় লাগেনি তাদের, তেমনি ‍মন্দা আসতে বেশি সময় না–ও লাগতে পারে বলে তাদের পূর্বাভাস। চলতি বছরেই আমেরিকান অর্থনীতি মন্দার মুখোমুখি হতে পারে বলে তাদের অনুমান।

মন্দা হলে তার সঙ্গে বেকারত্বও বাড়বে বা উল্টোভাবে বললে, বেকারত্ব বাড়বে বলেই মন্দা আসবে। জেপি মর্গ্যান সেটাই বলেছে। কোম্পানির প্রধান অর্থনীতিবিদ মাইকেল ফেরোলি বলেছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্টস বা জিডিপি) সংকুচিত হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির কারণেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে চলেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে মন্দা হলে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়বে। সারা বিশ্বে মন্দার আশঙ্কা ৬০ শতাংশ, জানিয়েছে জেপি মর্গ্যান। এর আগে তাদের পূর্বাভাস ছিল, মন্দার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও রয়টার্স

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এ প্রসঙ্গে ফেরোলি বলেন, ‘শুল্কের চাপে আমাদের জিডিপি সংকুচিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। গত বছর জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ। চলতি বছরে আমরা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি আশা করছি না।’ বেকারত্ব বৃদ্ধির পূর্বাভাসও দিয়েছেন ফেরোলি। তাঁর আশঙ্কা, চলতি বছরে আমেরিকার অর্থনীতি মন্দার মুখোমুখি হলে বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে উঠে যেতে পারে।

এদিকে ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণার আগেই গোল্ডম্যান স্যাকস পূর্বাভাস দেয়। তারাও মন্দার আশঙ্কা ২০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করে এবং তারা বলে, অর্থনীতির মৌলভিত্তিগুলো আগের বছরের মতো অতটা শক্তিশালী নয়।

বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি জানিয়েছে, মন্দার আশঙ্কা নিয়ে আলাপ-আলোচনা আরও বাড়বে। তারা আরও বলেছে, ইতিমধ্যে শেয়ারবাজার, বন্ড ও মুদ্রাবাজারের যে অবস্থা, তাতে মন্দার বাস্তবতা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এইচএসবিসির বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে শেয়ারবাজার পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেই পর্যবেক্ষণ থেকে তাঁরা বুঝতে পারছেন, বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যে মনে করছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ মন্দা আসার আশঙ্কা প্রায় ৪০ শতাংশ। এই আশঙ্কার কারণেই শেয়ারের বর্তমান দাম এবং বাজারে বিনিয়োগকারীদের কার্যকলাপ কিছুটা প্রভাবিত হচ্ছে; অর্থাৎ মন্দা আসার আশঙ্কা মাথায় রেখেই বাজারে কেনাবেচা চলছে।

এর মানে এই নয় যে মন্দা নিশ্চিতভাবেই আসবে, তার আশঙ্কা ৪০ শতাংশ; বরং শেয়ারবাজার বর্তমানে যে পরিস্থিতিতে আছে, তা সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া অন্যান্য গবেষণা সংস্থা যেমন বার্কলেস, বোফা গ্লোবাল রিসার্চ, ডয়েচে ব্যাংক, আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটস ও ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের মতো প্রতিষ্ঠানও সতর্কতা জারি করেছে। তারা বলছে, ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি জারি থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ মার্কিন অর্থনীতির মন্দার কবলে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে।

বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে বিভিন্ন দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশের পণ্যে আরোপ করা হয়েছে ৩৭ শতাংশ শুল্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ৯ এপ্রিল থেকে এই বর্ধিত শুল্ক কার্যকর করা হবে। তবে কোনো দেশ যদি এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করতে চায়, সে পথও খোলা আছে।

ট্রাম্পের এই শুল্ক–সংক্রান্ত ঘোষণার পরই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। গত ১১ মাসে এই পরিমাণ ধস হয়নি। মাত্র দুই ধাপে ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার সমপরিমাণ বাজার মূলধন কমেছে।

শুল্ক আরোপের ফলে বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি অনেক কমে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। তাঁদের পূর্বাভাস, আমদানি কমতে পারে অন্তত ২০ শতাংশ। সার্বিক ভাবে মার্কিন অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে। এ ছাড়া ট্রাম্পের শুল্কের জবাবে অন্যান্য দেশ যদি মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তাহলে রপ্তানির বাজারও মার খাবে। ইতিমধ্যে চীন মার্কিন পণ্যে ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ