বাগেরহাটে সিম কেনার কথা বলে ডেকে একটি বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানির বিক্রয় কর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার বিকেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে শহরের সিঅ্যান্ডবি বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বাগেরহাট সদর উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের করোরী গ্রামের পরিতোষ দাসের ছেলে সজীব দাশ (১৯), কিংকর দাসের ছেলে লিখন দাস (২০) ও ইলিয়াস হোসেনের ছেলে শেখ নজরুল ইসলাম (২২)। তাদের আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের স্বীকার ওই নারী সিম বিক্রির কাজ করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একজন সিম কিনবেন বলে ওই নারীকে সিঅ্যান্ডবি বাজারে আসতে বলেন। তিনি রাত ৮টার দিকে সিঅ্যান্ডবি বাজারে আসেন, তবে সেখানে কেউকে পাননি তিনি। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের পাকা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার মুখ চেপে ব্রিজের নিচে নিয়ে যায় এক ব্যক্তি। সেখানে তিনজন তাকে ধর্ষণ করে। সে ঘটনা ধারণ করে। পরে ভুক্তভোগী নারী থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো.

শামীম হোসেন বলেন, ওই নারী এ ঘটনায় তিনজনকে শনাক্ত করেছেন, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ব গ রহ ট গ র প ত র কর

এছাড়াও পড়ুন:

নারী সংবাদকর্মীকে হেনস্তার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন কারাগারে

রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় নারী সাংবাদিককে শ্লীলতাহানি ও হেনস্তার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনকে আজ শুক্রবার আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকালে গ্রেপ্তার সোয়েব রহমান ওরফে জিশান (২৫), মো. রাইসুল ইসলাম (২১) ও মো. কাউসার হোসেনকে (২১) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, নারী সাংবাদিককে শ্লীলতাহানির সঙ্গে জড়িত তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই কারণে তাঁদের  রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করা হয়নি। প্রয়োজনে পরে তাঁদের রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করা হবে।

গত বুধবার রাত পৌনে আটটার দিকে একটি ইংরেজি দৈনিকের নারী সংবাদকর্মী তাঁর ছোট ভাইকে নিয়ে বনশ্রী ই-ব্লকের ৩ নম্বর রোডের মুখে একটি জুসের দোকানে যান। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তরুণ তাঁকে উত্ত্যক্ত করেন। তাঁর ভাই প্রতিবাদ করলে তাঁরা তাঁকে মারধর করেন। এ সময় ওই নারী সংবাদকর্মী বাধা দিতে গেলে তাঁরা তাঁকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী নারী সংবাদকর্মী সোয়েব রহমান ওরফে জিসানের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকে আসামি করে গত বুধবার রাতে রামপুরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। ওই ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর সোয়েব বাসায় তালা দিয়ে সপরিবার পালিয়ে যান।

ওই দিন দিবাগত রাতে গোয়েন্দা সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই মামলার প্রধান আসামি সোয়েব রহমানকে রাজধানীর মেরাদিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বনশ্রী সি ব্লকে থাকেন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ফুলহাতায়।

পরে সোয়েবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে র‍্যাব রাজধানীর বেইলি রোড থেকে রাইসুল ইসলাম (২১) ও গেন্ডারিয়া থেকে কাউসার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। রাইসুলের বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার চহটা এবং কাউসার হোসেনের বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার রাজ্জাকপুরে। গতকাল সকালে র‍্যাব তিনজনকে রামপুরা থানায় সোপর্দ করে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • বাগেরহাটে নারী বিক্রয়কর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে মামলা, গ্রেপ্তার ৩
  • নারী সংবাদকর্মীকে হেনস্তার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন কারাগারে