Samakal:
2025-04-04@23:48:48 GMT

কেউ বেঁচে রইল না পরিবারটির

Published: 5th, April 2025 GMT

কেউ বেঁচে রইল না পরিবারটির

এক সড়ক দুর্ঘটনায় শেষ হয়ে গেল পুরো পরিবার। মা-বাবা ও দুই বোনের পর মৃত্যুর কাছে হার মানলেন পরিবারে বেঁচে থাকা একমাত্র সদস্য কলেজছাত্রী তাসনিয়া ইসলাম প্রেমাও। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়ায় বাস ও মাইক্রোবাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রফিকুল ইসলাম শামীম, তাঁর স্ত্রী লুৎফুন নাহার সুমি এবং তাদের দুই মেয়ে আনীসা আক্তার (১৪) ও লিয়ানার (৮)।

তবে সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান পরিবারের একমাত্র সদস্য প্রেমা। তার পর থেকেই তিনি ছিলেন সংজ্ঞাহীন। তিন দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁর আর ঘুম ভাঙেনি। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। 

গত বুধবারের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রেমা (১৮) বেঁচে গেলেও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর মস্তিষ্ক। তার পরও জ্ঞান ফেরাতে সব ধরনের চেষ্টা চালান চিকিৎসকরা। প্রথমে চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওই দিনই প্রথম রোগী হিসেবে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রায় তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকলেও ফেরেনি জ্ঞান; মেলেনি কোনো সাড়াও। চিকিৎসকদের সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে না-ফেরার দেশেই চলে যান তিনি। মা-বাবা ও দুই বোনের পর তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই পরিবারটির আর কেউ বেঁচে রইল না। এ নিয়ে লোহাগাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১। 

পরিবারের সবার মৃত্যুর কারণে হাসপাতালে প্রেমাকে ভর্তির পর থেকেই পাশে ছিলেন তাঁর ছোট মামি জেসমিন রহমান। গতকাল প্রেমার মৃত্যুর সংবাদ আসার পর থেকেই তাঁর বিলাপ ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের চারপাশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জেসমিন বলেন, আল্লাহ পরিবারের শেষ অবলম্বনটুকুও রাখল না। কী অপরাধ ছিল তাদের? 

চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা.

হারুন-অর-রশিদ বলেন, প্রেমাকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টাই করেছি আমরা। দুর্ঘটনায় তাঁর মস্তিষ্ক গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। যে কারণে ঘটনার পর থেকেই তিনি সংজ্ঞাহীন ছিলেন। 

হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল বলেন, হাসপাতালে আনার পর থেকেই তাঁর মস্তিষ্কের মাত্রার অবস্থা ছিল খুব খারাপ। প্রাণে বাঁচলেও বাসের ধাক্কায় তাঁর মাথা গুরুতরভাবে আঘাতগ্রস্ত। 

প্রেমার স্বজন জানান, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার যাওয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই দুই পরিবারের সদস্যরা নানা পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেন। অবশেষে ছুটিতে রফিকুল ও লুৎফুন দম্পতি তাদের তিন মেয়ে এবং রফিকুলের সহকর্মী ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার দিলীপ বিশ্বাস, তাঁর স্ত্রী সাধনা মণ্ডল ও ছয় বছরের শিশুসন্তান আরাধ্যা বিশ্বাসসহ পর্যটননগরী কক্সবাজারে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে গত বুধবার সকাল ৭টার দিকে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আটজনের। 

রফিকুল ইসলাম ঢাকার মিরপুরে পরিবার নিয়ে থাকতেন। তাদের বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা এলাকায়। ভাতিজা পারভেজ ফকির বলেন, কয়েক বছর ধরে তিনি পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসার কথা বলে আসছিলেন। এবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার কথা বড় ভাইকে জানিয়েছিলেন। পরে বাড়িতে যাওয়া বাতিল করে অফিসের সহকর্মীর সঙ্গে কক্সবাজার ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার রাতে চাচা মোবাইল ফোনে ভিডিও কল দিয়ে বাড়ির সবার সঙ্গে কথাও বলেন। কে জানত এই কথা শেষ কথা হবে! সেখান থেকে আর বাড়িতে ফিরতে পারলেন না তিনি। 

ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হলো শিশু আরাধ্যাকে

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছয় বছর বয়সী শিশু আরাধ্যা বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। এ কারণে গতকাল দুপুরের দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতাল থেকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবারের দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তার বাবা ও মা। দুর্ঘটনায় আরাধ্যার দুই পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। আঘাত পেয়েছে মাথা, হাত, বুকসহ বিভিন্ন অংশে। রক্ত জমাট বেঁধেছে শরীরের নানা অঙ্গে। 

গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় আরাধ্যার সঙ্গে স্কয়ার হাসপাতালে থাকা আত্মীয় অসিত কুমার বাড়ৈ মোবাইল ফোনে সমকালকে বলেন, আরাধ্যাকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তির পর থেকে তার বিভিন্ন পরীক্ষা করার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: র পর থ ক ই ত দ র ঘটন য় পর ব র র আর ধ য ন র পর ত র পর অবস থ গতক ল

এছাড়াও পড়ুন:

চালের দানার চেয়েও ছোট পেসমেকার

মানুষের হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিকভাবে প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার স্পন্দিত হয়। কোনো কারণে এই গতি না থাকলে গুরুতর অসুস্থ, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। যাদের স্পন্দনজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ স্বাভাবিক রাখতে ‘পেসমেকার’ বসানো হয়। বর্তমানে বাজারে যেসব পেসমেকার প্রচলিত, সেগুলো হৃৎপিণ্ডে বসাতে প্রয়োজন হয় অস্ত্রোপচার। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী এমন পেসমেকার তৈরি করেছেন, যা চালের দানার চেয়েও ছোট। এই যন্ত্র বসাতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হবে না।

সম্প্রতি ‘এক্স’ হ্যান্ডলে এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষণা লেখক জন এ রজার্স। জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য পেসমেকারটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। রজার্সের দাবি, তাদের জানামতে এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম পেসমেকার। শিশুদের পেডিয়াট্রিক হার্ট সার্জারির সময় অস্থায়ী পেসমেকার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে ছোট পেসমেকারটি সহজেই ব্যবহার করা যাবে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পেসমেকারের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার, প্রস্থ ১ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং পুরুত্ব ১ মিলিমিটার। পেসমেকারটি সিরিঞ্জের মাধ্যমে হৃদপিণ্ডে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। 

বর্তমানে যেসব পেসমেকার চলছে, সেগুলো হৃৎপিণ্ডে বসানোর জন্য অস্ত্রোপচার করতে হয়। নতুন পেসমেকার বসাতে হৃৎপিণ্ডে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেলাই করে ইলেকট্রোড যুক্ত করতে হয়, যা বাইরের একটি ডিভাইসের সঙ্গে তার দিয়ে যুক্ত থাকে। পরে এই তার টেনে বের করতে হয়, যা জটিল প্রক্রিয়া। তারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুতে জড়িয়ে যেতে পারে। তাই যখন এগুলো টেনে বের করা হয়, তখন তা হৃৎপেশির ক্ষতি করতে পারে। চাঁদে পা রাখা প্রথম মানুষ নিল আর্মস্ট্রংয়ের মৃত্যুও হয়েছিল এভাবে। বাইপাস সার্জারির পর তাঁর বুকে অস্থায়ী পেসমেকার বসানো হয়। পরে তারগুলো সরানো হলে ২০১২ সালে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান। নতুন পেসমেকার তারহীন এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পর শরীরে মিশে যায়। এটি ব্যাটারি ছাড়াই চলে।

রজার্স জানিয়েছেন, নতুন পেসমেকারে একটি গ্যালভানিক সেল রয়েছে। এই সেল এক ধরনের সরল ব্যাটারি এবং রাসায়নিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরে সক্ষম। হৃৎপিণ্ডে প্রতিস্থাপনের পর চারপাশের বায়োফ্লুইডের সংস্পর্শে আসামাত্র পেসমেকারের গ্যালভানাইজিং সেল সক্রিয় হয় এবং পেসমেকার কাজ শুরু করে।

তিনি বলেন, ‘এমন অনেক রোগী আছেন, যাদের হৃৎপিণ্ডের সমস্যা রয়েছে এবং পেসমেকারও প্রয়োজন; কিন্তু অস্ত্রোপচার তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া বিশ্বের ১ শতাংশেরও বেশি শিশু হৃৎপিণ্ডের সমস্যা নিয়েই জন্ম নেয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের শরীরে পেসমেকার বসানো অসম্ভব। তাই আমরা এমন একটি যন্ত্র চাইছিলাম, যা কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই মানবদেহে প্রবেশ করানো সম্ভব। আমাদের আশা, এটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ