৭২ ঘণ্টা পর চোখ খুললো গুলিতে আহত শিশু আবিদা
Published: 4th, April 2025 GMT
লক্ষ্মীপুরে গুলি করে ৬ বছরের শিশু আবিদা সুলতানাকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩ নম্বর আসামি ফাতেমা বেগম আঙ্কুরীকে গ্রেপ্তার করে লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে গুলি লাগার ৭২ ঘণ্টা পর শিশুটি চোখ খুলেছে। তবে চোখ খুললেও কথা বলছে না বলে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন আবিদার মা আমেনা বেগম।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আবিদার বাবা ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপরই থানা এলাকা থেকে অভিযুক্ত ফাতেমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ফাতেমা মামলার প্রধান অভিযুক্ত অহিদের স্ত্রী। অপর আসামি অহিদের ছেলে মো.
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সাড়ে ৬ টার দিকে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের কাচারি বাড়ি এলাকায় বাড়িতে শিশু আবিদা গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনার সময় আবিদা প্রধান অভিযুক্ত অহিদের মেয়ে জেরিনের সঙ্গে খেলছিল। আবিদার মা আমেনা তাকে ঘরে আসার জন্য ডাকছিল। তখন অভিযুক্ত ফাতেমা ও ফাহিমের প্ররোচনায় আবিদাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিস্তল নিয়ে অহিদ গুলি করে। গুলিটি আবিদার পিঠের ডান পাশে বিদ্ধ হয়ে পেটের ডান পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক আবিদা অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অহিদ একজন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। মামলার বাদী ইব্রাহিম প্রবাসে থাকাকালীন অহিদ বিভিন্নভাবে তার কাছ থেকে টাকা নিত। একবছর আগে বাদী প্রবাস থেকে ফিরে আসেন। এতে অহিদকে টাকা-পয়সা পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য তাদের মধ্যে মনমালিন্য সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর হাসপাতালে আনার পথে ধারণকৃত একটি ভিডিওতে শিশু আবিদাকে বলতে শোনা যায়, অহিদ তাকে গুলি করেছে। তবে কি কারণে, কীভাবে গুলি করছে সে কথা বলতে পারেনি। তার দু’চোখের পাতা বন্ধ হয়ে যায়।
আমেনা বেগম বলেন, “ঘটনার দিন আছরের নামাজের পর অহিদের ছেলে ফাহিমের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলে করে ৩ জন লোক আসে। মাগরিবের সময় ৩টি মোটরসাইকেল নিয়ে আরও কয়েকজন লোক আসে। তখন ওযু করতে গেলে দেখি তারা অহিদের বাড়িতে ঢুকছে। লোকগুলোকে দেখে আমার কলিজায় কামড় দিয়েছে, ভয়ও পেয়েছি। তাদের দেখলেই ভয় লাগে। আবিদা তখন অহিদের মেয়ে জেরিনের সঙ্গে খেলছিল।”
তিনি আরো বলেন, “লোকজনের কারণে আমি তাকে আনতে যেতে পারিনি। পাশে একটি ঘরে ঢুকে জানালা দিয়ে ডাকছিলাম। তখন ঘরের দরজার পেছনে অহিদ যেন কি করছিল। হঠাৎ সেখান থেকে বের হয়ে ঘরের সামনের একটি আমগাছের নিচে যায়। সেখানে আবিদা ও জেরিন ঘুরে ঘুরে খেলছিল। এরমধ্যেই অহিদ আমার মেয়ের পিঠ গুলি করে। আমি দৌড়ে গিয়ে মেয়েকে কোলে নিয়ে তাকে বলেছি তুই আমার মেয়েকে শেষ করে দিয়েছিস। এসবের পর সে মানিব্যাগ বের করে টাকা দিচ্ছিল চিকিৎসার জন্য। আমি সব ফেলে দিয়ে মেয়েকে বাঁচানোর জন্য হাসপাতাল চলে যাই।”
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে আমেনা বেগম জানিয়েছে, আবিদার অস্ত্রোপচার হয়েছে। তার ফুসফুস, কিডনি ও লিভারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। শুধু রক্ত কনিকা ভালো আছে। চোখ খুললেও কথা বলতে পারছে না আবিদা।
চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন বলেছেন, শিশু আবিদাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ৩ জনের নামে মামলা হয়েছে। এরমধ্যে একজন গ্রেপ্তার রয়েছে। তাকে লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা/লিটন/এস
উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
ঈদ আসলেই মনে পড়ে ঈদ কার্ডের কথা
বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের ধরন পাল্টে গেছে ৷ এমন এক সময় ছিল যখন প্রিয়জন, আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে বন্ধুদের আমন্ত্রণ এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য ঈদ কার্ড ব্যবহার করতো মানুষ ৷ তবে এখন সে প্রচলনটা আর দেখা যায় না ৷
গত ৮-১০ বছর আগেও ঈদের সময় ঢাকা শহরসহ গ্রামগঞ্জের পাড়া মহল্লায় অলিতে গলিতে ছোট্ট করে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে এই ঈদ কার্ড বিক্রয় করতো ব্যবসায়ীরা ৷ সেই সময় শিশু থেকে তরুণ সবাই বন্ধুদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য এই ঈদ কার্ড ব্যবহার করতো ৷
বাহারি রংয়ের নকশাওয়ালা কার্ডে থাকতো বিভিন্ন ফুল, লতা-পাতা চাঁদ তারা সহ বিভিন্ন চিত্র এবং সিনেমার নায়ক নায়িকাদের ছবি ৷
বিভিন্ন স্টাইলে ঈদ কার্ডে ঈদ মোবারক লেখা থাকতো৷ আরো থাকতো বিভিন্ন ছন্দে ছন্দে মিলিত লেখা৷ ঈদ কার্ডের ভিতরে নাম ঠিকানা লিখে ঈদের সালামি ও দেওয়া হতো প্রিয় জনকে ৷
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে এবং মেসেজের মাধ্যমে এই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মানুষ ৷তবে শৈশবে ঈদ কার্ড আদান-প্রদানের এই স্মৃতি একেবারেই মুছে যায়নি ৷ ঈদ কার্ডের কথা শুনলে আলাদা এক আবেগ কাজ করে অনেক মানুষের মনের ভেতরে ৷
এ বিষয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সোনারগাঁয়ের বাসিন্দা সাজ্জাদ বলেন ,ঈদ কার্ডের কথা শুনলে নব্বইয়ের দশকের কথা মনে পড়ে যায় ৷একজন আরেকজনকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে এই ঈদ কার্ডের মাধ্যম ব্যবহার করা হতো ৷
আমি নিজেও আমার স্কুলের বন্ধুদের এই ঈদ কার্ডে মাধ্যমে ঈদের দাওয়াত দিতাম এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করতাম ৷ এখন আর গ্রামগঞ্জে এ কার্ডের দেখা পাওয়া যায় না হয়তো শহরের কোথাও পাওয়া যেতে পারে ৷ আমরা এখন বড় হয়ে গেছি আমাদের ছেলেমেয়েরা আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক কিছু জানেনা ৷
আমাদের এসব সম্পর্কের নতুন প্রজন্মের ধারণা অনেক কম ৷ নতুন প্রজন্ম ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন বন্ধুদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকেন৷ আমাদের সময় তখন এসব ছিল না ৷
তামান্না নামে আরো একজন বলেন, ২০১০ সালের দিকে পিতার সাথে বাজারে যেতাম এই ঈদ কার্ড কেনার জন্য ৷ তখন মা বাবাকে রমজান মাসের শুরুতেই বলে রাখতাম আমার বন্ধুদের ঈদ কার্ড দিব আমাকে ঈদ কার্ড কিনে দেওয়ার জন্য ৷
ঈদ কার্ডের মাধ্যমে বন্ধুকে দাওয়াত দিতাম ৷সারা বছর আমরা একসাথে পড়ালেখা করতাম এবং ঈদের দিন বন্ধুরা আমাদের বাড়িতে ঘুরতে আসতো এবং একসাথে আমরা আনন্দ করতাম ৷
এখন সেই হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির কথা অনেক মনে পড়ে৷ আমার ছেলে মেয়েদের আমি বলি তখন আমরা কেমন জীবন কাটিয়েছিলাম ৷