Samakal:
2025-04-05@01:45:53 GMT

তিন রাজু তিন রকম

Published: 5th, April 2025 GMT

তিন রাজু তিন রকম

ধ্রু ব অরণ্য বয়সে ছোট হলে কী হবে, বড় ভাই আরিয়ান তূর্য তার সঙ্গে পেরে ওঠে না। অনেক কিছুই ধ্রুব আগেভাগে বুঝে ফেলে। আরিয়ান তখন গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খায়। বই পড়ার কথাই ধরা যাক না কেন! ধ্রুব এলোমেলোভাবে বইয়ের পাঁচ থেকে সাতটা পৃষ্ঠা খুললেই বলতে পারে, ভেতরে ছবি আছে কী নেই। অন্যদিকে এটি বোঝার জন্য আরিয়ানকে একটা একটা করে পুরো বইয়ের পাতা ওল্টাতে হয়। বোকা না আরিয়ানটা!

আব্বু ছোট-বড় সবার বই-ই পড়েন। যখন তিনি পড়েন দুই ভাইয়ের চেষ্টা থাকে, বইয়ের ভেতরটা উল্টেপাল্টে দেখা। বইয়ে ছবি থাকলে সেটিই ভালো, না থাকলে পচা। সেদিন আব্বু ভালো একটি বই পড়ছিলেন। বইটার নামটাও ভারী সুন্দর– রাজুর ভূতুড়ে ম্যাজিক। লেখকের নাম মুহসীন মোসাদ্দেক। ধ্রুব যথারীতি বই উল্টেপাল্টে দেখে বললো, ‘আব্বু, এই বইয়ের নাম কী?’
‘রাজুর ভূতুড়ে ম্যাজিক।’
‘কিন্তু এটা তো রাজু না!’
প্রচ্ছদের দিকে আঙুল উঁচিয়ে বললো সে। আব্বু যেন কিছু একটা বোঝার চেষ্টা করলেন। একটু ভেবে বললেন, ‘এটাই রাজু। বইয়ের ভেতরে নামগল্পেও রাজুর ছবি আঁকা হয়েছে।’
আরিয়ান তূর্য এবার বিপুল বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে বললো, ‘এটা রাজু হলে মীনা কই?’
আব্বু এতোক্ষণে বুঝতে পারলেন বিষয়টা। ওরা বইয়ে ছবি আর টেলিভিশনে কার্টুন দেখতে দেখতে রাজুকে ভালোভাবেই চিনে গেছে। তাই অন্য রাজুকে সন্দেহ করে!
আব্বু দুই ভাইকেই বোঝানোর চেষ্টা করেন, এটা হচ্ছে আরেক রাজু। 

সেটা দুজনের একজনও মানলে তো! রাজুর চেহারা এমন নয়। আর রাজু ম্যাজিকও দেখায় না। আব্বু বুঝে গেলেন কার্টুনের রাজু-মীনার বাইরে যে এই নামে আরও কেউ থাকতে পারে, ওরা মেনে নেবে না। অবশ্য আরিয়ান ধ্রুব’র বয়সী হলে তিনিও নিশ্চয়ই আপত্তি জানাতেন। 

বোঝাতে না পেরে আব্বু আবার পড়ায় মনোযোগ দিলেন। এই বইয়ে মজার ভূতের গল্প আছে। অন্যান্য গল্পের বইয়ে ভূতগুলো ভয়ংকর হলেও এটাতে ভূতগুলো যথেষ্ট ভালো ও মিষ্টি। মানুষকে ভয় দেখায় না। এটা ওটা কেড়ে নিয়ে খেতে চায় না।

আব্বু বেশিক্ষণ পড়ায় মনোযোগ রাখতে পারলেন না। কিছুক্ষণ পরে বেজে উঠল কলিং বেল। যে কেউই বেল বাজাক, দুই ভাই আনন্দ নিয়ে দরজার কাছে চলে যাবেই। এখনো গেলো। আব্বু দরজা খুলতেই দেখলেন, একজন চাচি আর একটা বাবু দাঁড়িয়ে আছে। চাচি আব্বুকে পরিচয় দিয়ে বললেন, ‘আমরা উপরের ফ্ল্যাটে এসেছি। পরিচিত হতে এলাম।’
‘খুব ভালো। আসুন।’
আব্বু ভেতরে নিয়ে এলেন তাদের। আম্মুর সঙ্গে বোধহয় আরও আগেই পরিচয় হয়ে গিয়েছিলো, তিনি মেহমান দেখে বলে উঠলেন– ‘আরে আপা, আপনি! এদিকে আসুন। আপনাকে একটা জিনিস দেখাই।’
কী দেখানো হচ্ছে, সেদিকে গেলো না ওরা। আব্বু বাবুকে আদর করে জিজ্ঞেস করলেন- ‘তোমার নাম কী?’
‘আমার নাম রাজু।’
এমন জবাবে আরিয়ান-ধ্রুব দুজনেই চমকালো। সমস্বরে বললো, ‘হতেই পারে না! ও মিথ্যা বলছে, আব্বু!’
আব্বু হেসে বললেন, ‘ছোটরা কখনো মিথ্যা বলে না। ওর নাম রাজু।’
দুজন মাথা চুলকাল একসঙ্গে- ‘কিন্তু.

..!’ 
‘কোনো কিন্তু নয়। ও আজ থেকে তোমাদের বন্ধু।’
ধ্রুব প্রশ্ন করলো, ‘ওকে আমরা কী ডাকবো?’
‘রাজু। রাজু ভাইয়া।’
এবার আরিয়ান বললো, ‘আচ্ছা রাজু, তোমার নাম কি আসলেই রাজু?’
‘হ্যাঁ। র আকার রা, বর্গীয় জ হ্রস্ব উকার জু।’
‘তাহলে টেলিভিশনে তোমাকে দেখি না কেন? আরেকজন রাজুকে দেখায় কেন!’
‘কার্টুনের রাজু আর মানুষ রাজু কিন্তু এক নয়!’
‘তুমি তো দেখছি বড়দের মতো অনেক কিছু জানো!’
‘হ্যাঁ। জানি। যতো বড় হবো, আরও জানতেই থাকবো।’
ধ্রুব বললো এবার– ‘তুমি যে রাজু, এটা আমরা অন্যদের বিশ্বাস করাবে কীভাবে?’
‘খুব সহজ। তোমরা চাইলে আমার ছবি আঁকতে পারো। তারপর এই বিল্ডিংয়ে সবাইকে, বাইরের মানুষজনকে দেখিয়ে বলতে পারো এটা রাজুর ছবি!’
‘এতেই হবে?’
‘হয়ে যাবে। এই ছবি অন্যরা দেখতে দেখতেই চিনে যাবে এই এলাকার রাজু আসলে কে!’ 
আব্বু সায় দিয়ে বললেন, ‘রাজু ঠিক কথা বলেছে। প্রচার ও বিজ্ঞাপনের একটা শক্তি আছে। সহজেই পরিচিত করানো। ঠিক এই কারণেই তোমরা কার্টুনের মীনা-রাজুকে ভালোভাবে চিনলেও বাস্তবের এই রাজুকে মেনে নিতে পারছো না।’
আরিয়ান বললো, ‘না, আব্বু। বিশ্বাস করেছি তো! এই রাজু আমাদের বন্ধু! আমরা এখন একত্রে খেলবো। ট্রেনের উপরে ঘোড়ার গাড়ি বসিয়ে দিলে কীভাবে টগবগ করে দৌড়ায়!’
রাজু বললো, ‘কই বন্ধু, দেখি তোমাদের ট্রেন আর ঘোড়ার গাড়ি!’
সাবধান বাণী দিয়ে ধ্রুব বললো, ‘বের করছি। কিন্তু খবরদার, ঘোড়ার উপরে ট্রেন বসাবে না। তাহলে ঘোড়া কাটা পড়ে মারা যাবে!’

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: আর য় ন বইয় র বলল ন

এছাড়াও পড়ুন:

ঢাকায় ফেরার পথেও স্বস্তি

ঈদযাত্রার কথা ভাবলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে বাস-ট্রেনে উপচে পড়া ভিড়। কখনও ট্রাকে, ট্রেনের ছাদে চড়ে গন্তব্যে ছুটছে মানুষ। ফেরার পথেও অন্তহীন ভোগান্তি। কিন্তু এবার যেন এসবের কিছুই ছিল না। সড়কে নেই যানজট। যাত্রীবাহী গাড়ি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাবলীলভাবে ফিরছে গন্তব্যে। এবারের ঈদুল ফিতরে এখন পর্যন্ত যাতায়াতে দেখা গেছে বিরল স্বস্তি। ছুটি কাটিয়ে অনেকেই ফিরতে শুরু করেছেন রাজধানীতে। ফেরার পথেও এ ধারার ব্যত্যয় ছিল না। 

গতকাল শুক্রবার কমলাপুর রেলস্টেশন, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরা যাত্রীরা ভালো অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।  রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশকে দায়িত্ব পালনে নিরলস দেখা গেছে। কোথাও সামান্য যানজট দেখা দিলেই এগিয়ে এসে পরিস্থিতি ঠিক করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে তাদের। সায়েদাবাদে আসা কয়েকজন বাসচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকামুখী যাত্রীতে তাদের বাসের সব আসন পূর্ণ ছিল। সড়কে বিশৃঙ্খলা বা যানজট ছিল না।

আজ শনিবার বন্ধের দিন হলেও এক দিন আগেই অনেকে কর্মক্ষেত্রের উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন। কমলাপুর রেলস্টেশনে রাজধানীতে ফেরা যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। আবার অনেকে নানা গন্তব্যে ঢাকা ছাড়ছেন। দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে যাচ্ছেন কেউ কেউ। তবে সার্ভার জটিলতায় সকালে ঢাকার বাইরে যাওয়া কয়েকটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। 

সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশনে একের পর এক ট্রেন ভিড়ছে যাত্রী নিয়ে। এ সময় কয়েকটি ট্রেন ঢাকাও ছাড়ে। প্রায় সব ট্রেনেই ছিল যাত্রীর ভিড়। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে থেকে আসা ট্রেনগুলোতে ছিল বেশি ভিড়। 

হবিগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসা তন্ময় শিকদার বলেন, ‘আমি হয়তো এক দিন পরই আসতাম। কিন্তু টিকিট পেয়েছি শুক্রবারের। তাই আজই আসতে হলো। রোববার থেকে অফিস।’ এবারের ঈদযাত্রার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এবারের মতো স্বস্তির ঈদযাত্রার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। আমি চাই প্রতিবার ঈদ যাতায়াত যেন এ রকম হয়। বাড়তি ভাড়াও গুনতে হয়নি এবার।’ 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসনাইন আহমেদ বলেন, ‘সোমবার থেকে আমার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শুরু। ইচ্ছা না থাকলেও আসতেই হবে। এবার নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলেও শেষমেশ ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই নেত্রকোনা থেকে ঢাকা যাওয়া-আসা করতে পেরেছি।’

এ বিষয়ে কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন বলেন, কমলাপুর স্টেশনে যত ট্রেন এসেছে, সবগুলোতেই বিপুলসংখ্যক যাত্রী ছিল। তারা স্বাচ্ছন্দ্যেই ভ্রমণ করেছেন। আসার পথে কোনো সমস্যা হয়নি। 

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে রাজধানীতে ফেরা কর্মজীবী মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। সড়কপথের পাশাপাশি লঞ্চে ফিরছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরিশাল নদীবন্দর ছিল লোকারণ্য। নির্ধারিত লঞ্চে ধারণক্ষমতার বেশি হওয়ায় হাজারের বেশি যাত্রী পন্টুনে থেকে গেছেন। 

পরে তারা সড়কপথে ঢাকায় যাত্রা করেন। তবে এবার লঞ্চ টার্মিনালে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেক কম ঘটেছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ