Samakal:
2025-04-04@23:55:33 GMT

পরিবারটির কেউ বেঁচে রইল না

Published: 5th, April 2025 GMT

পরিবারটির কেউ বেঁচে রইল না

এক সড়ক দুর্ঘটনায় শেষ হয়ে গেল পুরো পরিবার। মা-বাবা ও দুই বোনের পর মৃত্যুর কাছে হার মানলেন পরিবারে বেঁচে থাকা একমাত্র সদস্য কলেজছাত্রী তাসনিয়া ইসলাম প্রেমাও। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়ায় বাস ও মাইক্রোবাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রফিকুল ইসলাম শামীম, তাঁর স্ত্রী লুৎফুন নাহার সুমি এবং তাদের দুই মেয়ে আনীসা আক্তার (১৪) ও লিয়ানার (৮)।

তবে সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান পরিবারের একমাত্র সদস্য প্রেমা। তার পর থেকেই তিনি ছিলেন সংজ্ঞাহীন। তিন দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁর আর ঘুম ভাঙেনি। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। 

গত বুধবারের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রেমা (১৮) বেঁচে গেলেও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর মস্তিষ্ক। তার পরও জ্ঞান ফেরাতে সব ধরনের চেষ্টা চালান চিকিৎসকরা। প্রথমে চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওই দিনই প্রথম রোগী হিসেবে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রায় তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকলেও ফেরেনি জ্ঞান; মেলেনি কোনো সাড়াও। চিকিৎসকদের সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে না-ফেরার দেশেই চলে যান তিনি। মা-বাবা ও দুই বোনের পর তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই পরিবারটির আর কেউ বেঁচে রইল না। এ নিয়ে লোহাগাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১। 

পরিবারের সবার মৃত্যুর কারণে হাসপাতালে প্রেমাকে ভর্তির পর থেকেই পাশে ছিলেন তাঁর ছোট মামি জেসমিন রহমান। গতকাল প্রেমার মৃত্যুর সংবাদ আসার পর থেকেই তাঁর বিলাপ ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের চারপাশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জেসমিন বলেন, আল্লাহ পরিবারের শেষ অবলম্বনটুকুও রাখল না। কী অপরাধ ছিল তাদের? 

চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা.

হারুন-অর-রশিদ বলেন, প্রেমাকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টাই করেছি আমরা। দুর্ঘটনায় তাঁর মস্তিষ্ক গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। যে কারণে ঘটনার পর থেকেই তিনি সংজ্ঞাহীন ছিলেন। 

হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল বলেন, হাসপাতালে আনার পর থেকেই তাঁর মস্তিষ্কের মাত্রার অবস্থা ছিল খুব খারাপ। প্রাণে বাঁচলেও বাসের ধাক্কায় তাঁর মাথা গুরুতরভাবে আঘাতগ্রস্ত। 

প্রেমার স্বজন জানান, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার যাওয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই দুই পরিবারের সদস্যরা নানা পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেন। অবশেষে ছুটিতে রফিকুল ও লুৎফুন দম্পতি তাদের তিন মেয়ে এবং রফিকুলের সহকর্মী ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার দিলীপ বিশ্বাস, তাঁর স্ত্রী সাধনা মণ্ডল ও ছয় বছরের শিশুসন্তান আরাধ্যা বিশ্বাসসহ পর্যটননগরী কক্সবাজারে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে গত বুধবার সকাল ৭টার দিকে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আটজনের। 

রফিকুল ইসলাম ঢাকার মিরপুরে পরিবার নিয়ে থাকতেন। তাদের বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা এলাকায়। ভাতিজা পারভেজ ফকির বলেন, কয়েক বছর ধরে তিনি পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসার কথা বলে আসছিলেন। এবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার কথা বড় ভাইকে জানিয়েছিলেন। পরে বাড়িতে যাওয়া বাতিল করে অফিসের সহকর্মীর সঙ্গে কক্সবাজার ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার রাতে চাচা মোবাইল ফোনে ভিডিও কল দিয়ে বাড়ির সবার সঙ্গে কথাও বলেন। কে জানত এই কথা শেষ কথা হবে! সেখান থেকে আর বাড়িতে ফিরতে পারলেন না তিনি। 

ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হলো শিশু আরাধ্যাকে

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছয় বছর বয়সী শিশু আরাধ্যা বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। এ কারণে গতকাল দুপুরের দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতাল থেকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবারের দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তার বাবা ও মা। দুর্ঘটনায় আরাধ্যার দুই পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। আঘাত পেয়েছে মাথা, হাত, বুকসহ বিভিন্ন অংশে। রক্ত জমাট বেঁধেছে শরীরের নানা অঙ্গে। 

গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় আরাধ্যার সঙ্গে স্কয়ার হাসপাতালে থাকা আত্মীয় অসিত কুমার বাড়ৈ মোবাইল ফোনে সমকালকে বলেন, আরাধ্যাকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তির পর থেকে তার বিভিন্ন পরীক্ষা করার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: র পর থ ক ই ত দ র ঘটন য় পর ব র র আর ধ য ন র পর ত র পর অবস থ গতক ল

এছাড়াও পড়ুন:

ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা, পালাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা

গাজায় ইসরায়েলের বর্বর হামলা ও গণহত্যার মুখে প্রতিনিয়ত বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। উপত্যকাটির ৯০ শতাংশ মানুষ নিজের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। একবার-দু’বার নয়, অনেক পরিবার চার-পাঁচবারও বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছে। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্লান্তিকে সঙ্গী করে কোনো ধরনের চিকিৎসা ছাড়াই গাজার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুলে চলেছেন বাসিন্দারা।

দেড় বছর ধরে দখলদার দেশটির তীব্র আগ্রাসনে সহায়-সম্বল ও পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তারা। সর্বশেষ রাফা ও গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুতি আদেশের ফলে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি আবারও পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। খবর আলজাজিরা ও রয়টার্সের। 

গাজা সিটির আগে থেকেই বাস্তুচ্যুত এক বয়স্ক ব্যক্তি আবু হাজেম খালেফ আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমাদের এখন সবচেয়ে বড় সংগ্রাম হলো বাস্তুচ্যুতি। এই পরিস্থিতি কীভাবে সামলাব, তা আমাদের জানা নেই। আমি গাজা শহরের পশ্চিমে যাচ্ছি, এমন কোনো রাস্তা খুঁজছি, যেখানে আমি তাঁবু স্থাপন করতে পারি।’ 

আরেক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি মাহমুদ আল-ঘারাবলি যোগ করেন, আমাদের জোর করে চলে যেতে হচ্ছে এবং আমরা কোথায় যাব, তাও জানি না। আমরা ক্লান্ত এবং সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি। 

ইসরায়েলি বাহিনী আবারও একের পর এক এলাকাকে নিয়ন্ত্রণে নিতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় অফিসের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুসারে, ইসরায়েল এখন গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে। বিশাল এলাকাকে নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা কিংবা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির আদেশ জারি করে তারা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। বিধিনিষেধযুক্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ রাফার একটি বিশাল অংশ। সেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গত সোমবার একটি নতুন বাস্তুচ্যুতি আদেশ জারি করে ঘোষণা দেয়, তারা প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে লড়াই করতে ফিরে আসছে। 

বিধিনিষেধগুলো গাজা সিটির কিছু অংশকেও অন্তর্ভুক্ত করে। সেখানে দেশটির সেনারা শুক্রবার সকালে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ সম্প্রসারণের জন্য স্থল আক্রমণ শুরু করেছে। এই ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি যুদ্ধের সবচেয়ে বড় গণবাস্তুচ্যুতিগুলোর মধ্যে একটিকে সূচিত করেছে। ফলে আগে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হওয়া লাখ লাখ ফিলিস্তিনি আবারও পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। 

হামাসকে কোণঠাসা করতে আক্রমণাত্মক অভিযান তীব্র করার হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমরা এখন এই উপত্যকা ভাগ করছি এবং ধাপে ধাপে চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছি। ফলে তারা যেন জিম্মিদের আমাদের হাতে তুলে দেয়। 

স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র এবং গাজার নাগরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মতে, শুক্রবার ভোর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। আগের দিন তীব্র বোমাবর্ষণের পর এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওইদিন অন্তত ১১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই নারী ও শিশু।

বৃহস্পতিবার তুহফা এলাকায় তিনটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৮ শিশুসহ অন্তত ৩৩ জন নিহত হন। এসব হামলায় শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে শুধু দার আল-আরকাম স্কুলে হামলায় ১৮ শিশুসহ ২৯ জন নিহত হন। স্কুলটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিল। ওই স্কুলটিতে কমপক্ষে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। 

উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ নিয়ে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় কমপক্ষে ৫০ হাজার ৫২৩ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হলো। আহতের সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজারেরও বেশি। উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েক হাজার মানুষের মৃতদেহ পড়ে আছে বলেও ধারণা করা হয়। 

দক্ষিণ লেবাননে হামাসের শীর্ষস্থানীয় এক নেতাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আইডিএফ। শুক্রবার তারা জানায়, সিদন অঞ্চলে হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কমান্ডার হাসান ফারহাতকে হত্যা করা হয়েছে। আইডিএফের দাবি, গাজায় যুদ্ধ চলাকালীন ইসরায়েলের বেসামরিক ও সামরিক ব্যক্তিদের ওপর একাধিক হামলা চালানোয় জড়িত ছিলেন ফারহাত। তাঁর আদেশে গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি উত্তরাঞ্চলীয় সাফেদ কমান্ড বেইজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালিত হয়। ওই হামলায় স্টাফ সার্জেন্ট ওমের সারাহ বেনজো নিহত এবং একাধিক সেনা আহত হন।

এদিকে গাজা উপত্যকায় চলমান দ্বিতীয় দফা সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) দ্বারা সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের যথাযথ তদন্ত চেয়েছেন দেশটির ১৩ জন আইনজীবী। শিগগির এ ইস্যুতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল গ্যালি বাহারাভ-মিয়ারা এবং সামরিক বাহিনীর আইনজীবী ইফাত তোমের-ইয়ারুশালমি বরাবর চিঠিও দিয়েছেন তারা। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ এ তথ্য জানিয়েছে। 

সম্পর্কিত নিবন্ধ