Samakal:
2025-04-05@03:23:21 GMT

নদী গিলে খাচ্ছে পৌর ময়লায়

Published: 5th, April 2025 GMT

নদী গিলে খাচ্ছে পৌর ময়লায়

আখালিয়া নদীর তীরে গড়ে উঠেছে ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ভাগাড়। এসব আবর্জনা ক্রমশ নদীর অস্তিত্ব বিপন্ন করছে। পরিবেশ দূষিত হওয়ায় দুর্গন্ধে এলাকায় বসবাস করা দুষ্কর হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পৌরসভার এসব আবর্জনা শুধু নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করছে না পাশাপাশি জলজ প্রাণী ও আশপাশের মানুষের জীবনযাত্রায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ভালুকজান ব্রিজ, চান্দের বাজার ব্রিজ, পৌরসভার সামনে কাঠের ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় আবর্জনার স্তূপ। একটু বৃষ্টি হলেই নদীর পার ঘেঁষে পৌরসভার ময়লার স্তূপ থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল বস্তু নদীতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার আখালিয়া নদী একসময় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ উদ্ভিদের জন্য উপযোগী ছিল। কিন্তু নদীটির পানি এখন দূষিত হয়ে গেছে। কিছু দিন আগেও দেখা যেত ছোট ছোট ব্রিজের ওপর দিয়ে শিশুরা লাফিয়ে লাফিয়ে গোসল করত, যা এখন আর দেখা যায় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার ভাগাড়ের ময়লার দুর্গন্ধে এখন নদীর ওপর কাঠের ব্রিজে চলাচল করাই দুরূহ হয়ে পড়েছে। নদীর আশপাশে বসবাসকারী মানুষও পড়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

ময়লা-আবর্জনার কারণে বর্ষা মৌসুমে আখালিয়া নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে; যা দীর্ঘমেয়াদে নদীর নাব্য হ্রাস করতে পারে। এটি বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় অনেকে। পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আবুল ফজল বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের এই অব্যবস্থাপনার ফলে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে এবং বাস্তুসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনগণ দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চায়। 

পৌরবাজারের ব্যবসায়ী নাজমুল হক সরকার কলেন, ‘এই আখালিয়া নদীর অস্তিত্ব রক্ষা করা শুধু পরিবেশগত দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অপরিহার্য। পৌরসভার কার্যকর উদ্যোগ ও সহযোগিতায় নদীটিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা দূর করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হারুনর রশিদ জানান, পৌর বর্জ্য ফেলার জন্য নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। ময়লা ফেলার জায়গা ক্রয়ে অনেক টাকা প্রয়োজন, যা পৌরসভার নেই। তবে পৌর বর্জ্য অন্যত্র ফেলার ব্যবস্থার উদ্যোগ নিতে হবে।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ময়মনস হ প রসভ র ব যবস

এছাড়াও পড়ুন:

আজ ঢাকা আসছে আইএমএফের প্রতিনিধিদল

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের বাকি ২৩৯ কোটি ডলার বাংলাদেশ পাবে কিনা তা নিশ্চিত করতে শনিবার (৫ এপ্রিল) ঢাকায় আসছে সংস্থাটির প্রতিনিধিদল।

সফরে ভর্তুকি কমানো, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করাসহ বিভিন্ন শর্ত নিয়ে সরকারের সঙ্গে বৈঠক করবে তারা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আইএমএফের কিস্তি আটকে গেলে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে রক্ষণশীল হতে পারে বিশ্বব্যাংক, এডিবির মতো উন্নয়ন সহযোগীরা।

তবে অর্থ উপদেষ্টা বলছেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এই মুহূর্তে আইএমএফের সব শর্ত বাস্তবায়ন করা যাবে না।

অর্থপাচার, খেলাপি ঋণসহ নানা কারণে বাংলাদেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতির সহায়তায় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ দেওয়া শুরু করে আইএমএফ। এ পর্যন্ত তিন কিস্তিতে ২৩১ কোটি ডলার পাওয়া গেছে। বাকি দুই কিস্তির ২৩৯ কোটি ডলার বাজেট সহায়তার জন্য একসঙ্গে চায় সরকার। যা মিলতে পারে জুনে।

চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি একসঙ্গে ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পালনের অগ্রগতি দেখতে ঢাকায় আসছে আইএমএফের একটি দল। ঋণ পেতে মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, জিডিপির দশমিক পাঁচ শতাংশ হারে বাড়তি রাজস্ব আদায়, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোসহ বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। যা নিয়ে ৬ এপ্রিল থেকে টানা দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারা। 

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্থিতি নানা উদ্যোগেও আটকে আছে ৯ শতাংশে। এ অবস্থায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনমনে অসন্তোষ বাড়াবে। অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবীর বলেন, “বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে বা এ খাতে ভর্তুকি তুলে নেওয়া হলে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হবে। তার দায় কে নেবে?”

আইএমএফের শর্ত মেনে অন্তত ৫৭ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আদায় করতে হবে। কমাতে হবে কর অব্যাহতি। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ট্যাক্সের ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এগুলো বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য দেওয়া হয়। এটি যৌক্তিকরণের একটি পরিকল্পনা করতে হবে।”

ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে বিনিময় হার নির্ধারণ করায় হু হু করে বাড়তে থাকা ডলারের দাম আপাতত ১২২ টাকায় স্থিতিশীল। এবার আইএমএফই চায় এই পদ্ধতি থেকে বের হোক বাংলাদেশ। যার সঙ্গে একমত নন খোদ অর্থ উপদেষ্টা।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার মতো হতে পারে। বিপদে পড়তে হবে। এই সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগবে।”

তবে আইএমএফের শর্ত মেনে এনবিআরের রাজস্ব নীতি থেকে রাজস্ব প্রশাসনকে আলাদা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

ঢাকা/হাসান/ইভা 

সম্পর্কিত নিবন্ধ