আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের চতুর্থ কিস্তি পাওয়ার কথা ছিল গত ডিসেম্বরে। তবে এখনও তা পায়নি বাংলাদেশ। সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল গত ডিসেম্বরে ঢাকায় আসে। এর পর ঋণের এ কিস্তি অনুমোদনের জন্য আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদের সভায় ওঠার কথা থাকলেও দু’দফায় তা পিছিয়ে যায়।

এদিকে ঋণের অন্যতম শর্ত কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা থেকে সরকার অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে মুদ্রার বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার বিষয়েও সংস্থাটির প্রত্যাশা অনুসারে অগ্রগতি হয়নি। তবে অন্যান্য শর্ত পূরণ হওয়ায় আগামী জুনেই ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি একসঙ্গে ছাড়ের আশা করছে সরকার। এ অবস্থায় ঋণের শর্ত বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ফের ঢাকায় আসছে আইএমএফ মিশন। 

আজ শনিবার আইএমএফ প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় পৌঁছাবে। রোববার থেকে টানা দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করবে তারা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিদ্যুৎ বিভাগ, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড.

সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকটি হবে বলে জানা গেছে। 

আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। ২০২৬ সাল নাগাদ পুরো অর্থ পাওয়ার কথা। ইতোমধ্যে তিন কিস্তি বাবদ ২৩০ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। এ ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে প্রতিটি কিস্তি পেতে কিছু শর্ত পরিপালন করতে হচ্ছে। চতুর্থ কিস্তির সাড়ে ৬৪ কোটি ডলারের জন্য গত বছরের জুনভিত্তিক বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিল। 

চতুর্থ কিস্তির জন্য দেওয়া শর্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতি দেখতে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর ঢাকা সফরে আসে আইএমএফের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদের বৈঠকে এ প্রস্তাব ওঠার কথা ছিল। পরে তারিখটি পিছিয়ে করা হয় ১২ মার্চ। ওই তারিখেও প্রস্তাব ওঠেনি। আবার তা পিছিয়ে গেছে আগামী জুনে।  

এদিকে গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার ও আইএমএফের যৌথ সম্মতিতে চতুর্থ ও পঞ্চম দুই কিস্তি একসঙ্গে ছাড়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাজেট সাপোর্ট প্রোগ্রামের আওতায় যে সব সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হয় তার মধ্যে কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কিছু শর্ত পূরণ না হলেও আগের কয়েকটি কিস্তি তারা বাংলাদেশের অনুরোধে দিয়েছে। তবে সর্বশেষ ঢাকা সফর করে যাওয়া আইএমএফ প্রতিনিধি দল কর অব্যাহতি সুবিধা কমিয়ে রাজস্ব বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে। শর্ত অনুসারে, চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা। বাড়তি রাজস্ব আহরণের কৌশল হিসেবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই গত জানুয়ারিতে শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ায় সরকার। অবশ্য পরে কিছু পণ্য ও সেবায় শুল্ক-কর কমানো হয়।

জানা গেছে, আইএমএফ ঋণের শর্ত হিসেবে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কর আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা থেকে ৫২ হাজার কোটি টাকার বেশি পিছিয়ে ছিল সরকার। এর আগে গত বছরের জুন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন হয়নি। মূলত কর সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া এবং মুদ্রার বিনিময় হার আপাতত পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করতে রাজি না হওয়ায় ঋণের চতুর্থ কিস্তি পিছিয়ে যায়। তবে দুই কিস্তি একসঙ্গে ছাড়ের বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা করেছে। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে আগের মতো কিছুটা ছাড় দিলে এবং নতুন করে কোনো শর্ত না এলে আগামী জুনে অর্থ ছাড়ের আশা করছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।   

এ পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন শর্তের বাস্তবায়ন পর্যালোচনায় ঢাকায় আসছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বৈঠক শেষে আগামী ১৭ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করবে আইএমএফ মিশন। এর আগে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে তারা আরও একটি বৈঠক করবে বলে জানা গেছে।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: আইএমএফ আইএমএফ ঋণ আইএমএফ র গত বছর র ড স ম বর সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের রায়ে বেকায়দায় মমতা

প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের রায়ে অশান্ত হয়ে পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বলছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসক দলের নেতাদের দুর্নীতির কারণেই এ পরিণাম ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে।

তবে মমতা চাকরি হারানোর দায় কার্যত চাপিয়ে দিতে চাইছেন বাম দল, কংগ্রেস ও বিজেপির ঘাড়ে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, শিক্ষাসচিবসহ রাজ্য সরকারের নিয়োজিত আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পর মমতা একহাত নেন বাম দল ও বিজেপিকে। মমতা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এটা বিজেপি করিয়েছে, সিপিএম করিয়েছে। আমি অবাক হয়ে যাই, এখানে মামলাটা করেছেন কে? আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য (সিপিএমের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য)।’ কটাক্ষ করে বলেন, ‘তিনি তো পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম আইনজীবী। তিনি কেন এখনো নোবেল পাচ্ছেন না আমি জানি না। পাওয়া উচিত। ভাবছি, একটা সুপারিশ করব। ’

যদিও মমতার এ মন্তব্যের জবাব দিয়ে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘নোবেল দিলে দিক না? তবু তো একটা কিছু পেতে পারি? মানুষ বিপদে পড়লে ঈশ্বরের নাম নেয়, আর তৃণমূল আমার নাম নিচ্ছে।’

রাজ্যের বিজেপি সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মমতাকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘যোগ্য আর অযোগ্যর ফারাক করে দিতে না পারায় একসঙ্গে সবার চাকরি চলে গেল। এ জন্য দায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এর আগে এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী ওমপ্রকাশ চৌথালা জেলে গিয়েছেন। এবার আর এক মুখ্যমন্ত্রী জেলে যাবেন, তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, তাতে একা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় দায়ী হতে পারেন না। মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পুরো ক্যাবিনেটের জেলে থাকা উচিত।’

মমতা এদিন কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি ও এই মামলার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে মমতা কটাক্ষ করে বলেন,‘হাইকোর্টে যিনি এই মামলার রায় প্রথম দিয়েছিলেন, তিনি এখন বিজেপির সংসদ সদস্য। বিচার বিভাগ ছেড়ে দিয়ে বিজেপির সংসদ সদস্য হয়েছেন। গাঙ্গুলি না ডাঙ্গুলি! দুঃখিত। আমি জানি না তাঁর আসল নামটা। পরে জেনে নেব।’

মমতার এমন মন্তব্যের উত্তরে সংসদ সদস্য অভিজিৎ গাঙ্গুলি বলেছেন, ‘পাগলের প্রলাপ!’ তাই গতকালই রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা, বিজেপির বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারের। প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় বাম আমলে নিয়োগ দুর্নীতিতে চাকরি হারিয়েছিলেন ১০ হাজার ৩২৩ জন প্রার্থী। ঠিক তার পরের বছর ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছিল বাম ফ্রন্ট সরকারের। বিদায় নিতে হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের।

পশ্চিমবঙ্গে ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) সম্পূর্ণ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ওঠে, যাঁরা চাকরির পরীক্ষায় শূন্য পেয়েছেন, তাঁদের উত্তরপত্র বা ওএমআর শিটে ৫০–৫২ নম্বর দিয়ে বেআইনিভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে বঞ্চিত যোগ্য প্রার্থীরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে কলকাতা হাইকোর্ট  সিবিআইকে নির্দেশ দিলে সিবিআই তদন্ত করে প্রথম পর্যায়ে দুর্নীতির মাধ্যমে পাঁচ হাজারের বেশি চাকরি প্রাপকদের একটি তালিকা পেশ করে। তাতে নাম ওঠে অযোগ্য ৫ হাজার ২৪৩ জনের নাম। কিন্তু রাজ্য সরকার পৃথকভাবে অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা ভাগ না করে একসঙ্গে ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের নিয়োগ দেয়। আর যোগ্য প্রার্থীরা এ নিয়ে মামলায় লড়েন সেই ২০১৬ সালের নিয়োগের পর থেকে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত হওয়া কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি শাব্বর রশিদির নেতৃত্বে গড়া  বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ চাকরিতে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা ১১২টি মামলার একসঙ্গে শুনানি শেষে এক রায়ে ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল করে দিয়ে এই দুনীতির তদন্তের জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশ পাওয়ার পর সিবিআই তদন্ত শুরু করে অযোগ্য ৫ হাজার ২৪৩ জন প্রার্থীর তালিকা চায় রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের কাছে। কিন্তু পায়নি।

গতকাল সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পর চাকরিহারারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। কলকাতার বিধাননগরের এসএসসি দপ্তরের সামনে গতকাল তাঁরা প্রতিবাদ করেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • আজ ঢাকা আসছে আইএমএফের প্রতিনিধিদল
  • শেষ হলো তিন শহীদ বোনের স্মৃতি নিয়ে শিল্প প্রদর্শনী
  • শনিবার ঢাকায় আসছে আইএমএফের প্রতিনিধিদল
  • বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করতে চান ড. ইউনূস
  • ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার কথা বললেন অধ্যাপক ইউনূস
  • সীমান্তে হত্যা ঠেকানোর উপায় খুঁজতে নরেন্দ্র মোদিকে ড. ইউনূসের আহ্বান   
  • পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের রায়ে বেকায়দায় মমতা
  • যমজ একভাই চোখের সামনে, অন্য ভাই কবরে