একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত আর দুষ্টচক্রের ফসলি জমির মাটি খুবলে নেওয়ায় কঠিন সংকটের বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে প্রায় সর্বহারার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন হাওর অঞ্চলের কৃষকরা। এর মাঝেও লড়াই চালিয়ে গেছেন তারা। বোরো আর আমন উৎপাদনের লাগাতার সাফল্যে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে সুনামগঞ্জের কৃষি।
বোরো ও আমন ধানের অন্যতম উৎপাদন স্থল হিসেবে পরিচিত জেলার ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার হাওরবেষ্টিত অংশে বসবাসকারী কৃষকরা ২০১৭ এবং ২০২২ সালের ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলা করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের অবস্থার উন্নয়নে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে এ অঞ্চলের কৃষি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এরইমধ্যে অনেকাংশে বদলে গেছে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড এবং জীবন ও জীবিকার ব্যবস্থাপনা। ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যার পর দেশের অন্যতম এ শস্য উৎপাদন ক্ষেত্র নিষ্প্রাণ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা ছিল। ওই বন্যায় শতভাগ ফসলাহানির ঘটনা ঘটে এখানে; যা হাওর অঞ্চলে সংঘটিত ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত। ফসলহানির ঘটনায় বহু কৃষক নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন। মহাসংকটের মুখে পড়েছিল কৃষি ব্যবস্থাপনা।
পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের বন্যায় আগের বারের মতো এত বড় মাপের দুর্বিপাকে না পড়লেও বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয় কৃষিতে। শুধু ধর্মপাশার ডুবাইল হাওরের বাঁধ ভেঙে এক হাজার ৬৫ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়। এতে স্থানীয় পর্যায়সহ জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তায় বিরূপ প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি স্থলজ ও জলজ প্রাণির পুরো খাদ্যচক্র ব্যাহত হয়। হাওরের পানিতে অ্যামোনিয়া গ্যাসের প্রভাব অতিমাত্রায় হওয়ায় পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হয়। এতে ধ্বংস হতে শুরু করে বিপুল মৎস্য সম্পদ এবং মাছের অভয়ারণ্য।
একদিকে ফসলহানি, অন্যদিকে ঋণের চাপে স্থানীয় অনেক কৃষক কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকতে শুরু করেন। অনেকে শহরমুখীও হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আগের সব উদ্বেগ, আশঙ্কা ঝেরে ফেলে কৃষকেরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন হাওর অঞ্চলসহ দেশের খাদ্য নিরাপত্তায়।
কয়েক বছর হাওরবেষ্টিত ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। দিন দিন বাড়ছে আমনের চাষ। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই দুই উপজেলায় ২০২৩ থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬৩ টন বোরো ও আমন ধান উৎপাদিত হয়েছে। যার বাজার মূল্য এক হাজার ৩২২ কোটি ৩৩ লাখ ৬ হাজার টাকা। অনুকূল আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকরা দুই উপজেলা মিলিয়ে ৫৭৪ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার ধান উত্তোলনে সক্ষম হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু ধান চাষই নয়, শুষ্ক মৌসুমে হাওরপারের কৃষকদের ভুট্টা ও সরিষা আবাদেও আগ্রহ বাড়ছে। গত তিন বছরে দুই উপজেলায় ৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার ভুট্টা ও ১৯ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকার সরিষা উৎপাদন হয়েছে। শাকসবজি উৎপাদনেও পিছিয়ে এখানকার কৃষকেরা। ২০২৩ সালে ১৪ হাজার ৫৪০ টন, ২০২৪ সালে ১৯ হাজার ৬৭৭ টন এবং চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৩৪৬ টন শাকসবজি উৎপাদন হয়েছে এ অঞ্চলে। সংশ্লিষ্ট কৃষি দপ্তরের সূত্রে পাওয়া তথ্যেও এমনটা জানা গেছে।
স্থানীয় কৃষক এবং কৃষি দপ্তরের সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর বোরো চাষাবাদের পরিমাণ বাড়ছে এখানে। ২০২২ থেকে ২০২৩ অর্থবছরে ৩১ হাজার ৮৫২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়; যা থেকে এক লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৮ টন ধান পাওয়া যায়। পরের অর্থবছরে ৩১ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমিতে এক লাখ ৯১ হাজার ৫৯৫ টন ধান উৎপাদিত হয়। চলতি অর্থবছরে ৩১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ হয়েছে; যা থেকে এক লাখ ৯১ হাজার ৬১৫ টন ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এছাড়াও ২০২২-২৩ অর্থবছরে দুই উপজেলায় আমন চাষাবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে। পরের অর্থবছরে ৪৩৫ হেক্টর ও চলতি অর্থবছরে ৫০০ হেক্টরের বেশি জমিতে আমনের চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা ২০১৭ সালের কথা মনে হলে এখনও বাকরুদ্ধ হয়ে যান। সেখান থেকে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছেন– এটি বড় ব্যাপার। টানা কয়েক বছর ধরে আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। কৃষকদের মরিয়া চেষ্টা ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। সেই সঙ্গে কৃষি বিভাগ স্থানীয় কৃষক ও কৃষি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে যেভাবে সহায়তা দিয়েছে তার সামষ্টিক সাফল্য দৃশ্যমান। এই মৌসুমেও কৃষকরা কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই বোরো ফসল ঘরে তুলছেন। এতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় খাদ্যভান্ডারে ভূমিকা রাখছেন ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের কৃষকরা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বোরো আবাদে কৃষকের সাফল্যের প্রভাব দৃশ্যমান ছিল হাওরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ধানের বাজার মধ্যনগরে। এখানকার অর্ধশতাধিক ধানের আড়তে মৌসুমজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। কৃষকের পাশাপাশি স্থানীয় ধান ব্যবসায়ীরাও লাভবান হয়েছেন। আড়তগুলোতে বইয়াখাউরী, টেপী, গচি, রাতা, বাঁশমতি, কালিজিরা, লাল ধান, ছুরাইক্কা, বোরোসহ দেশীয় জাতের ধান সংগ্রহ করে মজুত করেন ব্যবসায়ীরা। সোমেশ্বরী নদীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধান সংগ্রহ করতে আসা বড় বড় নৌকার সারি দেখলে বোঝা গেছে বোরো উৎপাদন ও ধান সংগ্রহ ছিল পর্যাপ্ত পরিমাণে। অথচ ২০১৭ সালে ফসলডুবির ঘটনার পর এসব আড়তে তালা ঝুলেছিল; যা স্থানীয় অর্থনীতিকে ভেঙে দিয়েছিল অনেকাংশেই।
চলতি মৌসুমে বোরো ফসলকে সামনে রেখে ধান কেনার জন্য এরইমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আড়তের লোকজন। এমনটাই জানা গেছে মধ্যনগর বাজার ঘুরে। মধ্যনগর আড়তদার কল্যাণ সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরুণ সরকার বলেন, ফসলহানির লোকসান কয়েক বছর টানতে হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ধানের ভালো ফলন পাওয়ায় পরিস্থিতি বদলেছে। কৃষক ও ধান ব্যবসায়ী উভয় পক্ষ লাভের মুখ দেখছে। প্রতি বছর ধানের মৌসুমে মধ্যনগরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ধান কেনাবেচা হয়।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, এখানকার মানুষ আর কোনোদিনও ২০১৭-এর পুনরাবৃত্তি চান না। সেজন্য হাওর অঞ্চলের প্রকৃতি ও পরিবেশের সেভাবে যত্ন করতে হবে। প্রাকৃতিকভাবে বিশেষায়িত এসব অঞ্চল রক্ষা করা না গেলে সামগ্রিকভাবে দেশের ভূপ্রকৃতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়বে। ঋতু আর মৌসুমের সঙ্গের খুব কঠিন হিসেবে মিলিয়ে চলতে হয় এখানকার কৃষকদের। এ অঞ্চলের বোরো আর আমনের দিক নজর রেখে বাঁধের কাজে ন্যূনতম অবহেলার সুযোগ নেই। এখন বোরো ফসল তোলার সময় চলছে। এ সময় আবহাওয়া বৈরী হলে বিপদ। তাই গবেষণা করে স্বল্পমেয়াদি ধান জাতের উদ্ভাবন করা সময়ের দাবি।
মধ্যনগর উপজেলার দায়িত্বে থাকা সুনামগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী নূর আলম ও ধর্মপাশা উপজেলার দায়িত্বে থাকা সুনামগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এরইমধ্যে এখানকার সব বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে। এখন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। ফসল উত্তোলনের আগ পর্যন্ত নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (মধ্যনগরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার বলেন, খাদ্য নিরাপত্তায় দুই উপজেলার প্রায় ৫৫ হাজার কৃষক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হচ্ছে। ওই কর্মকর্তারা বলেন, হাওর অঞ্চলের কৃষকের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় ফসল পরিবহন ও বাজারজাতকরণে। হাওরের সঙ্গে উপজেলা সদরসহ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: স ন মগঞ জ দ ই উপজ ল ব যবস থ উপজ ল র উপজ ল য় ক ষকদ র ন হয় ছ উৎপ দ ক ষকর
এছাড়াও পড়ুন:
শীর্ষ তিন পোশাকের রপ্তানি কমছে
চার দশকের বেশি সময় ধরে কম দামের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে আসছে বাংলাদেশ। তার মধ্যে পাঁচটি ক্যাটাগরি বা শ্রেণির তৈরি পোশাকই বেশি রপ্তানি হয়। সেগুলো হচ্ছে ট্রাউজার, টি–শার্ট ও নিট শার্ট, সোয়েটার, শার্ট ও ব্লাউজ এবং অন্তর্বাস। মূলত ট্রাউজার, টি–শার্ট ও সোয়েটারই সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়। গত দুই অর্থবছর (২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪) ধরে এই পাঁচ শ্রেণির পোশাকের রপ্তানি কমছে।
তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংগঠনটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রায় ৮১ শতাংশই আসে ট্রাউজার, টি–শার্ট ও নিট শার্ট, সোয়েটার, শার্ট ও ব্লাউজ এবং অন্তর্বাস থেকে।
শীর্ষ তিন পোশাক পণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়া নিয়ে রপ্তানিকারকেরা বলছেন, দুই বছর ধরে সামগ্রিকভাবে তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হওয়া পোশাকের রপ্তানি কমেছে। এসব পণ্যের ক্রয়াদেশ পেতে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন তীব্র প্রতিযোগিতা করতে হয়। বিভিন্ন কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ট্রাউজার, টি–শার্ট ও সোয়েটারের মতো পোশাকের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমছে। যে কারণে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ক্রয়াদেশ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ছাড়া অন্যান্য পণ্যের চাহিদা কমে যায়। তার প্রভাবে গত দুই বছর সেসব দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩ হাজার ৬১৫ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তার আগের দুই অর্থবছরে ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে যথাক্রমে ৪ হাজার ২৬১ ও ৩ হাজার ৮১৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। এমনটা জানা গেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে।
বিজিএমইএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট পোশাক রপ্তানির ৩৩ শতাংশই হলো ট্রাউজার। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ট্রাউজারের রপ্তানি প্রায় ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৯৩ কোটি ডলারে নেমে যায়। করোনার সময় ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের কম ট্রাউজার রপ্তানি হয়েছিল। তারপর ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৫১ এবং ১ হাজার ২৪১ কোটি ডলারের ট্রাউজার রপ্তানি হয়।
সস্তায় টি–শার্ট রপ্তানিতে বাংলাদেশের বেশ সুনাম রয়েছে। ওয়ার্ল্ড টপ এক্সপোর্ট ডট কমের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ৫১ বিলিয়ন ডলারের টি–শার্ট রপ্তানি হয়। সবচেয়ে বেশি টি–শার্ট রপ্তানি করে চীন, যা মোট রপ্তানির ১৭ শতাংশ। তারপরই বাংলাদেশের অবস্থান, যা মোট রপ্তানির ১৫ শতাংশ। তবে ওই বছর কটন টি–শার্ট রপ্তানিতে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ২১ শতাংশ হচ্ছে টি–শার্ট। গত ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ৭৭৩ কোটি ডলারের টি–শার্ট রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের ২০২২–২৩ অর্থবছরের তুলনায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার কম। এর আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৯৮৬ কোটি ডলারের টি–শার্ট।
২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সোয়েটার রপ্তানি হয়। পরের দুই বছরই পণ্যটির রপ্তানি কমেছে। সর্বশেষ অর্থবছরে ৪৮২ কোটি ডলারের সোয়েটার রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ বা ১২ কোটি ডলার বেশি।
বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, শার্ট ও ব্লাউজের রপ্তানি ৮ শতাংশ কমেছে। সর্বশেষ অর্থবছরে ২৯৩ কোটি ডলারের শার্ট ও ব্লাউজ রপ্তানি হয়। তার আগের অর্থবছর রপ্তানি হয়েছিল ৩১৮ কোটি ডলারের শার্ট ও ব্লাউজ।
জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণত সামগ্রিকভাবে রপ্তানি কমলে যেসব তৈরি পোশাক বেশি রপ্তানি হয়, সেগুলোর রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে টি–শার্ট, ট্রাউজার ও সোয়েটারের মতো তৈরি পোশাক খুবই মূল্য সংবেদনশীল। অর্থাৎ তীব্র প্রতিযোগিতা করে এসব পণ্যের ক্রয়াদেশ পেতে হয়। শ্রমিকের বেতন ও গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নগদ সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে অনেক রপ্তানিকারক পণ্যগুলোর ক্রয়াদেশ নিতে পারছে না।
ফজলুল হক আরও বলেন, ‘আমরা রপ্তানিমুখী শীর্ষস্থানীয় পোশাকের বিক্রয়াদেশ হারাচ্ছি কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ, এসব পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে অনেক কারখানা ও লাখ লাখ শ্রমিক জড়িত। তৈরি পোশাক রপ্তানির এই মূল ভিত্তি টিকিয়ে রাখতে নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ, গ্যাস–বিদ্যুৎসহ যেকোনো মূল্যবৃদ্ধিতে রপ্তানিকারকদের সময় দিতে হবে। যাতে তাঁরা সেই বাড়তি ব্যয় সমন্বয়ের সুযোগ পান।’